মোদী ফেক সেকুলার দের মতন আচরন করেনা।
এর জন্যই মোদী বেস্ট,
ভোটের জন্য তোষন করে মোদী ক্ষমতায় আসেনি।
কোনো জাত পাত করেও আসেনি,
মোদী এসেছে উন্নয়ন করতে, আর সেটা উনি করবেই,
এতে কোন সম্প্রদায় ভোট দিলো কি না দিলো কিছু এসে যায়না।
তোরা মোদীর নামে যতই ফেক ছবি বানা,
এতে মোদীর কিছুই হবেনা, বরঞ্চ মোদীর লাভ টাই বেশি হবে।
জয় মোদী রাজ।
হর হর মোদী
ঘড় ঘড় মোদী —
''আমি গর্বিত,আমি হিন্দু" "দিব্যজ্ঞান নয় কান্ডজ্ঞান দরকার" This blog is about Hindu Religion.we are collecting posts from many pages of facebook.some time you think that we giving hate speeches but this is not true we just give information and news. https://m.facebook.com/WERHINDU https://m.facebook.com/nationslisthindu #NationalistHindu
Monday, 13 July 2015
কংগ্রেস নেতারা
কংগ্রেস নেতারা ভেবেছিলেন যে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সফল স্বাধীনতা আন্দোলন করতে গেলে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-জৈন-বৌদ্ধ সবাইকে নিয়েই করতে হবে বা সবাইকে স্বাধীনতা আন্দোলনে সামিল করতে হবে। যেহেতু জনগোষ্ঠী হিসাবে হিন্দু ও মুসলমানরা সং্খ্যায় বেশী, তাই উপরোক্ত নীতির অর্থ দাঁড়াল এই যে হিন্দু ও মুসলমানকে সমানভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে সামিল করতে হবে, সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।।
কিন্তু মুশকিল হল যে, মুসলমানের কাছে দেশ বড় নয়, বড় হল ইসলাম।
তাই তারা কংগ্রেসকে সরাসরি একটা হিন্দুদের রাজনৈতিক দল বলে ঘোষনা করল, এবং তাদের অধীনে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিতে অস্বীকার করল।
সেই তখন থেকে শুরু হল কংগ্রেসের "মুসলিম তোষন"এর রাজনীতি, এবং ভারতের সবচেয়ে বড় মুসলমান তোষনকারী দল হল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।।
এবং অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে এই কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে গান্ধিজী পর্যন্ত বলেছিলেন যে-" জাতীয় অন্দোলনে মুসলমানরা কোনো আগ্রহ দেখায়নি........মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সত্য। তারা ভারতকে নিজের দেশ বলে মনে করে না।"
ওদের জন্য বিগ্ বাজার আমরা হলেই লালবাজার!!!!
গত বছর ২৯শে নভেম্বর সিদ্দিকুল্লার "জামায়েতে" সমর্থকেরা প্রায় বিনা প্ররোচনায় পুলিশের ওপর কি রকম হামলা করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ পুরনো খবর কাগজ খুললেই পেয়ে যাবেন । এই "জামায়েত" হয়েছিল কিন্তু বিনা অনুমতিতে । একটি বিশাল সভা আয়োজন করার যে প্রস্তুতি আর অনুমতির লিস্টি লাগে , তার প্রায় কোনোটাই পূরণ না করা সত্ত্বেও সেই সমাবেশে পুলিশ কোনরকম আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে নি ।
কাট টু
১০ই জুলাই , শুক্রবার ।
নাবালিকা টুকটুকি মন্ডলের অপহরণ এবং ৭০ দিন নিরুদ্দেশ থাকার পর'ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে হাজরা মোড়ের পথসভায় প্রায় বিনা প্ররোচনাতেই পুলিশ গ্রেপ্তার করলো কিছু মানুষকে । কারণ ? আইন শৃঙ্খলার অবনতি হবে অনুমান করে ।
পুলিশের অনুমান ক্ষমতাকে কুর্ণিশ । এবং সাধুবাদ জানাই প্রতিবাদী নামক প্রজাতি'দের শক্ত হাতে দমন করার জন্য ।
আহা , ব্যপারখানা বুঝতে হবে কিনা ?
ওদের জন্য বিগবাজার ,
আমরা হলেই লালবাজার ।
যাইহোক , টুকটুকি মন্ডল এখন'ও নিরুদ্দেশ । প্রতিবাদ দানা বাঁধছে সর্বত্র । গত কয়েকদিন আমেরিকা , ব্রিটেন , অস্ট্রেলিয়া সহ ভিন্ন দেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা টুকটুকি'র জন্য প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন ।
টুকটুকি'কে যে কোন মূল্যে ফেরত চাই ।
# savetuktuki4mga zi
Crpc 151(C)
অথঃ শ্রী Crpc 151(C) ধারাঃ
নাবালিকা টুকটুকিকে বাবুসোনা গাজীর হাত থেকে উদ্ধারের দাবীতে ‘জন অধিকার মঞ্চে’র সমর্থকরা গত ১০ই জুলাই সন্ধ্যে ঠিক ৬টার সময় কলকাতার হাজরায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গেলে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে একসময় দেশ বিদেশের বিপুল চাপে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান অনুরাগী পুলিশ তাদেরকে ব্যাক্তিগত জামিনে মুক্তি দিতে বাধ্য হলেও তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু Crpc’র 151C ধারায় অভিযোগ দায়ের করতে ছাড়ে নি। আজ ১৩ই জুলাই আলিপুর কোর্টে যার শুনানী হতে চলেছে।
আসুন এবার একটু জেনে নি, ... এই Crpc’র 151C ধারাটি আসলে কি? ... খায় না গায়ে দেয়...??
সেকসান 151 হল ক্রিমিনাল প্রসিডিওরের এমন একটি ধারা, যার বলে একজন কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন, যে এমন একটি অপরাধ সংঘটিত হতে চলেছে, যে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি বা ব্যাক্তিবর্গকে গ্রেফতার না করলে পরবর্তিতে তা আইনশৃঙ্খলাজনিত চূড়ান্ত অব্যবস্থার সৃষ্টি করতে পারে, সেক্ষেত্রে তিনি তার পদাধিকার বলে ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন ওয়ারেন্ট ছাড়াই ২৪ ঘন্টার জন্য তাদের অবরুদ্ধ করতে পারেন, যার সময়সীমা শর্তসাপেক্ষে ২৪ ঘণ্টার পরবর্তী সময়েও বর্ধিত করা যেতে পারে। আর C ফর? আমাদের Calcutta…..
আচ্ছা...? যে বিক্ষোভকালের স্থায়িত্ব কাল ১ মিনিটেরও কম, তার জন্য এই ধারা প্রয়োগের কথায় সম্ভবত ঘোড়াতেও হাঁসার কথা!
- সে যাই হোক...।।সময়, অর্থ সবকিছুর অপচয় করে আদালতের সন্মানরক্ষার্থে, অফিস কাছারি, ঘর-সংসারের সব কাজ ফেলে নিতান্ত হয়রান হয়ে আমার বন্ধুরা আজ হাজির হবেন মহামান্য আদালতের কাঠগড়ায়। অর্পিতাও যাবেন তার একরত্তি শিশুটিকে বাড়িতে ফেলে রেখে...।। – প্রযত্নে একটি নাবালিকার মুক্তি চেয়ে জনতার দরবারে বিচার চাওয়ার অপরাধ...।।
সেখানে তাদের কি করতে হবে?
দুটি পথ .... তাদের জন্যে খোলা থাকবে। - এক হয় জামিনের বরাদ্দ অর্থদন্ড জমা রেখে নিজেদের অপরাধ(?) কবুল করে নাকখতে দিয়ে বাড়ির পথ দেখা...। নতুবা এই সীমাহীন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক এই অভিযোগটির প্রতি চূড়ান্ত অনাস্থা এনে বিরোধিতা জানিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই(Contest) লড়া।
প্রথম ক্ষেত্রে বিবেক দংশন .... আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আরও বেশ কয়েকবার আদালতে হাজিরা দিতে কালঘাম ছুটিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার গৌরব...।।
সুধী,.....
অত্যান্ত অহঙ্কারের সঙ্গে জানাচ্ছি, সেদিনের লালবাজারে হাতেখড়ি হওয়া আমার সতীর্থদের প্রায় সকলেই সহমত যে, তারা প্রয়োজনে জেলের ঘানি টানতেও রাজী।... কিন্তু বন্ডের টাকা জমা দিয়ে অন্যায় আবদারের কাছে নতি স্বীকার ... ??
- নৈব নৈব চঃ।।
কিছুতেই মাথা নিচু করে আদালত চত্বর তারা ছাড়বেন না।......
This is Called “The Spirit”. ….. Hats off you Sir/Madam…… Raja Debnath
জাকির নায়েকের মিথ্যাচার:
হিন্দুধর্মে
বহুবিবাহ অনুমোদিত
জাকির নায়েকসহ ইসলামিক ও
অন্যান্য ধর্মের অনেক
অপপ্রচারকারীরাইনিজেদেরকে
বাঁচানোর জন্য দাবী করে যে
হিন্দুধর্মে বহুবিবাহ অনুমোদিত।এর
মাধ্যমে তাদের নিজেদের
ধর্মগুলোতে বহুবিবাহের অনুমোদনের
পক্ষে একটি সমর্থন পাওয়ার ব্যর্থ
চেষ্টা চালায় তারা।প্রকৃত সত্য
দেখে নেয়া যাক।
ঋগবেদ এর তিনটি মন্ত্র যথাক্রমে
১.২৪.৭,৪.৩.২ ও ১০.৭১.৪ এ বলা হয়েছে
"যায়েব পত্য উষতে সুভাসহ অর্থাত্
যেভাবে জ্ঞানীগন জ্ঞানপ্রাপ্ত হন
ঠিক সেভাবে একক পতি-পত্নীযুক্ত
সংসার আনন্দ ও সুখ লাভ করে।
ঋগবেদ ১০.৮৫.২৩ এ বলা হয়েছে
স্বামী ও স্ত্রীর সবসময় উচিত পুনরায়
বিয়ে না করার ব্যপারে সংযমী
হওয়া।
অথর্ববেদ ৭.৩৮.৪ বলেছে "স্বামীর
উচিত শুধু একমাত্র স্ত্রীর প্রতি
অনুরক্ত থাকা।দ্বিতীয় কোন নারীর
প্রতি অনুরাগ তো দুরে থাক,অন্যকোন
নারী সম্বন্ধে তার আলোচনাও করা
উচিত নয়।"
বহুবিবাহ নিষিদ্ধের এর চেয়ে স্পষ্ট
নিদর্শন আর কি থাকতে পারে!
ঋগবেদ ১০.১০৫.৮ বলেছে যে একাধিক
স্ত্রীর অস্তিত্ব মানেই জাগতিক
সকল দুঃখের আনায়ন।
ঋগবেদ ১০.১০১.১১ বলেছে দুই
স্ত্রীযুক্ত ব্যক্তিকে সেভাবেই
কাঁদতে হয় ঠিক যেভাবে চলমান
রথের ঘোড়া উভয় দিক থেকে চাবুক
এর আঘাতে হ্রেষা রব করে!
ঋগবেদ ১০.১০১.১১ এও বলেছে যে
একাধিক স্ত্রী জীবনকে লক্ষহীন
করে তোলে।
অথর্ববেদ ৩.১৮.২ বলেছে একজন
নারীর কখনো যেন কোন সতীন(Co-
wife) না হয়।
এখন আসা যাক জাকির নায়েক এর
দ্বিতীয় ভন্ডামী যুক্তি যা তিনি
দিয়েছেন যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ ও
অতুলনীয় শ্রীরামচন্দ্রকেনিয়ে।
তিনি দাবী করেছেন যে মহাভারত
অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণের স্ত্রীসংখ্যা
নাকি ১৬১০৮ এবং শ্রীকৃষ্ণ যদি
বহুবিবাহ করতে পারে তাহলে
সাধারন হিন্দুদের সমস্যা কি!
উত্তরে বলা যেতে পারে যে সব
জায়গায় ইসলামিক তাকিয়ার
ভন্ডামী চলেনা জাকির সাহেব!
শ্রীকৃষ্ণের বহুবিবাহের এই ভূল তথ্যটি
পাওয়া যায় দুইভাই জয়দেব এর লেখা
গীতগোবিন্দ ও বোপদেব এর লেখা
ভাগবতাম নামক একটি গ্রন্থে যা
কোনভাবেই বৈদিক কোন গ্রন্থ নয়
এবং শ্রীকৃষ্ণের জীবনী সম্বন্ধে
একমাত্র গ্রহনযোগ্য গ্রন্থ ব্যসদেব এর
মহাভারত।সেই ব্যসদেব মহাভারতে
তাঁর সম্বন্ধে কি লেখা আছে দেখা
যাক-
"শ্রীকৃষ্ণের একমাত্র স্ত্রী ছিলেন
রুক্সিনীদেবী যিনি ছিলেন পরম
ধার্মিক,বিদূষী ও পতিব্রতা।সন্তান
জন্মদানের পূর্বে তাঁরা উভয়েই
বদরিকাশ্রমে যান ও দীর্ঘ বারবছর
কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করেন।এরপর
রুক্সিনীদেবী এক পুত্র সন্তানের
জন্ম দেন যার নাম রাখা হয় প্রদ্যুম্ন।"
[ব্যসকৃত মহাভারত,সৌপ্তিকাপর্ব,
২/২৯-৩০,তথ্যসূত্র-শ্রীকৃষ্ণের জীবনী
নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর
৩৬ বছরের সুদীর্ঘ গবেষনালব্ধ
ফলাফল]
এখন আসা যাক শ্রীরামচন্দ্রের
ব্যপারে তার দাবী নিয়ে।অজ্ঞ
জাকির দাবী করেছেন যে যেহেতু
শ্রীরামচন্দ্রেরপিতা রাজা দশরথ
চারটি বিয়ে করেছিলেন সেহেতু
হিন্দুধর্মে চারটি বিয়ে অনুমোদিত!
এক্ষনে প্রমানিত হল যে হিন্দুধর্ম
সম্বন্ধে জাকিরের নূন্যতম জ্ঞান ও
নেই!
রামায়ন ও মহাভারতকে বলা হয়
হিন্দুধর্মের প্রামান্য ধর্মশাস্ত্র
অর্থাত্ এই দুটি শাস্ত্রে বর্ণিত ঘটনা
ও তাদের ফলাফলগুলোকে পর্যবেক্ষন
করে একজন হিন্দু তার জীবনবিধি
সম্বন্ধে দিকনির্দেশনা পেতে
পারে।বেদে যেসকল জীবনবিধি
দেয়া হয়েছে সেগুলো মানা বা না
মানার বাস্তব ফলাফল প্রতিফলিত
হয়েছে এই গ্রন্থ দুটিতে।
রাজা দশরথের ক্ষেত্রে কি দেখতে
পাই?অলঙ্ঘনীয় বেদ নির্দেশিত
এককবিবাহ না মেনে তিনি একাধিক
বিয়ে করেন আর ফলশ্রুতিতে দুঃখময়
অকালমৃত্যু,ছেলের বনবাস,রাজ্যময়
শোক এর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
এ থেকে একজন হিন্দু বুঝতে পারেন
যে বেদে বহুবিবাহের নিষেধাজ্ঞা
কতটা যুক্তিসংগত!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে
আপনারা সকলেই জানেন যে
বহুবিবাহের ক্ষতিকর দিকের শেষ
নেই।জনসংখ্যা বিস্ফোরন,
সামাজিক বিশৃঙ্খলা,সেক্স
ট্রান্সমিটেড ও কমুনিকেবল ডিসিস
এর প্রাদুর্ভাবসহ অসংখ্য ক্ষতিকর
প্রভাব আছে এর।বর্তমান যুগে
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা রোধে
যেখানে সভ্য দেশগুলো বহুবিবাহকে
নিরুত্সাহিত করছে সেখানে এইসব
অজ্ঞ ও উগ্র ধর্মান্ধরা তাদের
মধ্যযুগীয় এ বর্বর সভ্যতাকে অন্যদের
উপর চাপানোর চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে!
ভারত সরকার এই বিষয়টিকে মাথায়
রেখে ১৯৫৪ সালে আইন করে
হিন্দুদের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে।
সুতরাং এইসব ভন্ডদের বিরুদ্ধে রুখে
দাড়ান।ছড়িয়ে দিন বৈদিক সত্যের
এই বানীকে।
ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি
অশোক ভারতের মৌর্য রাজবংশের তৃতীয় সম্রাট।
অশোক ভারতের মৌর্য রাজবংশের তৃতীয় সম্রাট। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০৪ অব্দে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তার আদর্শ ছিল সত্যবাদী।
সম্রাট বিন্দুসার -এর ঔরসে রানি ধর্মা-র গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁকে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয়ে থাকে। দেবতাপ্রিয় প্রিয়দর্শী ও ' ধর্মা' ছিল তার উপাধি।
অশোক তাঁর সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জন্য মৌর্য সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন ছিলেন ও সেনাবাহিনীর এক বড় অংশের পরিচালক ছিলেন। অশোকের এই শক্তিবৃদ্ধি বাকি ভাইদের ঈর্ষান্বিত করে তোলে; সুসীম, বিন্দুসারের জ্যেষ্ঠ পুত্র তার উত্তরাধিকার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সুসীমের অপদার্থতায় তক্ষশীলা য় বিদ্রোহ দেখা দেয়। সুসীমেরই চক্রান্তে বিন্দুসার অশোককে সেখানে বিদ্রোহে দমনে পাঠান। অশোক আসার খবরে সেনাবাহিনী উজ্জীবিত হয়ে ওঠে, পরে বিদ্রোহী সেনারাও তাঁর আগমনে বিদ্রোহের পথ ত্যাগ করে ও বিনাযুদ্ধে অশোক বিদ্রোহ দমন করে ফেলেন।
যখন বিন্দুসারের অসুস্হতার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন অশোক মগধের বাইরে ছিলেন। এরপর বিন্দুসারের পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের দখল নিয়ে রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব শুরু হ্য়। অন্যান্য ভাইদের পরাজিত ও হত্যা করে সিংহাসন দখল করেছিলেন।
তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩ অব্দের দিকে সিংহাসন লাভ করেছিলেন।
রাজা হওয়ার পরই অশোক সাম্রাজ্য বিস্তারে মনোযোগী হন। তিনি পূর্বে বর্তমান আসাম ও বাংলাদেশ, পশ্চিমে ইরান ও আফগানিস্তান , উত্তরে পামীর গ্রন্থি থেকে প্রায় সমগ্র দক্ষিণ ভারত নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।
খ্রীষ্টপূর্ব ২৬০-৬৩ অব্দের দিকে তিনি কলিঙ্গ রাজ্য জয় করেন। এই যুদ্ধে কলিঙ্গবাসী সর্বশক্তি দিয়ে অশোককের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরও কলিঙ্গবাসী পরাজিত হয়। এই যুদ্ধে এক লক্ষ নরনারী প্রাণ হারায় এবং প্রায় দেড়লক্ষ নরনারী বন্দী হয়। এই যুদ্ধের এই বীভৎসতা সম্রাট অশোককে বিষাদগ্রস্থ করে তোলে। পরে তিনি যুদ্ধের পথত্যাগ অহিংসার পথে সাম্রাজ্য পরিচালনের নীতি গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ক্রমে ক্রমে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি বিশেষভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং উপগুপ্ত নামক এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর কাছে দীক্ষা নিয়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি অহিংসা নীতি গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর গুরু উপগুপ্তকে সাথে নিয়ে কপিলাবস্তু, লুম্বিনী, কুশীনগর, বুদ্ধগয়া- সহ নানা স্থানে ভ্রমণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার করেন। এই সময় তিনি নানা স্থানে স্তূপ, স্তম্ভ এবং পাহাড়ের গায়ে বুদ্ধের বাণী লিপিবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করেন। জনকল্যাণের জন্য তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। জলকষ্ট দূরীকরণের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জলাশয় তৈরি করে দেন। অশোকের এই অহিংস নীতির কারণে, তাঁর সাথে প্রতিবেশী রাজ্য এবং গ্রিকদের সাথে বিশেষ সখ্যতা গড়ে উঠে।
অশোকলিপি অশোক নানারকমের বাণী পাহাড়ের গায়ে, পাথরের স্তম্ভে, পর্বতগুহায় লিপিবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থা করেন। যে সকল লিপিতে এই বাণী লেখা হয়েছিল, সে সকল লিপিকে সাধারণভাবে অশোকলিপি বলা হয়। এই সকল বাণী লেখা হয়েছিল ব্রাহ্মীলিপি ও খরোষ্ঠীলিপি তে।
এরপর অশোক দেশে ও বিদেশে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে উদ্যোগী হন। এই উদেশ্যে তিনি বিভিন্ন জায়গায় তাঁর প্রতিনিধিদের পাঠান। তাঁর পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রা কে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে শ্রীলঙ্কা পাঠান। এছাড়া তিনি কাশ্মীর, গান্ধার , ভানাভাসী , কোংকন , মহারাষ্ট্র , ব্যাকট্রিয়া, নেপাল , থাইল্যান্ড , ব্রহ্মদেশ , লাক্ষাদ্বীপ প্রভৃতি স্থানেও বৌদ্ধধর্ম প্রচার করান।
অশোকস্তম্ভ ও অশোকচক্র তার দুই অমর সৃষ্টি। বর্তমানে অশোকস্তম্ভকে ভারত প্রজতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক করা হয়েছে। আর অশোকচক্র ভারতের জাতীয় পতাকার মধ্যে স্থাপিত হয়েছে।
সত্যমেব জয়তে।
কেন ভারতের ইতিহাস পৃথিবীর ইতিহাসের বয়স জানতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেয়?
কেন ভারতের ইতিহাস পৃথিবীর ইতিহাসের বয়স জানতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেয় তার একটি ছোট্ট উদাহরণ----------------------------------
►প্রস্তর যুগ [Stone Age]: - ভারতে প্রথম কবে মানুষ বসবাস শুরু করে, সঠিকভাবে তা বলা যায় না । মধ্যপ্রদেশের হোসংগাবাদ শহরের নিকটবর্তী হাথনোরা গ্রামের কাছে ভারতের প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শনটি পাওয়া গেছে । এর সময় সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় নি। অনুমান করা হয়েছে এর বয়স বড়োজোর ৫ লক্ষ বছর হবে । প্রাক্ঐতিহাসিক যুগের কোনো লিখিত বিবরণ পাওয়া যায় না । কারণ তখন মানুষ লিখতে পড়তে জানত না । একমাত্র তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও অস্ত্রশস্ত্র থেকে তাদের কথা জানতে পারা যায় । তখন মানুষ পাথরের সাহায্যে যন্ত্রপাতি তৈরি করত বলে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এই যুগকে ‘প্রস্তর যুগ’ [ Stone Age] বলে অভিহিত করেছেন ।
প্রস্তর যুগকে আবার তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে ,যথা- (১) পুরাপ্রস্তর যুগ [Palaeolithic Age বা Old Stone Age] ,
(২) মধ্যপ্রস্তর যুগ [Mesolithic Age বা Middle Stone Age], ও
(৩) নব্য প্রস্তর যুগ [Neolithic Age বা New Stone Age] ।
(১) পুরাপ্রস্তর যুগ [Palaeolithic Age বা Old Stone Age] :-----''' পুরাপ্রস্তর যুগের বিবর্তন দীর্ঘকাল জুড়ে চলেছিল । আনুমানিক ১০,০০০ বছর আগে, অর্থাৎ, ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পুরাপ্রস্তর যুগ শেষ হয় । এ সময় মানুষ চাষাবাদ করতে জানত না । তারা ছিল যাযাবর; ছোট ছোট গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত । গাছের ফল ও পশুর মাংস ছিল তাদের প্রধান খাদ্য । এ সময় মানুষ ছিল খাদ্য সংগ্রহকারী । চাষবাস করে ফসল ফলাতে বা উৎপাদন করতে জানত না । পশু শিকারের জন্য তারা নানা ধরনের পাথরের অস্ত্র ব্যবহার করত । গঙ্গা, যমুনা ও সিন্ধু উপত্যকার সমভূমি বাদ দিলে সারা ভারতের বিভিন্ন স্থানে এগুলির নিদর্শন পাওয়া গেছে । এগুলির মধ্যে হাত কুঠার ছিল সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ । পশ্চিম পাঞ্জাবের সোয়ান নদীর অববাহিকায় হাত কুঠারের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
(২) মধ্যপ্রস্তর যুগ [Mesolithic Age বা Middle Stone Age] :----------ভারতে মধ্যপ্রস্তর যুগ আনুমানিক ৮০০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল । তবে ভারতের বাইরে অন্য অনেক জায়গায় এই যুগ অনুপস্থিত । সেইসব জায়গায় পুরাপ্রস্তরের পর সরাসরি নব্যপ্রস্তর যুগ শুরু হয় । এই সময়ও মানুষ ছিল খাদ্য সংগ্রহকারী, খাদ্য উৎপাদক নয় । কারণ তখনও পর্যন্ত মানুষ চাষ-আবাদ করতে শেখেনি । তবে পাথরের অস্ত্রগুলি এই সময় আয়তনে ছোটো হয়ে যায় । এই সময়ের অস্ত্রগুলিকে মাইক্রোলিথ (Microlith) বলা হয়; অর্থাৎ, ছোটো, শক্ত ও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ত্রিকোণাকার । মৃৎশিল্পে ও চিত্রশিল্পেও মানুষ বেশ পটু হয়ে উঠে । মধ্যপ্রদেশের ভিমবেটকার গুহাচিত্র এ সময়ের উল্লেখ্য চিত্রশিল্পের নিদর্শন।
(৩) নব্যপ্রস্তর যুগ [Neolithic Age বা New Stone Age] :-------------আঞ্চলিক বৈষম্যগুলি ধরে মোটামুটিভাবে বলা যায়, খ্রি.পূ.৪০০০ অব্দ থেকে ভারতে নব্যপ্রস্তর যুগ শুরু হয় । মানুষ এ সময় কৃষিকাজ ও পশুপালন আয়ত্তে আনে এবং খাদ্য উৎপাদক হয়ে ওঠে । কাজেই মানুষ ক্রমশ: যাযাবরবৃত্তি ত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে । মাটি ও বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরি করা শিখে নেয় । বস্ত্রবয়ন শিল্প বিকশিত হয় । মৃতশিল্পের উন্নতি হয় । অস্ত্র ও যন্ত্রপাতিও আগের তুলনায় অনেক উন্নত, মসৃণ ও মজবুত হয় । আগুনের ব্যবহারেও মানুষ সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠে । মেহেরগড় এ যুগের সভ্যতা ।
সত্যের জয় হোক।
Subscribe to:
Posts (Atom)