Thursday, 30 July 2015

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ না হয়ে ইসলামিক দেশ হল কেন?

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ না হয়ে ইসলামিক দেশ হল কেন? বাংলাদেশ যেরকমটা হওয়ার কথা ছিল সেরকম হতে পারে নি। এর পেছনে ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ রয়েছে। তা না হলে তো এমনটা হওয়ার কোন সুযোগই ছিল না। ৪৭ এর দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। কিন্তু ৭১ এর যুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে গড়া পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরো হল। সেই যুদ্ধে ৯৩ হাজার পাকিস্তানী মুসলিম সৈন্য মাত্র ৫ হাজার সৈন্যের মিত্রবাহিনীর ( হিন্দু + মুসলিম) নিকট অাত্বসমর্পণ করল। ভারতীয়দের সহায়তায় পাকিস্তানী মুসলমানদের পরাজিত করেও নিলর্জ্জের মত ইসলামকেই রাষ্ট্রধর্ম করা হল। যার ফল অামরা সাধারণ জনগণ ভালো করেই টের পাচ্ছি। . যাইহোক, ২০১৩ সালে গনজাগরণের উত্থানের সাথে সাথেই দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়েই অারেকটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই দেশকে সঠিক পথে অানতে হবে।

বজরঙ্গী ভাইজান নেপথ্যে কি?

"বজরঙ্গী ভাইজান" নেপথ্যে কি? সিনেমার প্রতি আগ্রহ আমার নেই বললেই চলে। বাংলা কিংবা হিন্দি বাণিজ্যিক সিনেমাগুলোর একঘেয়েমি কাহিনী দেখতে দেখতে রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও প্রচারের ফাঁদে পড়ে কিছু সিনেমা দেখতে হয় কৌতুহল মেটাতে। যেমন দেখেছিলাম আমীর খান অভিনীত পিকে; সম্প্রতি দেখলাম সালমানের বজরঙ্গী ভাইজান। ফেসবুকে আমার 'হিন্দুত্ববাদী'বন্ধুদের নিকট থেকে জেনেছিলাম, বজরঙ্গী ভাইজানে হিন্দুত্ববাদীদের নাকি পজিটিভ ভাবে দেখানো হয়েছে! আজ পর্যন্ত যতগুলো বলিউড সিনেমা দেখেছি তার একটিতেও দেখিনি হিন্দু ধর্মগুরুদের ভাল চরিত্রে দেখানো হচ্ছে। হিন্দু ধর্মগুরুদের সবসময় খল চরিত্রে দেখানো হয়ে থাকে। তারা ভণ্ড, খুনি, সন্ত্রাসী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, ধর্মনিরপেক্ষতা নষ্টকারী নষ্টবুদ্ধি সম্পন্ন। অন্যদিকে মসজিদ মাদ্রাসার মাওলানা ইমাম সাহেবরা ধার্মিক, পরোপকারী, উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি। তো স্বাভাবিকভাবেই আমার হিন্দুত্ববাদী বন্ধুদের নিকট বজরঙ্গীর কাহিনী জেনে মহাখুশি মনে সিনেমাটি দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করি। কিন্তু সম্পূর্ণ ছবিটি দেখে আমার 'হিন্দুত্ববাদী'বন্ধুদের জন্য করুণা হচ্ছিল। কেন? বলছি... কবির খান পরিচালিত বজরঙ্গী ভাইজান সিনেমার প্রধান চরিত্র পবন কুমার (সালমান) এবং ৬ বছরের এক পাকিস্তানী বোবা মেয়ে শিশু শাহিদা। শাহিদা পাকিস্তান কর্তৃক জবরদখল কৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা। বোবা মেয়ের কথা ফেরাতে শাহিদার মা তার মেয়েকে নিয়ে ভারতে যায় মাজারে মানত করতে। মানত শেষে পাকিস্তান ফেরার পথে অসাবধানতা বশত শাহিদাকে ভারতে ফেলে রেখে চলে যায় তার মা। এরপর শাহিদাকে আশ্রয় দেয় পবন কুমার। পবন হনুমানজীর ভক্ত। তাই সবাই তাকে বজরঙ্গী বলে ডাকে। পবনের বাবা আরএসএস এর কর্মী। বাবার মৃত্যুর পর পবন দিল্লি চলে যায়। সেখানেই তার সাথে দেখা হয় শাহিদার। শাহিদা পাকিস্তানি জেনেও পবন তাকে তার পরিবারের নিকট পৌঁছানোর জন্য প্রতিজ্ঞেয় হয়। অবশেষে নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে পবন তার প্রতিজ্ঞা পূরণ করে। ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছে কারিনা কাপুর 'খান'। সিনেমা দেখার আগে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, বলিউডের প্রথা ভেঙে এমন একটা চরিত্র কে কেন প্রধান চরিত্রের রূপ দেওয়া হল? ছবির শুরুতেই তার উত্তর পেলাম। আমার 'হিন্দুত্ববাদী'বন্ধুরা সালমানের মুখে হনুমান চল্লিশা শুনেই খুশি ছিল। কিন্তু সিনেমার নেপথ্যের উদ্দেশ্য হনুমান চল্লিশা পাঠ শোনানো নয় বরং মুসলিমদের প্রতি এবং পাকিস্তানের প্রতি হিন্দুত্ববাদীদের সহানুভূতি জাগানো। মনে রাখতে হবে, ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। যতদিন তারা সংখ্যালঘু থাকবে ততদিন হিন্দুদের সহানুভূতি ছাড়া বেঁচে থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে। তাই পবন চরিত্রে এমন কাউকে দেখানো হল যারা ঘোরতর পাক বিরোধী হিসাবে পরিচিত। পিকে ছবিতে আমরা দেখেছিলাম কৌতুকের ছলে একাধারে লাভ জিহাদ, পাকিপ্রীতি এবং হিন্দুধর্মের অবমাননা। এবারে বজরঙ্গী ভাইজানে দেখা গেল আবেগের সুড়সুড়ি দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতার নামে পাকিস্তান প্রীতির উৎসাহ। এছাড়া পিকে সিনেমা সমালোচনার সম্মুখীন হওয়ায় কবির খান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হিন্দুদের বোকা বানিয়েছে। "বাহুবলী" কে টেক্কা দিতে গেলে হিন্দুবিরোধীতা করলে চলবে না তার জানা ছিল। ছবির প্রধান উদ্দেশ্য, হিন্দুত্ববাদীদের মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতিশীল করা এবং তাদের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। শুরুতে পবনকে দেখা যায়, তার মুখে সর্বদা জয় শ্রীরাম ধ্বনি। সে মসজিদ কিংবা মাজারে পা রাখতে সংকোচ বোধ করছে কিন্তু শেষে দেখা গেল হনুমান ভক্ত পবন ইমাম সাহেবের উদারতা দেখে মন থেকে তাকে সালাম জানাচ্ছে। এমনকি পরম ধার্মিক পবন নিজের ধর্ম ভুলে শাহিদার জন্য মাজারে গিয়ে মানত করছে। সকলে নিশ্চয় বলবেন, এটা মানবতাবাদী সিনেমা। হিন্দু-মুসলমান ঐক্য চায়। পাকিস্তান না হয় খারাপ কিন্তু ঐ নিষ্পাপ মিষ্টি মেয়েটির কি দোষ? হ্যাঁ ঠিক। কিন্তু আপনি যখন বোবা শাহিদার মামা মামা বলে চিৎকার শুনে আবেগে চোখের জল ফেলছিলেন তখন পাঞ্জাবে একদল পাকিস্তানী জঙ্গি ঢুকে নিরপরাধ জনগণের হত্যায় মেতেছিল। এভাবেই শাহিদারা পবনদের টুপি পরিয়েছে এবং পরিয়ে চলেছে!

ইয়াকুব মেননের ফাঁসি

প্রসঙ্গঃ ইয়াকুব মেননের ফাঁসি; ধর্মনিরপেক্ষতারধ্বজাধারীদের আসল চেহারার বহিঃপ্রকাশ। আজ ভোরে মুম্বই বোমা হামলায় অভিযুক্ত ইয়াকুব মেননের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৯৩ সালে মুম্বই এর তিনটি আলাদা আলাদা স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। শেয়ার বাজার এলাকা, সিনেমা হল এবং শপিং মলে ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতে মোট ২৫৭ জন মারা যায় এবং আহত হয় কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষ। তিনটি স্থানে পরপর বোমা হামলায় অভিযুক্ত তিনজন সন্ত্রাসী হলঃ ইয়াকুব মেনন, তার ভাই টাইগার মেনন এবং দাউদ ইব্রাহিম। বোমা হামলার পর এই তিনজন পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু ১৯৯৪ সালে ইয়াকুব মেনন ভারতে ফেরত এলে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর দীর্ঘদিন জেলখানায় আটক থাকার পর ২০০৭ সালে ইয়াকুব কে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। কিন্তু রাজনৈতিক এবং আইনি জটিলতাপূর্ণ কারণে ফাঁসি স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে আজ বিভিন্ন চাপের মুখেও মুম্বই বোমা হামলার প্রধান অভিযুক্ত ইয়াকুব কে ফাঁসি দেওয়া হল। ধর্মনিরপেক্ষতারধ্বজাধারীরা শুরু থেকেই ইয়াকুব কে নির্দোষ দাবি করে আসছিল। ভারতের চল্লিশ জন চিহ্নিত বুদ্ধিজীবী তার মুক্তির দাবি জানায়। মার্কণ্ডেয় কাটজুর মত বুদ্ধিজীবী, সীতারাম ইয়েচুরির মত কম্যুনিস্ট নেতা থেকে শুরু করে সলমন খান সকলেই ইয়াকুব কে নির্দোষ দাবি করে। আসাদউদ্দীন ওয়েইসির মত উগ্রবাদী মুসলিম নেতারা তো দাঙ্গার হুমকি দিয়ে রেখেছে। আবার কারো দাবি, ইয়াকুব বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকলেও সে আত্মসমর্পণ করেছিল তাই তাকে ফাঁসি দেওয়া যাবেনা। প্রশ্ন হলঃ সে যদি নির্দোষই হবে তবে কেন পাকিস্তানে পালিয়ে গেল? আত্মসমর্পণ করলে কেন দীর্ঘ একবছর পলাতক ছিল? সবচেয়ে আশ্চর্যজনক অভিযোগ, ইয়াকুব মেনন কে নাকি সাম্প্রদায়িক কারণে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে! এমন প্রতিক্রিয়া আসছে মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবীদের থেকে। অবাক হতে হয় এই কথিত মানবতাবাদীদের মানবতার নমুনা দেখে। ২৫৭ জন নিরপরাধ মানুষের লাশ দেখে এদের মানবতা জাগেনা অথচ একজন খুনি সন্ত্রাসীর ফাঁসি হবে জেনে এদের মানবতা সাঁতার খায়! তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, মুসলমান বলেই ইয়াকুব মেনন কে ফাঁসি দেওয়া হল। কিন্তু মুম্বই হামলার কারণ কি ছিল আমরা কি তা ভুলে যাব? ৯২ এর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নিতেই ইয়াকুবরা মুম্বইয়ের নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। হিন্দুদের প্রতি আক্রোশ বা বিদ্বেষ থেকেই হামলা চালানো হয়েছিল। সন্ত্রাসের কারণ সাম্প্রদায়িক হতে পারে কিন্তু আইন কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষতারনামে কথিত মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবীরা একজন মুসলিম মৌলবাদী জঙ্গি সন্ত্রাসীর পক্ষ নিয়ে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছে। যারা দাবি করছে, কেবল মুসলিম বলে ইয়াকুব কে ফাঁসি দেওয়া হল তাদের একটি পরিসংখ্যান জেনে রাখা উচিত। ভারতীয় বিচারবিভাগ আজ পর্যন্ত মোট ১৩৪২ জন কে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে যার মধ্যে মাত্র ৫২ জন মুসলিম। গড়ে মোটামুটি তিরিশ শতাংশ; কিন্তু ভারতের শতকরা ৬০ ভাগ অপরাধ মুসলিমরা ঘটিয়ে থাকে। সূত্রঃ http:// www.newindianexp ress.com/ thesundaystandar d/ 72-Muslims-Hange d-in-India-agai nst-1342- Hindus -and-Others/ 2015/07/26/ article2940289.e ce অপরাধ করে পার পেয়ে গেছে এমন মুসলমানের সংখ্যা আদৌ কম নয়। অস্ত্র রাখার অপরাধে সঞ্জয় দত্ত কে জেলখানায় থাকতে হয় অথচ খুনি সলমন খান দিব্বি সিনেমা করে কোটি টাকা কামাচ্ছে; ইয়াকুব কে নির্দোষ দাবি করে নিজের জাত চেনাচ্ছে। তবে তো হিন্দুদের বলা উচিত ছিল, মুসলমান বলেই সলমনের বিচার হল না। কিন্তু কোনো হিন্দু এমন দাবি করেনি বরং সলমনের মুক্তি চেয়েছিল সবাই। হিন্দুরা যে মুসলমানদের মত চরম হিন্দুবিদ্বেষ তথা সাম্প্রদায়িকতা লালন করে না; এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে? গান্ধী কে হত্যার অপরাধে নথুরাম গডসে কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তখন তো কেউ বলেনি, নথুরাম হিন্দু তাই তাকে ফাঁসি দেওয়া হল। মেনন কে ফাঁসি দেওয়ায় যারা চিৎকার করে গুজরাত দাঙ্গায় হিন্দুদের বিচার চায়ছেন তারা আগে গোধরায় ট্রেনে শতশত তীর্থযাত্রী পুড়িয়ে মারার বিচার চান। ইয়াকুব মেনন অপরাধ করেছে তাই তার যোগ্য শাস্তি হয়েছে। এখানে দুঃখ পাবার যেমন কিছু নেই তেমনি আনন্দিত হওয়ার মত কিছু দেখছি না। বরং আমাদের এখন বাকি দুই অপরাধীর একই পরিণতি চাওয়া উচিত। কম্যুনিস্ট এবং মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবীদের নগ্ন মুসলিম তোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো উচিত। কারা আসলে সাম্প্রদায়িক; হিন্দু নাকি মুসলমান? তা সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া উচিত।

কতটা কতটা হিন্দুবিদ্বেষী হলে মোল্লারা ইয়াকূবের জানাযায় অংশ নিতে পারে

একবার চিন্তা করুন-কতটা কতটা হিন্দুবিদ্বেষী হলে মোল্লারা ইয়াকূবের জানাযায় অংশ নিতে পারে!এরা জানে ইয়াকূব তিনশর বেশি হিন্দু হত্যা করেছিল তাই আজ ইয়াকূব এই সাম্প্রদায়িক হিন্দু বিদ্বেষী মসলমানদের এত প্রিয়।তা নাহলে একজন সাধারণ ইয়াকূবের জন্য যবনদেয এত কান্না কেন? সারা মহারাষ্ট্রে আগুন জ্বেলে উঠেছে।মহারাষ্ট্রে মাত্র 12% মোল্লা।শিবসেনা-হিন্দু রাষ্ট্র সেনা(HRS) একশনে নেমে পড়ুন।যেখানে আজ কালামজীর সৎকারে এর আর্ধেক মসলমানও হয়নি সেখানে একজন সামান্য ইয়াকূবের সৎকারে এত মোল্লা এসে প্রমাণ করে দিল-ওরা আরও হিন্দুর রক্ত খেতে চায়।

ইউসুফ ওবরানী কংগ্রেসের প্রাক্তন মুসলিম সাংসদ জি নিউজের ষ্টুডিওতেই বসে বলল- বাবরী ধংসের বদলা ছিল মুম্বই বিস্ফোরন

ইউসুফ ওবরানী কংগ্রেসের প্রাক্তন মুসলিম সাংসদ জি নিউজের ষ্টুডিওতেই বসে বলল- বাবরী ধংসের বদলা ছিল মুম্বই বিস্ফোরন।যদি বাবরী ধংসের বদলা নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয় তাহলে এদের ধর্ম কত শান্তির এবার বুঝন । অনেক হল তোরা সোমনাথ মন্দির ভেঙেছিস,কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ভেঙেছিস আর সহ্য করব না আমরা । ভারতের মাটিতে বসে পাকিস্তানের দালালী করলে তলোয়ার দিয়ে মুন্ডপাত করা হবে । একজন সন্ত্রাসবাদীকে মুসলিম বলে যদি ফাঁসী দেওয়া হচ্ছে, তাহলে সব সন্ত্রাসবাদীই কেন মুসলিম হয় । যদি সন্ত্রাসের কোন ধর্মই হয়না তাহলে ইয়াকুবের জন্য এতো প্রতিবাদ কিসের?

ইসলাম অভিযোগ করে... হিন্দু ধর্ম পৌত্তলিকতা দোষে দুষ্ট। বিষয়টা কি আসলে তাই?

ইসলাম অভিযোগ করে... হিন্দু ধর্ম পৌত্তলিকতা দোষে দুষ্ট। বিষয়টা কি আসলে তাই? হিন্দু ধর্মের মূল কথা হলো তাদের ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, প্রয়োজন অনুসারে বহু রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। যে মানুষ তাকে যে ভাবে ডাকে ঈশ্বর ঠিক সেভাবেই তার কাছে ধরা দেন। যদি কোন সত্যিকার ঈশ্বর থেকে থাকে আসলে হওয়ার কথাও তো তাই। কেউ ঈশ্বরকে বন্ধু ভাবে চাইতে পারে , কেউ সন্তান হিসাবে, কেউ বা স্বামী হিসাবে। ঈশ্বরের যদি এভাবে তার ভক্তের ইচ্ছা পূরণের ক্ষমতা না থাকে তাহলে সে কিসের ঈশ্বর? ধরা যাক, এক লোক তাকে বন্ধু হিসাবে চাইল কিন্তু অন্য তার ভাই ঈশ্বরকে পিতা হিসাবে কামনা করল। সে ক্ষেত্রে ঈশ্বর একই সাথে দুই সহোদর ভাইয়ের সাধ কিভাবে মিটাবে ? এটা একমাত্র সম্ভব ঈশ্বর যদি বহু রূপ ধারন করেন। মুনকার নকির নামক দুই ফিরিস্তা যদি একই সাথে দুনিয়ার সাতশ কোটি মানুষের দুই কাঁধে বসে তাদের কাজ কাম লিখে রাখতে পারে, ঈশ্বর কেন পারবে না, দুনিয়ার মানুষ যে যেমন করে তাকে চাইবে সেভাবে তার কাছে ধরা দিতে? যদি তা না পারে বা না করে সেটা তাহলে ঈশ্বরের অক্ষমতা। হিন্দুদের যে শত কোটি দেব দেবী আছে এগুলো সেই এক ঈশ্বরের বহুরূপ ছাড়া আর কিছু নয়। হিন্দুরা যার যার সুবিধা মত তার আরাধ্য দেব দেবী নির্ধারন করে তার পূজা করে। আবার যদি কেউ চায় সে শুধুমাত্র পরম ঈশ্বরেরও উপাসনা করতে পারে। ওপর থেকে দেখলে মনে হয় মূর্তি পূজা করছে। কিন্তু বিষয়টা মোটেও তা নয়। ওরা আরাধ্য দেবতাকে সামনে রেখে তার মধ্যে জীবন্ত দেবতার কল্পনা করে, মাথা নত করে। মাথা নত করার সময় মনে মনে ভাবে তার আরাধ্য দেবতা তাকে দেখছে। সে তার সামনের দেব-দেবীর মূর্তিকে জড় পদার্থ মনে করে না। যে কারনে তার অন্তরের সাথে তার আরাধ্য দেবতার একটা মিলন ঘটে, আরাধ্য দেবতাকে সে হৃদয়ে অনুভব করতে পারে। এটাই একজন ভক্ত হিন্দুকে চরম আনন্দ প্রদান করে যা সে শুধু নিজেই অনুভব করে, অন্যকে প্রকাশ করতে পারে না। বিষয়টাকে মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যেভাবেই ব্যখ্যা করা হোক না কেন, হিন্দুদের ধর্ম ঠিক এরকমই। ইসলাম শুধু উপর দিয়ে দেখে উপহাস করে বলে হিন্দুরা মূর্তি পূজা করে।সেখানে ইসলামের আল্লাহ এরকম বহু রূপ ধারন করতে পারে না, অন্তত: কোরান হাদিসে তার কোন উল্লেখ নেই। আর তাই সে তার ভক্তের কামনা বাসনা মিটাতে অক্ষম। একই সাথে এক ব্যক্তি একই সময়ে বিচারক ও দয়ালু হতে পারে না। কোন বিচারক একজন ক্রিমিনালকে বিচার করে সঠিক ভাবে ফাঁসির রায় দিলে সেটা তার চুড়ান্ত ন্যয় বিচার হতে পারে কিন্তু তখন তিনি আ র অভিযুক্তের প্রতি দয়ালু থাকেন না। সুতরাং একই সাথে আল্লাহ কিভাবে তার সৃষ্ট কোটি কোটি মানুষের বিচার করে কাউকে ফাঁসি, কাউকে করুনা করে একই সময়ে সবার প্রতি পরম ন্যয় বিচারক ও দয়ালু থাকেন ? এটা সম্ভব শুধুমাত্র আল্লাহ বহু রূপ ধারন করে তখনই। ইসলামের আল্লাহর এ ধরনের বহু রূপ ধারনের ক্ষমতা নেই। আর সে কারনেই দেখা যায় কোরানে আল্লাহর প্রকৃত রূপ হলো – একজন ভীষণ রাগী, ক্রুদ্ধ, হিংস্র, প্রতিশোধ পরায়ন কোন অস্তিত্বের , তার মধ্যে ভালবাসা, করুনা, ক্ষমার কোন লক্ষন দেখা যায় না। যদিও মাঝে মাঝে উল্লেখ আছে সে নাকি ক্ষমাশীল কিন্তু তার রাগ ও হিংস্রতার কথা যদি ৫০ বার উল্লেখ করা হয়েছে তো ক্ষমাশীলতার কথা বলা আছে মাত্র ১ বার। অর্থাৎ সার্বিক ভাবে কোরানের আল্লাহ একজন হিংস্র কোন জন্তু বা জীব। পরম করুনাময় সৃষ্টি কর্তা নয় কোনমতেই। একারনেই সম্ভবত কোন মুসলমান ইসলামের সব ধরনের বিধান অনুসরণ করেও কখনো আল্লাহর সাথে নৈকট্য অনুভব করে না। যেহেতু ইসলামের আল্লাহর তার ভক্তের সাধ পূরনের কোন ক্ষমতা নেই, তাই এ ধরনের রূঢ় ও ক্রুদ্ধ সৃষ্টিকর্তার কোন অস্তিত্ব থাকতে পারে না, থাকলেও সেটা ঈশ্বর না হয়ে হবে নিশ্চিত ভাবে শয়তান। কারন শয়তানই একমাত্র এভাবে ক্রুদ্ধ ও হিংস্র হতে পারে কোন পরম করুণাময় ঈশ্বর নয়। আর হিন্দুদের ঈশ্বর জগতের সব জায়গাতেই বিরাজমান, তাই তাদের কোন নির্দিষ্ট কিবলার দরকার পড়ে না। যে কোন দিকে বসেই তারা তাদের ঈশ্বর বা দেব দেবীকে ডাকতে পারে।

"পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ১৫)

এই শতাব্দীর এক অকুতোভয় অনন্য সাধারন বামপন্থী কথা সাহিত্যিক 'হুমায়ূন আজাদ' ও বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের উপর তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ "পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ১৫) ------------------------------------------------------------ আমি জানতাম জিহাদিদের পিস্তল ও এম১৬ দৃঢ় ও সদাসক্রিয়, কিন্তু জেহাদিদের পিস্তল ও এম১৬ যে এতো দৃঢ় ও সদাপ্রস্তুত এবং পৌনপুনিক কুয়তসম্পন্ন-অটোমেটিক, এটা আমার জানা ছিল না। মালাউনপল্লীতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মালাউনরা বুঝতে পারে আমরা ‘শান্তির ঠান্ডা আগুন’ ছড়াতে এসেছি। তারা একবারও চিৎকার করে না, অতো ঠান্ডায় জমে যাওয়া ছাড়া আর উপায় ছিল না; কেউ হাতে একটা সরকি ব দা নিয়েও আসে না, তারা জমে গিয়ে বাঁচতে চায়; তারা আমাদের ঠান্ডা শান্তির আগুনে নিঃশব্দে পুড়ে যেতে থাকে। আমাদের হাতে অবশ্য লোহার পিস্তল ছিল, চাইনিজ রাইফেল ছিল, এম১৬ ছিল; ওগুলো হাতে না থাকলে চামড়ার পিস্তল কেউ ব্যাবহার করতে দেয় না। আমার জিহাদিরা ‘আল্লাহু আকবর’, ‘আলি আলি জুলফিক্কার’, ‘নারায়ে তাকবির’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়, ওদের মাথায় একটু ঘিলু কম, ওরা যতটা কাজ করে তার চেয়ে বেশি গোলমাল করে, যদিও গোলামালেও বেশ কাজ হয়; আমি ওদের নিরস্ত করি। আমি ‘শান্তির ঠান্ডা আগুন’ পছন্দ করি; দাউদাউ করার দরকার না হলে দাউদাউ কররে শক্তি খরচ করতে চাই না। বাহুর শক্তি খরচের কিছু নেই, কিছু অতিশয় মূল্যবান ধাতু খরচ করতে হবে। ধাতু ক্ষয় করবো মালাউনদের জন্য এটা আমাদের দয়া ,এক বিন্দু ধাতু প্রচুর সুখাদ্যের ফল, বহু পুষ্টিতে এক বিন্দু ধাতু উতপন্ন হয়, তা বড়ই পবিত্র, বড়ই সৃষ্টিশীল। সে মহান জিনিশ আমরা ওদের ডান করব, এটা আমাদের মেহেরবানি, এর জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কিন্তু ইহুদিরা মালাউনরা কবে কৃতজ্ঞ থেকেছে, শুকরিয়া জানিয়েছে? সীতাপুর গ্রামটিকে আমরা প্রথমে বেছে নিই। এই নামটা কেন যেন আমার পছন্দ হয়, হয়ত সীতা ওই মেয়েটির জন্য, মেয়েটিকে আমার প্রতম থেকেই পছন্দ। ওকে আমার ক্ষুব সেক্সি মনে হয়েছিল, যখন ওর জন্মের গল্পটি প্রথম পড়েছিলাম। সে খুবই সেক্সি, একটি বইতে পড়েছিলাম, সে আসলে যোনির সিম্বল, আর রাম হচ্ছে শিশ্নের সিম্বল; তাই যোনি ও শিশ্নের গ্রামটিকেই আমরা প্রথমে বেছে নিই। প্রতিটি পাড়াকে আমরা ঘিরে ফেলি, যাতে কেউ পুকুরেও লাফ দিয়ে না পালাতে পারে, জঙ্গলে গিয়ে লুকাতে না পারে, পায়খানায় গিয়ে বসে থাকতে না পারে, এমনকি গলায় দড়িও না দিতে পারে। জিহাদিরা অতন্ত্র প্রহরী। ক্রমশ....