Tuesday, 7 July 2015

Arab at 522A.D TO 622A.D

আরবের অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর ছিলেন কিন্তু তারা মেধাবী জাতি ছিলেন।সৃজনী ক্ষমতা ছিল প্রখর।মুখে মুখে কবিতা রচনা করে ফেলতেন। বিখ্যাত কবিতা গুলো "কাসীদা" নামে খ্যাত ছিল। মক্কায় কবিতার মেলা বসত, যা উকাজের মেলা নামে পরিচিত ছিল। হাজার হাজার কবিতার মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ৭ টি কবিতা নির্বাচিত হত, যা সোনালি হরফে লিখে ঝুলিয়ে দেয়া হত কাবার দেয়ালে। কথিত ছিল "বুদ্ধিমত্তা তিনটি বস্তুর উপর নিপতিত; ফরাসিদের মগজে, চীনাদের হস্তে, আরবদের জিহ্বায়।" . শুধু কাব্য চর্চায় নয় চিকিৎসা বিজ্ঞান,জ্যোতির্বিদ্যায়ও তারা এগিয়ে যাচ্ছিল। ৫২২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬২২ খ্রিষ্টাব্দ তাদের জন্য উল্লেখ্যযোগ্য শতাব্দী। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে এসে মুহম্মদের নবুয়্যাতের ১২ বছর পরে সব থমকে দাঁড়ায়। কবিতাকে তুলনা করা হয় পুঁজের সাথে। সৃজনশীলতার সকল পথ বন্ধ হয়ে যায়। আজকাল শোনা যায় মুহম্মদ জ্ঞান চর্চার জন্য সুদূর চীন দেশে যেতে বলছেন। কি সে জ্ঞান? সঙ্গমের পূর্বের দোয়া, কি পড়ে টট্টি খানায় যেতে হবে, টট্টিখানা থেকে বেরনোর দোয়া ইত্যাদি। . জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে মুহম্মদের এ ধাক্কা সামলে উঠতে মুসলিম বিশ্বের পাঁচ শতাব্দী কেটে যায়, আলো আসতে শুরু করে, রুদ্ধ পথ গুলো উন্মচিত হতে থাকে। ইউরোপে যখন ধর্মের নামে মানুষ হত্যা হচ্ছিল, ডাইনি আখ্যা দিয়ে মানুষ পোড়ানো চলছিল বাগদাদে তখন এরিস্টটল, প্লেটোর বইয়ের অনুবাদ হত। মুসলিমরা এগিয়ে যেতে থাকে দর্শন, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, চিকিৎসাবিদ্যায়।জন্ম নেয় আল ফারাবী, ইবনে সিনাদের। . ঠিক তখনি মুসলিম বিশ্বে আভির্ভূত হয় আরেক ধর্মান্ধের, ইমাম গাজ্জালি। ইবনে সিনাদের কাফের আখ্যা দেয়া হল, ফতোয়া দেয়া হল গ্রিক কাফেরদের ফলো করে ইসলামকে কলুষিত করা যাবেনা, যারা সংখ্যাকে মানিপুলেট করে তারা নাস্তিক। গাজ্জালি শরিয়া আইনের কাঠামো দিলেন, পলিটিকাল স্পন্সার হিসেবে পেয়ে গেলেন সুলতান নিজাম আল মুলককে।সক্রেটিসপ্লেটোদের ছুড়ে ফেলে দেয়া হল কিন্তু ইউরোপিয়ানরা তখন তাদের বুকে টেনে নিলেন। চালু হল এমন এক যুগের যেখানে প্রশ্ন করা যাবেনা, সংশয় প্রকাশ করা যাবেনা। জ্ঞান বিজ্ঞান মুসলিমদের থেকে বিদায় নিল, তা আজও ধরা দেয়নি। . মুসলিম বিশ্ব আজ গবেষনা করে এক সাথে কয়টা বিবি রাখা যাবে, এক রাতে কতবার সেক্স করা যাবে, সব থেকে কত কম বয়সী মেয়েকে বিছানায় তোলা যাবে, কেউ দাড়ি ওয়ালা কার্টুন আঁকলে মুহম্মদের মর্যাদার কতটুকু খেলাফ হবে, কটা কাফের হত্যায় ডিরেক জান্নাতে যাওয়া যাবে, জান্নাতে কত গুলো হুরপরীর সাথে মিলন হবে, এসব ভাবতে ভাবতে বাসার কাজের মেয়েকে নিয়ে বিছানায় চলে যায়। . বাংলাদেশের মুসলিমরাও ধর্মকে পাশিকাটিয়ে বাঙলিত্বকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, পুজ আখ্যা দেয়া কবিতা বাঙালির কাছে পরিপূর্ণতা লাভ করে। বিজ্ঞানের অগ্রগতিও চোখ ধাঁধানো, ইসলামের হিংস্রতাককে ওভার কাম করে যাচ্ছিল, তখনি ইমাম গাজ্জালি হয়ে শফী নামের এক জানোয়ারে আবির্ভাব ঘটে। গাজ্জালির মত ব্যাস্ত হয়ে পড়ে নাস্তিক কাফের মুরদাত আখ্যা দিয়ে ব্লগার হত্যার মিশনে।যারা দর্শনের চর্চা করে, নারীর অধিকারের কথা বলে, যারা ধর্মান্ধতা মুক্ত সমাজ গড়তে যায়। যাকে ৩২ কাঠা জমি দান সহ, নানা সুযোগ সুবিদা প্রদান করে আজ শেখ হাসিনা সুলতান নিজাম উল মুলকের ভূমিকা পালন করছেন। . পাঠ্য বইয়ের কত শতাংশ লেখা বিধর্মী লেখকদের লেখা তা হিসেব হচ্ছে, তাদের বর্জনের ডাক দেয়া হচ্ছে হয়ত বর্জন করাও হবে, বাংলাদেশ তখন পরিণত আদর্শ মুসলিম ভাগাড়ে। কাজী আনাম

No comments:

Post a Comment