Thursday, 23 July 2015

অরাজনৈতিক ব্যানার হিন্দুত্ববাদ

একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যানারে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করতে অনেক কষ্ট করতে হয় কিন্ত অরাজনৈতিক ব্যানার হিন্দুত্ববাদ জাগ্রত করা অনেক সোজা এটা আমি উপলব্দি করেছি । রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেই কেউ চোর অপবাদ দেবে,কেউ মাতাল অপবাদ দেবে যেগুলো সহ্য করা অসম্ভব । রাজনীতি থেকে তাই দূরে সরে যাওয়াটাই আমার পক্ষে ভালো । আর বাংলার রাজনীতি মানেই খাওয়ার রাজনীতি । দলের রং না দেখে হিন্দুত্ববাদের জন্য কাজ করাটাই অনেক সুবিধাজনক । এতে প্রায় সব দলের মানুষই সাড়া দেবে কিন্তু যদি আমি কোন দলের লোক সেজে যায় সেখানে ঠোকর খেতে হবে কারন ভোটের কথা চলে আসবে সেই মুহুর্তে । তাই লক্ষ্য এক রেখে রাস্তার দিকটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হলাম ।

অশোক সিংহল '২০২০তে ভারতবর্ষ হিন্দুরাষ্ট্র তৈরী হবে'...

'২০২০তে ভারতবর্ষ হিন্দুরাষ্ট্র তৈরী হবে'... অশোক সিংহল। আমার হাসপাতাল চাইনা রামমন্দির চাই, আমার আমীষ খাবার চাইনা, গো হত্যা বন্ধ চাই, গম্বুজে মাইক বন্ধ চাই,দাড়ি টুপির দেখা যেন না পাই, মাদ্রাসা যেন দেখতে না পাই, উর্দু লেখা যেন না দেখতে পাই । দেশের উন্নতির দরকার নেই আগে ভারতবর্ষকে হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষনা করা হোক । এই কথা শুনে অনেকেই বলবে উন্নতির থেকে কি ধর্ম বড়? আমি তাদের বলব আমাদের দেশের উন্নতির সব টাকা সংখ্যালঘু তোষনেই শেষ হয়ে যায় তাহলে উন্নতি আর হবে কি করে । প্রথমে দেশকে হিন্দুরাষ্ট্র তৈরী করতে হবে তারপরই ভারতবর্ষ শ্রেষ্ঠ আসনে বসবে । আজ থেকে একটাই স্লোগান উঠুক- 'হামারে দেশ মে না যীশু,না আলী,ইয়ে দেশ হ্যায় রাম কা ইসলিয়ে কহো জয় বজরংবলী' ।

ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ

সংবিধানে স্পষ্ট ভাষাতে লেখা আছে ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ । তাহলে আজ পবিত্র ঈদের দিনে প্রায় ৫কোটি মুসলিমকে জোর করে 'হনুমান চালিশা' ও 'জয় বজরংবলী তোড় দুশমন নলী' শুনিয়ে ধর্ম নষ্ট করা হল এর কি কোন প্রতিবাদ হবে না নাকি? বজরঙ্গী ভাইজান সিনেমাটাতে প্রথম দিন ২৮কোটি টাকার ব্যবসা হল অপরদিকে ৫কোটি মুসলিমের ধর্ম নষ্ট হল এরপরও কি ওয়েশী,আজম খানরা চুপ থাকবে?? নাকি খান ভাই সিনেমার নায়ক বলে সবাই চুপ । শার্লি এবডো কার্টুন আঁকলে হামলা করা হয় তাহলে বজরঙ্গী ভাইজানের অভিনেতাকে ছাড় কেন আইসিসের, কি করছেন উগ্র ইসলামিক সংগঠন গুলো ? ঈদের দিনে হনুমানের নাম করাচ্ছে আপনাদেরই ধর্মের লোক আর আপনারা চুপ করে এখনো বসে আছেন?

আল্লা বরকত লকেট

সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য টিভিতে প্রায় দেখছি "আল্লা বরকত লকেটের" বিজ্ঞাপন দিচ্ছে । ফোন করে অর্ডার করলে ভিপি এসে বাড়িতে পৌঁছাবে । আজ আমার তিনটে ফোন নম্বর থেকে ফোন করে তিনটে অর্ডার করে ঠিকানা দিয়ে পাঠাতে বলেছি ওই তিনটে লোক খুব মাজারে যায় চাদর পাততে । দেখি ভিপি এলে কি করে ।

হিন্দুরা যে বর্তমানে সংখ্যালঘু হতে চলেছে

রাস্তাঘাট থেকে সোশ্যাল মিডিয়া সর্বক্ষেত্রেই চোখ খুললেই দেখা পাওয়া যাবে এক নজির বিহীন ঘটনা । হিন্দুরা যে বর্তমানে সংখ্যালঘু হতে চলেছে তা স্পষ্ট হয়ে গেল । সোশ্যাল মিডিয়াতে রথযাত্রার শুভেচ্ছার থেকে ঈদ মুবারকের পোষ্ট বেশী । প্রায় ৮৫ শতাংশ হিন্দু ঈদ মুবারক সমন্ধে পোষ্ট করেছে । আবার রাস্তাঘাটের ছবিটাও ঠিক একই রকম প্রায় সব ঈদ মুবারকের হোর্ডিং ব্যানার টাঙিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে সেকুলার হিন্দুরা । কিন্তু প্রশ্ন একটাই কোন মুসলিমকে কি দেখা গেল রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানাতে? ধর্মনিরপেক্ষরা আদৌ হিন্দু নাকি ধর্মান্তকরিত মুসলিম সে নিয়ে সন্দেহ আছে । সাম্প্রদায়িকদেরধর্ম একটা পিতা একটা কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষদেরধর্মের ও শেষ নেই আর পিতারও শেষ নেই ।

"বেটি পোড়াও,বেটি বাঁচাও"

দয়া করে তেলেভাজা পার্টির লোকেদের সব কিছু বুঝিয়ে বলবেন নইলে বিপদ কান্ড ঘটবে । আজকে একনেতা নিজের মেয়ের হাত পুড়িয়ে, নিজেই মেয়েকে বাঁচিয়েছে । প্রতিবেশীরা কারন জিজ্ঞাসা করলে নেতা জবাব দেয়... "বেটি পোড়াও,বেটি বাঁচাও" করেছে ।

গজনী বজরংবলী হনুমান

সব্যসাচী ভট্টাচার্য্য আমির খান বজরঙ্গী দেখে কান্নার জল ফেলেছে এটা খবরে দেখেই আমার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল..... আমি তখন ক্লাস ইলেভেন এ পড়ি মাথায় কি ভূত চাপল কি জানি সেলুনে গিয়ে 'গজনী' ছাট দিলাম,বাড়ি ঢুকতেই খিস্তির বন্যা । আমাকে বাড়িছাড়া করা হল ৩দিন পাউরুটি খেয়ে ছিলাম । তখন থেকে দিব্যি করেছি খানেদের কোন ষ্টাইলে আর নেই । আর হ্যাঁ আমির খান বজরংবলী হনুমানের ভয়ে কেঁদেছে সলমনের অভিনয় দেখে নয় ।