১৬ আগস্ট আসছে দিন ...
মহা মিছিলে.. যোগ দিন।।
(শ্রী প্রসূন মৈত্রের কলমে...)
হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা?? ধুস, ওসব গালগল্প, আর যেটুকুই বা হয়, সেটা গ্রামের লোকদের পারিবারিক ঝামেলা। কই, কলকাতায় তো ওসব কিছু দেখিনা! আর যদিওবা খুচখাচ কিছু হয়েই থাকে, রাজ্যে কি আইনের শাসন নেই? পুলিশ কি হাতে চুড়ি পরে আছে? কেউ কোথাও গোলমাল করলে পেঁদিয়ে সিধে করে দেবে। হ্যাঁ, মানছি যে যতই হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই বলিনা কেন তবু পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার বা মেটিয়াব্রুজ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতে পারবো না তাই বলে কি সব মুসলিম খারাপ?
কলকাতার সেকুলার হিন্দুদের এই বিশ্বাস গত ৩রা আগস্ট রাতে খানখান হয়ে গেল যখন বিনাপ্ররোচনায় হাজার হাজার মুসলিম শিয়ালদহ, মৌলালী, পার্ক সার্কাস অঞ্চল ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে শহরের নাভিশ্বাস তুলে দিল। পুলিশের সামনেই পুলিশের কিয়স্ক ভাঙলো, বাস আর ট্রাম ভাঙলো কিন্তু পুলিশের ক্ষমতা হলনা যে তাদের বাধা দেয় বা গ্রেপ্তার করে। কমিশনার সুরজিৎ পুরকায়স্থর পুলিশ শুয়োর ধরতে পারে, IPL-টিকিট বেচতে পারে বা শাহরুকের কোলে উঠে নাচতে পারে কিন্তু জিহাদি সন্ত্রাসকে রোখার ক্ষমতা যে তাদের নেই সেটা ৩রা আগস্ট রাতে কলকাতার হিন্দুদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল।
১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্টও এমনই ঘটনা ঘটেছিল। গান্ধীকে বিশ্বাস করে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের মৌতাতে বুঁদ হয়ে থাকা কলকাতার হিন্দুদের উপর নেমে এসেছিল জেহাদের করাল থাবা। এবারের মত সেবারও পুলিশ মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোন ভূমিকা নেয়নি কারন সেবারও উপরওয়ালার নির্দেশ ছিল না। মুসলিমদের পরিকল্পিত ও সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমনের সামনে সেদিনই কলকাতা হিন্দুশূণ্য হয়ে যেত যদিনা গোপাল পাঁঠা (মুখোপাধ্যায়) ও তার দলের কিছু অকুতোভয় হিন্দু যুবক মুসলিম আক্রমনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তাদের পালটা মার না দিত। যে যেই ভাষা বোঝে তার সাথে সেই ভাষাতেই কথা বলা উচিত- এই ছিল গোপাল পাঁঠার দলের বিশ্বাস। তাই আপৎকালে নিজেদের অস্তিত্বরক্ষার জন্যে তারা তৎকালীন কোন রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে থাকেনি, নিজেদের লড়াই, নিজেরাই করেছে আর সাফল্যও পেয়েছে।
প্রতিবছরের মত এবছরও তপন ঘোষের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতি আগামী ১৬ই আগস্ট দিনটিকে গোপাল মুখার্জী স্মরণ দিবস হিসাবে পালন করবে। সেই অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে ঐ দিন রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড় অবধি এক মহামিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। আপনি নিজের ও নিজের ভবিষ্যত প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে প্রয়োজনে গোপাল মুখার্জীর পদাঙ্ক অনুসরণ করার শপথ নিতে সেই মিছিলে অংশগ্রহন করবেন না নিজের ভবিষ্যতের ভার রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের উপর রেখেই নিশ্চিত থাকবেন সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।
No comments:
Post a Comment