Tuesday, 1 December 2015

আসুন সবাই-মোদীকে তাড়াই।

আসুন সবাই-মোদীকে তাড়াই। সারা ভারতে সকল 'সেকুলারদের' মুখে মুখে ফিরছে এই কথা। পূর্বপাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে মার খেয়ে যারা গিয়েছিলেন তারাও কেউ পিছিয়ে নেই। মোদীকে সরাতে হবে। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে গেছে যেন মোদী তাদের কন্ঠনালীতে পা চেপে ধরেছেন! মোদী কি অন্যায় করেছেন? যে ব্যাক্তি সংসারধর্ম সব ছেড়ে দেশের জন্য করতে চাচ্ছেন তার বিরূদ্ধে এতো ষড়যন্ত্র কিসের জন্য? ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা ব্যবহার করে যে রাজনীতি ও ভন্ডামী এতোকাল চলছিল তার গায়ে মোদী কূড়াল হানবেন এই ভয়ে এই সেকুলাররা এতো উদ্বিগ্ন। যাদের মন-জগতে সামান্যতম মানবিকতার অস্তিত্ব নাই তারাই ভন্ডামী করে ধর্মনিরপেক্ষতারপ্রলেপ দিয়ে নিজের অন্তরের বিকারকে ঢাকতে চায়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতারকথা বলছেন তারা কি কেউ ধর্মনিরপেক্ষ? জওহরলাল নেহেরু কি ইন্দিরা গান্ধীকে ফিরোজ গান্ধীর সাথে বিয়ে দিতে সম্মত ছিলেন? ইন্দিরাগান্ধী তার বাবাকে ইউরোপীয় ধ্যান ধারনার মানুষ বলেই জানতেন তাই নেহেরু দেরাদুনের জেল থেকে ছাড়া পাবার পর ইন্দিরা তার বাবাকে গিয়ে বলেন --বাবা তোমাকে একটা খবর দেব বলে অপেক্ষা করছিলাম। এর পর যখন আহ্লাদিত চোখ মুখ নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী জানালেন যে তিনি ফিরোজকে বিয়ে করতে চান তখন সাথে সাথে জহরলাল নেহেরুর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। নেহেরু মেয়েকে এই ইচ্ছা পরিত্যাগ করাতে কম চেষ্টা করেন নি। এর মুলে ছিল তারা উচ্চবিত্ত কাশ্মীরী ব্রাহ্মন আর ফিরোজ নিম্ন মধ্যবিত্ত পার্সীয়ান বা ইয়াজিদি। একে 'বেজাত' তাতে আবার গরীব এ বিয়ে জহরলাল কখনও মেনে নিতে পারেননি। ইন্দিরার বলেছিলেন "তুমি রাজী না হলে কোনদিন তোমার সাথে আমার যোগাযোগই থাকবেনা"। বাধ্য হয়ে হিন্দুয়ানী মতেই বিয়ে দিয়েছিলেন বৈদিক মন্ত্র দিয়ে। আজ যারা হিন্দু উগ্র সেকুলার তারা কি কেউ মুসলমান ঘরে ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছেন? যারা আন্তধর্মীয় বিয়ে করছে তারা স্বেচ্ছায় করছে-- নেহেরুর সেকুলারিজম ছিল বাইরের, যেমন আছে আমাদের সমাজের এই সকল সেকুলারদের। কেন বোম্বে ফিল্মের খানেরা হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করেন? তাদের ছেলেমেয়েরা কেন হিন্দু হতে পারেনা? হিন্দু সুমন চ্যাটার্জী কেন সাবিনাকে বিয়ে করে মুসলমান হলেন-এই প্রশ্নগুলি এই সমাজের বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। সুমন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করলেন কেন? তিনিতো নিম্নবর্ণের অছ্যুত ছিলেননা। নামী দামী শিল্পী কেন এমন করলেন? এর জবাব আর যাই হোক সুন্দর কিছু হবেনা। হয় তিনি বলবেন হিন্দু ধর্ম নিকৃষ্ট বলেই ছেড়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম নিয়েছি; নয়ত বিয়ে করতে ছেড়েছি। এতে কি স্পষ্ট প্রমানিত হয়না এরা আসলে হয় নোংরা সাম্প্রদায়িক নতুবা সাম্প্রদায়িকতার শিকার? যদি ধর্মান্তরিত না হয়ে ধর্মীয় পরিচয় তুলে দিতেন তবে তা যুক্তিযুক্ত হত কিন্তু একটি ছেড়ে আরেকটি কেন? আসলে বহু স্ত্রী গ্রহনের পথ তাতে তিনি উন্মুক্ত করেছিলেন সাথে পেয়েছিলেন ডাবল বেনেফিট। একদল যদি ধর্মের ব্যাপারে অনড় থাকে তবে অপর কি তা মেনে চললেই তাকে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে হবে? এ অন্যায় চলতে পারেনা। মিশতেই যদি হয় তবে সমান সমান অধিকার। মুসলমান কাউকে বিয়ে করতে যদি হিন্দুকে মুসলমান হতে হয় তবে অবশ্যই হিন্দুকে বিয়ে করতে একজন মুসলমানকেও হিন্দু হতে হবে। যদি এমন প্রসস্ত মানসিকতা কোনদিন হিন্দু মুসলিম সকলের হয় সেদিনই কেবল ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হবে এর আগ পর্যন্ত যা সেকুলারিষ্টরা করছেন সবই বজ্জাতি। তাদের কাছে মোদী মানেই আতঙ্ক! মোদী-আতঙ্ক।। জলাতঙ্কের রোগী জল দেখলে কেমন করে যারা দেখেননি তারা এই ভয়ানক রোগটি আসলেই কেমন তা জানেননা। জলাতঙ্কের রেবিস ভাইরাস মস্তিস্ককে আক্রমন করে এবং মস্তিস্কের মধ্যে এমন এক ভয়ানক তরঙ্গের সৃষ্টি করে যে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচন্ড অস্থির এবং ভয়ার্থ হয়ে উঠে। তবে সবচেয়ে ভয় তার জলকে দেখলে। রোগী প্রচন্ড জলপিপাসা থাকে কিন্তু মুখ দিয়ে এই জল শব্দটাও উচ্চারন করতে পারেনা। জল দেখলে, জলের শব্দ শুনলেও ভয়ে পালাতে থাকে। জল শব্দটি তার সামনে উচ্চারন করা যাবেনা করলে রোগী কামড় দেবে এবং সেই কামড় আরেকজনকে সঙ্ক্রমিত করবে। সে এক করুন দৃশ্য এবং এরা আজ পর্যন্ত কোন চিকিতসায় বাচেনি। কেবল কামড় খেলে টিকা দ্বারা প্রতিরোধ করা যায়, প্রতিকার করার কিছুই নেই। ভারতের মোদী-আতঙ্ক দেখে মনে হচ্ছে এদের মাথায় গো-ভাইরাস আক্রমন করেছে। যারা মোদী আসায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ভারতের যারা এখনও এই ব্যধিতে আক্রান্ত হননি তারা কোন প্রতিরোধক নিবেন এবং আক্রান্তদের কাছ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখবেন।

No comments:

Post a Comment