ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার সীমান্ত পথে বাংলাদেশে গরু পাচার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ভারত থেকে বৈধ বা অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতের এই নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গরু সরবরাহকারী ব্যবসায়ী, মাংস বিক্রেতা, মাংস রফতানি ও চামড়া (ট্যানারি) শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক-শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে শতকরা ৩ ভাগ অবদান রাখছে এই ট্যানারি শিল্প। গরু পাচার বন্ধ হওয়ায় ভারতের জিডিপিতে কতটুকু নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সেটা সরকারিভাবে নিরূপণ করা না হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা সেদেশের সরকার স্বীকার করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, মাংস ব্যবসা ও চামড়া শিল্প যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
মাংস রফতানিকারক বাংলাদেশের শীর্ষ একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সৈয়দ হাসান হাবিব টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, বিদেশে মাংস রফতানির অর্ডার ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর আরব উপসাগরীয় দেশে ১২৫ টন মাংস রফতানি করত। মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই পরিমাণ অনেক কমে গেছে।
বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাহিন আহমেদ জানান, ১৯০টি ট্যানারির মধ্যে ৩০ ট্যানারি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
গরু জবাই করা বা পাচার করা হিন্দু বালিকাকে ধর্ষণ বা মন্দির ধ্বংসের সমতুল্য অন্যায় বলে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট সরকারের এক নেতা ঘোষণা দেন। তাই ধর্মীয় দিক বিবেচনা করে বিজেপি সরকার সীমান্ত পথে গরু পাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনোভাবে ভারতীয় গরু ঢুকতে না পারে সেজন্য ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গত মার্চ মাসে বিএসএফ জওয়ানদের কঠোর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেন। অন্যদিকে সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আসা বন্ধ হওয়ার কারণে বাংলাদেশের বাজারে মাংসের দাম অকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে করে নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মাংস কেনা দায় হয়ে পড়ছে। http://www.samakal.net/2015/07/04/147400
No comments:
Post a Comment