Saturday, 25 July 2015

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ১০

এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ১০ জিহাদিদের(মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের) একটি মহৎ গুন হচ্ছে তারা মালাউন(হিন্দু) মেয়ে পছন্দ করে। আমিও করি, ওদের একটু খেলাতে পারলে ওরা উর্বশীদের মতো নাচে; আমরা জিহাদিরা অবশ্য নাচটাচ পছন্দ করে না, ওরা ঢুকতে বেরোতে পারলেই শুকরিয়া আদায় করে। এতে প্রধান প্রতিভা তালেবান মোঃ হাফিজুদ্দিন, ও হয়তো ফেরেশতাদের কাছ থেকে বিশেষ কনো হালুয়া লাভ করে; তবে মোঃ কেরামত আলি, মোঃ মোস্তফা, মোঃ আকবর আলিও কম যায় না, এটা আমি পছন্দই করি, জিহাদে কোনো কম যাওয়া-যাওয়ি নেই, তাতে জোশ কমে যায়। ওরা যখন একটি মালাউন মেয়ের উপর চড়ে, তখন ওরা মনে করে ওরা একেকটি নাছাড়া নগর ধ্বংস করছে, যার নির্দেশ রয়েছে। আমি আশ্চর্য হই, ওরা রুহুল্লা খোমেনির কিছুই পড়ে নি, কিন্তু চিন্তা কর্মে তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। মালাউন মেয়েগুলোর গন্ধ আমার ভালো লাগে, ব্রাহ্মন হোক আর চাঁড়াল হোক আর কৈবর্ত, যাই হোক, ওগুলোর গন্ধ আমার ভালো, একট তীব্র প্রচন্ড দমবন্ধকরা মহাপার্থিব গন্ধ ছুটে আসে ওদের স্তন থেকে, বগলের পশম থেকে, উরু থেকে, ওদের কুঁচকির ঘামেও অদ্ভুত সুগন্ধ; হয়তো গাঁদা তুলসি রক্তজবা পদ্ম বকুল শেফালি গন্ধরাজ ফুলের সঙ্গে ওদের একটা সম্পর্ক আছে বলে, আর ওরা ক্রীড়া করেও ভালো, মনে হয় ওদের প্রত্যেকেরই কামসূত্র মুখস্থ; এমনকি কৈবর্ত মেয়েগুলোর গন্ধও আমাকে পাগোল করে, আমি কৈ মাছের গন্ধ পাই, মনে হয় পুকুরে ডুব দিয়ে কাদার ভিতর থেকে মাছ ধরছি। ওই সময়টায় আমাদের অসামান্য কর্মকান্ড সবাই দেখেছে, কিন্তু কেউ একটু টু শব্দ করার সাহস পায়নি; তখন অবশ্য আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আমাকে ছুটে চলতে হয়েছে আমার মদিনাতুন্নবি থেকে, রিয়াদ, কান্দাহার, বাগদাদ, তিরকিত, প্রভৃতি অঞ্চলে—এই অঞ্চল গুলো আমাদের সাংকেতিক নাম, সব মহান কাজেই প্রথম সাংকেতিক নাম লাগে, সিম্বল লাগে। তখন একটা অসামান্য মজার সময় এসেছিল, তখনই আমরা মাদের শক্তিটাকে পাথরের মত শক্ত করে তুলি, যে পাথর আমাদের দিল ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। নির্বাচনটির্বাচনে, ইলেকশনটিলেকশনে আমরা বিশ্বাস করি না, ওটা আমাদের পাক ধর্মে নেই, তবু আমরা অংশ নিয়েছি মেইন পার্টির সঙ্গে; মেইন পার্টির কর্মী আর আমাদের ওপর দুটি নির্দেশ ছিল, ভোটের দিন মালাউনদের বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না; আর আমরা জানতামই আমরা জিতবো—আমাদের নেতারা ওপরের দিকে সব কাজ চমতকারভাবে করে রেখেছিলেন, তত্ত্বাবধায়কদেরতাঁরা তত্ত্বাবধায়ক করছিলেন; আমরা জানতাম জিতবোই; জেতার পর আমাদের কাজ ছিল একদিন চুপ করে থাকা, তারপরের দিন মালাউন আর তার দালালদের উপর ঝাঁপিয়ে পরা। ঝাঁপিয়ে পরা শব্দটি ঠিক হলনা, আমাদের কাজ ছিল ঠান্ডা আগুম জ্বালানো, য জ্বলে না, দহন করে। আমার ভাগে পড়েছিল মালাউনরা; আমিই বেছে নিয়েছিলাম। আমি আমার জিহাদিদের আর মেইন পার্টির জোয়ান খিলজিদের নিয়ে প্রথম ১৮টি মালাউনপল্লী চিহ্নিত করি- সীতারামপুর, হরিরামপুর, মদনগঞ্জ, মদনপুর, ব্রাহ্মণভিটা, কালীগঞ্জ আর কি কি যেন নাম—ওই নামগুলোকেও বদলে নিতে হবে; এবং বেশ আগে থেকেই কাজ শুরু করি। আমরা ভালো করেই জানি ওরা কাফের, ওরা কাফেরদের বাক্সেই ভোট দেবে; ওদের ভোট দেওয়া চিরকালের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে। ওরা ভোট দেবে কেনো; ওরা জিজিয়া কর দেবে, ওরা মাদের জিম্মি, আমরা ওদের রক্ষা করব, তার জন্য ওরা কর দেবে। আমি এই ব্যাপারে সম্রাট আওরংজেবকে আদর্শ মনে করি। আমরা তাদের পাড়ায় যাই, আমাদের দেখেই তাঁরা কেঁপে উঠে। সালাম দিয়ে আমরা তাদের বাড়িতে উঠি, তাঁরা ‘নমস্কার’ ‘আদাব’ বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে, সবচেয়ে উতকৃষ্টভাবে বলে ‘আচ্ছালামুয়ালাইকুম’। আমিও এখনও তাদের মত শব্দটি বলতে পারি না। আমাদের কোথায় বসাবে তা ঠিক করতে পারে না, চেয়ার টুল বেঞ্জ নিয়ে টনাটানি করতে থাকে, যদিও আমাদের বসার দরকার ছিল না। তবে একদিন আমরা বসবো, চড়বো , চেয়ার বেঞ্জের উপর নয়, আরো কোমল সুখকর জিনিশের উপর। — w

No comments:

Post a Comment