Saturday, 4 July 2015

এখনও যশোরের অভয় নগরের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে না

এখনও যশোরের অভয় নগরের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে না, পাবনার সাঁথিয়ার হরিদাসী বিচার না পেয়ে গুমরে গুমরে কাঁদে, রামুর বৌদ্ধ পল্লীর বুকের আগুন নিভে যায় নি। এর মধ্যে আবারও নিরবে ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশে শুরু হয়েছে সংখ্যালঘু নিধন ও জমি দখল এবং বিতারিত করার কাজ। আর সেই কাজ গুলো করছে স্বয়ং জনপ্রতিনিধিরা। বাংলাদেশে এত হামলা হচ্ছে সংখ্যালঘুদের উপর কিন্তু কোন নিউজ চ্যালেন বা পত্রিকাদিততে কোন খবর নাই। এরকম একটি খবর হলঃ চৌগাছায় সংখ্যালঘু নির্যাতন সাইফুল মেম্বরসহ ১৩জনের বিরুদ্ধে মামলা যশোর প্রতিনিধি যশোরের চৌগাছা উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের দুজনকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি পেটা করে হত্যা প্রচেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতনের শিকার বল্লভপুর গ্রামের নিমাই বিশ্বাসের ছেলে কার্তিক কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন-বল্লভপুর গ্রামের মৃত কাওছার বিশ্বাসের ছেলে ইউপি মেম্বর সাইফুল ইসলাম, রহিম বক্্েরর ছেলে আবদুল খালেক, ফকির চাঁদের ছেলে আইজেল হক, সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর হোসেন ওরফে আলম, আমীর মল্লিকের ছেলে তোতা মিয়া, রওশন আলীর ছেলে আবদুল মাজিদ, জাহেদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী বাটুল, হায়দার আলীর ছেলে রুস্তম আলী, হয়রত আলীর ছেলে সরজেত আলী, দুখু মন্ডলের ছেলে চান্দু মিয়া, রহিম বক্সের ছেলে আরশাদ আলী ও আনসার আলীর ছেলে আবদুস সাত্তারসহ অজ্ঞাত আসামী আরও ২০/২৫ জন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১জুলাই ২০১৫ ইংরেজি বুধবার আনুমানিক বেলা ১১ হাতে ধারালো দা, হাসুয়া, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আমার এবং সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরজিত কুমার রায়ের উপর হামলা করে। এসময় ১নম্বর আসামি সাইফুল মেম্বর ধর মার দুই শালাকে মার্ডার করে ফেল। এই হুংকার দিয়ে তার হাতে থাকা হাসুয়া দ্বারা সরজিতের মাথায় সজোরে কোপ মারে। এসময় সরজিত পালানোর চেষ্টা করলে ২ নম্বর আসামি খালেক তার হাতের ধারালো দা দ্বারা মাথায় দ্বিতীয় কোপ মারে। এরপর আমি সমিতির ঘরের মধ্যে দৌড়াইয়া গেলে ৩ নম্বর আসামি আইজেল ৫ নম্বর আসামি আলম, ৬ নম্বর আসামি তোতা মিয়া, ৯ নম্বর আসামি রুস্তম ও ১০ নম্বর আসামি সরজেত ঘরের মধ্যে গিয়ে আমাকে লোহার রড এবং লাঠি দ্বারা আঘাত করলে আমি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। এসময় ৩ ও ৫ নম্বর আসামির হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দ্বারা আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর আমাকে আবার টানতে টানতে ঘরের বাইরে আনে। এসময় ১ ও ২নম্বর আসামি আমার সমিতির সম্পাদক সরজিতকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকে এবং ৪,৭ ৮,১১,১২,১৩ নম্বর আসামিরা সরজিতকে লাঠি দ্বারা এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এঘটনায় সরজিতের আত্মচিকিৎকারে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি এবং সরজিত রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সাইফুল মেম্বারের বাড়ির উঠানে লুটিয়ে পড়ে আছি। এরপর আমার জ্ঞান ফিরলে দেখতে পায় সাইফুল মেম্বরের বাড়িতে গ্রামের চিকিৎসক মো: ইউনুস আলী, পিতা: ইউসুফ আলী রক্তাক্ত সরজিতকে চিকিৎসা করতে করছে। চিকিৎসা শেষে সাইফুল ও মাজিদ আমাকে (কার্তিক) এবং আইজেল ও আব্দার সরজিতকে তিন শত টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে বাওড় লিখে দিতে জোর করতে থাকে। আমরা ওই স্ট্যাম্পে সই করতে রাজি না হওয়ায় আমাকে সাইফুল মেম্বর হাতুড়ি পেটা করতে থাকে। এক পর্যায় আমি আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সাইফুল মেম্বরের বাড়ি থেকে আমাদের দুইজনকে উদ্ধার করে আমাদের স্বজনদের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য মাইক্রোবাসযোগে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়। আমাদের শারিরীক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে আমরা এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। উল্লেখ্য গত ১জুলাই ২০১৫ তারিখে আমাদের ওপর হামলার সময় আমি মেঝেতে পড়ে গেলে আমার মাছের পোনা ্ক্রয় বাবাদ আমার কোমরে রাখা ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ৩ নম্বর আসামি আইজেল হক বের করে নেয়। আমার হাতে থাকা স্যামসং গ্যালাক্সি হ্যান্ডসেট (আনুমানিক মূল্য ১১০০০টাকা) ৫ নম্বর আসামি তুলে নিজের দখলে নেয়। পরে জানতে পারি সরজিতকে মারপিটের সময় তার পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা এবং একটি সিস্ফনি মোবাইল ফোন হামলাকারীরা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া কয়েক মাস আগে বাওড় ইজারা পাওয়ার পরপর আসামি সাইফুল মেম্বর আমাকে ডেকে বাওড় তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। বিগত তিন বছর ইজারা নিয়ে বাওড়ে মাছ চাষ করার সময় সাইফুল মেম্বর আমার সমিতির নিরীহ মৎস্যজীবিদের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে চার-পাঁচ মেয়াদে আমার কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ হাতিয়ে নিয়েছে। ঘটনা জানাজানি হলে অত্যাচারের আশংকায় ও নিরীহ সদস্যদের অনুরোধে ইতোপূর্বে কোন রুপ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। এছাড়াও গত ২৮ জুন ২০১৫ইং তারিখ রোজ রবিবার সাইফুল মেম্বরের নেতৃত্বে বল্লভপুর, মাধবপুর, তিলকপুর, আন্দুলিয়া গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক লোক ঝুপি জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে বাওড় থেকে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়

No comments:

Post a Comment