বেদে এই রকম আরও অসংখ্য মন্ত্র
রয়েছে যেখানে এক মাত্র ঈশ্বরকেই
ব্যাখ্যা করেছে এবং উপদেশ
দিয়েছে অন্য কোন দৈব সত্ত্বাকে
( অবতার, রাসূল, ফেরেশতা, দূত,
দেবদেবী) না ডেকে একেবারে
সরাসরি শুধু তাকেই ডাকো এবং
তারই বন্দনা ও উপাসনা করো।
প্রশ্নঃ কিভাবে আপনি ঈশ্বরের
অস্তিত্বকে প্রতিষ্টা করবেন?
উত্তরঃ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণের
দ্বারা।
প্রশ্নঃ কিন্তু ঈশ্বরেরে প্রত্যক্ষ
প্রমাণ দেয়াতো সম্ভব নয়। তাহলে
কিভাবে আপনি ঈশ্বরকে প্রতিষ্ঠা
করবেন?
উত্তরঃ প্রমাণ অর্থ হচ্ছে স্বচ্ছ জ্ঞান
যা ইন্দ্রিয় অঙ্গ গুলো হতে প্রাপ্ত
উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত
হয়। কিন্তু লক্ষ করুন ইন্দ্রিয় অঙ্গ
গুলো শুধ মাত্র গুন সুমহকে ধারণ করতে
পারে ঐ সকল গুনের কারন বা
হেতুকে নয়। উদারহন স্বরূপ, যখন
আপনি এই লেখাটি পড়ছেন তখন
কিন্তু আপনি আমার অস্তিত্বকে
ধারণ করতে পারছেন না, কিন্তু
কতগুলি সাংকেতিক চিহ্ন, বর্ন, বা
ছবি যা কম্পিউটার স্ক্রিনে আসছে
যা আপনি অর্থপূর্ন জ্ঞানে
রূপান্তরিত করছেন। তারপরে আপনি
এই সিদ্বান্তে উপনীত হয়েছেন যে
এই লেখাটির কোন লেখক আছে এবং
এই লেখকের অস্তিত্বের প্রমান
আপনার কাছে আছে বলে আপনি
দাবী করেন। ্সুতরাং এটা হচ্ছে
একটি পরোক্ষ প্রমাণ যদি প্রত্যক্ষ
ভাবেই প্রতীয়মান হয়। ঠিক একই
ভাবে এই সমস্ত সৃষ্টি যা আমরা এর
বৈশিষ্ট্য দ্বারা পর্যবেক্ষন করি
আমাদের ইন্দ্রিয় অঙ্গসমূহ মধ্য দিয়ে
তা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে
পরোক্ষভাবে প্রকাশ করে।
যখন প্রত্যক্ষভাবে একটি সত্ত্বার
সাথে একটি সংবেদনশীল তথ্যের
যোগসূত্র ঘটাতে পারবেন তখন
আপনি দাবী করতে পারবেন যে
আপনার প্রত্যক্ষ প্রমান আছে।
উদাহরণ স্বরূপ, যখন আপনি আম খান
তখন আপনি এর মিষ্ট গুনকে উপলব্ধি
করতে পারেন এবং যে আমটি
খেয়েছিলেন তার সাথে এই মিষ্ট
গুনটিকে সংশ্লিষ্ট করতে পারছেন।
এখানে গুরুত্বপুর্ন দিকটি হচ্ছে
আপনি "প্রত্যক্ষ প্রমান" কে শুধু মাত্র
সংশ্লিষ্ট করতে পারছে নির্ধারিত
কোন ইন্দ্রিয় অঙ্গ দিয়ে যা আপনি
ব্যবহার করেছিলেন ঐ গুনটিকে
পর্যবেক্ষন করার জন্য। অর্থা আমের
এই প্রত্যক্ষ প্রমান আপনি কর্ন
ইন্দ্রিয়ের মধ্য দিয়ে পাবেন না।
এটা কেবল জিহ্বা, নাসিকা, ও চক্ষু
দ্বারাই সম্ভব। ঠিক তেমনি
বাস্তবে আমরা "পরোক্ষ প্রমাণ"
গুলিও পাই যদিও আমরা এগুলোকে
"প্রত্যক্ষ প্রমান" বলে থাকি।
যেহেতু ঈশ্বর হচ্ছেন সবচেয়ে সুক্ষ
অতীন্দ্রি়য় সত্ত্বা সেহেতু ঈশ্বরের
"প্রত্যক্ষ প্রমান" আমাদের এই অসুক্ষ
অশিষ্ট সীমিত শক্তির ইন্দ্রিয় অঙ্গ
যেমন নাক, কান, চোখ, জিহ্বা, চর্ম
দ্বারা সম্ভব নয়। যেমন আমরা অতি
পারমানবিক কণাকে এমনকি অনেক
শক্তিশালী অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে
দেখতে পারি না, আমরা শ্রবণাতীত
শব্দ (Ultrasonic Sound ) শুনতে পারি
না, আমরা স্বরন্ত্র একটি অণুর স্পর্শ
অনুভব করতে পারি না। অর্থাৎ
ঈশ্বরকে এই দুর্বল ও অসুক্ষ ইন্দ্রিয়
অঙ্গ দ্বারা প্রমাণিত করা যাবে না
ঠিক যেমন আমকে কর্ন দ্বারা অথবা
অতি পারমানবিক কণাকে কোন
ইন্দ্রিয় অঙ্গ দিয়ে ইন্দ্রগ্রাহ্য করা
যাবে না।
একমাত্র ইন্দ্র যা ঈশ্বরকে
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করতে পারে তা হলে
মন। যখন মন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রিত এবং
সকল ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টিকারী
উপাদান (যেমন চিন্তা যা সর্বদা
জাগ্রত থাকে) থেকে মুক্ত এবং
ঈশ্বরের সকল গুন সম্পর্কে পর্যাপ্ত
জ্ঞান যা অধ্যায়ন ও চর্চার মাধ্যমে
অর্জিত হয়েছে, তাহলেই
বুদ্ধিবৃত্তির মধ্যে দিয়েই
প্রত্যক্ষভাবে ঈশ্বরকে প্রমান করা
যাবে যেমন করে ঐ আমকে এর স্বাদ
দ্বারা প্রমান করা হয়েছিল। এটাই
হচ্ছে জীবনের উদ্দেশ্য যা একজন
যোগী করার চেষ্টা করেন মন
নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্বতী প্রয়োগ
করেন। এই পদ্ধতি গুলোর মধ্যে
রয়েছে অহিংসা, সত্য সন্ধান, পর
দুঃখকাতরতা, সকলের জন্য পরম সুখ
সন্ধান, উন্নত নৈতিক চরিত্র,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই, মানুষের
মাঝে একতা ইত্যাদি, ইত্যাদি।
এভাবে আমাদের প্রাতাহিক
জীবনে আমরা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ
প্রমানের ইঙ্গিত পাই। যখন আমরা
চুরি, প্রতারণা, পাশবিকতার মত
কোন ভুল কাজ করি তখন আমরা
ভয়,ভীতি, লজ্জা, সন্দেহের
ইত্যাদি আকারের আমরা ক্ষীণ
ভেতরকার ক্ষীন কণ্ঠস্বর শুনতে পাই।
আর যখনই আমরা কোন মঙ্গল সূচক কাজ
করি যেমন কাউকে সাহায্য করা,
কোন শিশুকে আর্শীবাদ করা
ইত্যাদি, তখনও আমরা ভেতরকার
ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পাই ভয়শূন্য,
আত্মতৃপ্তি, প্রত্যয়ী ও পরম সুখবোধ
আকারে।
এই ভেতরের কণ্ঠস্বরটি আসে
ঈশ্বরের কাছ থেকে। আমরা প্রায়শই
এর শ্রাব্যতাকে কমিয়ে চুপ করে
রাখার চেষ্টা করি আমাদের
চারপাশে উচ্চ শব্দের DJ Music এর মত
নির্বোধ প্রবণতার মাধ্যমে। কিন্তু
তখন আমরা সবাই কোন এক সময়ে
ভেতরের কণ্ঠস্বরকে আরও উচ্চ শব্দে
শুনতে পাই যখন এই সব কিছু
তুলনামূলকভাবে নিঃশ্চুপ।
যখন আত্মা নিজেকে সকল মানসিক
বিশৃঙ্খলা থেকে নিজেকে শুদ্ধ
করে এবং ঐ DJ ক্লাব থেকে
বেরিয়ে আসে তখন আত্মা নিজেই
নিজেকে ও ঈশ্বর প্রত্যক্ষভাবে
প্রামানিক হয়। এভাবে আমরা
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় মাধ্যমে
আমরা ঈশ্বরকে প্রতিষ্টা করতে
পারি পরিষ্কার ভাবে যেভাবে
বিভিন্ন সত্ত্বাকে আমরা করতে
পারি
No comments:
Post a Comment