এই শতাব্দীর এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথা সাহিত্যিক শ্রী 'হুমায়ূন আজাদ' ও বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ "পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ২৯)
-------------------------------------------------------------
হাফিজুদ্দিন বলে, ‘হুজুর আপনে আজও খাঁটি মুছলমান হইতে পারেন নাই, একবার কইর্যা দেখেন, পরে আর মাইয়া মানুষের দিকে চোকও দিতে ইচ্ছা হইব না’।
আমি বলি, ‘এই দুনিয়ায় মালাউন উর্বশী আমি পছন্দ করি, ওরা যখন কাপড় তুলে চনচন করে প্রস্রাব করে সেই শব্দটাও আমার ভালো লাগে। মহান পাক রাহমানির রাহিম আমাকে এইভাবেই সৃষ্টি করেছেন’।
হাফিজুদ্দিন বলে, ‘আগে জানলে মহান আল্লাতালা আদমের বদলে আপনারেই সৃষ্টি করতেন’।
আমি হাফিজুদ্দিনকে একটু বিব্রত করতে চাই, যাতে সে আরো বেশী করে আমার অধীনে থাকে; তাই আমি বলি, ‘নাউজুবিল্লা’।
হাফুজুদ্দিন বলে, ‘হুজুর মাপ কইর্যা দেন; এইটা আপনের আমার মইদ্যে কতা হুজুর, কারে কোন দিন বইল্যোন না’।
আমি বলি, ‘তুমি আমাকে সন্দেহ করো?’
হাফিজুদ্দিন বলে, ‘না, হুজুর, আপনে সব সন্দেহের বাইরে’।
আমি বলি, ‘হাফিজুদ্দিন, তুমি গেলমানের কথা বলছো, এতে মি না খোশ হই নি’।
মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘বুক থিকা আমার একটা পাথর নাইম্যা গেল’।
আমি বলি, ‘তুমি কি সক্রেটিসের নাম শুনেছো?’
মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘না, হুজুর’।
আমি বলি, ‘সে দুনিয়ার, এক মহান জ্ঞানী বলে পরিচিত, তারও দুটি কচি গেলমান ছিল, তাদের মধ্যে তাকে নিয়ে মারামারি লাগতো’।
মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘হুজুর, আমারগুনি মারামারি করে না’।
মালাউনটার আসার কথা ছিল, সে এলো না; কাল ওর দোকান আর চাউল কল কীভাবে পুড়বে সে দৃশ্য আমি দেখতে থাকি।
এমন সময় দেখি মালাউনটা কথা রেখেছে, দশটার দিকে সে এসেছে, সঙ্গে তার মেয়ে কনকলতা।
No comments:
Post a Comment