Monday, 17 August 2015

একটা দেশে কতোগুলো গণতান্ত্রিক রাজবংশ আছে

একটা দেশে কতোগুলো গণতান্ত্রিক রাজবংশ আছে, তা দেখেই বোঝা যায় ঐ দ্যাশে পলিটিক্স আর ডেমোক্রেসির কন্ডিসান কতোখানি সুপারফাইন। আমরা মূর্খ মানুষ, গরিব জনগণ, চাঁড়ালের চাঁড়াল, বেশি কিছু জানি না, তবে এই কথাটাই আমাদের মনে হইতেছে। …এই কথাটা আগে অন্য কোন মানুষজনের মনে হয়েছে কি না আমারা জানি না; তবে আমাদের মনে হচ্ছে। যেই দ্যাশে রাজবংশগুলি যতো বেশি একে অন্যরে পুঙ্গির ভাই, হৌরের পো, সমন্ধির পুত আর প্রিয় আদরের না মে ডাকে, সেই দ্যাশে গণতন্ত্র ততো বেশি বিশুদ্ধ, ততো বেশি পারফেক্ট। আমাগো দ্যাশে ড্যামক্রেসি যেমন বেশি তেমনি পারফেক্ট। আমাদের দেশে খালি চারখানা রাজবংশ নাই; দেশে আরও অনেক ছেড়াফাড়া, ভাঙ্গাচোর, চ্যাপ্টা, ছ্যাচালাগা, কানা, আতুর, লুলা, ধ্বজভঙ্গ রাজবংশ আছে। দেশ ছোট হতেই পারে, কিন্তু রাজবংশের অভাব নাই। দ্যাশ গরিব হতেই পারে তবে ড্যামক্রেসির ঘাতটি নেই। ...আমরা গরিব মানুষ, সাধারণ জনগণ, দিনে আনি দিনে খাই, কোন দিন আনতে পারি না তাই খাইতেও পারি না, আমাদের গায়েগতরে গোস্ত নাই। মাথার ঘিলুও নাই; কতো রাজবংশের নাম মুখুস্ত রাখবো? কতো রাজপুরুষের নাম মাথায় রাখমু? রাজপুরুষরা তো চারিদিকে পায়খানর পোকার মত কিলবিল করেন। এমন হইতে পারে তাগো কথা একেবারেই মনেই আসে নাই, আবার এমনও হইতে পারে তাঁদের কথা খুব মনে পড়চ্ছে, মিনিটের জন্যেও ভুলি নাই, কিন্তু বলার দরকার বোধ করি নাই। বলে কী লাভ, সময় নষ্ট হইতো। আমাগো চোখে ওইগুলি আজকাল পকেটমারি ছিমকা চোরের সমান হয়ে গেছে, আমরা দেশের মানুষজন ওইগুলিরে আর গনায় ধরি না। ওইগুলি টিকে আছে মাঝে মধ্যে ছোটখাটো চুরি চামরি চিন্তাই করার জন্যেই। দেশে একটু একটু আধটু চুরিচামরি না থাকলে কোন মজা থাকে না। ওইগুলি আমাদের মনে মজা দেয়। -রাজনীতিবিদগণ (উপন্যাস), হুমায়ুন আজাদ

No comments:

Post a Comment