৩৬৪ টাকার একটা ডিমান্ড ড্রাফ্ট৷ সঙ্গে অনুরোধ , ‘দয়া করে আর চপ্পল পরে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাবেন না৷ একটা ফর্মাল জুতো কিনুন৷’ প্রাপকের নাম কেজরিওয়াল৷ প্রেরক ? বিশাখাপত্তনমের ব্যবসায়ী সুমিত আগরওয়াল৷ হঠাত্ এই আজব উপহারের কারণ ?রহস্য ফাঁস হল আগরওয়ালেরই খোলা চিঠিতে৷ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অ্যাঁলাদের সম্মানে রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজের আয়োজন হয়েছিল৷ সেখানে নিমন্ত্রিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷ আম জনতা এতদিন তাঁকে না গুঁজে পরা শার্ট, সাধারণ ট্রাউজার্স, সোয়েটার -মাফলার ও চপ্পল পরিহিত অবস্থায় দেখেই অভ্যস্ত৷ রাষ্ট্রপতি ভবনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি৷ মাফলারটা ছিল না বটে , কিন্ত্ত বাকি বেশভুষায় কোনও পরিবর্তন হয়নি৷ ধোপদুরস্ত পোশাক পরিহিত অভ্যাগতদের মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছিল কেজরিওয়ালের সেই চপ্পল৷ আর তাই আগরওয়াল তাঁর খোলা চিঠিতে লিখেছেন , ‘কেজরিওয়াল তো রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত ছিলেন , বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে হজ খাস রেস্তোরাঁয় তো যাননি৷ আর রাষ্ট্রপতি ভবন তো রামলীলা ময়দান বা যন্তরমন্তরের ধর্না মঞ্চ নয় ! কারও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পোশাক পরা অবশ্যই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা , কিন্ত্ত কিছুক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা থাকে না৷ আপনি তো একজন অভিজ্ঞ লোক৷ দয়া করে অনুষ্ঠান ও পরিস্থিতি বুঝে পোশাক পরার চেষ্টা করুন৷ ’ কিন্ত্ত জুতো কেনার জন্য এমন আজব অঙ্কের টাকা কেন ? তারও উত্তর দিয়েছেন আগরওয়াল৷ লিখেছেন , ‘আমি জানি , এটা খুবই কম৷ কিন্ত্ত রবিবার বিকেলের কঠোর পরিশ্রমের ফল এটা৷ নিজে ৪৯ টাকা দিয়েই আপনার জুতো কেনার অনুদান সংগ্রহ শুরু করেছিলাম সেদিন৷ ’ সেই অনুদান সংগ্রহেরই ফসল ৩৬৪ টাকা !সেই টাকা দিয়ে ফর্মাল জুতো কিনবেন কি কেজরি ? উত্তর মিলবে আবার কোনও নৈশভোজে৷ ৷

No comments:
Post a Comment