Monday, 17 August 2015

অপারেশন জ্যাকপট

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে অপারেশন জ্যাকপট চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন পরিচালিত হয় ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে। হরিনা ক্যাম্প থেকে আগত ৬০ জনের দলকে ২০ জন করে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। ১ ও ২ নং দল তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিন্ন ভিন্ন পথ ধরে চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট বেইজ ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে এবং ১৪ আগস্ট তারা প্রথম গানের সংকেত পায়। এই সংকেত পাবার পর তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কর্ণফুলী নদীর পূর্বতীরে চরলক্ষ্যায় তাদের বেইজ ক্যাম্পে পৌছায়। ৩য় দলটির তখনো কোন খবর পাওয়া যায় নি। এরপর ১৫ আগস্ট তারা ট্রানজিস্টারে চূড়ান্ত সংকেত পায়, এবং অপারেশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এ অপারেশনে ৩১ জন কমান্ডো যোদ্ধা অংশ নেয়। ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে রাত ১টায় নৌ-কমান্ডোরা তাদের অপারেশনের জন্য যাত্রা করে। রাত ১টা ১৫ তে তারা পানিতে নেমে জাহাজের উদ্দেশ্যে সাঁতরানো শুরু করে, এবং বেশ দ্রুততার সাথে নিজ নিজ বাছাইকৃত টার্গেট জাহাজসমূহের গায়ে মাইন লাগিয়ে সাঁতার কেটে সরে পরে। রাত ১টা ৪০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। তারপর একে একে সব গুলো মাইন বিস্ফোরিত হয়। এ সফল অপারেশনে তিনটি বড় অস্ত্রবাহী জাহাজ এবং বড় জাহাজ গুলো হলোঃ এম ভি হরমুজ। এটি ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ৯৯১০ টন অস্ত্রসম্ভারবাহ ী এই জাহাজটি ১৩ নং জেটিতে নোঙর করা ছিল। এম ভি আল-আব্বাস। এটি ১০৪১৮ টন সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে ৯ আগস্ট ১২ নং জেটিতে অবস্থান নেয়। ওরিয়েন্ট বার্জ নং ৬ । এটি ৬২৭৬ টন অস্ত্র, গোলাবারুদ নিয়ে ফিস হারবার জেটির সামনে অবস্থান করছিল। অপারেশন জ্যাকপট আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে। এ অপারেশনের মাধ্যমে আমাদের নৌ- বাহিনী আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোচিত হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করেছে বীর বাঙালি। সেসময় পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করার জন্য অনেক গেরিলা আক্রমণ করা হয়। অপারেশন জ্যাকপট সেরকম একটি সফল গেরিলা অপারেশন। এটি ছিল ১০ নম্বর সেক্টর পরিচালিত আত্মঘাতী অপারেশন। ১০ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ- চলাচল, বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা। ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে, অর্থাৎ ১৬ আগস্ট মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একইসঙ্গে এ অপারেশন পরিচালিত হয়। এ অপারেশনের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের অনেক অস্ত্রবাহী জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। গেরিলা আক্রমণের জন্য যোদ্ধাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ ত প্রথম ব্যাচকে চার ভাগে ভাগ করে চারটি দলের চারজন কমান্ডার ঠিক করে দেওয়া হয়। কখন আক্রমণ করতে হবে তা জানার জন্য রেডিও আকাশবাণীতে গানের মাধ্যমে সংকেত দেওয়া হতো। সাদমান ত্বাহা

No comments:

Post a Comment