Tuesday, 18 August 2015

বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে একটা জনশ্রুতি আছে যে- তাদের এক পা নাকি বাংলাদেশে, আরেক পা নাকি ভারতে।

বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে একটা জনশ্রুতি আছে যে- তাদের এক পা নাকি বাংলাদেশে, আরেক পা নাকি ভারতে। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের ভারতবর্ষের প্রতি টান কেনো? কেনই বা তারা এক পা ভারতে দিয়ে রেখেছে? কেউ কি এইসব প্রশ্নের উত্তর খোজার চেষ্টা করেছেন? __________________________________________________ *** বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়াতে এই অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয় সব শ্রেণীর হিন্দুকেই.....।কোনোএক সময় বাংলাদেশের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও নাকি বলেছেন হিন্দুদের দেহ বাংলাদেশ আর মন নাকি ভারতে। বিএনপি ও জামায়েতের অভিযোগ আরও বেশি। দেশমাতৃকার সম্পত্তি হিন্দুরা নাকি ভারতে পাচার করে দিচ্ছে। হিন্দুরা চাকরি করে বাংলাদেশে, কিন্তু টাকা পাঠায় কলকাতায়। এ জন্যই নির্বাচনে জয়ের পরে তারা প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে হিন্দু তাড়ানোর অভিযানে শুরু করে। 1947 এর আগে এই দেশে হিন্দুদের সবকিছুই ছিল। দেশভাগ হওয়ার পরেও যারা ঐ দেশেই থেকে গিয়েছিল- ভুলটা তারাই করেছিল। ঈশ্বর তাদের দেশপ্রেমের শাস্তি দিয়েছেন অত্যন্ত নির্দয় ভাবে।........................................................................... 1947 সালে "The East Bengal (Emergency) Requisition of Property Act" পাশ হলো । খুলে গেল অনেক মানুষের ভাগ্য। শুরু হলো হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করার উৎসব। কোন কোন জায়গাতে সম্পত্তি দখল নিয়ে মুসলিমদের মধ্যেই মারামারি লেগে যায়। কিছু হিন্দু সেই সময় দেশ ছেড়েছিলো। কারন ঐ পূর্ববঙ্গে জায়গা নেই, জমি নেই, চাকরি নেই, খাবে কি ? তারপরও কিছু মানুষ পেটে গামছা বেধে রয়ে গেল। তারা বাংলাদেশকে নিজের দেশ বলে মনে করতো। কিন্তু হিন্দুদের পেটে লাথি মারা শুরু হলো । 1949, 1951, 1952 ও 1957 সালে সরকার মহা উৎসাহ নিয়ে যথাক্রমে "The East Bengal Evacuees (Administrationof Property) Act (VIII of 1949) , The East Bengal Evacuees (Restoration of Possession) Act (XXII of 1951),The East Bengal Evacuees (Administrationof Immovable Property) Act (XXIV of 1951), The East Bengal Prevention of Transfer of Property and Removal of Documents and Records Act of 1952, The Pakistan (Administrationof Evacuees Property) Act (XII of 1957)" আইন পাশ করল। রাতারাতি অনেক হিন্দু পরিনত হল ভুমিহীনে। অনেক হিন্দু মামলা চালাল। কিন্তু যেখানে আইন গুলোই ছিলো সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুণ্ঠনের জন্য, সেখানে রাষ্ট্র আর বিচারবিভাগ থেকে ন্যায় বিচার কি করে আশা করা যায় !!! অনেক হিন্দু তার পিতৃপুরুষের ন্যায্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হলো, যে জমিকে তারা নিজের মায়ের মতই ভালোবাসতো। কিন্তু প্রচণ্ড রাগে দুঃখে ক্ষোভে অনেকেই দেশ ছাড়ল। আবার অনেকে সম্পত্তি খুইয়েও নিজের দেশ মনে করেই রয়ে গেলো। 1965 সালে ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ বাধল । যুদ্ধে প্রচন্ড মার খেল পাকিস্তান। ফলে পাকিস্তানের আইউব খান পুরো রাগটা ঝাড়লেন বাংলাদেশের ভূমিহীন হিন্দুদের উপর। সংখ্যালঘু নিষ্পেষণের জন্য তিনি আরও আধুনিক আইন পাশ করলেন। এই আইনে কাওকে শুধুমাত্র "রাষ্ট্রের শত্রু" ঘোষণা করেই তার সকল সম্পত্তি দখল নেওয়া যায় । আইনগুলো ছিল "East Pakistan Disturbed Persons (Rehabilitation) Ordinance (No 1 of 1964) The Defence of Pakistan Ordinance (No. XXIII of 6 September 1965) The Defence of Pakistan Rules of 1965 The Enemy Property (Custody and Registration) Order of 1965 The East Pakistan Enemy Property (Lands and Buildings Administration and Disposal Order of 1966). The Enemy Property (Continuance of Emergency Provision) Ordinance No. 1 of 1969."। ________________________________________________________________________________ ** আগে তো শুধু হিন্দুদের জমি গেছে। 1965 সাল থেকে বসতভিটা নিয়েও টানাটানি শুরু হয়। প্রচণ্ড অপমানিত হয় হিন্দুরা। এতো কষ্ট সহ্য করার পরেও যারা পেটে গামছা বেধে ছিল, রাষ্ট্র তাদের শত্রু ঘোষণা করে বসতবাড়ি দখল করতে শুরু করলো। হিন্দুরা সহজেই বুঝতে পারল যে এই দেশ তাদের জন্য নয়। এই আইনের মাধ্যমে 75% হিন্দুর সকল বাড়ি ঘর বিষয় সম্পত্তি সরকার দখল করতে সমর্থ হলো। যেসব হিন্দু আইনের আশ্রয় নিলো , তাদেরকে সরকার অপরাধী সাব্যস্ত করলো অনেকটা এইভাবে------- ""জিতিন বাবুর কাকাতো ভাই, কলকাতাই থাকেন । তিনি কাকাতো ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শত্রু রাষ্ট্রের সাথে আঁতাত করার গোপন পরিকল্পনা করছেন। অতএব তার সম্পত্তি সিজ করা হোক।"" __________________________________________________ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল কারো কোনো আত্মীয় ভারতে থাকে কিনা তা খুজে বের করার জন্য, যাতে সম্পত্তি দখল করতে অনেক সুবিধা হয়। এরপরে দেশে রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলো।

No comments:

Post a Comment