মালদহের ইংরেজবাজার খুন হলেন বছর ৫৫-র এক পুরোহিত৷ স্থানীয় মন্দিরের পুরোহিত খুনের ঘটনায় ইংরেজবাজার পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লী এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পুরোহিতের নাম প্রসন্ন দাস(৫৫), বাড়ি শহরের সুকান্তপল্লী এলাকায়।
বিবেকান্দপল্লীতে প্রাচীন নাটমন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে পুজোর দায়িত্বে ছিলেন অর্চনা সেবার সদস্য এই ব্যক্তি৷ আজ সকালে তাঁর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত মৃতদেহ মন্দিরের পাশের কলাবাগানে পরে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ইংরেজবাজার থানায় পুলিশ৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে জন্য পাঠায়।
পুরোহিত খুনের ঘটনায় কারা যুক্ত তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ। মৃত পুরোহিতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রসন্ন দাস স্বভাবে লজুকপ্রকৃতির৷ কারও সঙ্গে কোনও রকম শত্রুতাও ছিল না তাঁর। এদিনের এই ঘটনায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করেছে৷ পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
''আমি গর্বিত,আমি হিন্দু" "দিব্যজ্ঞান নয় কান্ডজ্ঞান দরকার" This blog is about Hindu Religion.we are collecting posts from many pages of facebook.some time you think that we giving hate speeches but this is not true we just give information and news. https://m.facebook.com/WERHINDU https://m.facebook.com/nationslisthindu #NationalistHindu
Friday, 17 June 2016
ফের মুসলিম-বিরোধী কথা বলে বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফের মুসলিম-বিরোধী কথা বলে
বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন,
“পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে
মুসলিম সম্প্রদায়কে মঙ্গল গ্রহে
পাঠিয়ে দেওয়া উচিত।” এ
ব্যাপারে তিনি একটি
শর্তসাপেক্ষে প্রস্তাবও দিয়েছেন
বিজ্ঞানী ইলন মাস্ককে। মাস্ককে
তিনি প্রস্তাব দেন, যদি তিনি তাঁর
রকেটে করে মুসলিমদের মঙ্গলে
পাঠিয়ে দিতে পারেন, তা হলে
তাঁকে ট্রান্সপোর্টেশন
সেক্রেটারির পদ দেবেন। ট্রাম্পের
মতে, এতে যেমন মুসলিমদের উপকার
হবে, তেমনই বিশ্বে শান্তির আবহ
ফিরে আসবে। তিনি আরও জানান,
আমেরিকাকে ধর্ষক মুক্ত করতে এর
থেকে ভাল এবং কার্যকরী উপায়
হতে পারে না। তবে এখানেই থেমে
থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট
পদপ্রার্থী। মুসলিমদের কটাক্ষ করে
তিনি বলেন, “বিশ্বাস করুন
মুসলিমদের আমি ভালবাসি। আর সে
কারণেই আমেরিকায় তাদের
অনুপস্থিতি আমার হৃদয়কে আনন্দে
ভরিয়ে তুলবে।” ট্রাম্পের এই মুসলিম
বিরোধী মন্তব্যে ফের সরগরম
মার্কিন রাজনীতি।
ট্রাম্পের ঘোরতর এই মুলিম-
বিরোধী মন্তব্যের তীব্র
বিরোধিতা করে এসেছেন মার্কিন
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দু’দিন
আগেই মার্কিন অভিবাসন নীতিকে
তীব্র আক্রমণ করে ট্রাম্প
বলেছিলেন, “ভুল অভিবাসন নীতির
ফলেই দলে দলে সম্ভাব্য জঙ্গি এসে
ঢুকছে আমেরিকায়।” ট্রাম্পের একের
পর এক মুসলিম-বিরোধী মন্তব্যে এ
বার মুখ খুলেছেন আমেরিকার
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশও।
তিনি বলেন, “আধুনিক মার্কিন
ইতিহাসে ট্রাম্প একজন মুসলিম-
বিরোধী আইকন।”
প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নেমে
শুরু থেকেই মুসলিমদের আক্রমণ শুরু
করেছিলেন ট্রাম্প। যেমন, গত বছর
ডিসেম্বরে সান বার্নাদিনোয়
জঙ্গি হামলার পরে ট্রাম্প
বলেছিলেন, “পুরো আমেরিকায়
মুসলিমদের ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া
উচিত।” তিনি আরও বলেছিলেন,
“যাঁদের কাছে মানুষের জীবনের
কোনও মূল্য নেই, যাঁরা শুধুমাত্র
জেহাদে বিশ্বাস করে, আমেরিকা
এমন লোকেদের আক্রমণের লক্ষ্য
হতে পারে না।” সেই শুরু। তার পরে
একের পর এক মুসলিম-বিরোধী
মন্তব্যে মার্কিন রাজনীতিতে
বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছেন
রিপাবলিকানদের এই প্রথম সারির
নেতা।
www.anandabazar .com/ international/ muslims- should-s end-to-mars-don ald-trump-made- controversial-c omment- dgtl-1.4 13208#
বিজেপি
১৯৮৪ :
লোকসভা নির্বাচন :
বিজেপির সিট : ২
সবাই বলেছিল বিজেপি শেষ , এই ধরনের এজেণ্ডা নিয়ে এরা বেশী দূর এগোতে পারবেনা ।
১৯৯২ :
বাবরী মসজিদ ধ্বংস :
বিরোধীদের বক্তব্য ছিল...
এটি একটি সাম্প্রদায়িক দল , এদেরকে ভারতবর্ষের মানুষ কখনওই মেনে নেবে না ।
২০০২ :
গোধরা পরবর্তী গুজরাট দাঙ্গা :
বিরোধীদের বক্তব্য ছিল...
মোদী সাম্প্রদায়িক , গুজরাট হাত ছাড়া হবে বিজেপির ।
২০১০ :
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাকে নিয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ।
২০১৪ :
মোদী ফেকু ।
২০১৫ :
দাদরীকাণ্ডে বিজেপিকে দোষারোপ ।
২০১৫ :
অরুল জেটলীকে দিল্লী ক্রিকেট স্টেডিয়াম মামলায় জড়ানো ।
২০১৬ :
JNU নিয়ে বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক বলা ।
@@@@@@@@@@@@@
১৯৮৯ :
লোকসভা নির্বাচন :
বিজেপির সিট : ৮০
১৯৯৯ :
লোকসভা নির্বাচন :
বিজেপির সিট : ১৮০+ সহ NDA ক্ষমতায় ।
২০০৩ , ২০০৮ , ২০১৩ গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন :
আরও বেশি সংখ্যক সিট পেয়ে টানা ১৫ বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদী ।
এপ্রসঙ্গে উল্লেখ্য ...
তারই আমলে গুজরাট সবদিক থেকে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হয়েছে ।
২০০৭ :
এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বাবরী মসজিদ নিয়ে...
সংশ্লিষ্ট এলাকার ৮০% জমি রামমন্দির নির্মানের জন্য দান ।
এখন মামলা সুপ্রিমকোর্টে..
এ বছরের শেষেই উল্লেখযোগ্য রায় মিলবে বলে আশা ১০০ কোটি হিন্দুসমাজের ।
( মুসলমানদের আন্তরিক সহযোগীতায় )....
২০১২ :
সুপ্রিমকোর্ট থেকে মোদীকে গুজরাট দাঙ্গায় ক্লীনচিট দান , কংগ্রেসি আমলে ।
২০১৩ :
কর্ণাটক হাইকোর্ট দ্বারা ইয়েদুরাপ্পা কলঙ্কমুক্ত ।
২০১৪ :
লোকসভা নির্বাচন :
বিজেপির সিট : ২৮২
মোট ৩৩৯ টি সিট নিয়ে NDA ক্ষমতায় ।
২০১৫ :
দিল্লী হাইকোর্ট দ্বারা জেটলীকে ক্লীনচিট ।
২০১৬ :
দাদরী ও JNU দুজায়গাতেই প্রমাণ ফরেন্সিক রিপোর্ট দ্বারা যে...
গরুর মাংস ছিল এবং শ্লোগান গুলো আসল ছিল ।
২০১৬ :
আর্থিকগ্রোথ বা GDPতে চীনকে ছাপিয়ে ভারত পৃথিবীতে শীর্ষে ।
ইতিহাস সাক্ষী আছে..
বিরোধীরা যতবার আমাদের কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে...
আমরা ততবারই সমহিমায় ফিরে এসেছি ।
ভারত মাতা কি জয়✊✊
Thursday, 16 June 2016
জম্মুর রূপনগর এলাকায় "আপ শম্ভু মন্দির" নামে একটি প্রাচীন ধর্মস্থানে ঢুকে মুসলিমরা ভাঙচুর করার ঘটনায় এখনও অশান্ত জম্মু।
জম্মুর রূপনগর এলাকায় "আপ শম্ভু মন্দির" নামে একটি প্রাচীন ধর্মস্থানে ঢুকে মুসলিমরা ভাঙচুর করার ঘটনায় এখনও অশান্ত জম্মু। বিক্ষোভে ফেটে পড়া হিন্দু সংগঠনগুলি বেশ কয়েকটি যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছে, পাথর ছোঁড়া হয়েছে পুলিশের ওপর। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে, কাঁদানে গ্যাস দিয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠানোর চেষ্টা করেছে। বুধবার থেকেই বন্ধ রয়েছে ১০টি জেলায় মোবাইল পরিষেবা।
গত সোমবার মুসলিমদের লাথি দিয়ে মূর্তি এবং শিবের মাথায় পা তুলে দেবার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। অভিযুক্ত "মহম্মদ ইয়াসির"কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার ভাই তনভির আহমেদকেও আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাসপেন্ড করা হয়েছে স্থানীয় পুলিশের হেড কনস্টেবল রহমতউল্লাকে। ধর্মীয় স্থান অপবিত্রকরণের ঘটনায় প্রধান পুরোহিত ও অন্যান্যরা অভিযোগ জানাতে গেলে তিনি তো অভিযোগ নেনইনি, তাঁদের সঙ্গে দুর্বব্যহার করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা জম্মু সহ পুরো দেশ। হিন্দুরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন দেশ জুড়ে।
Friday, 10 June 2016
আসলে মুসলমান কে?
আসলে মুসলমান কে?
এই কথা গুলি বারবার শুনি। জামাত মুসলমান নয়।
আওয়ামী লীগাররা মুসলমান নয়। আল্লামা শফী
হুজুর মুসলমান নয়। বাংলাভাই মুসলমান নয়। রাজাকার
মুসলমান নয়। সৌদিরা মুসলমান নয়। শিয়ারা মুসলমান নয়।
তুরুষ্ক মুসলমান নয়। সিরিয়ার আসাদ মুসলমান নয়।
বকো হারাম মুসলমান নয়। আত্মঘাতীরা মুসলমান
নয়। যারা পৌত্তলিকদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারা
মুসলমান নয়। তালিবান মুসলমান নয়। আই এস মুসলমান
নয়। যারা বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন
চালাচ্ছে তারা মুসলমান নয়। যারা ঘুষ খায় তারা মুসলমান
নয়। যারা নামাজ পড়েনা তারা মুসলমান নয়। যারা
জ্বেহাদে যায়না তারা মুসলমান নয় আবার একই সাথে
যারা জ্বেহাদি তারা মুসলমান নয়। যারা ইমান রাখার জন্য
নিজ সন্তানকে বলি দিতে পারে না সে মুসলমান
নয়। যে কোরাণ অনুসরণ করেনা সে মুসলমান
নয়। যারা ইহুদীদের বিরোধীতা করেনা তারা
মুসলমান নয়। হিন্দুর মুর্তি পুজাকে যারা সমর্থন করে
তারা মুসলমান নয়। যারা দরগায় যায় তারা মুসমান নয়। যারা
গান গায় তারা মুসলমান নয়। যারা গানশুনে তারা মুসলমান
নয়। যারা সিনেমা দেখে তারা মুসলমান নয়। যারা
আব্রু মানেনা তারা মসলমান নয়। যারা বিধর্মীকে
শত্রু ভাবেনা তারা মুসলামান নয়। খাজা মইনুদ্দীন
মুসলমান নয়। হুথিরা মুসলমান নয়। শরীয়া না মানলে
মুসলমান নয়। মুক্তিযোদ্ধারা মুসলমান নয়। কেবল
নয়..নয়। কেউ এরা মুসলমান নয়। কেন নয়?
তবে বাবর মুসলমান। আঅরংজেব মুসলমান। আর বিন
কাশেম মুসলমান। সকল জ্বেহাদী মুসলমান না
হলেও কাস্মীরের জ্বেহাদীরা মুসলমান।
হিজবুল্লাহ ইসলামি ব্রাদার হুড মুসলমান । এসব ব্যাপারে
দ্বিমত হয়না। কেন দ্বিমত হয়না?
গান শুনলে মনুষ্যত্ব থাকেনা নাকি ইসলাম থাকেনা?
দরগায় গেলে কি মনুষ্যত্ব থাকেনা নাকি ইসলাম
থাকেনা? ছবি আকলে মনুষ্যত্ব থাকেনা নাকি ইসলাম
থাকেনা? মুর্তি পূজা করলে মনুষ্যত্ব থাকেনা নাকি
ইসলাম থাকেনা? কাফেরকে বন্ধু করলে কি
মনুষ্যত্ব থাকেনা নাকি ইসলাম থাকেনা? গান গাইলে
কি মনুষ্যত্ব থাকেনা নাকি ইসলাম থাকেনা?
আসলে মুসলমান হতে গেলে কি যোগ্যতা
থাকতে হয়? মুসলমান মানে কি ঠিক সাধারণ রক্ত
মাংশের মানুষ বুঝায়না? কি পাল্টে যায় মানুষের?
Wednesday, 8 June 2016
বাঙালিদের নিয়ে সমস্যা?
""""বাঙালিদের নিয়ে উড়িয়াদের সমস্যা কোথায়, গোর্খাদের সমস্যা কোথায়, অসমিয়াদের সমস্যা কোথায়? এরা বাঙালিবিদ্বেষে এত ভুগছেন কেন? এই প্রশ্নগুলো করলেই দেখবেন একটা স্টক উত্তর পাচ্ছেন বাম-লিবেরাল বিশ্বমানব বাঙালির কাছ থেকে (যেটা আজকাল হনুপূজক বিশ্বহিন্দুরাও হনুকরণ করে উগড়ে দিচ্ছেন), সেটা হল, এটা বাঙালিরই পাপের ফল। বাঙালি বড্ড নাক উঁচু ছিল, এলিটিস্ট ছিল, এদেরকে দুচ্ছাই করেছে, এসবের ফল। একই যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের এথনিক ক্লিনজিংকেও সমর্থন করা হয়ে থাকে। বাঙালি উচ্চবর্ণের পাপের ফল আর কি, আমরা তো সর্বদাই মুসলমানভাইদের দুচ্ছাই করে এসেছি, তাই এখন ঘর জ্বালিয়েই দিতে পারে, নোয়াখালির গণধর্ষণও হতেই পারে। অমর্ত্য সেন তো বলেই দিলেন, হিন্দুরা যে পূর্ববঙ্গ ছেড়ে চলে এসেছে, সেটার খুব ভালো ফল হয়েছে, বাংলাদেশে অটোমেটিক ভূমিসংস্কার হয়ে গেছে। আমি তাই নিয়ে একবার লিখেছিলাম, অমর্ত্যর শান্তিনিকেতনের বাড়িটা দখল করে সেখানে ভূমিসংস্কার করা উচিত বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হিন্দু উদবাস্তুদের, ওরা কেন যে রেললাইনের ধারে থাকতে যান।
কথা হল, হ্যাঁ, বাঙালির নাক উঁচু, কিন্তু সে তো অকারণে কোনওদিন অপরকে অপমান করায় বিশ্বাসী নয়। হ্যাঁ, সঙ্গত কারণেই বাঙালি একটি সুমহান জাতি, ঐতিহ্যময় জাতি, কিন্তু উঁচু নাক লোকেদের কি সাম্যবাদ আনার জন্যে এবার নাক কেটে খ্যাঁদা করে ফেলতে হবে? সেরকম বিধান দেবেন বাম-লিবেরালরা? বাঙালির যদি কোনও দোষ থাকে, সেটা হল অত্যধিক ভদ্রতা, অত্যধিক নাক উঁচুর দোষ এই জাতির যে নেই, সেটা আমাদের ইতিহাস গঙ্গারিডিদের সময় থেকে স্টাডি করলেই জানা যায়। সারা পৃথিবীকে নিয়ে বাঙালি সেই আদিকাল থেকে কারবার করেছে, মূর্খের মত প্রতিবেশীকে বেমক্কা অপ্রয়োজনীয় অপমান বাঙালি করবেই বা কেন?
বাঙালি কি খারাপ কাজ করেছে উড়েদের সঙ্গে? কেন, তাদের উড়ে বলেছে! এটাই নাকি মস্তবড় খারাপ কাজ, আমাদের বিশ্বমানবেরা প্রায়ই বলেন। বিশ্বমানবদের ধর্মজ্ঞান নিঁখুত, তবে ইতিহাসজ্ঞান আর বাংলাজ্ঞান অষ্টরম্ভা। আরে, আমরা তো বাঁশবেড়িয়াকেওবাঁশবেড়ে বলি, সেটায় কি জায়গাটাকে অপমান করা হয়? উড়িয়া থেকে উড়ে তো বাংলা ভাষার স্বাভাবিক চলন, এতে মান অপমানের কি হল? হেদুয়াকে হেদো বললে কি ওই জায়গাটাকে অপমান করা হয়? আমি হরপ্রসাদের লেখায় উড়ে শব্দটা পাচ্ছি, এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই শব্দটা আসছে, অপমানের জন্য নয়। আমি জাতে বৈদ্য, সেটাকে অনেকেই বলেন বদ্দি। তাতে কি আমার অপমান হয়? এগুলো এত হাস্যকর যে এর উত্তর করাও বিড়ম্বনা।
এবার অন্যদিকটা দেখুন তো। আসামের বঙাল খেদা দেখুন। এক লাখ বাঙালি বাস্তুচ্যুত হয়েছিল আসামে শুধু ১৯৬০ সালে, নিহতদের সম্পূর্ণ তালিকা তো আজও কেউ তৈরি করেনি। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে উড়িষ্যায় বসতি করা বাঙালি উদবাস্তুদের উড়িষ্যা সরকারের পক্ষ থেকে কিভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তারও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আজ পর্যন্ত কেউ লেখেনি, কিন্তু মরিচঝাঁপি ছিন্ন দেশ ছিন্ন ইতিহাসে একটা সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ পাবেন সে ব্যাপারে, লেখক নিজে উড়িষ্যায় সিভিল সার্ভেন্ট ছিলেন। গোর্খারা দার্জিলিংকে বাঙালিশূন্য করেছে, শিলিগুড়িতে এসে থাবা বসিয়েছে। বাংলাদেশের দীর্ঘ হিন্দু-ক্লিনজিংনিয়ে বাম-লিবেরালরা যতই শিবনেত্র হয়ে বসে থাকুন (বা হিন্দুত্ববাদীরাযতই গোর্খা-উড়ে-অসমীয়া আগ্রাসন নিয়ে "কই, কিছু হয়নি তো" ভাব করে বসে থাকুন), বাঙালি এগুলো জানছে এবং বাঙালি নিধনের এই ইতিহাসকে আপনারা "সব বাঙালি বাবুদের দোষ" বলে বেশিদিন চালাতে পারবেন না।
উড়ে পাণ্ডারা যে চৈতন্যকে হত্যা করেছিল, সেটাও কি বাঙালির দোষ ছিল? জয়দেবকে নিয়ে যে পুকুরচুরির রাহাজানিটা হল, সেটার দায় কি স্বর্গদ্বারে গিয়ে ধাঁইকিরিকিরি শুনতে চাওয়া নিরীহ বাঙালি টুরিস্টকে দেওয়া হবে? চিল্কার যে উদবাস্তু বাঙালি মেয়েটি পুরীতে আসে ঝি-এর কাজ করতে আর অনবরত হোটেল হলিডে হোমের উড়ে মস্তানদের হাতে ধর্ষিত হয়, তার দায় কি সেই বেচারা বাঙালি স্কুলমাস্টারের ঘাড়ে চাপবে, যিনি উড়িয়া স্বতন্ত্র ভাষা নয়, বাংলারই উপভাষা বলে একটা বই লিখেছিলেন ইংরেজ আমলে (চট্টগ্রাম আর সিলেটের ভাষা বাংলার উপভাষা হলে উড়িয়া-অসমীয়ানয় কেন, সে প্রশ্নে যাচ্ছি না)? রসগোল্লা যেভাবে দিনে ডাকাতি করে উড়েদের সরকার দখল করছে, তার দায় কি এবার বেঙ্গল রেনেসাঁসের ঘাড়ে চাপবে? বাঙালিরা উড়েদের সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কি অসামান্য অবদান রেখেছে একসময়! সেটাও বোধকরি বাঙালিরই দোষ? সেই দোষের প্রাচিত্তির করতে এবার আসুন, চর্যাপদকেও দিয়ে দেওয়া হোক ওদের।
যারা বাঙালির দোষ ছাড়া আর কিছু দেখতে পান না, এবং গোর্খাদের, অসমীয়াদের, উড়িয়াদের, বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের ইসলামিস্টদের ভালো ছাড়া আর কিছু দেখতে পান না, তাদের উদ্দেশ্যে নজরুলের কাছ থেকে ধার করে বলি, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ।
শাক দিয়ে অনেকদিন হল মাছ ঢাকছেন এনারা।
এবার বাঙালি যুদ্ধঘোষণা করবে, এবং সবার আগে, বাঙালির মধ্যে বিশ্বমানবতার নামে ঘাপটি মেরে বসে থাকা এই সমস্ত আগ্রাসনের দালালদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। ভদ্রতা যথেষ্ট হয়েছে, অতিরিক্ত হয়েছে! ভদ্রতার বাড়াবাড়ি করেছি বলেই আজ আমাদের এই অবস্থা!
এই লেখাটা লিখেছেন "তমাল দাশগুপ্ত"
Subscribe to:
Posts (Atom)
