Friday, 7 August 2015

পাক সার জমিন সাদ বাদ -- (পর্ব - ২২)

এই শতাব্দীর এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথা সাহিত্যিক শ্রী 'হুমায়ূন আজাদ' ও বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ "পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ২২) ---------------------------------------------------------- কাশিনাথপুরের শ্রীধর দাস এসেছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে। একসময় এই টাকা পেলে আমি পাগল হয়ে যেতাম, মজনু হয়ে যেতাম, এখন এগুলোকে মনে ভিক্ষুকের ভাঙা থালের উপর পড়ে থাকা কয়েকটি কানা পয়সা। তার উপর থুতু ছিটতে ইচ্ছে করে, ছিটোই। শ্রীধর বলছিলো, ‘এই ট্যাকাডা নেন হুজুর, আমার মাইয়াডারে নষ্ট কইরেন না, আমার মাইয়াডা ফুলের মতন’। এটা বেশ অদ্ভুত, মালাউনরা সবাই তাদের মেয়েদের ভুলের সঙ্গে তুলনা করে। ব্যাটারা ধর্ম ও বিজ্ঞান কিছুই জানে না; ফুল যে গাছের যোনি ও শিশ্ন, এটা ওরা জানে না; আমি জানি, তাই ফুল আমি পছন্দ করি। আমি ওকে এসব বোঝাতে যাই নি, কোনো দরকার নেই, আমি যা চাই তা পেলেই আমি তৃপ্ত- কয়েকটি সুন্দর সুগন্ধি রঙিন তীব্র পুষ্প। আমি বলেছিলাম, ‘দ্যাখ, ফুল তো আমি পছন্দ করি, ফুলের সুগন্ধ নেওয়ার কথা আমাদের ধর্মে আছে, তোমাদের মালাউন কবিই তা অনুবাদ করেছে- যদি জোটে দুইটি পয়সা ফুল কিনো হে অনুরাগী’। শ্রীধর বলছিল, ‘আমার মাইয়াডারে আপনে নষ্ট কইররেন না, হুজুর, ট্যাকাডা নেন , আমারে বাঁচান। আমি বলেছি, ‘একরাত থাকলে সে নষ্ট হবে না, ফুল আমি নষ্ট করি না, ফুলের সুগন্ধ নিই, তোম্র মেয়েটা নষ্ট হবে না, পরে হয়তো বারবার সে আমার কাছে সতে চাইবে, নাহলে সবাই জানবে, তোমার মেয়েটা নষ্ট হয়ে যাবে’। শ্রীধর বলেছিল, ‘তাইলে আরো পঞ্চাশ হাজার দেই হুজুর, মাইয়াডারে ক্ষমা কইরা দ্যান, ওরে ইন্ডিয়া পাডাই দিমু’। আমি বলেছি, ‘তিন লাখ, আর এক রাত লাগবে শ্রীধর, তোমার মেয়েকে আমি ধর্ম শিখাবো, বিছমিল্লা বলে ছহবত করবো, কোনো ক্ষতি হবে না, চাইলে তোমার মেয়েটাকে মুছলমানও বানিয়ে দিতে পারি; কালই লাগবে, নইলে মেয়েটাকে পাবে বিলে, তখন আমি একা করবো না। আর তুমি কি মনে করো ইন্ডিয়ায় আমার থেকেও ভালো পুষ্পনুরাগী আছে?’ শ্রীধর বলছিলো, ‘হুজুর আপনার পায়ে পড়ি’। কিন্তু শ্রীধর ও তার মেয়ে দুর্গা আত্মহত্যা করে আমার বেশ বড় ক্ষতি করে, আর থানার ওসি আর দারোগাগুলোর উপকার করে যায়। ওই বাঞ্চতের পুত্রের আর তার পাছাভারি চিকন কোমরের মেয়েটির বিষ খাওয়ার কি দরকার ছিলো; বিষ কি আমার খৎনা করা হুজুরের থেকে উত্তম? ম্লাউনদের বিশ্বাস করা অসম্ভব আর করব না। দুর্গার উপর ওসিটার চোখ পড়েছিল, কয়েকবার শ্রীধরের বাড়ীতেও গেছে; কিন্তু তার গোটা পাঁচেক চাকরানি আছে, আর সপ্তাহে সপ্তাহে নরুন চাকরানি আসে, সে কচি মেয়েদের থেকে কচি টাকার উপরেই চড়তে বেশী পছন্দ করে; তার কোনো ক্ষতি হয়নি, লাখ দুয়েক সে আদায় করে নিয়েছে, ক্ষতি হয়েছে আমার। তাই ওসিকে একটু দেখিয়েে দিতে হয়েছে, জামাঈ জিহাদে ইছলামের হুজুরকে ছেড়ে সে কিভাবে দু-লাখ হজম করে? এখন সে আমার পিছে পিছে ঘুরছে, চাকরিটিও নেই; পঞ্চাশ লাখ ছাড়া ওর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ক্রমশ... .... অনুলিখনে ... বিল্টু মন্ডল...।।

No comments:

Post a Comment