রানা দাশগুপ্ত : বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম
ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের
একজনকে প্রধান বিচারপতি পদে বসানো
হয়েছে। অথচ ভারতে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি
থেকে অনেক উচ্চপদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের
লোকেরা আসীন ছিলেন এবং আছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে যেমন এটি
হয়েছে, তেমনি প্রধান বিচারপতি যেদিন পদায়ন
পেয়েছেন, সেদিনই ওলামা লীগ সমাবেশ
করে এর বিরোধিতা করেছে। এখন তারা
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য
দিচ্ছে। আবার এই সংগঠনের সভা-সমাবেশে
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও যান।
যে কথাগুলো মৌলবাদী ডানপন্থীরা বলতে
পারছে না, ওলামা লীগ সেটিই বলছে। তাদের
এসব তৎপরতা মৌলবাদীদের সঙ্গে
আওয়ামী লীগের পাঁচ দফা চুক্তির কথাই স্মরণ
করিয়ে দেয়, যাতে শরিয়াহ আইন চালুর কথা বলা
হয়েছিল। এখন আওয়ামী লীগকেই পরিষ্কার
করতে হবে, তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা
করতে চায়, না ওলামা লীগের দাবি অনুযায়ী
ধর্মরাষ্ট্র? দুটো তো একসঙ্গে চলে না। ৬৮
বছর ধরেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা বঞ্চিত। মেধা ও
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের উপযুক্ত পদ
দেওয়া হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের আমলে যখন
যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে (সব
ক্ষেত্রে নয়) সংখ্যালঘুদের পদায়ন করা হচ্ছে,
তখনই অন্ধকারের শক্তি শোরগোল তুলছে।
No comments:
Post a Comment