Monday, 6 July 2015

গন্ধহীন পুষ্পের ন্যায় কর্মবির্জতিত কথামালা

মুখে বড় কথা বলে অথচ সে নিজেই সেই কাজ করে না তাহলে কি হল? ভারত উপমহাদেশকে হিন্দু শূন্য করার লক্ষ্যে প্রাচীন কাল থেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হয়ে আসছে। শাসক শ্রেণি থেকে শুরু করে ধর্মগুরুরা পর্যন্ত এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। প্রথমত, ধর্মগুরুরা হিন্দুদের দূরে রেখেছে তারপর তারা ধর্মশাস্ত্র বিরুদ্ধ কাজ করে সনাতনধর্মকে বারবার বিতর্কিত করে তুলেছে তেমনিই একটি দিক তুলে ধরছি। কলিযুগ শুরু হয়েছে চার হাজার বছরেরও আগে। কিছু সংগঠন যুগ ধর্ম প্রচার করা নিয়ে ব্যস্ত। কিছু সংগঠন তাদের নিজস্ব মতবাদ প্রচার করছে যেগুলো শাস্ত্রে একটু আছে সেগুলোকে বড় করে তুলেছে। এক কথায় তিলকে তাল বানিয়ে ছাড়ছে নিজেদের লাভের খাতিরে। আর আমরাও তাদের কথা মত চলছি শাস্ত্রে কি আছে তা না দেখে। ধর্মীয় সংগঠন আমাদের কিভাবে সংখ্যালঘু করছে দেখুন। বৃহৎ নারদীয় পুরান মতে কলিযুগে পাঁচটি কর্মের কথা নিষেধ করেছেন। সেগুলো হল, গোমেধ যজ্ঞ, অশ্বমেধ যজ্ঞ, দেবর দ্বারা পুত্র উৎপাদন,মাংস দ্বারা পিতৃশ্রাদ্ধ এবং সন্ন্যাস। এখন আসুন দেখি আমাদের কিছু ধর্মীয় সংগঠনের দিকে তাকায় সেখানে কত যুবক ছেলে আজ সন্ন্যাস ব্রত পালন করছে? এরকম করে যদি চার হাজার বছর ধরে একটি জাতি থেকে যুবক ছেলেরা সন্ন্যাস ব্রত নেয় তাহলে কত ছেলে চলে গেছে? তাদের যদি দুটি করে সন্তান পৃথিবীর বুকে আসতে তাহলে আজ কতটি কন্ঠে জয় শ্রী রাম কথাটি ধ্বনিত হত? প্রাচীন বৈদিক ঋষিগন আমাদের জীবনকে চারটা ভাগে ভাগ করেছেন তা হল ব্রহ্মচর্য, গৃহস্থ, বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস। কোন শিশু যদি প্রথম শ্রেণী পড়েই যদি পঞ্চম শ্রেণী তে পড়তে চাই বা উঠে তার চেয়ে আমরা কি রেজাল্ট আশা করতে পারি? শাস্ত্রে জীবন ব্যবস্থা কে চার ভাগে ভাগ করলেও কলিযুগের জন্য সন্ন্যাস নিষেধ করা হয়েছে আর যদি কেউ তা পালন করে তাহলে অবশ্যই আগের তিনটে ধাপ অতিক্রম করে পালন করতে হবে। কিন্ত আমরা কি দেখছি কলিযুগে এসেও ধর্মগুরুরা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভারত উপমহাদেশের হাজারো যুবককে ব্রহ্মচারী বানিয়ে নিজ সংগঠনে গাধা খাটনি খাটিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু যেসব সংগঠনে আসলে বিয়ে করা যাবে না বলছে সেই সংগঠনের প্রতিষ্ঠিতা বা তাদের গুরুরা নিজেরাই ব্রহ্মচারী ছিলেন কি? ইসকনের প্রতিষ্ঠিতা বিবাহিত ছিলেন তাহলে তার ধর্ম প্রচারক গন কেন বিবাহিত হবেন না? আবার রামকৃষ্ণ মিশনের রামকৃষ্ণ নিজে বিবাহিত ছিলেন যদিও মিশনের প্রতিষ্ঠাতা বিবেকানন্দ ব্রহ্মচারী সন্ন্যাসী ছিলেন তথাপি তিনি নিজেও সন্ন্যাসব্রত নিতে বারন করেছেন। আমাদের পৃথিবীর সবাই যদি সন্ন্যাসী হয় তাহলে উক্ত সন্নাসীদের ভিক্ষা কে দিবে সেটাই ভাবছি। আর সবাই সন্ন্যাসী হলে আশা করি একশো বছরে পৃথিবী মানব শূন্য হয়ে যাবে ভগবানের নাম উচ্চারনের মত কেউ থাকবে না তাই প্রত্যেক হিন্দু যুবকদের বলব ঈশ্বরের সান্নিধ্য পেতে চাও তাহলে ঈশ্বর বলার মত অন্তঃত দুটো জীব পৃথিবীর বুকে রেখে যাও।

No comments:

Post a Comment