Monday, 10 August 2015

নাস্তিক্যবাদীদের পক্ষে দলবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়

নাস্তিক্য বাদ ? ... একেশ্বর বাদ? .. নাকি মুক্তির আনন্দ লুকিয়ে আস্তিক্য বাদে? নাস্তিক্যবাদীদের পক্ষে দলবদ্ধ হওয়া সম্ভব নয় কারন নাস্তিক্যবাদের মুলে রয়েছে যুক্তি এবং মুক্ত চিন্তা যা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব। এরফলে যুক্তিবাদীরা ক্রমাগত নির্যাতিত হচ্ছেন। পক্ষান্তরে ইশ্বরবাদীদের পক্ষে দল গড়া সম্ভব হয়। একেশ্বরবাদী দর্শন দ্বারা একটি্ রেজিমেন্ট গড়ে তোলা যায় বা তোলা হয়েছে বারবার। এক বিশ্বাস এক ধারনা মানুষকে এক করতে সক্ষম যদিও এর বিনিময়ে সকল স্বাধীন চিন্তার পথ রুদ্ধ করে দিতে হয়। আমরা একতা যদি চাই তবে একেশ্বরবাদ মোক্ষম অস্ত্র কিন্তু যদি চাই মানুষের চিন্তাধারার বিকাশ তবে তার পথ ঠিক উলটো। পশ্চিম বিশ্বের অধিকাংশ দার্শনিকেরা মনে করেন একেশ্বরবাদ মানুষের অকল্যাণের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। ফ্যাসিবাদের চেয়েও মারাত্মক এই একেশ্বরবাদ। একেশ্বর বাদী দর্শনের ভয়াবহ ফল বিশ্ব দুহাজার বছর ধরে দেখেছে। উগ্র ধর্মযুদ্ধ থেকে সকল প্রকার অমানবিক অত্যাচার একেশ্বরবাদের জন্মলগ্ন থেকেই দেখা গেছে। প্রাচীন সভ্যতায় একেশ্বরবাদ ছিলনা- মেসোপটি্যমা, মিশরীয় সভ্যতা, সিন্ধু সভ্যতা, বৈদিক সভ্যতা, পরবর্তীতে পারস্য সভ্যতা থেকে রোমান সভ্যতা গ্রীক সভ্যতা কোথাও একেশ্বরবাদ ছিলনা ফলে সভ্যতার ভীত রচিত হয়েছিল এবং মানুষ দ্রুত এগিয়ে গিয়েছিল বিজ্ঞান সহ সকল ক্ষেত্রে। নাস্তিক্যবাদের বদলে আমাদেরকে সম্ভবত আবার প্রাচীন পথেই ফিরতে হবে। ইউরোপের রেনেসাস পুরানোকে দিয়েই সম্ভব হয়েছিল আমাদেরকেও তাই করতে হবে। আমাদের অবস্থান নিতে হবে বহুইশ্বরবাদে-অর্থাত যে যার ইচ্ছামত ইশ্বরকে আরাধনা করবে এবং ডাকবে অথবা ডাকবেনা। ভারতের অদ্যাবধি যে মুল ধর্মীয় ধারা যাকে একটা আম্ব্রেলা টার্মের অধীনে হিন্দু বলা হচ্ছে তা কোনক্রমেই একেশ্বরবাদী ছিলনা যদি তাকে সেমিটিক ধর্মের একেশ্বরের সাথে তুলনা করা যায়। কোন ব্যক্তি ইশ্বর সর্বময় ক্ষমতার অধীকারী বলে হিন্দুরা মানেনা। ফলে ইশ্বরকে নানা রূপে কল্পনা করাই এর বিশেষত্ব। স্বামী বিবেকানন্দ হিন্দু ধর্মকে একেশ্বরবাদী বলেননি। এটা সেই গন্ডির বাইরে এবং আত্মা এবং পুরূষ এই দুইকে ঘিরেই মুলত হিন্দু বেদান্ত ধর্ম। ইশ্বর সেখানে গৌন। বৌদ্ধ ধর্ম এবং জৈন ধর্মে ইশ্বরের অবস্থান আদৌ নেই বলাই সংগত। বলার অপেক্ষা রাখেনা বৌদ্ধ, জৈন হিন্দু ধর্ম গুলি মুলত বৈদিক যুগের শেষে প্রায় একই সময়ে আবির্ভুত হতে থাকে এবং এদের দর্শনের মধ্যে প্রভুত সামঞ্জস্য লক্ষনীয়। সেই দর্শনকে ফিরিয়ে এনেই হয়ত বর্তমান বিক্ষুন্ধ ধর্মমতের সমস্যার সমাধান খুজতে হবে। একেশ্বরবাদী ধারনা ত্যাগ করতে হবে কারন মানুষের মিলনের জন্য সকলের মতকে মর্যাদা দেবার ক্ষমতা বহুইশ্বরবাদ অথবা অনির্দিষ্ট ইশ্বরের ধারনাতেই সম্ভব এবং ভারতীয় নানা ধর্মের অন্তর্নিহিত সেই তত্বকে আবার সামনে নিয়ে আসতে হবে। কৃতজ্ঞতাঃ শ্রী সমীরণ ভট্টাচার্য .....

No comments:

Post a Comment