হিন্দু পুরাণ
হিন্দু পুরাণ হল হিন্দুধর্ম সংক্রান্ত
অজস্র ঐতিহ্যবাহী কথামালার একটি
বৃহৎ রূপ, যা প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য
(যেমন রামায়ণ ও মহাভারতের ন্যায়
মহাকাব্য, অষ্টাদশ পুরাণ ও বেদ),
প্রাচীন তামিল সাহিত্য (যেমন সংগম
সাহিত্য ও পেরীয় পেরুনম্), ভাগবত
পুরাণের (যাকে পঞ্চম বেদ আখ্যায়
ভূষিত করা হয়) ন্যায় অন্যান্য হিন্দু
রচনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক
সাহিত্যে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত
রয়েছে। এছাড়াও এই হিন্দু পুরাণ ভারত
ও নেপালের সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ।
সুসংবদ্ধ এই কাহিনিগুলি এক সুবিশাল
ঐতিহ্যের বাহক ও রক্ষক, যা বিভিন্ন
কালে, বিভিন্ন উপায়ে, বিভিন্ন
মানুষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বারা
বিভিন্ন অঞ্চলে বিকাশপ্রাপ্ত হয়।
এটি যে কেবল হিন্দু সাহিত্য ও
ঘটনাবলীর দ্বারা প্রভাবিত তা নয়,
বরং এই কাহিনিগুলি বিশদ ব্যাখ্যার
মাধ্যমে সমাজ-সংসারের নানা
চিত্রকে প্রতীকী মাধ্যমে গভীর ও
সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। [১]
উৎস
বেদ
ধ্রুপদী হিন্দুধর্ম থেকে উদ্ভুত
পৌরাণিক কাহিনির মূল হল ভারতের
প্রাচীন বৈদিক সভ্যতা ও তার
সময়কাল। বেদ, বিশেষত ঋগ্বেদের
অজস্র স্তোত্রে পরোক্ষ ভাবে নানা
বিচিত্র কাহিনির উল্লিখিত হয়েছে
(দেখুন ঋগ্বৈদিক দেবদেবী, ঋগ্বৈদিক
নদনদী )।
বৈদিক চরিত্র, দর্শন এবং কাহিনিগুলি
যে পৌরাণিক কথামালার সৃষ্টি
করেছে, তা হিন্দু রীতিনীতি ও
বিশ্বাসের সাথে ওতপ্রোত ভাবে
জড়িত। বেদ চারটি – ঋগ্বেদ , সামবেদ ,
যজুর্বেদ ও অথর্ববেদ।
ইতিহাস ও পুরাণ
রাম হনুমানের কাঁধে বসে
রাবণের সাথে যুদ্ধ করছেন,
রামায়ণের দৃশ্য।
পরবর্তী বৈদিক যুগে সভ্যতার নানা
উপাদানই সংস্কৃত মহাকাব্যগুলিতে
সংরক্ষিত করা হয়েছে। স্বাভাবিক
কথামালাগুলির পাশাপাশি একাধিক
খণ্ডে বিভক্ত মহাকাব্যগুলিও ভারতীয়
সমাজ, সভ্যতা, দর্শন, সংস্কৃতি,
জীবনযাত্রা ইত্যাদি সম্বন্ধীয় নানা
তথ্যের ধারক হয়ে রয়েছে। রামায়ণ ও
মহাভারত – এই দুটি হিন্দু মহাকাব্যই
যথাক্রমে ভগবান্ বিষ্ণুর দুই অবতার –
রাম ও কৃষ্ণের কাহিনি পরিবেশন করে।
এই দুটি গ্রন্থই ‘ইতিহাস’ নামে
পরিচিত। রামায়ণ ও মহাভারত উভয়কেই
ধর্মের পথপ্রদর্শক এবং দর্শনতত্ত্ব ও
নীতিকথার আধার হিসেবে গণ্য করা
হয়। এই গ্রন্থ দুটি একাধিক অধ্যায়ে
(কাণ্ড ও পর্ব) বিভক্ত এবং এতে অসংখ্য
নীতিমূলক সংক্ষিপ্ত কাহিনি
সংকলিত হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলি
কাহিনির অন্তে হিন্দু নীতি ও
আচরণবিধির সঠিক শিক্ষালাভ করে।
এগুলির মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হল
মহাভারতের ভগবদ্গীতা , যেখানে
শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সখা মহারথি অর্জুনকে
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ঠিক প্রাক্কালে
ধর্মাচরণ ও জীবনকর্তব্যের বিশদ
ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এই গ্রন্থটি
হিন্দু দর্শনকে গভীরভাবে প্রভাবিত
করেছে ও হিন্দুধর্মের প্রধান
উপদেশমূলক গ্রন্থ হিসেবে খ্যাত
হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মহাভারত হল
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কাব্যগ্রন্থ, এতে প্রায়
এক লক্ষ শ্লোক রয়েছে।
No comments:
Post a Comment