".... ভাগ এখান থেকে....।
কোন ভিক্ষা হবে না। .... তোর পেটও ফাঁকা,.. আবার কোলও ফাঁকা।... যা, ফোট ... "।
- শুনে চমকে যায় আবির।... মানে..??
.... মেটিয়াবুরুজের সকাল...। চারিদিকে ঘিঞ্জি গলি,.. আর এখানেই প্রতিদিন সকালের ব্যস্ততার ভিড় ঠেলে দোকানে দোকানে ধুপকাঠি ফেরি করে বেড়ায় আবির।
তার ধুপের ভাগ'টা বেশ কড়া। ... আর তাতে গন্ধটাও জমে ভালো। আর দিন দিন পাল্লা দিয়ে এলাকায় গরুর মাংসের দোকান যত বেড়েছে,... ততই বেড়েছে, আবিরের খরিদ্দার সংখ্যা।
..... কে জানে, হয়তো'বা ওই বাসি মাংসের বোঁটকা গন্ধ থেকে বাঁচতেই ওরা এটা জ্বালায় কিনা?...
... তাতে তার কি? ঠাকুর ঠাকুর... বলে সকাল সকাল সাইকেলে চেপে... শুরু করে তার ব্যাবসা।... প্রথমে চেনা দোকান... আর তারপর পুশসেল...। দুপুর ১২'টার মধ্যে বাড়ি...।।
.... যাই হোক, ধমক শুনে, থমকে যায় সে।.. তাকিয়ে দেখে.. ৫-৬ জনের ছোট একটি ভিখারিনী'র দল।
.... সারা রাতের ডিমে তা দেবার ধকল সামলে সক্কাল সক্কাল মুরগীর মত তারা বেরিয়ে পড়েছে খাদ্যের সন্ধানে।... এ- দোকান থেকে ও দোকানে... ঘুরে ঘুরে খুঁটে নিচ্ছে.. যার কাছে যা পাচ্ছে।
... কোলে ছোট বাচ্চা নিয়ে এমন ভিখারিনীর দেখা তো এখানে প্রায়ই মেলে...। - এ আর নতুন কি?.. তবে?
কৌতুহলি হয়ে এগিয়ে যায় আবির।... দেখতেই হচ্ছে ব্যাপারটা...।।
.... দোকানটি এক খানদানী মুসলমানের। ঠিক দোকান নয়,.... ব্যাবসায়ী গদি। সেখানে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসে দোকানের মালিক হাজী নুরউদ্দন...। উপরে সাইনবোর্ডে.. "নুরউদ্দিন এন্ড ট্রেডার্স"... লেখাটি ঝক ঝক করছে।
আবির দেখল .... মুখভর্তি পান মুখে, হাজী সাহেব তাকিয়ায় হেলান দিয়ে দলের মহিলাদের ভিক্ষা দিচ্ছেন.. সামনের বাটা থেকে দরাজ হাতে, সবাইকে এক একটি খুচরো পয়সা তুলে দিচ্ছেন। আল্লার দোয়া মেঙ্গে, তারাও ধীর পায়ে বাইরে বেরিয়ে আসছে।... কেবল বাধ সেধেছেন একটি রুগ্ন মেয়ের বেলায়।
... এরা প্রায় সকলেই তালাকপ্রাপ্তা। অথচ, সকলেরই প্রায় কোলে একটি করে দুগ্ধপোষ্য শিশু। .... দু-একটি অবশ্য মায়েদের হাত ধরেই ভিক্ষে করছে। আবার সন্তান সম্ভবা'ও দেখা গেল... এক জনকে...।
.... কিন্তু রুগ্ন মেয়েটি...? তার যে এসকল চিহ্নের কোনটাই নাই..।।
.... বিসস্ত্রবসনা মেয়েটির দিকে এবারে....... একঝলক তাকাতেই, ... আবির বুঝতে পারল... ধমকের ইঙ্গিতটা....।।
- মাথা নিচু হয়ে গেল তার...। পকেটে নিজের অজান্তেই হাত ঢোকাতে বেরিয়ে এল খুচরো... দশ টাকার একটা নোট।... কোন দিকে না তাকিয়ে, লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া অসহায় মেয়েট'র হাতে আলতো করে টাকাটি দিয়েই সাইকেলে চেপে পড়ল সে..।
শুধু .... অবাক হয়ে যাওয়া মেয়েটিই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখতে থাকল.... ভিড়ের আড়ালে ক্রমশ মিলিয়ে যাওয়া তার... আল্লার ফেরিস্তাকে....!!
No comments:
Post a Comment