ধর্ম্মান্তর রুধে সবচাইতে বড় কৌশল
হচ্ছে__নিজ ধর্ম্ম সম্পর্কে জাগরন।
নিজে জেনে অন্যকে তা জানিয়ে
দেওয়া এবং নিজ ধর্ম্মের অনুশাসনগুলো
সুবিশ্লেষণের দ্বারা তার গুরুত্ব অনুভুত
হওয়া। তার জন্যে প্রথমেই অভ্যাসযোগ
অবলম্বন করা অত্যাবশ্যক। অতঃপর
সূচারুভাবে শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ
করা। সৃষ্টিতত্ব, সৃষ্টিরহস্য ইত্যাদি
বিষয় অবগত হওয়। সর্ব্বোপরি নিজ
মনে, অন্যমনে অধ্যাত্ম বিষয়ে
যৌক্তিক প্রশ্ন দাঁড় করানোর মধ্য
দিয়ে মস্তিষ্কে একটা আলোড়ন সৃষ্টি
করা। বেদশাস্ত্র-গীতাশাস্ত্র যত
শাস্ত্রই আছে__তা কেবল আভিধানীক
ব্যাখ্যা দ্বারা সার পাওয়া যাবে
না। শাস্ত্রবাণীর সার উৎপাটন করতে
আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার বিকল্প নাই।
তার জন্যে অবশ্যই যোগ অর্থাৎ,
ধ্যানযোগ অবলম্বন করা চাই। ধ্যান
অর্থে আসনোপরে মুদিত নয়নে
উপবেসনকেই বোঝায় না কিন্তু! ধ্যান
অর্থে বরং কোন একটা বিষয়ের প্রতি
একনিষ্ঠ চিন্তা করা বা একাগ্রতাকেই
বোঝায়। তা সেই ধ্যানযোগ হাটা-
চলায় কিংবা কর্ম্মশালায় কর্ম্মের
মধ্যেও হতে পারে। চিন্তা অর্থে
চেতন রাজ্যে স্থিতা বা বিরাজ করা
বোঝায়। চেতন অর্থে চৈতন্যসত্ত্বাকে
অর্থাৎ, যে শক্তির বলে আমরা জীবন
ধরে রাখি, যে শক্তির বলে আমাদের
দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ-ইন্দ্রিয়াদি
নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্রিয়, সেই
শক্তিকে বোঝায়। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে
কোন কিছু অবগত না হয়ে কোন মন্তব্য
কিংবা কোন সিদ্ধান্তে নির্ভুল উপনীত
হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। আর, অপুক্তা
বা কাঁচা জ্ঞান দ্বারা কোন সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করা আহাম্মকি ছাড়া কিছুই নয়।
আগে নিজেকে, নিজ ধর্ম্মকে, কারনকে
জানতে হবে এবং তৎপরে অন্যকেও তা
জানিয়ে দিতে হবে, নচেৎ
অন্যধর্ম্মের সমালোচনা/নিন্দা
উপস্থাপনা দ্বারা কারো মন-মস্তিষ্ক
হতে ধর্ম্মান্তরিত হওয়ার বিষ
অপসারিত করা সহজসাধ্য নয়। তা
ছাড়া অন্য বা পরধর্ম্মের সমালোচনা
বা নিন্দা করা নিছক মূর্খতা বৈ কি
হতে পারে? প্রথমে নিজ সম্মন্ধে
জানবার আগ্রহ প্রকাশ করো,,,,,অন্যের
মধ্যেও সেই আগ্রহের বীজ অঙ্কুরিত
করো,,,,,দেখবে__তখন আর ঐ
ধর্ম্মান্তরিত হবার ভাইরাসটি
জীবিত থাকবে না। তাই অগ্রে
আত্মসমালোচনা দ্বারা নিজেদেরকে
শুধরে লও।।
No comments:
Post a Comment