Wednesday, 19 August 2015

ভাবমূর্তি শব্দটি সম্ভবত শাসকেরা নতুন করে শিখেছে

ভাবমূর্তি শব্দটি সম্ভবত শাসকেরা নতুন করে শিখেছে; শিশুরা নতুন কোনো ছড়া শিখলে যেমন আনন্দে যখন তখন আবৃতি করে, তারাও তেমনি আবৃতি করে চলছে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা, আমলারা, ব্যবসায়ীরা, সেনাপতিরা, শিল্পপতিরা, সবাই কমবেশি দুর্বৃত্ত, অসৎ, স্বার্থপর, অযোগ্য; তাদের ভাবমূর্তি তো দুর্বৃত্তের। তারাই তো সৃষ্টি করে চলছে দেশ ও দেশের ভাবমূর্তি, ওই মূর্তির রূপ তো তাদের মতোই হবে। এর ভাবমূর্তি দুঃশাসনের, দারিদ্রের, দুর্ভিক্ষের, হত্যাকাণ্ডের, দুর্নীতিতে প্রথম হওয়ার, বন্যায় ভেসে যাওয়ার, ঝড়ে ভেঙে পড়ার, ভিখিরির, এখন অনেকটা তালেবানের। ধার্মিকেরা বোমা ফাটাচ্ছে দিকে দিকে; তারা অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে দেশকে। আমি কি আমার দেশ সম্পর্কে অকপটে কথা বলতে পারবো না? এমনকি বিদেশে গিয়েও? দেশেতো বলাই যায় না, বিদেশে গিয়েও বলতে পারবো না? তারপরেও কি দেশের ভাবমূর্তি উদ্ভাসিত থাকবে স্বর্গীয় আলোতে? মার্কিনরা তো প্রকাশ্যেই তাদের রাষ্ট্রপতিকে বলে ‘খুনি’, আমরা কি তা বলতে পারি? আমরা তো সব স্ম্যই অধিকারহীনতা ও ভয়ের মধ্যে আছি। যে দেশে বাকস্বাধীনতা নেই, চিন্তার স্বাধীনতা নেই, অধিকার নেই, যেখানে কয়েকটি দুর্বৃত্ত সর্বশক্তিমান, সেখানে উৎকৃষ্ট প্রতিভা জন্ম নেয়া দূরের কথা, একটি ভালো চর্মকারও জন্ম নিতে পারে না। নিকৃষ্টদের অধীনে সব কিছুই নিকৃষ্ট হয়ে যায়। -হুমায়ুন আজাদ

No comments:

Post a Comment