Saturday, 8 August 2015

শান্তির মুখোশের আড়ালে ইসলামঃ

এক বছর আগে সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট' ইরাকের উত্তরে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়েছিল৷নারীদের ব্যাপক মর্যাদাহানি ঘটেছিল৷ এর মাধ্যমে সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর নৈরাশ্যবাদী চরিত্র ফুটে ওঠে৷ অপরাধের সপক্ষে যুক্তিগুলি নানা মন্তব্যের মধ্যে প্রকাশ পায়৷ বছর খানেক আগে আইএস ইরাকের উত্তরে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ভিটেমাটির উপর হামলা চালিয়েছিল৷ প্রাক-ইসলামি যুগের এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পুরুষদের হাজারে-হাজারে হত্যা করে তারা৷ নারীদের অপহরণ, বিক্রি, ধর্ষণ ও নির্মমতার চূড়ান্ত বর্বরতার নিদর্শন রাখে ৷ কিছু ইয়াজিদি পুরুষকে মৃত্যুর বদলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল৷ অনেকেই বাধ্য হয়ে সেই সুযোগ গ্রহণ করেছে৷ ইন্টারনেটে গণ ধর্মান্তকরণের ছবি প্রকাশিত হয়েছে৷ ভয়ার্ত কণ্ঠে তারা বলেছে, ‘‘অন্ধকারে ছিলাম, এবার আলোকিত জীবন পেলাম৷'' ‘‘আমরা এখন আলোকিত জীবন পেয়েছি'' – জিহাদিদের বিশ্বাসের ভিত্তি এই বাক্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায়৷ বিশেষ করে ইয়াজিদিদের নিপীড়নের ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, যে যারা ‘আলোকিত জীবন'-এর মধ্যে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কার্যত সবকিছুর অনুমতি রয়েছে৷ হত্যা, আতঙ্ক আর ঘৃণায় সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস তাদের কাছে নারী যেন বাজারের পণ্য। অনেক সময় আটক নারী ও শিশুদের সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস জঙ্গিরা যৌন দাস হিসেবে ব্যবহার করে৷ সম্প্রতি সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর কবল থেকে পালিয়ে আসা ৪০ জনেরও বেশি ইয়াজিদি নারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷নারী ও শিশুদের সঙ্গে আইএস-এর এমন আচরণে নিন্দা জানিয়েছেন সবাই৷ কোরান বিকৃত করা হয়, যতক্ষণ না জিহাদিদের কার্যকলাপের অনুমোদন পাওয়া যায় – চুরি, ডাকাতি থেকে শুরু করে ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধও সেই তালিকায় রয়েছে৷ ‘‘আমরাই তোমাদের ঈশ্বর'' অত্যাচারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসা এক ইয়াজিদি নারী বলেন, ‘‘ওরা আমাদের সঙ্গে কী না করেছে!'' এর বেশি তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব হয়নি৷ কিন্তু বিভিন্ন ভিডিও থেকে ইয়াজিদি নারীদের মর্মান্তিক দশা বোঝা যায়৷ এমনকি সাত-আট বছরের বালিকাদের ৩০-৪০ বছরের লোকেদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে৷ যে সব নারীরা ধর্ষণে বাধা দিয়েছে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ অনেকে নিজেদের কামনা-বাসনা মিটিয়ে নারীদের বিক্রি করে দিয়েছে৷ কয়েকজন ইয়াজিদি নারী জানিয়েছেন, তাঁদের ২০ বারেরও বেশি বিক্রি করা হয়েছে৷ অনেকে নিজেদের ধর্মকে আঁকড়ে ধরে কিছুটা শান্তি পাবার চেষ্টা করেছেন৷ ‘মালিক'-রা তাদের অবজ্ঞা করে বলেছে, ‘‘তোমাদের ধর্ম ভুলে যাও৷ আমরাই তোমাদের ঈশ্বর৷'' ‘‘আমরাই তোমাদের ঈশ্বর'' – এই বাক্যটি ভালো করে ভেবে দেখা উচিত৷ জিহাদিরা কীভাবে নিজেদের হাতে মাত্রাহীন ক্ষমতা সঁপে দিয়েছে, এর চেয়ে স্পষ্ট ও নিষ্ঠুরভাবে তা বোঝানো সম্ভব নয়৷ এই বাক্য অপরাধীদের আর কোনো সীমারেখা রাখেনি৷ জিহাদিরা মুখে যাই বলুক, আসলে তারা কোনো ঈশ্বরকে মানে না – তারা নিজেরাই ঈশ্বরের ভূমিকায় অভিনয় করছে৷ আইএস আসলে রন্ধ্রে রন্ধ্রে নাস্তিকদের এক আন্দোলন৷ আধুনিক যুগে এমন ‘সিনিকাল' বা নৈরাশ্যবাদী প্রবণতার সহজে তুলনা মেলে না৷ বাংলাদেশেতে এমন এক নিপীড়নকারীকে হাড়ে হাড়ে চেনা যায়৷ সে বাংলাদেশে স্বাধীনতার সময় নোয়াখালী ক্যাম্পে হিন্দু নিপীড়নের চালিয়েছে৷ যারা তার নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের দুর্দশা দেখে সেও বড় তৃপ্তি পেত৷ সেই সব মানুষও তাদের নিপীড়নকারীদের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার সঙ্গে ইয়াজিদিদের বর্ণনার আশ্চর্য মিল পাওয়া যায়৷ আল কায়েদা থেকে তৈরি হওয়া সুন্নি মুসলমানদের জঙ্গি সংগঠন আইএস৷ সাদ্দাম পরবর্তী সময়ে ইরাকে এবং বাশার আল আসাদের আমলে সিরিয়ায় সুন্নিদের হতাশা থেকেই জন্ম সংগঠনটির৷ সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর পতাকায় লেখা থাকে, ‘মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর নবী’ এবং ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই৷’ সুযোগ পেলেই কঠিন অপরাধ করা এই সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এক আন্তর্জাতিক জেহাদি সংগঠন৷এদের সদস্যরা একাধিক দেশ থেকে এসেছে৷ শিল্পোন্নত থেকে শুরু করে কৃষিভিত্তিক অনুন্নত দেশও তার মধ্যে রয়েছে৷ কেউ এসেছে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে, কেউ বা স্বৈরতন্ত্র থেকে৷ মোটকথা অপরাধীদের পুর্বপরিচয় একেবারই এক নয় ৷ তাদের কোনো একটি ছাঁচে ফেলা কঠিন৷ বিশেষ করে যাঁরা বলেন, যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির অভাব থেকেই জিহাদি জীবন শুরু হয়, তাদের যুক্তি আর ধোপে টিকছে না৷ তার বদলে অন্য এক অনুমান আরও যুক্তিগ্রাহ্য মনে হচ্ছে৷ অনেক তরুণ মারাত্মক অপরাধী হয়ে উঠছে, কারণ তারা এই সুযোগ পাচ্ছে৷ কথা বলে, ‘সুযোগ পেলে মানুষ চোর হয়ে ওঠে'৷ দেখা যাচ্ছে, শুধু চোর নয় – সুযোগ পেলে মানুষ হত্যাকারী, ধর্ষণকারী, নিপীড়নকারীও হয়ে উঠতে পারে৷ তারা অপরাধী হয়ে উঠছে, কারণ ইসলামের মোড়কে তাদের ভয়ংকর অপরাধ ঢেকে ফেলা হচ্ছে৷ সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস তাই শুধু এক সামরিক নয়, আদর্শগত চ্যালেঞ্জও বটে৷ এই অবস্থায় সুন্নি ধর্মীয় নেতাদের কাঁধে বিশেষ দায়িত্ব এসে পড়ছে৷ তাঁদের আইএস-এর ঈশ্বরহীন কেন্দ্রবিন্দুকেদূর করতে হবে৷ সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বিমান হামলায় এতদিন অংশ না নিলেও অবশেষে অবস্থান থেকে সরেছে তুরস্ক৷ সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে দেশটি৷ সীমান্তকে সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-মুক্ত করার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে চায় তুরস্ক৷ সুন্নিপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবশেষে যোগ দিয়েছে তুরস্ক৷ তবে রেহাই পাচ্ছে না কুর্দিশিয়া রাও৷ এই অবস্থায় আঞ্চলিক ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন৷ সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াও এইবিষয়ে আজ উত্তাল৷ কৃতজ্ঞতাঃ - স্বর্নেন্দু বিশ্বাস....

No comments:

Post a Comment