Sunday, 9 August 2015

প্রশাসনে হিন্দুতোষণ এবং পাঠ্যপুস্তকে হিন্দু ও নাস্তিক লেখকদের প্রাধান্য প্রদান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ওলামা লীগসহ ১৩টি ইসলামপন্থী সংগঠন এ দাবি জানিয়েছে। সরকার-সমর্থক এসব সংগঠন মোট ১৭ দফা দাবি আদায়ে শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মসূচির একটি প্রেস রিলিজও পাঠানো হয়। প্রশাসনে হিন্দুতোষণ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘চাকরির ক্ষেত্রে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের নিয়োগ আনুপাতিকহারে করতে হবে। হিন্দুদেরকে মুসলমানদের চেয়ে বেশি নিয়োগ দিয়ে বৈষম্য করা যাবে না। প্রশাসনকে হিন্দুকরণ চলবে না।’ তারা দাবি করেন, ‘গত ২০১৩ সালের অক্টোবরে পুলিশের এসআই পদে নিয়োগে ১৫২০ জনের মধ্যে হিন্দু নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩৩৪ জন যা মোটের ২১.৯৭ শতাংশ। গত ২০১১ সালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইতে নিয়োগের ৯৩ জনের মধ্যে হিন্দু নিয়োগ করা হয়েছে ২৩ জন যা মোটের ২৪.৭৩ শতাংশ। সম্প্রতি ষষ্ঠ ব্যাচে সহকারী জজ পদে নিয়োগ দেয়া ১২৪ জনের মধ্যে ২২ জনই হিন্দু যা শতকরা হিসেবে ১৭ শতাংশ।’ সরকার সমর্থক সংগঠনের এ নেতারা মনে করেন, ‘এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মুসলমান দেশে মুসলমানদের প্রতি ব্যাপক বৈষম্যের দাবিই দৃঢ় হচ্ছে যাতে হেফাজতসহ বিরোধীরা সুযোগ পাচ্ছে।’ তারা অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে কট্টর ইসলাম বিরোধী হিন্দু ও নাস্তিক লেখকদের লেখাকে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য প্রদান করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা বইয়ে অন্তর্ভুক্ত গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধসমূহের মধ্যে মুসলমান লেখকদের তুলনায় বিধর্মী হিন্দু লেখকদের লিখাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।’ বক্তাদের দাবি, ‘প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত গল্প ও কবিতার সংখ্যা ১৯৩টি। এর মধ্যে হিন্দু ও নাস্তিকদের লেখার সংখ্যা হলো ১৩৭টি যা সর্বনিম্ন শতকরা ৫৭ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৮২ ভাগ প্রাধান্য পেয়েছে।’ তারা বলেন, ‘ইসলামকে কটাক্ষ করে লেখালেখি করে এদেশের জাতীয় পর্যায়ে যেসব চিহ্নিত ইসলাম বিদ্বেষী লেখক রীতিমতো কুখ্যাতি অর্জন করেছে, তাদের লেখা পাঠ্যবইয়ের প্রত্যেক শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ ‘কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিক হুমায়ূন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের স্বামী রুদ্র শহীদুল্লাহ, সেলিনা হোসেন, সনজীদা খাতুন, কবীর চৌধুরী এবং এ রকম আরো অনেকে যা এদেশের মুসলমানদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়’ যোগ করেন বক্তারা। তারা বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাংলাদেশে বহু ইসলামী ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি ও স্থাপত্য নিদর্শন থাকলেও তা নিয়ে কোনো অধ্যায় বা প্রবন্ধ সংযোজন করাতো দূরের কথা, তা নিয়ে কোনো প্রকার বর্ণনা দিতেও চরম কার্পণ্য করা হয়েছে। এসব বই দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এদেশে মুসলমানরা বসবাস করে।’ সরকার সমর্থক ইসলামপন্থী এ সব নেতারা বলেন, কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বক্তব্য যুক্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক এসব পাঠ্যপুস্তক অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলাম বিরোধী প্রচলিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে এবং ৯৮ ভাগ মুসলমানের এদেশের শিক্ষানীতি সম্পূর্ণ ইসলামিক করতে হবে।’ এছাড়া মানববন্ধনে অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর, ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ বন্ধ, কোরবানির পশুর হাট স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল, সব ভারতীয় টিভি চ্যানেল ও পর্নোসাইট বন্ধ এবং মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্দিষ্টকরণ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারীর সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মুহম্মদ আবদুস সাত্তার, জাতীয় কুরআন শিক্ষা মিশনের লায়ন মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর ছিদ্দীক্ব, বঙ্গবন্ধু ওলামা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী প্রমুখ। এখানে বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী মাওলানা মো: আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি হুবহু প্রকাশ করা হলো। বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দলের উদ্যোগে ১৭ দফা দাবীতে আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ১৭টি বিষয়ে বিভিন্ন দাবী ও তথ্য তুলে ধরে জোড়ালো বক্তব্য রাখেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকর; কার্টুন প্রদর্শনী, ছবি ছাপানো নিষিদ্ধ করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রণী ভুমিকা পালন করা এবং সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করা : মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আগামী মাসে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইসলাম বিরোধী নাস্তিক গোষ্ঠী লন্ডনে মহানবী হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কার্টুন প্রদর্শনীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে (নাউযুবিল্লাহ)।তাছাড়া ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকর ব্যঙ্গচিত্র, কার্টুন বের করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। সুতরাং মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেয়ার বিপরীতে এসব দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরীতে বিশ্বের ২য় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেঅগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে এবং সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করতে হবে। এতে দেশে-বিদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ সরকারকে ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে গণ্য করবে। দেশে ২০ লাখ মসজিদে গরু যবেহ করে মীলাদ শরীফ এর মাধ্যমে ১৫ আগস্ট ব্যাপকভাবে পালন করা এবং শোকের মাসে টিভি চ্যানেলে নাচ-গানসহ সব ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং ১৫ আগষ্ট মিথ্যা জন্মদিন পালনকারী খালেদা জিয়াকে মুনাফিক হিসেবে ঘোষণা করা :

4 comments:

  1. বক্তারা বলেন, সারাদেশের ২০ লাখ মসজিদে গরু যবেহ করে মীলাদ শরীফ, হামদ, নাত, ক্বাসীদা শরীফ ইত্যাদির মাধ্যমে ১৫ আগষ্ট ব্যাপকভাবে পালন করতে ব্যাপক সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে এবং শোকের মাস হিসেবে গোটা আগস্ট মাসে সব টিভি চ্যানেলে নাচ-গানসহ সব ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। তাছাড়া ১৫ আগষ্ট মিথ্যা জন্মদিন পালনকারী খালেদা জিয়ার জন্মদিন প্রত্যাহার না করলে তাকে মুনাফিক হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
    কুরবানীকে বাধাগ্রস্থ করতে কুরবানীর পশুর হাট রাজধানীর বাইরে নেয়া বন্ধ করা এবং পশুর হাট বৃদ্ধি করা : বক্তারা বলেন, ইসলাম বিদ্বেষীরা প্রতিবছর কোরবানী পশুর হাট নিয়ে অপপ্রচার করে। অথচ যখন পহেলা বৈশাখে সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাঠানো স্থান ঢাকা মেডিকেল, পিজি হাসপাতালে ও বারডেমসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে আগত সবগুলো রাস্তাই ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকে, চর্তুদিকে থাকে হারাম বৈশাখপ্রেমী অজস্র মানুষের ভীড়, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চলাতো, মানুষই চলতে পারেনা। তা নিয়ে কোন মাতামাতি করেনা। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থানের কারনে বারডেম, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের রোগীরা টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। তখনও এসব ইসলাম বিদ্বেষীরা কিছু বলেনি। যখন কুরবানীর সময় আসে তখন তারা কুরবানীর পশুর হাটির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে।
    এ প্রেক্ষিতে এ বছর ঢাকা শহরের ভেতরে কুরবানীর পশুর হাট না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। শুধু তাই নয় এবার গতবারের চেয়ে ৫টি পশুর হাট কমিয়ে দিয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এটা সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা হিন্দুত্ববাদী মহলের গভীর চক্রান্ত। এর মাধ্যমে প্রকারান্তরে কুরবানীর প্রতি মানুষকে নিরোৎসাহিত করার চেষ্ঠায় লিপ্ত। কুরবানীর পশুর হাট রাজধানীর বাইরে বসলে যাতায়াতের সমস্যা, পরিবহন সমস্যা, নগদ অর্থ বহন করাসহ মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে পড়বেন ঢাকা মহানগরীর লক্ষ লক্ষ কুরবানীদাতারা। তাছাড়া প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে যদি পশুর হাটের ব্যবস্থা করা হয় তাহলেই বরং জনদুর্ভোগ লাগব হবে।
    তাই অবিলম্বে হিন্দুত্ববাদী এই চক্রান্ত বন্ধ করে কুরবানীর পশুর হাট রাজধানীর বাইরে নেয়া বন্ধ করতে হবে এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডের মাঠে ১টি করে কমপক্ষে ১০০টি পশুর হাট বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
    কুরবানীর স্থান নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা :
    বক্তারা বলেন, গত ২১শে জুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অজুহাতে দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হিন্দুত্ববাদী চক্রান্তের শিকার হয়ে কুরবানীর পশু জবেহ্ করার স্থান নির্দিষ্ট করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সারাদেশের ৩২৩টি পৌরসভা ও ১১টি সিটি করপোরেশনকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এতে ঢাকা শহরের লক্ষ লক্ষ কুরবানীদাতাগণ দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে কুরবানী না করে ওয়াজিব তরক্বের গুনাহে গুনাহগার হবে। কারণ সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে লক্ষ লক্ষ কুরবানীদাতারা একই সময়ে করতে পারবেন না। নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানীর জন্য দীর্ঘ সারি, গোশত বহনের ঝামেলাসহ হাজারো সমস্যার সৃস্টি হবে এতে। সুতরাং অবিলম্বে কুরবানীর বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী চক্রান্ত বন্ধ করে কুরবানীর স্থান নির্দিষ্ট করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে সাথে সাথে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ লোকবল নিয়োগ করতে হবে।

    ReplyDelete
  2. বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার ফাঁদ ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ বাতিল করতে হবে :
    বক্তারা বলেন, গত ১৩ জুলাই চারটি আন্তঃসীমান্ত নদীকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে ভারত। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাসহ ৩৭টি নদীকে সংযুক্ত করারও ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ভারত শুধু গঙ্গায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হয়নি; বাংলাদেশে পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে আরও ছয়টি নদীর উজানে তারা বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহকে বাঁধাগ্রস্ত করছে।
    বক্তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রের উজানে ড্যাম ও ব্যারেজ নির্মাণ করে আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেয়ার মানে হলো অবশিষ্ট পানি প্রবাহটুকু থেকেও বাংলাদেশের বঞ্চিত হওয়া এবং গোটা বাংলাদেশেরই মরুকরণ ও লবণাক্ততার ঝুকিতে পড়া। এ প্রকল্পের কারণে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানি প্রবাহ থেমে যাবে। পলিমাটি স্থানান্তরিত হওয়া বাধাগ্রস্ত হবে। মাছের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বনভূমি ডুবে যাবে। বাংলাদেশের ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ ও সুন্দরবন ধ্বংস হবে। সামুদ্রিক লোনা পানি আমাদের উপকূলের মাটি, সুন্দরবন ও পরিবেশ ধ্বংস করবে। আর ভারত এই প্রকৃতি বিধ্বংসী প্রকল্প করে যে উপকার লাভের আশা করছে বাস্তবে তা অর্জন হবে না, বরং ধ্বংস হবে দুই দেশের প্রকৃতি ও সম্পদ। গঙ্গা ও তিস্তার উজানের ফারাক্কা আর গজলডোবা ব্যারেজের কারণে যেমন শুকনো মৌসুমে পানির পাওয়া না পাওয়া আর বর্ষা মৌসুমে বন্যা হওয়া না হওয়ায় ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদীরাযেমন নিয়মিত হস্তক্ষেপ করে, তেমনি আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর উপর ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মানে হলো গোটা বাংলাদেশের নদ-নদীর জীবন প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের হাতে চলে যাওয়া। তাই বাংলাদেশকে মরুভূমিতে পরিণত করার ফাঁদ; ভারতীয় আন্তঃনদী সংযোগ বাতিলে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে হবে। তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হবে।
    ভারত, চীন, মধ্য এশিয়ান প্রজাতন্ত্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলিম নির্যাতন বন্ধে সরকারীভাবে কুটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা :
    বক্তারা বলেন, চীনে মুসলমানদের উপর জুলুমের শেষ নেই। চীন প্রতিবারের মতো এবারো রমজানে রোজা রাখতে দেয়নি চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের মুসলিম সম্প্রদায়কে। ওই সম্প্রদায়ের অভিভাবকদের কাছ থেকে এই মর্মে জোর করে প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে যে, তাদের ছেলেমেয়েরা রমজান মাসে কোনো রোজা রাখবে না। শুধু চীনেই নয় ভারতের অর্ধেক জনসংখ্যা মুসলমান হওয়ার পরও মুসলমানদের উপর চলছে চরম বর্বরতা, নিপীড়ন ও নির্যাতন। গত ৪ জুন আসামের সাম্প্রদায়িক গভর্নর পি বি আচার্য ঘোষণা করেছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান উদ্বাস্তুরা ভারতে নাগরিকত্ব পাবে, মুসলিমরা নয়। এর আগে ভারতের রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘ-আরএসএস নেতা মোহন ভগবৎ বলেছে ভারত-বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রত্যেক নাগরিক হিন্দু। তাছাড়া মধ্য এশিয়ান প্রজাতন্ত্রে মুসলমানদের ঘরবাড়ী লুটপাট করে দেশ থেকে বের করে দিচ্ছে সন্ত্রাসী খ্রিষ্টানরা। যেসব দেশে মুসলমানদের উপর নির্যাতন চলছে সরকারীভাবে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং ওআইসি’র মাধ্যমে সব দেশের সরকারকে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার প্রদানে বাধ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে।
    নাস্তিক ব্লগার কর্তৃক বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট, স্যোসাল মিডিয়ায় কুরুচিপূর্ণ নাস্তিক্যবাদী লেখা বন্ধে ধর্ম অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন প্রণয়ন করা
    : বক্তারা বলেন, এদেশে প্রগতিশীল, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনার লেবেলে নাস্তিক্যবাদকে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। নাস্তিক্যবাদীরাপেপার-পত্রিকা, বইপত্র, সোস্যাল মিডিয়া, অনলাইন সর্বত্রই প্রকাশ্যে পবিত্র ইসলাম ধর্মের কুৎসা রটনা করছে। আখেরী রসূল হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত আহলূ বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মানের বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছে। যা তসলিমা নাসরিন, সালমান রুশদী, দাউদ হায়দারদেরকেও হার মানিয়েছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা। (নাউযুবিল্লাহ)

    ReplyDelete
  3. বক্তারা আরো বলেন, স্বঘোষিত ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক অভিজিতের মতো ব্লগাররা ধর্মব্যবসায়ীদেরহাতে ইস্যু তুলে দিচ্ছে। তাই নাস্তিক হত্যাকারীদের যেমন খুঁজে বের করতে হবে তেমনি ইসলাম অবমাননাকারী নাস্তিকদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নাস্তিক হত্যাকারীদের যেমন শাস্তি দিতে হবে তেমনি ইসলাম অবমাননাকারী নাস্তিক্যবাদী লেখা ও লেখকের শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। নাস্তিক হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া মানে এই নয় যে, মিডিয়া ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের হাইলাইট করবে। সুতরাং এসব নাস্তিক ব্লগার কর্তৃক বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট, স্যোসাল মিডিয়ায় কুরুচিপূর্ণ নাস্তিক্যবাদী লেখা বন্ধে ধর্ম অবমাননার জন্য মৃত্যুদ-ের আইন প্রণয়ন করতে হবে।
    হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব ‘গাদীমাই’ উপলক্ষে গরু, মহিষসহ বিভিন্ন পশু বলি দেয়া বৈধ হলে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব কুরবানী উপলক্ষে পশু কুরবানী নিষিদ্ধ হবে কেন? অবিলম্বে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কুরবানীর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ভারত সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে হবে :
    বক্তারা বলেন, শক্তি দেবীকে খুশি করতে গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি বিভিন্ন পশু বলি দিতে সনাতন হিন্দুদের এক আত্ম বিনাশী উৎসব হলো “গাধীমাই উৎসব”। “গাধীমাই উৎসব” উপলক্ষে হিন্দুরা হাজার হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি পশু বলি দেয়। এই পশু বলি দেয়াটা তাদের সনাতন ধর্মীয় মতে বৈধ। সুতরাং সনাতন ধর্মীয় মতে, গরু, মহিষ, ছাগল ইত্যাদি পশু বলি দেয়াটা হিন্দুদের জন্য যদি বৈধ হয় তাহলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব কুরবানী অবৈধ হয় কিভাবে? সুতরাং ভারতের সব রাজ্যে কুরবানীর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর করতে উদ্যোগ নিতে হবে।
    ঈদের দিন হিন্দুদের রথযাত্রা করে মুসলমানদের ঈদের দিন ম্লান করার ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে :
    রথযাত্রা হচ্ছে হিন্দুদের আষাঢ় মাসের প্রোগ্রাম (সূত্র: bn.wikipedia.or g/রিশর/রথযাত্রা)। কিন্তু তা তারা এবার ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলেছে শ্রাবন মাসে মুসলমানদের ঈদের দিনে। ঈদের দিন ১৮ই জুলাই; বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে ছিলো ৩রা শ্রাবন এবং হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে ছিলো ১লা শ্রাবন। ইসকন হিন্দুদের দাবি চন্দ্র বৎসর অনুসারে ‘আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা শুরু হয়’। এ বৎসর শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে তাদের রথযাত্রা হয়েছে। কিন্তু গতবছর ২০১৪ সালেও তারা রথযাত্রা করেছে ১৪ই আষাঢ় বা ২৮ জুন। এবার সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় দিবস খর্ব করার কাজটা করেছে পশ্চিমাদের তৈরী ইসকন মতবাদী হিন্দুরা। তাই ভবিষ্যতে ঈদের দিনসহ মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মীয় দিবসে রথযাত্রার নামে মুসলমানদের ঈদের দিন ম্লান করার ইসকনী হিন্দুদের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।
    বিদেশী স্বার্থ রক্ষাকারী দেশদ্রোহী সিএইচটি কমিশনসহ বিদেশী দালালদের নিষিদ্ধ করতে হবে :
    বক্তারা বলেন, সিএইচটি কমিশন জাতিসংঘের দায়িত্বশীল কোনো সংস্থা নয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে গঠিত কোনো সংগঠন নয়। আমাদের এই ভূ-খণ্ডের প্রাকৃতিক-খনিজ সম্পদ গ্রাস করতে, বাংলাদেশের এক দশমাংস পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড করতে এ অঞ্চলের উপজাতিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফাঁদ হলো সিএইচটি কমিশন। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিষোদগার, সাম্প্রদায়িক উস্কানী, উপজাতীয়দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপপ্রচার, রাজনৈতিক অস্থিশীলতা সৃষ্টি, পার্বত্য অঞ্চল থেকে বাঙালি শূন্য ও সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেদের আয়ত্তে এনে এই অঞ্চলকে খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করাসহ নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত এই সিএইচটি কমিশন।
    দেশের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে লর্ড এরিক এভাব্যুরি, ডেনমার্কের ড. আইডা নেকোলাইসেন, বাংলাদেশী দালাল সুলতানা কামাল, ঢাবি’র অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, প্রথম আলো’র মতিউর, টিআইবি’র ইফতেখার, আবুল মকসুদ, পংকজ ভট্টাচার্য, ব্যারিষ্টার সারা হোসেনগং নামক দালালরা।
    বক্তারা বলেন, এরা পাহাড়ীদের আদিবাসী রুপে প্রতিষ্ঠিত করে জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক হস্তক্ষেপের অনুচ্ছেদে ফেলে; পার্বত্য চট্টগ্রামকে জাতিসংঘের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সেজন্য এরা পাহাড় থেকে যেকোন মূল্যে বাঙ্গালীদের উচ্ছেদ করতে চায়। পাহাড়ীদের হাতে গোটা পার্বত্য অঞ্চল তুলে দিতে চায়। বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে পাহাড়ীদের পক্ষে বিপরীতে বাঙ্গালী ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করাই; খুদকুঁড়া খাওয়া এসব দালালদের সার্বক্ষণিক কাজ।
    বক্তারা বলেন, এসব বিদেশী পেইড এজেণ্টদের গভীর ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে সাথে নিয়ে এদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে এদেরকে সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এদের পৃষ্ঠপোষক বিদেশীরা এবং এনজিও মিশনারীদেরকেও পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করতে হবে। পাহাড়ে বাঙ্গালীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

    ReplyDelete
  4. ইসলাম বিরোধী রচনা পাঠ্যক্রম থেকে বাদ ও বিতর্কিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে
    : বক্তারা বলেন, ইসলাম ধর্মের প্রতি যাদের কোন আস্থা বা বিশ্বাস নেই বরং ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষী এমন সব বামপন্থী ব্যক্তি; জাতীয় শিক্ষানীতি কমিটির চেয়ারম্যান কবীর চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান ড.কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, সদস্য ড. জাফর ইকবাল, অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র সূত্র ধরদের দিয়ে বর্তমান শিক্ষানীতি প্রণয়ণ করা হয়েছে। অথচ এসব কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী ব্যক্তিদের প্রণীত শিক্ষানীতি মুসলমানদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মূলত এদেশের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরমন-মগজ থেকে দ্বীন ইসলাম উঠিয়ে দিয়ে নাস্তিক্যবাদী মন-মনন গড়তে এ শিক্ষানীতি প্রণয়ণ করেছে। এদেশকে নাস্তিক্যবাদী দেশ বানাতে এই ইসলাম বিরোধী শিক্ষনীতি তৈরী করা হয়েছে।
    বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে কট্টর ইসলাম বিরোধী হিন্দু ও নাস্তিক লেখকদের লেখাকে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ১ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা বইয়ে অন্তর্ভূক্ত গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধসমূহের মধ্যে মুসলমান লেখকদের তুলনায় বিধর্মী হিন্দু লেখকদের লিখাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যেমন ১ম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত গল্প ও কবিতার সংখ্যা ১৯৩টি। এর মধ্যে হিন্দু ও নাস্তিকদের লেখার সংখ্যা হলো ১৩৭টি। যা সর্বনিম্ন শতকরা ৫৭ ভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৮২ ভাগ প্রাধান্য পেয়েছে।
    বক্তারা বলেন, দ্বীন ইসলামকে কটাক্ষ করে লেখালেখি করে এদেশের জাতীয় পর্যায়ে যেসব চিহ্নিত ইসলাম বিদ্বেষী লেখক রীতিমতো কুখ্যাতি অর্জন করেছে, তাদের লেখা পাঠ্যবইয়ের প্রত্যেক শ্রেণীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। যেমন কুখ্যাত ইসলামবিদ্বেষী ও নাস্তিক হুমায়ূন আজাদ, তসলিমা নাসরিনের স্বামী রুদ্র শহীদুল্লাহ, সেলিনা হোসেন, সনজীদা খাতুন, কবীর চৌধুরী এবং এরকম আরো অনেকে। যা এদেশের মুসলমানদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
    বক্তারা বলেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাংলাদেশে বহু ইসলামী ঐতিহ্যবাহী পুরাকীর্তি ও স্থাপত্য নিদর্শন থাকলেও তা নিয়ে কোন অধ্যায় বা প্রবন্ধ সংযোজন করাতো দূরের কথা, তা নিয়ে কোনপ্রকার বর্ণনা দিতেও চরম কার্পণ্য করা হয়েছে। এসব বই দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এদেশে মুসলমানরা বসবাস করে।
    বক্তারা বলেন, কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বক্তব্য যুক্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক এসব পাঠ্যপুস্তক অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করতে হবে। সাথে সাথে ইসলাম বিরোধী প্রচলিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে। ৯৮ ভাগ মুসলমানের এদেশের শিক্ষানীতি সম্পূর্ণ ইসলামিক করতে হবে।
    ঈদের ছুটি ১০ দিনে বর্ধিত করতে হবে : ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা তথা দুই ঈদ হলো মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় প্রধান উৎসব। এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠি মুসলমান। এদেশের রাষ্ট্রধর্ম হলো ইসলাম। অথচ দুই ঈদে ছুটি দেয়া হয় মাত্র তিন দিন। ফলে দেশের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, পরিবহন সংকট, অসহনীয় যানযট ইত্যাদি কারণে যেতে-আসতেই দুই দিন চলে যায়। তাহলে ঈদের ছুটি থাকে কোথায়? অথচ ইউরোপ-আমেরিকায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব খ্রিষ্টমাস ডে উপলক্ষে মাসব্যাপী ছুটি দিয়ে থাকে। সুতরাং এদেশে কেন ঈদের ছুটি ১০ দিন দেয়া হবে না? অবিলম্বে দ্ইু ঈদের ছুটি ১০ দিন দিতে হবে।
    মেয়েদের বিয়ের কোনো বয়স নির্ধারণ করা যাবেনা, সুন্নতি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কুফরী আইন বাতিল করতে হবে :
    বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেছে, ‘মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছরের নীচে কমানো হবে না।’ (নাউযুবিল্লাহ) অথচ আখেরী রসূল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মীনীন হযরত আয়শা সিদ্দীকা আলাইহাস সালাম উনাকে ৬ বছর বয়স মুবারকে সাদী মুবারক করেছেন এবং ৯ বছর বয়স মুবারকে ঘরে তুলেছেন। ইসলামী শরীয়তে বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। তাই মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে নারীবাদী, প্রগতিবাদীদের চাপে কোন বয়স নির্দিষ্ট করা যাবেনা। মেয়েদের বিয়ের বয়স নির্ধারিত করে দেয়ার ফলে এবং অনৈতিকতার আশঙ্কা থাকলেও ১৮ বছরের পূর্বে মেয়ের লাখ লাখ মেয়েকে অভিবাবকরা বিয়ে দিতে পারছেননা। শুধু তাই নয় বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে গেলে অথবা মেয়ের কোন অভিবাবক না থাকলে শুধুমাত্র বিয়ের বয়স নির্দিষ্ট করার ফলে লাখ লাখ অভিবাবক সমস্যায় রয়েছেন। তাছাড়া ১৮ বছরের নীচের মেয়েরা যখন অহরহ কুমারী মাতা হচ্ছে তখন নারীবাদীরা কিছু বলছে না। ১৮ বছরের নীচে কুমারী মাতা হলে অপুষ্টিতে মারা যাবে তা কিন্তু নারীবাদী বা এনজিওরা কিছু বলেনা। কিন্তু যখন বৈধ বিয়ের মাধ্যমে মেয়েরা মা হচ্ছে তখনই তথাকথিত নারীবাদীরা চিৎকার করছে।

    ReplyDelete