Sunday, 9 August 2015

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরাই এখন সংখ্যালঘু তাড়ানোর ভূমিকা পালন করছেন

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরাই এখন সংখ্যালঘু তাড়ানোর ভূমিকা পালন করছেন : সুব্রত বিশ্বাস বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, তাদের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, জবরদখল এখন নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আগে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ওপর বদনাম দেওয়া হতো। এখন দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগই সেই নামের ভূমিকায়। তারাই এখন সংখ্যালঘু তাড়ানোর প্রধান হোতা। সম্প্রতি জনাব গাফফার চৌধুরী লন্ডনে সিলেট বুরুঙ্গা বাজারে পাক বাহিনীর গণহত্যা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে সংখ্যালঘুরা দেশ ছেড়েছে। আর এখন আওয়ামী লীগের জবরদখল, অত্যাচার নির্যাতনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দাবি আদায় ও প্রতিবাদের জন্য গড়ে উঠেছিল ঐক্য পরিষদ এটি এখন নপুংষক। সম্প্রতি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অন্যতম অনুপবাবুর বিষয়সম্পত্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন দস্যু বাহরামের ন্যায় পুরো পরিবারটিকে বন্দী করে রেখে কাগজপত্র করিয়ে জবরদখল করে নিয়েছেন। অভিযোগ উঠে ব্যাপারটি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে জানানো সত্বে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি ভয়ে দেশে কোন পত্রপত্রিকা সাহস করে খবরটি ছাপায়নি। দেশ বিদেশে থাকা ঐক্য পরিষদ প্রতিবাদ জানালে মন্ত্রী মহোদয় ফরিদপুর ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দকে স্থানীয় দয়াময়ী হলে ডেকে নিয়ে শাসিয়ে দিয়ে নাকি বলেছেন, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণাম ভাল হবেনা। নিজে মন্ত্রী তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই বলে কথা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় আমি একটি প্রতিবেদন লিখি। তার কয়েকদিন পর জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে দেখা। আমাকে আলাদা সরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই হিন্দু সম্পত্তি দখলের যে খবর বেরিয়েছে এবং আপনিও এ নিয়ে লিখেছেন, সংবাদটি আদৌ সত্যি নাকি? বলেছিলাম, সংবাদটি তো পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে, আমি ছাড়া আরও কেউ কেউ এ নিয়ে লিখেছেন, ঐক্য পরিষদ প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো-প্রধানমন্ত্রীর অফিস কিংবা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এর কোন প্রতিবাদ কিংবা কোন বিজ্ঞপ্তি তো লক্ষ্য করা যায়নি। স্বাভাবিকভাবে সন্দেহের অবকাশতো থেকেই যায়। আপনিতো নিয়মিত দেশে যান খবর নিয়ে জানতে পারেন। ইতিমধ্যে অনেক ঘটনার ধারাবাহিকতায় সংবাদ শিরোনাম হয়ে এলো আরোও একটি সরকারদলীয় এমপির জবরদখলের ঘটনা। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সরকারদলীয় সাংসদ দবিরুল ইসলাম ও তার ছেলে মাজাহারুল ইসলাম ওরফে সুজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল, তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। এর মধ্যে তেভাগা আন্দোলনের এক নেতার পরিবারও রয়েছে। পত্রিকার খবর অনুসারে, এব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ও ভূক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্যে বলা হয়েছে সাংসদ দবিরুল ইসলাম তার সংসদীয় আসনের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের রনবাগ নামক স্থানে রনবাগ ইসলামী টি এস্টেট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি চা-বাগান গড়ে তুলেছেন। ১০৬ একর আয়তনের ওই বাগানের মাঝখানে অকুল চন্দ্র সিংয়ের ২১ বিঘা জমি, ভাকারাম সিং ও জনক চন্দ্র সিংয়ের ২৭ বিঘা জমি, সোনারাম সিংয়ের ২৪ বিঘা, ক্ষুদনলালের ২৪ বিঘা চা-বাগানসহ ১০টি হিন্দু পরিবারের জমি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংসদের মদতে তার ছেলে সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে তাদের মোট ২০০ বিঘা জমি বিক্রি করে দিতে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। গত ১৯শে জুন সাংসদের ছেলের নেতৃত্বে ইসলামী টি স্টেটের তত্ত্ববধায়ক একরামুল হক এবং স্থানীয় মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী, আশরাফুল ইসলাম, এরশাদ আলী, বাবু মিনিসহ ২৫/৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। আক্রমণে আহত অকুল চন্দ্র সিং, ভাকারাম সিং ও জনক চন্দ্র সিং সহ আট দশজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, তাদের জমি ও বাগানের চারপাশ ঘিরে আছে সাংসদের চা-বাগান। অকুল চন্দ্রের ১ বিঘা জমি আছে করিডোর হিসেবে ভেতরে যাওয়ার। ইতিমধ্যে সাংসদ সেই এক বিঘার অর্ধেকও দখল করে নিয়েছেন। যেকোন দিন বাকী অংশ দখল হয়ে যাবে। সেকারণে সাংসদ নাকি আপোষের প্রস্তাব রেখেছেন। অর্থাৎ ভেতরে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হবে আপোষে আসতে বাধ্য হবে। অথবা এমনিতেই এক পর্যায় দখল হয়ে য়াবে। ঠাকুরগাঁও জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বলরাম গুহ প্রথম আলোকে বলেন, জমি দখলের জন্যই হামলা হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায় হওয়ায় ভয়ে প্রতিবাদ জানাতেও সাহস পাচ্ছেনা। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগকেই ভোট্ দেয়, আর ক্ষমতায় এলে ওই আওয়ামী লীগের নেতারাই তাদের সঙ্গে অন্যায় করে। এই খবরটি প্রকাশের পর মন্ত্রী ও এমপি মহোদয়ের দ’ুটি ঘটনা এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে একটি প্রতিবেদন পোস্ট করেছিলাম। তা দেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি বেজায় ক্ষেপেছেন। এতে নাকি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। তার মানে আওয়ামী, মন্ত্রী, এমপি সংখ্যালঘুদের জায়গা জমি দখল করবে, দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে তারপরও সংখ্যালঘুরা কিছু বলতে পারবেনা, প্রতিবাদ করতে পারবে না। রাষ্ট্রপ্রধানেরকাছে অভিযোগ করলেও প্রতিকার পাওয়া যাবে না। এটাই এখন বাংলাদেশ আওয়ামী সরকারের ধর্মনিরপেক্ষ চেহারা। Anmmy Kumar Ray

No comments:

Post a Comment