আসলেই মুহম্মদ কি কল্কি পুরান এর কল্কি অবতার?এ নিয়ে ইসলামিক অপপ্রচার আর প্রকৃত সত্যের তফাত টা নিজেরাই দেখে নেই-
পর্যবেক্ষন ১
কল্কি পুরান এ বলা আছে কল্কি অবতার এর পিতা ও মাতা উভয়েই তাঁর জন্মের সময় জীবিত থাকবেন।বলা হচ্ছে দদাস্তু পুত্রং পিতরো হৃষ্ট (কল্কি পুরান ১.২.১৫) অর্থাৎ কল্কির জন্মতে তাঁর পিতা অত্যন্ত হৃষ্ট হলেন। এছাড়া কল্কি পুরাণ ১৩.১৭(২.৬.১৭) অনুযায়ী কল্কি অবতারের পিতা-মাতা উভয়েই তাঁর বিয়ের পরেও জীবিত ছিলেন। অথচ আমরা জানি যে নবী মুহম্মদ এর পিতা তার জন্মের আগেই মৃত্যুবরন করেন এবং মাতা তার বাল্যকালেই মারা যান।
পর্যবেক্ষন ২ [সাদৃশ্যকারীদেরদাবী]
কল্কি পুরান এ বলা আছে যে কল্কি জন্ম নিবেন একটি মাসের ১২ তারিখে।অপরদিকে মোহাম্মদ (সঃ) ও ১২ ই রবিউল আউয়াল মাসের ১২তারিখে জন্ম গ্রহন করেছিলেন! এই দাবীটা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।কল্কিপুরানেই দেখে নেই তার জন্মতারিখ द्वादश्यां शुक्ल-पक्षस्य माधवे मासि माधवम्। जातं ददृशतुः पुत्रं पितरौ हृष्ट-मानसौ।। (কল্কি পুরাণ ১.২.১৫,দ্বিতীয়অধ্যায় এর ১৫ নং শ্লোক) অর্থাত্ মাধব(সংস্কৃত বৈশাখ মাসের) শুক্লপক্ষের দ্বাদশ তারিখ তিনি জন্ম নেবেন যা ইংরেজী এপ্রিল-মে মাসের সমান্তরাল। অপরদিকে মুসলিমদের নবী মুহম্মদ এর জন্মতারিখ ১২ রবিউল আউয়াল কিনা তা নিয়ে কিন্তু মুসলিম পণ্ডিতবর্গ এবং ঐতিহাসিক ব্যাক্তিরাই কিন্তু নিশ্চিত নন।একনজরে দেখে নেব বিভিন্ন বিখ্যাত মুসলিম বিশেষজ্ঞদের এই জন্মতারিখ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত- ২ রবি আউয়াল-ইবনে আব্দ আল-বার ৫ রবিউল আউয়াল-আমির উদ-দিন ৮ রবিউল আউয়াল-ইবনে আল কাইয়িম,ইবনে ই হাজম,আজ জুহরি,ইবনে ই দিহ্যা ৯ রবিউল আউয়াল-মুহাম্মদসুলেমান মনসুরপুরি,মুবারকপুরি,শিবলি নোমানি,মাহমুদ পাশা ফালাকি,আকবর শাহ নাজিব আবাদি,মইন উদ্দিন আহমেদ নদভি,আব্দুল কালাম আজাদ ১০ রবিউল আউয়াল-আবুল ফিদা,আবু জাফর আল বাকির,আল ওয়াকাদি,আল শাবি ১২ ই রবিউল আউয়াল-তাবারি,ইবনে ই খুলদুন,ড. হামিদুল্লাহ,ইবনে ই হিশাম,আল্লামা আবুল হাসান,আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-মাওয়ারদি,ইবনে ই ইসহাক ১৭ ই রবিউল আউয়াল-শিয়াদেরবিশ্বাস,তারা এও বিশ্বাস করে যে ওইদিন ছিল শুক্রবার ২২ ই রবিউল আউয়াল-ইবনে ই হাজম কর্তৃক প্রদত্ত অপর সম্ভাব্য তারিখ ১০ ই মুহররম-আব্দুল কাদির জিলানী অর্থাৎ উনার জন্মতারিখ নিয়ে অনেকগুলো মত আছে,এমনকি কেউ কেউ তা রবিউল আউয়াল মাসে নয় বরং মুহররম মাসেও বর্ণনা করেছেন!তবে এই তারিখগুলোর মধ্যে ১২ ই রবিউল আউয়াল সবচেয়ে বেশী প্রচারিত।আর মজার বিষয় হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞানঅনুযায়ী ১২ রবিউল আউয়াল ইংরেজি ডিসেম্বর মাসে ছিল অর্থাৎ কল্কি অবতার এর জন্ম মাস বা তারিখ কোনটার কাছাকাছি ই নয়!
পর্যবেক্ষন ৩ [সাদৃশ্যকারীদেরদাবী]
আর বলা আছে তার বাবার হবে বিষ্ণুযশ যার অর্থ সৃষ্টিকর্তার গোলাম।অপরদিকে নবী মুহাম্মদ এর পিতার নাম আব্দুল্লাহ শব্দের অর্থও সৃষ্টিকর্তার গোলাম! ব্যাকরণে অতি দুর্বলতার লক্ষন হল এটি।বিষ্ণুযশ শব্দের অর্থ "ঈশ্বরের মহিমা",সৃষ্টিকর্তার গোলাম নয়।এছাড়া পদ্ম পুরাণ,সৃষ্টিখণ্ড (৬.২৪২.৮-১২) তে বর্ণিত আছে বিষ্ণুযশ প্রথমে স্বয়ম্ভু মনু(প্রথম সৃষ্ট মানুষ) রুপে জন্ম গ্রহন করেছিলেন যিনি কঠোর তপোস্যা করে ঈশ্বরের কাছ থেকে বর(ইচ্ছা) প্রার্থনা করেছিলেন ঈশ্বর যেন তার পুত্র রুপে আবির্ভুত হন। ঈশ্বর তাঁকে কথা দিয়েছিলেন তিনি ৩ বার তাঁর পুত্র রুপে অবতীর্ণ হবেন। পরবর্তীতে দশরথ রুপে স্বয়ম্ভু মনু জন্ম গ্রহন করেন এবং ঈশ্বর রাম রুপে তাঁর ঘরে অবতীর্ণ হন তারপরে স্বয়ম্ভু মনু বাসুদেব রুপে জন্ম গ্রহন করেন তখন ঈশ্বর শ্রীকৃষ্ণ রুপে তাঁর ঘরে অবতীর্ণ হন এবং সর্বশেষে স্বয়ম্ভু মনু কলিযুগের শেষে বিষ্ণুযশ রুপে জন্ম গ্রহন করবেন এবং ঈশ্বর তখন তাঁর ঘরে অবতীর্ণ হবেন।অপরদিকে মুসলিমরা তো জন্মান্তরবাদেই বিশ্বাসী নন!সুতরাং মুহাম্মদকে কল্কি অবতারের সাথে মেলাতে হলে আব্দুল্লাহকেও স্বয়ম্ভু মনুর মত ই তিনবার পুনর্জন্ম নিতে হয় যে!
পর্যবেক্ষন ৪ [সাদৃশ্যকারীদেরদাবী]
কল্কি অবতারের মায়ের নাম সুমতি।“সু” অর্থ শান্ত এবং “মতি” অর্থ আত্মা বা হৃদয়। অর্থাৎ “সুমতি” শব্দের অর্থ পরিতুষ্ট আত্মা। আরবীতে মুহম্মদ এর মাতার নাম “আমিনা” শব্দের অর্থও শান্ত বা পরিতুষ্ট আত্মা। (আমিনা নবী হযরত মুহাম্মদের মাতার নাম)] সু শব্দের অর্থ শান্ত এমনটি কোথাও পাওয়া যায়না,বরং সু অর্থ ভালো,মতি শব্দের অর্থ চিত্ত,আত্মা নয়,বেদান্ত অনুযায়ী আত্মা আর চিত্ত এক জিনিস নয়।অপরদিকে এই ক্ষেত্রেও গত লেখনীর উদাহরন প্রযোজ্য। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম আর দয়ানন্দ নমো ইতিঃ এর অর্থ যেহেতু এক তাহলে কোরান কি মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর নাম ভবিষ্যত্বানী করছে?একভাষার সাথে অন্যভাষার শব্দের অর্থ মিলিয| রাজা শিবাজি
No comments:
Post a Comment