অকালে অপমৃত্যু ঘটল , .. একটি স্বপ্নের........।।
কিছুদিন আগেই জেহাদের আগুনে পোড়া সংবাদের শিরোনামে আসা সমুদ্রগড় আরও একবার আমাদের সকলকে নাড়িয়ে দিয়ে গেল। না ... এবার আর দাঙ্গা নয়, কিন্তু এওতো একধরনের জেহাদই বটে।
প্রেমের ছল করে হিন্দু মেয়ে ফাঁসিয়ে ... তাকে বিয়ের পর ধর্মান্তকরণ। তার গর্ভে মোমিন সন্তান উৎপাদন, হিন্দু উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত স্ত্রীর সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়ে দার-উল-ইসলাম গড়ার তাল খোঁজা ...
অবশ্যই এও একধরনের জেহাদ ... নাম – “লাভ জেহাদ”!!
সমুদ্রগড়ের শ্রী বলরাম ঘোষের বছর সতেরো-আঠারোর ছটফটে আদুরে মেয়ে সুপর্ণা। স্থানীয় একটি স্কুলেই উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী সে। দেখতে শুনতে, আচার ব্যাবহারেও সবারই প্রশংসা পেত মেয়েটি। সেই হেন শান্ত স্বভাবের মেয়েটিই এদিন গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিল।! গত ৩০শে জুনের দুপুরের ঘটনা। প্রতিবেশিনী তরতাজা একটি মেয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারলেন না কেউই। খোঁজ করতেই উঠে এল এক নিদারুন চোখ ভেজানো কাহিনী।
এলাকার সচ্ছল ও অবস্থাপন্ন বলরাম বাবুর বাড়িতে মিস্ত্রীর কাজ করতে আসা ‘বাবুসোনা’ নামের একটি ছেলের সঙ্গে পরিচয় হয় তারই অষ্টাদশী মেয়ে সুপর্ণার। ..... তার পর আর দশটি ‘লাভ জেহাদে’র ঘটনায় ঠিক যা যা হয়, .... এক্ষত্রেও তার ব্যতিক্রম হল না।
‘বাবুসোনা’ নামটি শুনে সে হিন্দু না মুসলিম তা বোঝার কি কোন উপায় আছে?
সদ্য যৌবন প্রাপ্ত মেয়েটির প্রথম ভুলের শুরু সম্ভবত এখান থেকেই। প্রথমে আলাপ আর তারপর প্রেমালাপ ... শেষে বিয়ের প্রলাপ এবং অবশেষে বিলাপ!!
এদিকে সাম্প্রতিক জেহাদি হামলার কবলে পড়া সমুদ্রগড়ের হিন্দুদের মনে রেখাপাত করেছে বিবিধ বিষয়। এই দাঙ্গা তাদের চোখ খুলে দিয়ে বাস্তবের মাটিতে হাঁটতে শিখিয়েছে কঠোর ভাবে। কবির কাব্যের পেলবতায় নয় ... মুসলমানকে তারা চিনতে শিখেছেন গদ্যের কঠিন আবহে।
ঘটনাচক্রে মেয়েটির কাছে একদিন বাবুসোনার আসল পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। একে তো সে মুসলমান, তার উপর তার বাড়িও সেই ডাঙ্গাপাড়ায়, .... যেখান থেকে দাঙ্গার দিন শপাঁচেক আল্লার বান্দা – ‘আল্লা- হু – আকবর, ... নারায়ে-ই-তাকবীর’ ধ্বনি দিতে দিতে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে, লুঠপাঠ করে ছারখার করে দিয়েছিল ... গোয়াল পাড়া সহ আস্ত দুটো গ্রাম। সরকারী হিসাবেই তার ক্ষতির পরিমান বর্তমান বাজারের অর্থমূল্যে সাকুল্যে কয়েক কোটি টাকা! নেহাত আদিবাসী মাহাতোদের তিরের খোঁচায় তাদের জেহাদের সখ ঘোচানো গিয়েছিল, নাহলে কি যে হত কে জানে?
সুতরাং মেয়েটি এ বিষয়ে নিশ্চিত হয় যে, এই বিয়েতে আর যাই হোক তার মা-বাবা অন্তত কোন মতেই মত দেবেন না।
কিন্তু তার আগেই যে সে তার চরম সর্বনাশ করে বসে আছে! মুহূর্তের আবেগে ... যৌবনের অসতর্ক নেশায় সে ধ্বংস করছে তার কৌমার্য। আর সেই ছদ্মবেশি শিয়াল সে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে পূর্ণমাত্রায়। গোপন মোবাইল ক্যামেরার গোপন কুঠুরিতে তা সযত্নে বোতলবন্দি করা হয়েছে মেয়েটির অজান্তেই এবং তা করা হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে ঠিক আজকের কথা ভেবেই।
স্বভাবতই মেয়েটি বিয়ের প্রস্তাব খারিজ করতেই ক্যামেরার ছবির প্রসঙ্গ তুলে আনে বাবুসোনা। শুরু হয় ব্ল্যাকমেলিং’র পালা। বিনে পয়সায় এমনি নারীশরীর ভোগের এমন স্বপ্ন বোধহয় রাজা মহারাজারাও দেখতে ভয় পান! ধীরে ধীরে বিষয়টি পাঁচকান হতে থাকে। একসময়ে সুপর্ণার মাও, মেয়ের বিষয়ে বুঝতে পারেন। খবর যায় বলরাম বাবুর কানেও।
একদিকে বাড়িতে মা-বাবার নিরন্তর বকাঝকা ... আর অন্যদিকে শয়তান বাবুসোনার যৌন শোষণের মাঝে পড়ে নাভিশ্বাস ওঠে মেয়েটির ...।।
এদিন সেই চূড়ান্ত ক্ষন উপস্থিত হয়। বাবুসোনা, সুপর্ণাকে হুমকি দেয় এই বলে যে, সে আর একদিনও দেরি করতে রাজি নয়। এবারে সুপর্ণাকে বাড়ী ছেড়ে তার সঙ্গে চলে আসতেই হবে, নতুবা সুপর্ণার নিরাভরণ ছবি ঘুরে বেড়াবে তারই বন্ধুদের হাতে হাতে ... মোবাইলের স্ক্রিনে, কম্পিউটারের মনিটরে।।
সুপর্ণা তাতেও রাজী হয় নি। সে তখন এই সম্পর্কের হাত থেকে রেহাই পেতে নিতান্তই মরীয়া...।। আর তার ঠিক পরের দিন, কোন এক বন্ধুর মুখে মেয়েটি জানতে পারে, ... বাবুসোনার অপকীর্তির কথা। ... সে নাকি সত্যিসত্যিই ইন্টারনেটে তাদের কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিয়েছে।।
লজ্জায়, ঘৃণায়, অপমানে ... ভীষণ মানসিক চাপে সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটি। বিধ্বস্ত অবস্থায় মাথা নিচু করে বাড়ী চলে আসে সে। মায়ের কাছে খুলে বলে সব কথা। বড় আশা ছিল, .... এই নিদারুন মুহূর্তে আর আর কাউকে পাশে না পেলেও অন্তত মা তাকে দূরে ঠেলে দিতে পারবেন না। তার স্নেহচ্ছায়ার নরম ওম তার যে এখন বড়ই প্রয়োজন। এ ছাড়া যে তার হৃদয়ের রক্তক্ষরন বন্ধের আর কোনও ঔষধই নেই! ...আর সম্ভবত তাতেই ঘটে যায় চরম বিপত্তি।
খবরে প্রকাশ, সেই চরম মুহূর্তে তার মাও তার পাশে দাঁড়ান নি। সুপর্ণা আর মুহূর্তও দেরি করে নি। বুঝতে পেরেছে, এ পাপের দায় অনেকের থাকলেও বোঝা যে কেবলি তার একার... শুধু একার....।। আর তাই মায়ের কটু গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গায়ে কেরোসিন ঢেলে নিজেকে জ্বালিয়ে দেয় সে। মুক্তি পেতে চায় ... এই অসভ্য সমাজের নোংরামি থেকে। শেষ হয় একটি দুঃস্বপ্নের ... আর স্বপ্নের ঘটে অপমৃত্যু...।।
আমাদের দেশে হিন্দু ঘরের বাচ্চারা ছোট থেকেই শেখে ... হিন্দুর রামই হলেন মুসলমানের রহিম। হিন্দুর কৃষ্ণই মুসলমানের করিম...। শেখে ...সব ধর্মই সমান। শেখে সবার ব্যথা সমান ... আনন্দ সমান ... দুঃখ সমান ... । গায়ের রক্তের রঙ হিন্দু – মুসলমান, ... আমাদের সবারই তো ... লাল। আমরা যেমন উপোষ করি, ওরা তেমনি রোজা রাখে। আমরা যেমন ঠাকুর পুজা করি, ওরা তেমনি আল্লার পূজা করে। আমরা পড়ি মন্ত্র, আর ওরা পড়ে নামাজ। আমরা বলি দেই, .. ওরা দেয় কুরবানি ....। আমাদের বিয়ে হয়, হয় বিচ্ছেদ। আর .. ওদের হয় নিকাহ, হয় তালাক .... , সবার মধ্যেই ব্রক্ষ্ম বা আল্লা আছেন .... ইতাদি ইত্যাদি ইত্যাদি .., এ তালিকার শেষ কোথায়? তাহলে...??
ছেলেদের ক্ষেত্রে তবুও এই ‘লাভ জেহাদে’র ব্যাপারে সমস্যা অনেকটাই কম। কিন্তু মেয়েদের বেলায়...??
ভুলটা কার ? ... বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলোর? না ধাড়ি ধাড়ি বাবা মায়ের?... স্কুলের পাঠ্য বইয়ের? শিক্ষকদের...? নাটক নভেল .. শিক্ষিত মানুষদের? ধর্ম গুরুদের? ফিল্ম আর্টিস্টদের...?রাজনীতিবিদদের ... দোষ কাদের?
ReplyDeleteআর ভুল তো মানুষই করে ...। গাছ, পাথর .. গরু ছাগলে তো আর ভুল করে না? ভুল সংশোধন করার সুযোগটাও তাই তাদের দেওয়া উচিৎ। সে কারনেই আজ বিপথে চলে যাওয়া মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুক্ত জীবনে ফিরিয়ে না আনার প্রচেষ্টা করাটা কি দোষের নয়?
আর দোষেরই যদি হবে, তবে তার শাস্তিই বা কি হবে? – দিনের শেষে এটিই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন