Friday, 14 August 2015

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কোথায় থাকেন?

প্রশ্নঃ ঈশ্বর কোথায় থাকেন? উত্তরঃ ১. ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান সেই জন্যে তিনি সকল স্থানেই বিদ্যমান। ঈশ্বর আকাশে কোন বিশেষ জায়গায় অথবা কোন বিশেষ সিংহাসনের মত কোন নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতেন তাহলে তিনি সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ, সর্ব শক্তিমান, সকল কিছুর পরিচালক, সৃষ্টিকারী ও ধ্বংসকারী হতে পারতেন না। তিনি যেখানে বর্তমান নেই সেখানে তিনি তার কোন ক্ষমতায় প্রয়োগ করতে পারবেন না। ২. যদি তুমি বল ঈশ্বর কোন এক জায়গা থেকে পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছেন যেমন করে সুর্য লক্ষ কোটি মাইল দূর থেকে আলো ছাড়ায় অথবা যেমন করে রিমোর্টের মাধ্যমে তুমি টেলিভশনকে নিয়ন্ত্রণ কর, এগুলো সব দুর্বল যুক্তি। কারন সূর্য পৃথিবীকে আলোকিত করা ক্ষমতা রাখে এবং রিমোর্ট কন্ট্রোল টেলিভশনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে রশ্মিবিচছুরণ তরঙ্গের (radiation waves) মধ্য দিয়ে যা অর্ন্তবর্তি কাল ও সীমার মধ্যে ( interim space) সীমাবদ্ধ। যেহেতু আমরা তাদের দেখতে পারি না তাই আমরা একে দূর নিয়ন্ত্রক (remote control) বলি। কিন্তু বাস্তবে দূর নিয়ন্ত্রক বলে কিছু নেই। মূল কথাটি হচ্ছে ঈশ্বর কোন কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছেন বলতে আমরা বুঝি তিনি সেখানে উপস্থিত থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন। ৩. অধিকন্ত যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান হয়ে থাকেন তাহলে কেন তিনি ভীত হয়ে নিজেকে একটি ছোট জায়গায় সীমাবদ্ধ করবেন। এতে করে ঈশ্বর সীমিত শক্তির হয়ে যাবেন। খ্রিষ্টানরা বলে যে ঈশ্বর আছেন ৪০ আসমানে আর মুসলিমরা বলে সাত আসমানে। এবং তাদের অনুসারীরা পরস্পরের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত থাকে তার নিজের মতটা সত্য ও যর্থাত বলে প্রমাণ করা জন্য। তার মানে কি GOD এবং আল্লাহ্ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা ভিন্ন ভিন্ন আকাশে বাস করবেন যাতে করে তারা তাদের অনুসারীদের মত ঝগড়ায় লিপ্ত না হন? প্রকৃত পক্ষে এটা একটা শিশু সুলভ বক্তব্য। যেখানে ঈশ্বর সর্ব শক্তিমান এবং সমস্ত বিশ্ব ব্রক্ষান্ডকে নিয়ন্ত্রণ করেন সেখানে কোন কারনই নেই যে তিনি ভয়ে বিশ্ব ব্রক্ষান্ডের কোন এক ক্ষুদ্র সীমিত জায়গায় আত্মোগোপন করবেন। যদি তিনি তা করে থাকেন তাহলে তাকে সর্বশক্তিমান বলা যাবে না। প্রশ্নঃ তার মানে কি ঈশ্বর অ্যালকোহল, মূত্র, বিষ্ঠার মত নোংরা জিনিসেও বিদ্যমান? উত্তরঃ সমস্ত সৃষ্টি ঈশ্বরের মাঝেই। কারন হলো ঈশ্বর এই সকল জিনিসের বাইরে কিন্তু এই সকল জিনিস ঈশ্বরের বাইরে নয়। সুতরাং পৃথিবীর সমস্ত কিছুতে ঈশ্বর পরিব্যাপ্ত। উপমা স্বরূপ বলতে পারি আমরা ঈশ্বরের মাঝে আছি যেমন করে এক টুকরো কাপড় এক বালতির জলে মধ্যে থাকে। কাপড়টির মধ্যে, বাইরে এবং চারিদিকে জল বিদ্যমান। পুরো কাপড়ের টুকরোটিতে জলে ভিজে গেছে কিন্তু জল কাপড়ে বাইরে। তাই কোন কিছু ভাল ও মন্দ নির্ভর করে সেটার প্রতি আমাদের দ্বায়িতটা কি রকম তার উপর। এক ধরনের কত গুলো অণু মিলে একটি মিষ্টি আম হিসেবে গড়ে ওঠে যা আমাদের জন্য খুবই কদরের বস্তু। কিন্তু যখন এই অণুগুলোকে আলাদা করা হয়, অন্যন্যা রাসায়নিক পর্দাথের সাথে বিক্রিয়া করা হয় এবং সেগুলোকে মলমূত্রে পরিণত করা হয় তখন তা আমাদের জন্য নোংরা হয়ে যায়।প্রকৃতপক্ষে এই সকল জিনিসের সার হচ্ছে শুধু মাত্র প্রকৃতির বিভিন্ন অণুর সমন্বয় মাত্র। যেহেতু পৃথিবীতে আমাদের একটা মিশন রয়েছে, তাই আমরা সমস্ত কিছুকে আমরা বিশ্লেষণ করি আমাদের মিশন অনুযায়ী এবং কিছু গ্রহন করি আর কিছু পরিত্যাগ করি। যা আমরা ত্যাগ করি তা আমদের জন্য নোংরা আর যা আমরা গ্রহন করি তা আমাদের জন্য ভাল। কিন্ত ঈশ্বরের কাছে এই ধরনের দ্বায়িত নেই এবং তজন্ন তার কাছে কোন কিছুই নোংরা নয়। অন্য ভাবে বলা যায়, তার কর্ম ও দ্বায়িত আমাদের চেয়ে ভিন্ন। তাই জগতের সমস্ত কিছু তার স্পর্শের বাইরে নয়। আপনি যদি অন্য ভাবে দেখতে চান তাহলে বলব যে ঈশ্বর কোন নাম মাত্র সমাজ কর্মী নন যিনি সশরীরে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষদের দুর্দশা পর্যবেক্ষন করার জন্য দুর্গত স্থান পরিদর্শন না করে দূর থেকেই শাতীতাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই পরিকল্পনা করতে পছন্দ করেন। বরং ঈশ্বর সকল স্থানের নোংরাগুলির মাঝে বর্তমান থাকেন আমাদের উপকারের জন্য। যেহেতু ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ সেহেতু তিনি সর্বত্র ব্যাপী এবং সমস্ত তার মাঝে বর্তমান হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঐ সকল বিষয় হতে বাইরে ও ভিন্নতর। প্রশ্নঃ ঈশ্বর কি দয়ালু এবং ন্যায় বিচারক? উত্তরঃ হ্যাঁ তিনি দয়ালু এবং ন্যায়বিচারক। প্রশ্নঃ কিন্তু এগুলোতো বিপরীতার্থক লক্ষণ কারন দয়ালুতা মানেইতো অন্যায়কারীদের ক্ষমতা করে দেয়া। এবং ন্যায়বিচার অর্থ হচ্ছে দোষীদের শাস্তি দেয়া। তাহলে কিভাবে এই দুটি বিষয়কে এক সাথে অবস্থান করবে? উত্তরঃ দয়ালুতা এবং ন্যায়বিচার মূলত এক ও অভিন্ন। কারন দুটির উদ্দেশ্যই এক। দয়ালুতা মানে ওন্যায়কারীকে ক্ষমা করে দেয়া নয়। কারন যদি তাই হয় তাহলে অনেক নিষ্পাপ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এই ভাবে যদি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে অন্যায়কারীদের তাদের প্রাপ্য সাজা না দেয় তাহলে কেউ নিরীহ ও নিষ্পাপ মানুষের প্রতি দয়ালু হতে পারবে না। শুধু তাই নয় এটা অন্যায়কারীদের প্রতি অবিচার হবে কারন তাকে ভবিষ্যতে আরও অন্যায় করা থেকে বিরত করা হচ্ছে

No comments:

Post a Comment