ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক খারাপ; ইসলামবিদ্বেষী, রেসিস্ট।
কেন?
কারণ, তিনি বলেছেন,'আমেরিকায় নতুনভাবে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।'
তিনি বলেন নি আমেরিকা থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দাও। সারা পৃথিবীতে মুসলমানেরা যে পরিমাণ সন্ত্রাস চালাচ্ছে তাতে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশই মুসলমানদের বিরুদ্ধে সতর্ক হবে। এটাই তো স্বাভাবিক। সতর্ক না হলেই তো 'প্যারিস' দেখতে পাবেন।
ওদিকে সৌদি আরবে নাগরিক হতে হলেই মুসলমান হওয়া বাধ্যতামূলক। অমুসলিম কেউ সৌদি আরবের নাগরিক হতে পারবে না। সৌদি আরবে ইসলাম ছাড়া অন্য যেকোনো ধর্মের প্রচার, উপসানলয় প্রতিষ্ঠা নিষিদ্ধ।
অথচ, ট্রাম্প কিন্তু বলেন নি,'আমেরিকাতে নাগরিক হতে হলে খৃষ্টান হতে হবে সবাইকে।'
ট্রাম্প বলেন নি,'সৌদি আরব যেমন অমুসলিমদের ধর্ম প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে দেয় না, তেমনি আমেরিকাতে মুসলমানদের সব মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া উচিত।'
তবুও ট্রাম্প খারাপ আর সৌদি আরব ভালো। ট্রাম্পের সমালোচনা করা যায় সৌদি আরবের সমালোচনা করা যায় না। লাইক কমে যাবে তো!
ওদিকে আমেরিকান মুসলিমেরা বলছে,'তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় তারা মুসলমান। তারপর তারা আমেরিকান।'
এখন আমেরিকান গভর্নমেন্ট যদি বলে,'আমরা সবার আগে আমেরিকান চাই, আমাদের দেশে থাকতে হলে সবাইকে সবার আগে আমেরিকান হতে হবে। তারপর অন্যকিছু।'
একটা দেশের নাগরিক হয়ে সেই পরিচয় সবার আগে না রাখাটা কি দেশদ্রোহীতা নয়?
আর সবার আগে আমি মুসলিম! তারপর আমি আমেরিকান!
তার মানে আমেরিকার সাথে কোন মুসলিম দেশের যুদ্ধ লাগলে এই মুসলমানেরা আমেরিকার বিপক্ষ নিয়ে সেই মুসলমান দেশের হয়েই যুদ্ধ করবে। তাহলে আমেরিকা কেন যারা নিজেদের আগে 'আমেরিকান' বলে পরিচয় দেবে না তাদের সে দেশে রাখবে? এই ঘরশত্রু 'বিভীষণ' খাইয়ে-দাইয়ে আমেরিকার লাভ কি?
ট্রাম্প খারাপ কি বলেছেন তাহলে?
ওদিকে পশ্চিমারা খুবই খারাপ।
কেন খারাপ?
কারণ তাদের জন্যই শিশু আইলান কুর্দির লাশ দেখতে হয়েছে। তারা যদি বিমান পাঠিয়ে দিয়ে সিরিয়ানদের নিয়ে আসতো তাহলে সিরিয়ানদেরকে সমুদ্র পথে ইউরোপ যেতে হতো না। আইলানকেও এভাবে সমুদ্রে ডুবতে হতো না।
খারাপ খারাপ, ইউরোপিয়ানরা ভীষণ খারাপ!
এখন প্রশ্ন সিরিয়ানরা কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে সমুদ্র দিয়ে দূর দূরান্তের ইউরোপ যাচ্ছে? তারা তো নিরাপদে পায়ে হেঁটে মধ্যেপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে যেতে পারত। তারা সেসব দেশে যাচ্ছে না কেন?
কেন মুসলিম দেশগুলো কোন শরণার্থী নিচ্ছে না? তাদের তো টাকা পয়সার অভাব নেই। তারা শরণার্থী নিলেই তো সিরিয়ানদের সমুদ্রে ডুবে মরতে হতো না।
এসব প্রশ্ন কোনদিন গোঁড়া মুসলমান থেকে মডরেট মুসলমানদের লিখাতে উঠে আসবে না। দোষ শুধু আমেরিকা আর পশ্চিমের!
সবচেয়ে বড় প্রতারক ওই জোচ্চোর লেখকগুলো যারা জনপ্রিয়তা হারানোর আশায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে কিন্তু সৌদি আরব আর ইসলামী দেশগুলোর উগ্র গোঁড়ামির সমালোচনা করে না।
যে গোঁড়ামি আর অসম্মান অন্য ধর্মকে ইসলামী দেশগুলো করে একই আচরণ ইউরোপ আর আমেরিকা করলে সারাজীবন মধ্যেপ্রাচ্যে বসে বোমা খেয়ে মরা ছাড়া মুসলমানদের আর কোনো গতি থাকতো না।
ভাগ্য ভালো যে ইউরোপ-আমেরিকা সৌদি আরবের নীতি অনুসরণ করে নাগরিক হতে হলে খৃষ্টান হওয়া বাধ্যতামূলক করে নি। এতো এতো সন্ত্রাসী হামলার পরেও মুসলমানদের গ্রহণ করছে।
নিজেদের মগজ এক চিলতে পরিমাণ ব্যবহার করে সামান্য পরিমাণে হলেও কৃতজ্ঞতা অন্তত দেখান তাদের প্রতি। Thx to Juliyas Caesar
No comments:
Post a Comment