Tuesday, 11 August 2015

মুসলিম লিগ কেন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল?এর লক্ষ্য কী ছিল?

■■মুসলিম লিগ কেন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ?এর লক্ষ্য কী ছিল ? ♤পটভূমি•••••••••••••••••••••••••• মুসলিম শাসন থেকে ভারতবাসীরা মুক্ত না হতে হতেই ব্রিটিশ শাসনের অধীন হয় ভারত।ঊনিশ শতকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সৈজন্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ভারতীয়দের বোধগম্য হয়।হিন্দুরা পাশ্চাত্য শিক্ষায় উদ্যোগী হলেও মুসলিম সমাজ ইসলামিক রীতিনীতি কে বেশী গুরুত্ব দিত।ফলস্বরুপ জাতিগত এবং সামাজিকগত দিক থেকে বিকাশ ঘটে হিন্দুদের।আর এতেই জন্ম নেয় মুসলিম সাম্প্রদায়ীকতার।পাশ্চাত্য শিক্ষার জাগরণের জন্য মুসলিমরা হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ ভাব পোষণ করে বলে মুসলিমরা আলাদা জাতি তাই তাদের সবকিছু আলাদা থাকা দরকার। ♧♧প্রতিষ্ঠা•••••••••••••••••••••1857 সালের মহাবিদ্রোহ প্রমান করেছিল মুসলিমরা ব্রিটিশ অনুগামী।পৈশাচিকব্রিটিশ সৈনদের বিরুদ্ধে লড়াই এর সামর্থ্য তাদের ছিল না। স্যার সৈয়দ আহমদ এবং তাঁর মতো অন্যান্য মুসলমান নেতারাও বিশ্বাস করতেন যে, একটি পশ্চাৎপদ জাতি হিসেবে মুসলমানগণ ব্রিটিশদের প্রতি বিরোধিতার পরিবর্তে আনুগত্যের মাধ্যমেই অধিকতর সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে। মুসলিম নেতৃবৃন্দ মুসলমান সম্প্রদায়ের শিক্ষাসংক্রান্তসমস্যাসমূহ আলোচনা এবং সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রচার করার জন্য বছরে একবার অনানুষ্ঠানিকভাবে সভায় মিলিত হতো। কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গভঙ্গের (১৯০৫) বিরুদ্ধে পরিচালিত বিক্ষোভ এবং স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এমনি এক সভা (সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন) ১৯০৬ সালে ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গভঙ্গের গোঁড়াসমর্থক ঢাকার নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম লিগ। ♢♧লক্ষ্য•••••••••••••••••••••••••• 1} মুসলিমদের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন থেকে দূরে রাখা। 2}বাংলা ভাগের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠা করানো। 3}মুসলিমদের হিন্দু বিদ্বেষ সৃষ্টি করে জাতীয় কংগ্রেস থেকে দূরে রেখে মুসলিম জাতিকে একত্রিত করা। 4} মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। 5} ব্রিটিশ সরকারের প্রতি মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা। ■■রাজনৈতিক পরিনাম••••••••••••••••• ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হওয়ার পর প্রায় এক বছর মুসলিম লীগ নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু কয়েক বৎসরের মধ্যে মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় থেকে আসা এবং র্যাডিক্যাল চিন্তাধারার তরুণ প্রজন্মের মুসলমানগণ মুসলিম লীগের রাজনীতিতে এগিয়ে আসেন। তারা ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসকদের বিরোধিতা তো করেনই, অধিকন্তু ভারতে মুসলিমদের নিয়ন্ত্রিত সরকার প্রতিষ্ঠারও দাবি করেন। ১৯১০-এর দশকে মুসলিম লীগ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আদলে একটি নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ গ্রহণ করে।1924 খ্রিষ্টাব্দে মহম্মদ আলি জিন্না র সভাপতিত্বে লাহোরে মুসলিম লিগের অধিবেশন বসে।এখানে তিনি গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের তীব্র বিরোধীতা করেন এবং মুসলিম দের জন্য পৃথক নির্বাচনমন্ডলীরব্যবস্থাকে সমর্থন করেন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করে। মুসলিম লীগ আইন সভায় কংগ্রেসের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। ■■মুসলিম লিগের আলাদা রাষ্ট্রের দাবী••••••••••••••••• 1930 খ্রীষ্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে মুসলিম লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বিখ্যাত কবি মহম্মদ ইকবাল ভারতের উত্তর- পশ্চিম অঞ্চলে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবি উত্থাপন করেন।তিনি বলেন যে হিন্দু মুসলমান দুটি পৃথক জাতি,ভিন্ন সম্প্রদায় ও ভিন্ন সংস্কৃতি। ভারতের জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান "সারে জাহা সে আচ্ছা ইয়ে ইন্দুস্তান হামারা" গানটি রচয়িতা তিনিই।ইকবাল ব্রিটিশ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড টমসনকে বলেছিলেন-পাকিস্তান পরিকল্পনা ব্রিটিশ সরকার এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় সবার পক্ষেই ক্ষতিকারক হবে। ■■পাকিস্তান নামের জন্ম•••••••••••১৯৩৩ সালের ২৮ জানুয়ারি রহমৎ আলি “Now or Never; Are We to Live or Perish Forever?” পুস্তিকায় প্রকাশ করেন পাকিস্তান শব্দটি। পাকস্তান শব্দটি ভারতের উত্তরের পাঁচটি রাজ্যকে পাঞ্জাব (P), আফগান প্রদেশ উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (A), কাশ্মীর (K), সিন্ধু (S) ও বেলুচিস্তান (Tan) কে নির্দেশ করে। তিনি বলেন---"হিন্দুদের থেকে মৌলিকভাবে পৃথক আমাদের ধর্ম,সংস্কৃতি,ইতিহাস,ঐতিহ্য,সাহিত্য,অর্থনৈতিকব্যবস্থা,উওরাধিকার আইন ও বিবাহ পদ্ধতি।এই পার্থক্য কেবলমাএ বড় বড় ক্ষেত্রেই নয়,তা ছোটখাটো ক্ষেত্রেও দেখা যায়।আমাদের হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে পান ভোজন বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ।আমাদের জাতীয় রীতি-নীতি,পঞ্জিকা---------এমনকী খাদ্যাখাদ্য ও বেশভূষাতেও পার্থক্য দেখা যায়"।সৃষ্টি হয় পাকিস্তান ভিত্তি। ■■লাহোর প্রস্তাব•••••••••••••••••••••1940 খ্রীষ্টাব্দে জিন্না ও মুসলিম লিগ দ্বি জাতি তত্বের ভিত্তিতে ভারতকে ভেঙে টুকরো করার পরিকল্পনা করা হয় মুসলিমদের আলাদা রাষ্ট্রের দাবী করে।1940 খ্রীষ্টাব্দে 20 শে মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠীত মুসলিম লিগ অধিবেশনে বাংলার প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত করেন।তিনি বলেন ভারতে হিন্দু- মুসলিম দুটি জাতি আছে-----দুটি সম্প্রদায় নয়।ভারতকে ভাগ করার জোরালো দাবী করেন জিন্না।কংগ্রেসের ক্ষমতাকে তিনি "হিন্দু রাজ" বলেন। ■■লীগের প্রতক্ষ্য সংগ্রাম দিবস•••••••••••••••1946 এ মন্ত্রীমিশনের পরিকল্পনায় জিন্নার পাকিস্তান গঠনের স্বপ্ন পূরণ হবার লক্ষন দেখা যায়।কংগ্রেস এই সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মন্ত্রীসভা গঠন করলে মুসলিম লিগ 16ই আগস্ট প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেয়।এই সংগ্রামের লক্ষই ছিল হিন্দু নিধন ও উচ্ছেদ।বাংলায় হোসেন সুরাবর্দী পরিচালিত মুসলিম লীগ সরকার ও গুন্ডাদের সহযোগীতায় 16ই আগস্ট থেকে তিনদিন ব্যপক কলকাতার ব্যপক দাঙ্গা,লুণ্ঠন,ধর্ষণ ও বিভৎস হত্যাকাণ্ড চলে।পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিস্ক্রীয় করে রাখা হয়।ব্রিটিশ ঐতিহাসিক লিওনার্দো মসলী লিখেছেন-----16,17,18 আগস্ট এই তিনদিনে কলকাতায় 6000 লোক ছোরা,বন্দুক,লাঠী বা অগ্নীদাহে নিহত এবং 20000 নারী ধর্ষীত ও বিকলাঙ্গ হয়।

1 comment:

  1. ইংরেজ সম্পাদিত স্টেটসম্যান পত্রিকা এই ঘটনার জন্য মুসলিম লিগকে দায়ী করে।
    ■■ভারত ভাগ•••••••••••••••সৃষ্টি লগ্ন থেকেই ভারতের পবিএ ভূমি ছিল হিন্দু দের।মুসলিমরা বহিরাগত হিসেবে এসে আমাদের সংস্কৃতি-স্বাধীনতাকে হরণ করে। পরবর্তীকালে তাদের সরিয়ে ইংরেজরা। মুসলিমরা ভারতকে 500 বছর প্রায় শাসন করেছিল তাই হঠাৎ করে হিন্দু দেশাত্মবোধক জাতীয়তাবাদী জাগরণ কে তারা মেনে নেয়নি। শান্তিবাদী হিন্দু নেতারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কোনরকম হিংসা বিদ্বেষ পোষণ করেনি।করলে পরিস্থিতি অন্যরকম হত হয়ত পাকিস্তান সৃষ্টি হত না।যাই হোক ক্ষমতার লোভে শেষ অব্দি হিন্দু ও মুসলিমদের ভাগ করা হয়।14-15 ই আগস্ট মধ্যরাতে জন্ম হয় হিন্দু অঞ্চল নিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ ভারত ও ইসলামিক রাষ্ট্র পাকিস্তান।
    পাকিস্তান লাভ করে তাদের আকাঙ্খীত ভারত ভূমি অপরদিকে ভারত হারায় তাদের নিজস্ব ভূমি।ভারত সৃষ্টি হয় স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টি ধর্মের জন্য লড়াই করে। https://m.facebook.com/photo.php?_e_pi_=7%2CPAGE_ID10%2C5930127898

    ReplyDelete