Friday, 3 July 2015

ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক

ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচ গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক * ক্যাডারদের হুমকির মুখে মহিলাও * জমিতে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছে গত ১৯ জুন থেকে পাড়িয়া ইউনিয়নের কদমতলী, সিংগারী-১, সিংগারী-২, হাইয়াপাড়া ও কামাত পাড়িয়া গ্রামের হিন্দু পরিবারগুলো আতঙ্ক আর বিপদের আশঙ্কায় দিন কাটছে। রাতের বেলায় তারা ঘরে ঘুমাতে যেতে ভয় পাচ্ছে। কারণ কখন সন্ত্রাসী ক্যাডাররা তাদের উপর হামলা চালায়। এইসব পরিবারের মহিলারা সাধারণত দিনের বেলায় ক্ষেত-খামারে কাজ করে পেট চালায়। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তারা কাজে যেতে ভয় ভীতিতে দিন কাটছে। তাদের নানাভাবে হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে 'রনবাগ ইসলামী টি স্টেট কোম্পানি লিমিটেড' নামে চা বাগান মালিকের পোষা ক্যাডাররা। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলে এলাহি নির্যাতিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। নির্যাতিতদের বয়ানে জানা যায়, ক্যাডার আবদুল মতিন, শওকত, আশরাফুল, দানেশ চা বাগানের ম্যানেজার একরামুল ও পাড়িয়া স্কুলের শিক্ষক নাজির হিন্দু চা চাষি কৃষকদের লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে একজন অবস্থা গুরুতর আহত ভাগা রাম সিংহকে (৪২) গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসা না দিয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। আহত ব্যক্তিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ২ দিন চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে আতঙ্কগ্রস্তদের সব সময় তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ এলাকাটি অত্যন্ত সীমান্ত সংলগ্ন। নাগর নদীর পরেই ভারতের এলাকা। ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকে প্রতিবেশি দেশে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করে না বললেও বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। গত ২৯ জুন অতুল নামে এক চা চাষি তার জমির চা পাতা তুলেছেন। এ কাজে ২৫/৩০ জন দিনমজুর চা পাতা সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। কোন সন্ত্রাসী বা ক্যাডার তাদের কাজে বাধা না দিলেও অশ্লীল কথাবার্তা কামলাদের উদ্দেশ্যে বলাবলি করে। ৫টি গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সারা জীবন ধরে 'নৌকায় ভোট দিনো' এবারও দবিরুল ইসলামকে ভোট দিছি, তার ফল হামাগিলার জমি অর লোকেরা আজ দখল করে নিচ্ছে। জুলুম মারপিট করছে। হুমকি দিচ্ছে ভারতে চলে যাও নচেৎ নাগর নদীতে লাশ ভাসবে। তারা তাদের নাম ঠিকানা খবরের কাগজে না ছাপার অনুরোধ জানায়। যার কারণে তা লেখা হলো না। একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থার মতে প্রতিবেশী দেশে কোন হিন্দু পরিবার পালিয়ে গেছে কিনা তার নিশ্চয়তা এখনও তারা পায়নি। তবে এ ব্যাপারে ওই সংস্থাটি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ঘটনার পর কোন রাজনৈতিক দল ও এনজিও এলাকায় এখনও পেঁৗছায়নি। জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ ঠাকুরতাসহ কয়েকজন ঐ সংগঠনের কর্মী ভুক্তভোগী নির্যাতিতদের এলাকায় জাননি। তারা সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের 'রনবাগ ইসলামী টি স্টেট কোম্পানি লিমিটেড' চা বাগানে গেছেন এবং দবিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট বলরাম গুহ ঠাকুরতাকে ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে 'বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ২ বিঘা জমি কবিতার ৪টি লাইন আবৃত্তি করে চলে যান'। এর বেশি কোন কথা বলেননি তিনি। জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাসকে পাড়িয়া এলাকায় চা চাষি হিন্দু পরিবারগুলোর বিশেষ ক্ষমতাবান ব্যক্তির ক্যাডারদের হাতে নির্যাতন ও গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখনও যাওয়া হয়নি। তবে ২/১ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে সরজমিন যাবেন। এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ দবিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ লোকজন জানিয়েছেন অচিরেই মন্ত্রিসভার রদবদল হচ্ছে। দবিরুল ইসলাম এবার একজন মন্ত্রী হওয়ার শুভ সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই যশ খ্যাতিতে ঈষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং মন্ত্রিত্বের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বালিয়াডাঙ্গীর পাড়িয়া এলাকাটি তেভাগা আন্দোলনের সিংহ পুরুষ কমরেড গুরুদাস তালুকদার ও কমরেড হেলকেতু সিংহের এলাকা। তার আত্মীয়-স্বজন ঘনিষ্ঠ জনেরা আজ দবিরুল ইসলাম এমপির ক্যাডারদের অত্যাচারে ঘরছাড়া এবং নির্যাতিত। http://www.thedailysangbad.com/first-page/2015/07/02/15629

No comments:

Post a Comment