Thursday, 13 August 2015

পাক সার জমিন সাদ বাদ -- (পর্ব - ২৭)

এই শতাব্দীর এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথা সাহিত্যিক শ্রী 'হুমায়ূন আজাদ' ও বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ "পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ২৭) ------------------------------------------------------------- ছুটির সময় কোরবান আলি লাইলাতুল কদরকে বলে, ‘থাউক, মিস লাইয়াতুল কদর, তোমার বোরখা হিজাব পরন লাগবে না, তোমার এই রকমেই সোন্দর দেহায়’। লাইলাতুল কদর বলে, ‘আপনে সত্য বলতেছেন? আমারে সোন্দর দোহায়?’ কোরবান আলি বলে, ‘মিছা কমু ক্যা? তোমার দেহডা নুরজাহানের মতন, হেমা মালিনির মতন, তোমারে এইভাবে দেখতেই আমার সুক লাগব, আল্লার রহমতে আমি সোন্দর জিনিশ দ্যাকতে পছন্দ করি’। লাইলাতুল কদর বলে, ‘তাহলে দেইখ্যেন’। কোরবান আলি কয়েক দিন সুখের জিনিশ দেখে, দেখে বেইচন হয়ে উঠে। কয়েকদিন পরই মহামান্য শক্তিধর শয়তান সন্ধ্যার একটু পর এসে ঢোকে আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারির অফিস রুমে, সে মিস লাইলাতুল কদরকে একটুখানি জোর করে অফিসের সোফার উপর ফেলে বিছমিল্লা বলে ছহবত করে। বেশি জোর করতে হয়নি, লাইলাতুল কদর রাজিই ছিলো অনেকটা; বহুদিন পর ছহবতে দিল ভরে উঠে কোরবান আলি ব্যাপারির। ছহবতের পর মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘আমারে কালই বিয়া করতে হবে, দেরি করন যাইব না’। কোরবান আলি বলে, ‘বিয়া ত করুমই, তয় আমার বুড়ি বিবিটার মত লইতে হইব, নহলে করুম কেমনে?’ মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘আইজ আমি প্রেগন্যন্ট হইতে পারি, কালই বিয়া করতে হবে, বুড়ির মতের দরকার নেই’। কোরবান আলি বলে, ‘বুড়ি বিবিটার মত লইয়া লই’। মিস লাইলাতুল বলে, ‘তারে তালাক দাও’। কোরবান আলি বলে, ‘তালাক দিতে হইব?’ মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘হ..’। কোরবান আলি বলে, ‘আইচ্ছা, তারে তালাক দিমু; তয় আমার একটা গুন্ডা পোলা আছে, সেইডা যে লি করব’। মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘সেইটারে তুমি সামলাও’। কোরবান আলি বলে, ‘হ..,দেহি’। মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘নাইলে তোমার বিপদ হইব, আমারও বিপদ হইব, তোমার কোটি কোটি টাকা ধইর্যা টান দিমু’। কোরবান আলি বলে, ‘আইজ রাইতে বুদ্ধি বাইর করতে হইব’। কোরবান আলি আরেকবার ছহবত করতে করতে বলতে থাকে, ‘অ, আমার লাইলাতুল কদর, এমুন সুক আমি আর পাই নাই, তুমি আমার বিবি, বুড়িডারে তালাক দিমু, তোমার দ্যাহ ভইর্যা মদু’। মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘মদু পাইবা, কালই বিয়া করতে অইব মদু খাইতে চাইলে, নাহলে মদু বিষ হইয়া যাইব’। কোরবান আলি বলে, ‘তোমার মদু ছাড়া আমি বাচুম না, তুমি চিন্তা কইর্যা না, কাইল নাইলে পরশুই তোমারে শাদি করুম’। মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘তাইলে আরেকটু মদু খাও, দরজাটা আটকাইয়া লও, ভাল কইর্যা খাও, জানি আমিও মদু পাই’। কোরবান আলি বলে, ‘ক্যান লাইলাতুল কদর, তুমি মদু পাও নাই?’ মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘বুড়ির লগে হুইতে হুইতে তুমি মদু খাইতে আর খাওয়াইতে ভুইল্যা গ্যাছ, তোমারে শিখাই দিমুনে। তোমার শাবলডা ঢিলা অইয়্যা গ্যাছে, ওইডারে শক্ত করিতে অইব, নাইলে খুড়বা ক্যামনে?’ কোরবান আলি বলে, ‘হ.., ঠিকই কইছ, বিবি লাইলাতুল কদর, ওই বুড়িডা ভাল কইর্যা চিত অইতে পারে না, কোনোরকমে কাম সারতে অয়’। লাইলাতুল কদর বলে, ‘আর আমার কাম?’ কোরবান আলি বলে, ‘তুমি বিবি হুরগো ছাড়াই গ্যাছো। তোমার জান্নাতুল ফেরদাউছে আমি দিনরাইত ঢুইক্যা থাকুম’। আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি আমার সাহায্যের জন্য ছুটে আসে। আমি সাহায্য করি; সাচ্চা মুছলমান হয়ে আরেকজন সাচ্চা পরহেজগার পাক স্তান, সার জমিন সাদ বাদ, দিওয়ান মজনু মুছলমানকে সাহায্য করা আমার কর্তব্য। এতে তার কয়েক কোটি ব্যয় হয়, কিন্তু ওটা তার কাছে সামান্য টাকা; লাইলাতুল কদরের সাথে ছহবত করার জন্য এটা কিছু নয়। তারা ছহি ছালামতে আছে, লাইলাতুল কদরকে এ-পর্যন্ত সে তিনবার গর্ভবতী করেছে; তার জান্নাতুল ফেরদাউসকে সে সবসময় ভরে রাখে; সে প্রোডাকশানে বিশ্বাস করে, প্রোডাকশান ছাড়া ফরেন কারেন্সি আসে না। —

No comments:

Post a Comment