Friday, 14 August 2015

হুজি সন্দেহে ভারতে ২ বাংলাদেশি সহ ৪ সন্দেহভাজন আটক - Sylhet Today 24

http://www.sylhettoday24.com/news/details/International/7719?utm_campaign=shareaholic&utm_medium=facebook&utm_source=socialnetwork

আমেরিকান মহাকাশ বিজ্ঞানী কার্ল সেগান বল্লেন সনাতন ধর্ম বিজ্ঞান ভিত্তিক | Shree Krishna The Almighty God

https://thebengaligita.wordpress.com/2015/08/13/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80/?_e_pi_=7%2CPAGE_ID10%2C8519077777

বেদ

বেদে এই রকম আরও অসংখ্য মন্ত্র রয়েছে যেখানে এক মাত্র ঈশ্বরকেই ব্যাখ্যা করেছে এবং উপদেশ দিয়েছে অন্য কোন দৈব সত্ত্বাকে ( অবতার, রাসূল, ফেরেশতা, দূত, দেবদেবী) না ডেকে একেবারে সরাসরি শুধু তাকেই ডাকো এবং তারই বন্দনা ও উপাসনা করো। প্রশ্নঃ কিভাবে আপনি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে প্রতিষ্টা করবেন? উত্তরঃ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণের দ্বারা। প্রশ্নঃ কিন্তু ঈশ্বরেরে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়াতো সম্ভব নয়। তাহলে কিভাবে আপনি ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা করবেন? উত্তরঃ প্রমাণ অর্থ হচ্ছে স্বচ্ছ জ্ঞান যা ইন্দ্রিয় অঙ্গ গুলো হতে প্রাপ্ত উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। কিন্তু লক্ষ করুন ইন্দ্রিয় অঙ্গ গুলো শুধ মাত্র গুন সুমহকে ধারণ করতে পারে ঐ সকল গুনের কারন বা হেতুকে নয়। উদারহন স্বরূপ, যখন আপনি এই লেখাটি পড়ছেন তখন কিন্তু আপনি আমার অস্তিত্বকে ধারণ করতে পারছেন না, কিন্তু কতগুলি সাংকেতিক চিহ্ন, বর্ন, বা ছবি যা কম্পিউটার স্ক্রিনে আসছে যা আপনি অর্থপূর্ন জ্ঞানে রূপান্তরিত করছেন। তারপরে আপনি এই সিদ্বান্তে উপনীত হয়েছেন যে এই লেখাটির কোন লেখক আছে এবং এই লেখকের অস্তিত্বের প্রমান আপনার কাছে আছে বলে আপনি দাবী করেন। ্সুতরাং এটা হচ্ছে একটি পরোক্ষ প্রমাণ যদি প্রত্যক্ষ ভাবেই প্রতীয়মান হয়। ঠিক একই ভাবে এই সমস্ত সৃষ্টি যা আমরা এর বৈশিষ্ট্য দ্বারা পর্যবেক্ষন করি আমাদের ইন্দ্রিয় অঙ্গসমূহ মধ্য দিয়ে তা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে পরোক্ষভাবে প্রকাশ করে। যখন প্রত্যক্ষভাবে একটি সত্ত্বার সাথে একটি সংবেদনশীল তথ্যের যোগসূত্র ঘটাতে পারবেন তখন আপনি দাবী করতে পারবেন যে আপনার প্রত্যক্ষ প্রমান আছে। উদাহরণ স্বরূপ, যখন আপনি আম খান তখন আপনি এর মিষ্ট গুনকে উপলব্ধি করতে পারেন এবং যে আমটি খেয়েছিলেন তার সাথে এই মিষ্ট গুনটিকে সংশ্লিষ্ট করতে পারছেন। এখানে গুরুত্বপুর্ন দিকটি হচ্ছে আপনি "প্রত্যক্ষ প্রমান" কে শুধু মাত্র সংশ্লিষ্ট করতে পারছে নির্ধারিত কোন ইন্দ্রিয় অঙ্গ দিয়ে যা আপনি ব্যবহার করেছিলেন ঐ গুনটিকে পর্যবেক্ষন করার জন্য। অর্থা আমের এই প্রত্যক্ষ প্রমান আপনি কর্ন ইন্দ্রিয়ের মধ্য দিয়ে পাবেন না। এটা কেবল জিহ্বা, নাসিকা, ও চক্ষু দ্বারাই সম্ভব। ঠিক তেমনি বাস্তবে আমরা "পরোক্ষ প্রমাণ" গুলিও পাই যদিও আমরা এগুলোকে "প্রত্যক্ষ প্রমান" বলে থাকি। যেহেতু ঈশ্বর হচ্ছেন সবচেয়ে সুক্ষ অতীন্দ্রি়য় সত্ত্বা সেহেতু ঈশ্বরের "প্রত্যক্ষ প্রমান" আমাদের এই অসুক্ষ অশিষ্ট সীমিত শক্তির ইন্দ্রিয় অঙ্গ যেমন নাক, কান, চোখ, জিহ্বা, চর্ম দ্বারা সম্ভব নয়। যেমন আমরা অতি পারমানবিক কণাকে এমনকি অনেক শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখতে পারি না, আমরা শ্রবণাতীত শব্দ (Ultrasonic Sound ) শুনতে পারি না, আমরা স্বরন্ত্র একটি অণুর স্পর্শ অনুভব করতে পারি না। অর্থাৎ ঈশ্বরকে এই দুর্বল ও অসুক্ষ ইন্দ্রিয় অঙ্গ দ্বারা প্রমাণিত করা যাবে না ঠিক যেমন আমকে কর্ন দ্বারা অথবা অতি পারমানবিক কণাকে কোন ইন্দ্রিয় অঙ্গ দিয়ে ইন্দ্রগ্রাহ্য করা যাবে না। একমাত্র ইন্দ্র যা ঈশ্বরকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করতে পারে তা হলে মন। যখন মন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রিত এবং সকল ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদান (যেমন চিন্তা যা সর্বদা জাগ্রত থাকে) থেকে মুক্ত এবং ঈশ্বরের সকল গুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান যা অধ্যায়ন ও চর্চার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, তাহলেই বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যে দিয়েই প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরকে প্রমান করা যাবে যেমন করে ঐ আমকে এর স্বাদ দ্বারা প্রমান করা হয়েছিল। এটাই হচ্ছে জীবনের উদ্দেশ্য যা একজন যোগী করার চেষ্টা করেন মন নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্বতী প্রয়োগ করেন। এই পদ্ধতি গুলোর মধ্যে রয়েছে অহিংসা, সত্য সন্ধান, পর দুঃখকাতরতা, সকলের জন্য পরম সুখ সন্ধান, উন্নত নৈতিক চরিত্র, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, মানুষের মাঝে একতা ইত্যাদি, ইত্যাদি। এভাবে আমাদের প্রাতাহিক জীবনে আমরা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ প্রমানের ইঙ্গিত পাই। যখন আমরা চুরি, প্রতারণা, পাশবিকতার মত কোন ভুল কাজ করি তখন আমরা ভয়,ভীতি, লজ্জা, সন্দেহের ইত্যাদি আকারের আমরা ক্ষীণ ভেতরকার ক্ষীন কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। আর যখনই আমরা কোন মঙ্গল সূচক কাজ করি যেমন কাউকে সাহায্য করা, কোন শিশুকে আর্শীবাদ করা ইত্যাদি, তখনও আমরা ভেতরকার ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পাই ভয়শূন্য, আত্মতৃপ্তি, প্রত্যয়ী ও পরম সুখবোধ আকারে। এই ভেতরের কণ্ঠস্বরটি আসে ঈশ্বরের কাছ থেকে। আমরা প্রায়শই এর শ্রাব্যতাকে কমিয়ে চুপ করে রাখার চেষ্টা করি আমাদের চারপাশে উচ্চ শব্দের DJ Music এর মত নির্বোধ প্রবণতার মাধ্যমে। কিন্তু তখন আমরা সবাই কোন এক সময়ে ভেতরের কণ্ঠস্বরকে আরও উচ্চ শব্দে শুনতে পাই যখন এই সব কিছু তুলনামূলকভাবে নিঃশ্চুপ। যখন আত্মা নিজেকে সকল মানসিক বিশৃঙ্খলা থেকে নিজেকে শুদ্ধ করে এবং ঐ DJ ক্লাব থেকে বেরিয়ে আসে তখন আত্মা নিজেই নিজেকে ও ঈশ্বর প্রত্যক্ষভাবে প্রামানিক হয়। এভাবে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে প্রতিষ্টা করতে পারি পরিষ্কার ভাবে যেভাবে বিভিন্ন সত্ত্বাকে আমরা করতে পারি

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কোথায় থাকেন?

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কোথায় থাকেন? উত্তরঃ ১. ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান সেই জন্যে তিনি সকল স্থানেই বিদ্যমান। ঈশ্বর আকাশে কোন বিশেষ জায়গায় অথবা কোন বিশেষ সিংহাসনের মত কোন নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতেন তাহলে তিনি সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ, সর্ব শক্তিমান, সকল কিছুর পরিচালক, সৃষ্টিকারী ও ধ্বংসকারী হতে পারতেন না। তিনি যেখানে বর্তমান নেই সেখানে তিনি তার কোন ক্ষমতায় প্রয়োগ করতে পারবেন না। ২. যদি তুমি বল ঈশ্বর কোন এক জায়গা থেকে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছেন যেমন করে সুর্য লক্ষ কোটি মাইল দূর থেকে আলো ছাড়ায় অথবা যেমন করে রিমোর্টের মাধ্যমে তুমি টেলিভশনকে নিয়ন্ত্রণ কর, এগুলো সব দুর্বল যুক্তি। কারন সূর্য পৃথিবীকে আলোকিত করা ক্ষমতা রাখে এবং রিমোর্ট কন্ট্রোল টেলিভশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে রশ্মিবিচছুরণ তরঙ্গের (radiation waves) মধ্য দিয়ে যা অর্ন্তবর্তি কাল ও সীমার মধ্যে ( interim space) সীমাবদ্ধ। যেহেতু আমরা তাদের দেখতে পারি না তাই আমরা একে দূর নিয়ন্ত্রক (remote control) বলি। কিন্তু বাস্তবে দূর নিয়ন্ত্রক বলে কিছু নেই। মূল কথাটি হচ্ছে ঈশ্বর কোন কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলতে আমরা বুঝি তিনি সেখানে উপস্থিত থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন। ৩. অধিকন্ত যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হয়ে থাকেন তাহলে কেন তিনি ভীত হয়ে নিজেকে একটি ছোট জায়গায় সীমাবদ্ধ করবেন। এতে করে ঈশ্বর সীমিত শক্তির হয়ে যাবেন। খ্রিষ্টানরা বলে যে ঈশ্বর আছেন ৪০ আসমানে আর মুসলিমরা বলে সাত আসমানে। এবং তাদের অনুসারীরা পরস্পরের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে তার নিজের মতটা সত্য ও যর্থাত বলে প্রমাণ করা জন্য। তার মানে কি GOD এবং আল্লাহ্ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা ভিন্ন ভিন্ন আকাশে বাস করবেন যাতে করে তারা তাদের অনুসারীদের মত ঝগড়ায় লিপ্ত না হন? প্রকৃত পক্ষে এটা একটা শিশু সুলভ বক্তব্য। যেখানে ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান এবং সমস্ত বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করেন সেখানে কোন কারনই নেই যে তিনি ভয়ে বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের কোন এক ক্ষুদ্র সীমিত জায়গায় আত্মোগোপন করবেন। যদি তিনি তা করে থাকেন তাহলে তাকে সর্বশক্তিমান বলা যাবে না। প্রশ্নঃ তার মানে কি ঈশ্বর অ্যালকোহল, মূত্র, বিষ্ঠার মত নোংরা জিনিসেও বিদ্যমান? উত্তরঃ সমস্ত সৃষ্টি ঈশ্বরের মাঝেই। কারন হলো ঈশ্বর এই সকল জিনিসের বাইরে কিন্তু এই সকল জিনিস ঈশ্বরের বাইরে নয়। সুতরাং পৃথিবীর সমস্ত কিছুতে ঈশ্বর পরিব্যাপ্ত। উপমা স্বরূপ বলতে পারি আমরা ঈশ্বরের মাঝে আছি যেমন করে এক টুকরো কাপড় এক বালতির জলে মধ্যে থাকে। কাপড়টির মধ্যে, বাইরে এবং চারিদিকে জল বিদ্যমান। পুরো কাপড়ের টুকরোটিতে জলে ভিজে গেছে কিন্তু জল কাপড়ে বাইরে। তাই কোন কিছু ভাল ও মন্দ নির্ভর করে সেটার প্রতি আমাদের দ্বায়িতটা কি রকম তার উপর। এক ধরনের কত গুলো অণু মিলে একটি মিষ্টি আম হিসেবে গড়ে ওঠে যা আমাদের জন্য খুবই কদরের বস্তু। কিন্তু যখন এই অণুগুলোকে আলাদা করা হয়, অন্যন্যা রাসায়নিক পর্দাথের সাথে বিক্রিয়া করা হয় এবং সেগুলোকে মলমূত্রে পরিণত করা হয় তখন তা আমাদের জন্য নোংরা হয়ে যায়।প্রকৃতপক্ষে এই সকল জিনিসের সার হচ্ছে শুধু মাত্র প্রকৃতির বিভিন্ন অণুর সমন্বয় মাত্র। যেহেতু পৃথিবীতে আমাদের একটা মিশন রয়েছে, তাই আমরা সমস্ত কিছুকে আমরা বিশ্লেষণ করি আমাদের মিশন অনুযায়ী এবং কিছু গ্রহন করি আর কিছু পরিত্যাগ করি। যা আমরা ত্যাগ করি তা আমদের জন্য নোংরা আর যা আমরা গ্রহন করি তা আমাদের জন্য ভাল। কিন্ত ঈশ্বরের কাছে এই ধরনের দ্বায়িত নেই এবং তজন্ন তার কাছে কোন কিছুই নোংরা নয়। অন্য ভাবে বলা যায়, তার কর্ম ও দ্বায়িত আমাদের চেয়ে ভিন্ন। তাই জগতের সমস্ত কিছু তার স্পর্শের বাইরে নয়। আপনি যদি অন্য ভাবে দেখতে চান তাহলে বলব যে ঈশ্বর কোন নাম মাত্র সমাজ কর্মী নন যিনি সশরীরে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের দুর্দশা পর্যবেক্ষন করার জন্য দুর্গত স্থান পরিদর্শন না করে দূর থেকেই শাতীতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই পরিকল্পনা করতে পছন্দ করেন। বরং ঈশ্বর সকল স্থানের নোংরাগুলির মাঝে বর্তমান থাকেন আমাদের উপকারের জন্য। যেহেতু ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ সেহেতু তিনি সর্বত্র ব্যাপী এবং সমস্ত তার মাঝে বর্তমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঐ সকল বিষয় হতে বাইরে ও ভিন্নতর। প্রশ্নঃ ঈশ্বর কি দয়ালু এবং ন্যায় বিচারক? উত্তরঃ হ্যাঁ তিনি দয়ালু এবং ন্যায়বিচারক। প্রশ্নঃ কিন্তু এগুলোতো বিপরীতার্থক লক্ষণ কারন দয়ালুতা মানেইতো অন্যায়কারীদের ক্ষমতা করে দেয়া। এবং ন্যায়বিচার অর্থ হচ্ছে দোষীদের শাস্তি দেয়া। তাহলে কিভাবে এই দুটি বিষয়কে এক সাথে অবস্থান করবে? উত্তরঃ দয়ালুতা এবং ন্যায়বিচার মূলত এক ও অভিন্ন। কারন দুটির উদ্দেশ্যই এক। দয়ালুতা মানে ওন্যায়কারীকে ক্ষমা করে দেয়া নয়। কারন যদি তাই হয় তাহলে অনেক নিষ্পাপ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই ভাবে যদি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অন্যায়কারীদের তাদের প্রাপ্য সাজা না দেয় তাহলে কেউ নিরীহ ও নিষ্পাপ মানুষের প্রতি দয়ালু হতে পারবে না। শুধু তাই নয় এটা অন্যায়কারীদের প্রতি অবিচার হবে কারন তাকে ভবিষ্যতে আরও অন্যায় করা থেকে বিরত করা হচ্ছে

বৈদিক ঈশ্বর প্রথম পর্ব:

প্রশ্নঃ বেদে কতজন ঈশ্বরের উল্লেখ আছে? আমরা শুনেছি বেদে অনেক ঈশ্বরের উল্লেখ আছে। উত্তরঃ আপনি অবশ্যই ভুল উৎস থেকে শুনে থাকবেন। বেদে সুস্পষ্ট ভাবেই বলা আছে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। এবং বেদে এমন কোন মন্ত্র নেই যা বহু ঈশ্বরবাদকে সমর্থন করে। নিম্নে কিছু উপমা দেয়া হলঃ বেদে ঈশ্বর= বাইবেলের ঈশ্বর- ট্রিনিটির ধারণা -যীশুর কাছে আত্মসমর্পন করার আবশ্যকতা বেদের ঈশ্বর= ইসলামের কুরানের আল্লাহ - মুহাম্মদকে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করার আবশ্যকতা অন্য ভাবেও বলা যায়, যদি কেউ শাহাদার প্রথম অংশটুকু বলে ("লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নাই) এবং দ্বিতীয় অংশটুকু (মাহাম্মুদুর রাসুল্লাহ অর্থাৎ মুহাম্মদ হচ্ছেন তারা দূত ) অস্বীকার করে তাহলে সেটা বেদের ঈশ্বরবাদের কাছাকাছি হবে। ইসলামে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকিছুকে উপাসনা করা হচ্ছে শিরক অর্থাৎ গুরুতর গুনাহ। তাই কেউ যদি এতটুকু মেনে নেয় এবং মুহাম্মদ অথবা জিবরাইলকে আল্লাহ প্রেরিত পুরুষ ও দূত হিসেবে আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে অস্বীকৃত জানাই তাহলে বেদ অনুসারে তারা শিরককে এড়িয়ে যেতে পারবে। প্রশ্নঃ তাহলে বেদে উল্লেখিত এই বিভিন্ন ধরনের দেব দেবতা কে? আর ৩৩ কোটি দেবতাগন কি? উত্তরঃ প্রথমেই বলে নিতে হচ্ছে দেবতা হচ্ছে সত্ত্বা যা আমাদের জন্য উপকারী। কিন্তু বেদে কোথাও এটা উল্লেখ নেই যে আমাদেরকে এই সকল সত্তাকে পূজা করতে হবে। অবশ্যই ঈশ্বরও একজন দেবতা অথবা একাধিক দেবতা এবং সেজন্যই বলা হয় মহাদেবতা। তাই শুধু মাত্র তাকেই উপাসনা করতে হবে। বেদে ৩৩ মিলিয়ন দেবতার উল্লেখ করেনি কিন্তু ৩৩ ধরনের দেবতার উল্লেখ রিয়েছে। সংস্কৃতিতে দেবতা অর্থ হচ্ছে ধরন বা প্রকার। বিষয়টি শতপথ ব্রাক্ষনে খুবই পরিষ্কার ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই ৩৩ ধরনের দেবতাদের মধ্যে রয়েছে ৮ বসু (পৃথিবী, জল, আগুন, বাতাস, আকাশও, চন্দ্র, সূর্য ও গ্রহ/ নক্ষত্রাদি ) যা বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের (Universe) অংশীভূত যেখানে আমরা বাস করি। ১০টি দেহের জীবনী শক্তি (প্রান, অপান, বায়ু,উদানা, সামানা, নাগা, কুর্মা, কুকালা এবং দেবাদত্ত) ১টি আত্মা যাকে বলা হয় রুদ্র ১২ টি আদিত্য(বছরের মাস সমুহ) ১ তড়িৎ চুম্বকয়ি শক্তি (Electromagnetic force ) ১ যজনা (মানুষ কর্তক স্বার্থহীন পূন্যকর্ম) এই সকল ৩৩ দেবতার প্রভু হচ্ছে মহাদেবতা অথবা ঈশ্বর যাকে শতপথ ব্রাক্ষনের ১৪ কান্ড অনুযায়ী শুধু মাত্র তাকেই উপাসনা করতে হবে অন্য কাউকে নয়। এই ৩৩ দেবতার ধারণাটি হচ্ছে বিশাল গবেষণার বিষয় এবং বিষয়টিকে যথাযত ভাবে বোঝার জন্য গভীর অধ্যায়ন প্রয়োজন। তা যাই হোক, বিভিন্ন বৈদ্যিক গ্রন্থে আলোকে এই কথাটি সুস্পষ্ট হয়েছে যে এই সকল সত্ত্বগুলো যাদের আমরা দেবতা বলি তারা কেহই ঈশ্বর নয় এবং উপাসনার যোগ্যও নয়। ঈশ্বরে বহু গুণাবলীর অধিকারী। শুধু মাত্র মুর্খ মানুষেরাই মনে করে ঈশ্বরের এই ভিন্ন ভিন্ন গুন এক একটি ঈশ্বর। উদাহরন স্বরূপ, আজকের সংবাদ পত্রে দুটি শিরোনাম হয়েছে -একটিতে প্রধান মন্ত্রী আর অপরটি বিরোধী দলের প্রধান। কিন্তু তার অর্থ এই দাঁড়ায় না যে আমাদের দেশে দুটি প্রধান মন্ত্রী আছে ! এই সন্দেহ গুলো দূর করার জন্য বেদে কয়েকটি মন্ত্র আছে যেখানে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করেছে যে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় এবং তার কোন সহকারী, দূত, নবী, অবতার অথবা অধিনস্ত কোন কর্মচারী নেই যার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করবো। উদাহরন স্বরূপঃ যর্যুরবেদ ৪০.১: এই সমস্ত বিশ্ব শুধু মাত্র একজন ঈশ্বর দ্বারা সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে।কখনই অন্যায় করো না অথবা অন্যায় ভাবে সম্পদ অর্জনের ইচ্ছা করো না। ঋগবেদ ১০.৪৮.১: ঈশ্বর সর্বত্রই বিদ্যমান এবং বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে পরিচালিত করেন। পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই জয় ও শ্বাশত কারন প্রদান কারী। প্রতিটি আত্মা অবশ্যই তাঁকেই সন্ধান করবে যেমন করে একটি শিশু তারা বাবাকে খোঁজে। শুধুমাত্র তিনি আমাদেরকে খাদ্য ও স্বর্গীয় সুখ প্রদান করেন। ঋগবেদ ১০.৪৮.৫: ঈশ্বর সমস্ত পৃথিবীকে আলোকিত করেন। তিনি অপরাজেয় এবং মৃত্যুহীনও। তিনি এই জগত সৃষ্টিকারী। সকল আত্মার উচিত পরম সুখ সন্ধান করা জ্ঞান অন্বেষণ ও কর্মের মধ্য দিয়ে। তারা কখনই ঈশ্বরের বন্ধুত্ব থেকে নিজেকে পরিহার করবে না। ঋগবেদ ১০.৪৯.১: ঈশ্বরই সত্যের সন্ধানীদের সত্যজ্ঞান দিয়ে থাকেন। তিনিই শুধু জ্ঞানের প্রর্বতক এবং ধার্মিক ব্যাক্তিদের পরম সুখ লাভের জন্য পবিত্র কর্ম করতে উৎসাহী করেন। তিনিই একমাত্র জগতের সৃষ্টিকারী এবং এর পরিচালক। ঙটাই ঈশ্বর ব্যাতীত অন্য কারো উপাসনা করো না। যর্যুরবেদ ১৩.৪: সমগ্র বিশ্বে শুধু একজনই হর্তাকর্তা রয়েছেন। শুধুমাত্র তিনিই পৃথিবী, আকাশ, এবং অন্যন্যা দৈব সত্ত্বাকে ধারণ করেন। তিনি নিজেই পরম সুখী! তিনিই শুধু মাত্র তিনিই আমাদের দ্বারা উপাসিত হবেন। অর্থববেদ ১৩.৪.১৬-২১: তিনি না দুই, না তিন, না চার, না পাঁচ, না ছয়, এমনকি না সাত, না আট, না নয়, না দশ। তিনি একজন এবং শুধুই একজন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ঈশ্বর নন। সকল দেবতাগণ তার মাঝেই থাকেন এবং তার দ্বারাই পরিচালিত হন। তাই তিনি ছাড়া অন্য কেউ উপাস্য নাই। অর্থববেদ ১০.৭.৩৮: শুধু মাত্র ঈশ্বরই হলেন শ্রেষ্ট এবং একমাত্র উপাস্য। তিনিই সকল জ্ঞানের ও কার্যাবলীর উৎস। যর্যুরবেদ ৩২.১১: বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের সকল স্থানেই তিনি বর্তমান। কোন স্থানই তাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি নিজেই নিজের কাজ করেন এবং তাঁর কাজ করার জন্য তাঁর কোন সহায়কের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। যে আত্মা অনুধাবন করতে পারে যে শুধুমাত্র ঈশ্বরই তাকে জয় করতে পারে এবং উপভোগ করতে পারে শর্তহীন অসীম আনন্দ অথবা মকশা।

হিন্দু পুরাণ

হিন্দু পুরাণ হিন্দু পুরাণ হল হিন্দুধর্ম সংক্রান্ত অজস্র ঐতিহ্যবাহী কথামালার একটি বৃহৎ রূপ, যা প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য (যেমন রামায়ণ ও মহাভারতের ন্যায় মহাকাব্য, অষ্টাদশ পুরাণ ও বেদ), প্রাচীন তামিল সাহিত্য (যেমন সংগম সাহিত্য ও পেরীয় পেরুনম্), ভাগবত পুরাণের (যাকে পঞ্চম বেদ আখ্যায় ভূষিত করা হয়) ন্যায় অন্যান্য হিন্দু রচনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সাহিত্যে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও এই হিন্দু পুরাণ ভারত ও নেপালের সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ। সুসংবদ্ধ এই কাহিনিগুলি এক সুবিশাল ঐতিহ্যের বাহক ও রক্ষক, যা বিভিন্ন কালে, বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্ন মানুষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বারা বিভিন্ন অঞ্চলে বিকাশপ্রাপ্ত হয়। এটি যে কেবল হিন্দু সাহিত্য ও ঘটনাবলীর দ্বারা প্রভাবিত তা নয়, বরং এই কাহিনিগুলি বিশদ ব্যাখ্যার মাধ্যমে সমাজ-সংসারের নানা চিত্রকে প্রতীকী মাধ্যমে গভীর ও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। [১] উৎস বেদ ধ্রুপদী হিন্দুধর্ম থেকে উদ্ভুত পৌরাণিক কাহিনির মূল হল ভারতের প্রাচীন বৈদিক সভ্যতা ও তার সময়কাল। বেদ, বিশেষত ঋগ্বেদের অজস্র স্তোত্রে পরোক্ষ ভাবে নানা বিচিত্র কাহিনির উল্লিখিত হয়েছে (দেখুন ঋগ্বৈদিক দেবদেবী, ঋগ্বৈদিক নদনদী )। বৈদিক চরিত্র, দর্শন এবং কাহিনিগুলি যে পৌরাণিক কথামালার সৃষ্টি করেছে, তা হিন্দু রীতিনীতি ও বিশ্বাসের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বেদ চারটি – ঋগ্বেদ , সামবেদ , যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ। ইতিহাস ও পুরাণ রাম হনুমানের কাঁধে বসে রাবণের সাথে যুদ্ধ করছেন, রামায়ণের দৃশ্য। পরবর্তী বৈদিক যুগে সভ্যতার নানা উপাদানই সংস্কৃত মহাকাব্যগুলিতে সংরক্ষিত করা হয়েছে। স্বাভাবিক কথামালাগুলির পাশাপাশি একাধিক খণ্ডে বিভক্ত মহাকাব্যগুলিও ভারতীয় সমাজ, সভ্যতা, দর্শন, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ইত্যাদি সম্বন্ধীয় নানা তথ্যের ধারক হয়ে রয়েছে। রামায়ণ ও মহাভারত – এই দুটি হিন্দু মহাকাব্যই যথাক্রমে ভগবান্ বিষ্ণুর দুই অবতার – রাম ও কৃষ্ণের কাহিনি পরিবেশন করে। এই দুটি গ্রন্থই ‘ইতিহাস’ নামে পরিচিত। রামায়ণ ও মহাভারত উভয়কেই ধর্মের পথপ্রদর্শক এবং দর্শনতত্ত্ব ও নীতিকথার আধার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই গ্রন্থ দুটি একাধিক অধ্যায়ে (কাণ্ড ও পর্ব) বিভক্ত এবং এতে অসংখ্য নীতিমূলক সংক্ষিপ্ত কাহিনি সংকলিত হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলি কাহিনির অন্তে হিন্দু নীতি ও আচরণবিধির সঠিক শিক্ষালাভ করে। এগুলির মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হল মহাভারতের ভগবদ্গীতা , যেখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখা মহারথি অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ঠিক প্রাক্কালে ধর্মাচরণ ও জীবনকর্তব্যের বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এই গ্রন্থটি হিন্দু দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে ও হিন্দুধর্মের প্রধান উপদেশমূলক গ্রন্থ হিসেবে খ্যাত হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মহাভারত হল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কাব্যগ্রন্থ, এতে প্রায় এক লক্ষ শ্লোক রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাঙালী মুসলিম শ্রমিক

মধ্যপ্রাচ্যে বাঙালী মুসলিম শ্রমিকদের এখনো অাইএসে যোগ দিতে তেমন দেখা যায় নি। বরং যারা ইউরোপ, অামেরিকাতে অারাম-অায়াসে অাছে তারাই অাইএসে বেশি যোগদিচ্ছে। . মধ্যপ্রাচ্যের বাঙালী শ্রমিকরা এ্যারাবিয়ানদের অাচার ব্যবহার সম্পর্কে ভালোই জানে। এ্যারাবিয়ানরা কখনোই নন এ্যারাবিয়ানদের প্রতি ভালো ব্যবহার করে নি। বাঙালী মুসলিমদের তো তারা মিসকিন হিসেবেই চেনে। অার দেশভেদে এ্যারাবিয়ানরা বাঙালীদের হত্যা করলেও এর বিচার পর্যন্ত করেনা দেশগুলো। অনেক বাঙালী শ্রমিকদের বেশি অভিযোগ থাকে, তাদের কষ্টার্জিত বেতন না পাওয়া নিয়ে। এ্যারাবিয়ান অমানুষ গুলোর জন্যে অনেক বাঙালী মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। এসব কারণেই হয়তবা তারা এ্যারাবিয়ানদের প্রতি রুষ্ট। কখনও অাইএসে যাওয়ার কল্পনাও করতে পারে না। . অার অন্যদিকে ইউরোপিয়ান মুসলিমরা বিলাসী জীবন যাপন ছেড়ে বিধর্মীদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধে নেমেছে। ইউরোপীয়ান অাধুনিক সংস্কৃতি চর্চা করে মানুষ বদলে অারবীয় সংস্কৃতিকেই অাপন করে তারা বর্বর হচ্ছে। অাইএসের বদৌলতে তারা পরকালের অনন্তকাল ব্যাপী হুরপরীর সুখ পাওয়ার জন্যে নিরীহ লোকদের মারতে একটুও হাত কাঁপে না।