অনুপ সাদি: আপনি বলছেন ক্ষমতায় যাচ্ছে দৃর্বৃত্তরা। আপনি সম্ভবত একটি প্রবন্ধ শুরু করেছিলেন এই বাক্যটি দিয়ে ‘ক্ষমতা মানুষকে শয়তানে পরিণত করে এবং বিশেষ ক্ষমতা মানুষকে পরিণত করে বিশেষ বা বিশিষ্ট শয়তানে’। আপনার এ ধারণাটা হলো কেন?
হুমায়ুন আজাদ:
এটি অবশ্য সর্বজনীন সত্যই। প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা যদি ইতিহাস লক্ষ করি তাহলে দেখবো যে একটি লোক খুব ভালো ছিলো, হঠাত তাকে ক্ষমতা দেয়া হলো বা সে কোনোভাবে ক্ষমতা পেলো, সে দুর্বৃত্তে রূপান্তরিত হয়ে গেছে বা বলা যাক দুএকটি ওইতিহাসিক ঘটনাই, জুলিয়াস সীজার, অত্যন্ত দক্ষ সেনাপতি, খুবই চমৎকার, তাকে রোমান সাম্রাজের ভার দেয়া হয়েছে; ক্রমশ সে একনায়ক হয়ে উঠলো। তারপর এ্যান্টোনিও, সে এসে চমৎকার জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়ে একসময় ক্ষমতার একটি অংশ দখল করলো, তারপর দেখা গেলো সে কী রকম দুর্বৃত্ত হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর দিকে দিকে দেখা যাবে ক্ষমতায় যে গেছে, একটি অত্যন্ত ভালো মানুষ, ক্ষমতায় গিয়ে খারাপ মানুষে পরিণত হয়েছে; এগুলো পৃথিবীর ইতিহাস জুড়েই দেখা যাবে।
তবে এখন ভালো মানুষরা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ খুবই কম পায়। দেখা যাবে যে ক্ষমতায় কারা যেতে চায়; যে কবি হবে, বৈজ্ঞানিক হবে, দার্শনিক হবে সে তো ক্ষমতায় যাওয়ার কথা ভাবে না। ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় সাধারণত সমাজের নিম্নমানের লোকেরা যারা জন্মসুত্রেই ক্ষমতাকে পছন্দ করে এবং ক্ষমতা লাভ করার জন্য কোনো সহজাত প্রতিভার দরকার হয় না; ক্ষমতার জন্যে দরকার হয় যে আমি ক্ষমতা লাভ করবো; তার জন্যে এককালে তো শারীরিক শক্তি যথেষ্ট ছিলো; এখন সাধারণ মানুষকে ধাপ্পা দিতে হয়; ধাপ্পা দেওয়ার জন্যে অবশ্য প্রচুর টাকা লাগে; প্রচুর টাকা তার সঙ্গে একটি বিশাল দুর্বৃত্তবাহিনীথাকতে হবে; যদি পারিবারিক ওইতিহ্য থাকে, আমার পিতা যদি একজন মহানায়ক হয় বা একজনের স্বামী যদি একটি বড় পদ দখল করে ... থাকে তাহলে কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়া এদেশের জন্যে বা পৃথিবীর সব দেশেই এখন সহজ হয় এবং সেই ব্যবস্থাই পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে।
No comments:
Post a Comment