টুকটুকি মণ্ডল। প্রায় আড়াই মাস আগে পশ্চিমবঙ্গের মগরাহাট এলাকা থেকে পাড়ার বখাটে যুবক বাবুসোনা গাজী ও তার দলবলের হাতে অপহৃত হয়। মগরাহাট মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা; যেখানে প্রায় ৬০ শতাংশই মুসলমানের বাস। আর আমরা খুব ভালভাবেই জানি, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হিন্দু মেয়েরা কতটা নিরাপদ থাকতে পারে। বিশেষকরে নাবালিকা মেয়েরা এসব জেহাদিদের দ্বারা আক্রান্ত হয় বেশি। টুকটুকি এমনি একটি দরিদ্র পরিবারের নাবালিকা মেয়ে যে সেলিমদের মত তৃণমূলী গুণ্ডার হাতে লালিতপালিত গাজীদের সহজ টার্গেট। কিন্তু সিংহের পাহারায় হিংস্র হায়েনার দল দুর্বল শিকার কে গ্রাস করতে সক্ষম হয়নি। দীর্ঘ প্রায় আড়াই মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে জেহাদী সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহৃত টুকটুকি মণ্ডলকে। এই কয়টি মাস নিরলস পরিশ্রম করেছে হিন্দু সংহতি তথা জন অধিকার মঞ্চ। পাঁচদিন আগে বিজেপিও যোগ দেয় এই টুকটুকি উদ্ধার আন্দোলনে। রাহুল সিনহার মত নেতারাও থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এখানে অনেকেই অভিযোগ করে বলেছে, বিজেপি তার রাজনীতিগত স্বার্থে এই আন্দোলনে যোগ দিতে অনেকটা বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আমি এখানে কোনো বিতর্ক করতে চাইছি না; বরং আশা করব বিজেপি মাদ্রাসা চালুর মত দুর্বুদ্ধিগ্রস্ত চিন্তা ত্যাগ করে এভাবেই যেন দরিদ্র নিপীড়িত হিন্দুর পাশে দাড়ায়। . যায় হোক, দীর্ঘ আড়াই মাস পর টুকটুকি উদ্ধার হল ঠিক কিন্তু জন্ম দিল নতুন বিতর্কের। বাংলার বিভিন্ন মিডিয়া মারফত জানা যাচ্ছে, টুকটুকি নাকি অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। সে বলেছে, মা-বাবার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সে নাকি আড়াই মাস নিখোঁজ ছিল। কিন্তু কোথায় ছিল সে এই আড়াই মাস? পারিবারিক অত্যাচারে কোনো যুবতী মেয়ে বখাটে সন্ত্রাসীদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেবে এমন বোকাবোকা গল্প আমাদের বিশ্বাস করতে হবে? হ্যাঁ ঠিক এমনই এক হাস্যকর গল্প শুনিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইপিএস অফিসার অনুজ শর্মা। আর সেই সংবাদ ফালাও করে প্রচার করে যাচ্ছে কিছু মিডিয়া; যাদের নামকরণ করা হয়েছে প্রেশ্যা! বাহবা দিতে হয় ঐ নির্বোধ নপুংসক পুলিশ নামের যতসব ফুলিশদের। যারা অন্ধের মত এক নষ্টা মহিলার দালালি করতে গিয়ে নিজেদের বিবেক কে বিসর্জন দিচ্ছেন। যে কাজ পুলিশের করার কথা ছিল সেই কাজ যারা করে দিল; তাদেরকে ভিলেন বানানোর এই অপচেষ্টা হিন্দু যোদ্ধাদের কেই রুখতে হবে। . টুকটুকির শরীর হয়তো উদ্ধার হয়েছে কিন্তু তার আত্মা কি শরীরে আছে? একজন হিন্দু নারীর কাছে তার সতীত্বই তার আত্মা। অপহরণের এই ৭৫ দিনে টুকটুকি মণ্ডলকে কতবার ধর্ষণ করা হয়েছে ভাবুন তো। এই গাজীরা বেহেশতের হুরের লোভে আর কত আমাদের বোনেদের উপর অত্যাচার চালাবে? হিন্দুর কি পুরুষত্ব লোপ পেয়ে গেছে? বোনের উপর নির্যাতনের প্রতিশোধ নেওয়ার স্পৃহা কি জাগেনা হিন্দুর মনে? টুকটুকির উপর অত্যাচারের প্রমাণ বের করা কঠিন কিছু নয়। মেডিকেল টেস্টের দ্বারা প্রমাণ হতে পারে সব কিছুর সত্যতা। আমার বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনকারীরা যতই শক্তিশালী হোক; বিজ্ঞান তো আর মিথ্যা বলতে জানেনা? সেক্যুলার নামধারী যত আত্মঘাতী হিন্দু; যারা টুকটুকির মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে আহাম্মকের মত বিজয়োৎসব করছে। যারা অস্বীকার করছে, সেলিম গাজী কর্তৃক টুকটুকির পরিবারের উপর হুমকির ঘটনাপ্রবাহ। তাদের অন্ধ বিশ্বাস যেন ভেঙে খানখান হয়ে যায়। . টুকটুকি ইস্যু নিয়ে হইচই কিন্তু কম হয়নি এই দুমাস যাবৎ। অথচ বাংলার মিডিয়ার কাছে এই ইস্যুটি কোনো গুরুত্বই পায়নি। বিদেশে কুকুর মরলে এরা শোক জানিয়ে খবর বানায় কিন্তু নিজের দেশে এমনকি নিজের রাজ্যে কোনো মেয়ে নিগৃহীতের শিকার হলেও এদের খোঁজ থাকে না। কারণ মেয়েটি হিন্দু; তার উপরে আবার গরিব। অথচ এরায় রাজ্যে কোনো মুসলমান যুবক চাকরি হারালে কেঁদেকেটে একাকার করে। দেশের বুদ্ধিজীবী বাম ভাম শ্যামেরা যাদের কেবল শিবরাত্রির দিনে মনে পড়ে রাস্তার শিশুরা দুধ খেতে পায় না! যারা নাকি দুস্থ অসহায়দের জন্য রাজনীতি করে বেড়ায়; সুদূর গাজার ফর্সা বাচ্চাদের জন্য এরা মোমবাতি গুঁজে রাস্তায় নাইট শো করতে পারে। কিন্তু পাশের বাড়ির কালো মেয়েটির ইজ্জত রক্ষায় ওদের লন্ঠন ধরিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। আজ কিন্তু টুকটুকিকে নিয়ে ওরায় বেশি বগল বাজাচ্ছে। কারণ ওদের ধারণা, টুকটুকি ফিরে এসে চাড্ডিগুলোর নাক কেটে দিয়েছে! সত্যিই এদের রাজনৈতিক দূরদর্শীতা অসামান্য। যার সুফল বাবদ সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও বাংলায় হিন্দুরা আজ সংখ্যালঘু!
No comments:
Post a Comment