Monday, 27 July 2015

Braking_News

***সুখবর***সুখবর***সুখবর*** আজ হৃদয়টা আনন্দে নেচে উঠছে বাববার।সারাদিন অনেকগুলো সুখবর পাচ্ছি।মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার পাশ্চাত্য নাস্তিক তথা ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের প্রাণের খাদ্য মদ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। আমাদের অনেকদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।সৃতিশাস্ত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ মনূসংহিতায় পাচটি মহাপাপের মধ্যে দ্বিতীয় মহাপাপ হল এই মদ্যপান বা সূরাপান। ‪#‎ জয়শ্রীরাম‬ হিন্দু রাষ্ট্র ভারত মাতা কি-জয়। ‪#‎ RSS‬

Kajjribal

‪#Shame_khujli‬ আম আদমি পার্টি বিহার নির্বাচনে ভোটে লড়বেনা।কিন্তু বিহারে বিজেপি (মোদী) বিরুদ্ধে প্রচার কোরবে, বিহারকে জঙ্গল রাজে পরিণত করা ‪#লালুর‬বিরুদ্ধে প্রচার করবে না! ৯৪০ হাজার কোটি টাকা দূর্নীতি করা লালুর বিরূদ্ধে প্রচার করবে, ৬০ বছর ধরে দুর্নীতি করা সনিয়া গান্ধী র খংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়বে...!!!!!

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ১২

এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ১২ মালাউ্নদের(হিন্দু) পাড়ায় আগে আমি বেশি যাই নি। ইস্কুলে পড়ার সময় স্যারের বাড়িতে যেতাম প্রাইভেট পড়তে, স্যারকে দেখার আগে তার মেয়ে ছবিকে দেখতাম, স্যারের আগে ছবিই আসত ছবির মতো হয়ে, একটা সুগন্ধ পেতাম, গাঁদা আর বকুলের মেশানো গন্ধ, যা কোনো মুছলমান মেয়েকে দেখলে পেতাম না; নানাবাড়ি যাওয়ার সময় দেখতাম পুকুর পাড়ে স্নান করার আগে গোয়ালবাড়ির শাদা শাদা মেয়েগুলো শাড়ি হাঁটু পর্যন্ত তুলে চড়চড় করে প্রস্রাব করছে; আমি অদ্ভুত একটা গন্ধ পেতাম। কিন্তু মালাউনদের বাড়িতে বেশি যাই নি, এবারই আমার নিবিড় সৌভাগ্য হল মালাউনগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষনের। আমরা পাড়ায় পাড়ায় যাই, যেতে ভালোলাগে। আসার আগে বলি, ‘দেখেন ভোটের দিন গোলমাল হতে পারে,খুনটুনও হয়ে যেতে পারে; আপনারা ভোট দিতে যাবেন কি যাবেন না, ওইদিন বাড়ি থেকে বের হবেন কি হবেন না, তা একটু ভেবে দেখবেন; জানেনই তো এবার আমরা পাশ করবো, আপনাগো দালালরা পারবে না।’ তারা বলে, ‘সেই কতা আমরা জানি, তাগো আর ভোট দিমু না, ভোট দিতেই যামু না, ভোট দিলে আপনাগোই দিমু, আমরা তাগো ভোট দিমু ক্যান, আমরা কি তাগো বান্দা গোলাম?’ তবে মালাউনদের(হিন্দু) বিশ্বাস করা যায় না, ওরা চিরকাল বেইমান; আমরা শুধু ওদের কথার ওপর চলতে পারি না। ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি, তারাও বুঝতে পেরেছে। শুধু এভাবে বোঝালে বা বুঝলেই চলবে না; বোঝানোর জন্য দু-একটি উদাহরনও ওদের চোখের সামনে থাকা ভালো; মানুষ কখনও কথায় বোঝে না, উদাহরনে সহজে বোঝে, এমনভাবে বোঝে যে আর ভোলে না। আমরা আগেই ঠিক করে রেখেছি গোপালচন্দ্রের বাড়িটা, হারামজাদাটা প্পয়সা করেছে, সালাম দেয় না আগের মত, মালপানিও দেয় না, আবার দালালদের পার্টি করে। ওর বাড়িটা ঠিক করে রেখেছি, বেশি কিছু নয়, সন্ধ্যার পর আমাদের কয়েক জিহাদি ও মেইন পার্টির কয়েক খিলজি যাবে, এদিকে ওদিকে কয়েক গ্যালন পেট্রল ছড়াবে, আর কয়েকটি ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে ছুড়ে দিয়ে আসবে। তাতে কাজ হবে, কাজও হয়; ওই সন্ধ্যায় গোপালচন্দ্রের বাড়িটা একটু দাউদাউ করে ওঠে, তখন আমরা কয়েকজন অসি সাহেবের সঙ্গে একটু ব্ল্যাক লেবেল একটু সিভাস রিগ্যাল টেষ্ট করছিলাম। অসি বাঞ্চতটা পঞ্চাশ হাজার চেয়েছিলো, আমি দশ হাজার দিয়েছিলাম; এখন ওই বহিনফাকার বাঞ্চতটা আমার পেছনে ঘোরে, ওর চাকুরিটা আর নেই; আমি পঞ্চাশ লাখ চেয়েছি ও বিশ লাখ দিতে চায়। হারামজাদার চাকুরিটা ফিরিয়ে দেব, যদি পঞ্চাশ লাখ দেয়; মাদারচোতটা দেবে, বাঞ্চতটা কয়েক বছরে কয়েক কোটি জমিয়েছে; উত্ত্রায় বাড়ি করেছে দু-নম্বর বউ এর নামে। ওর দু-নম্বর বউটা নাকি টিকবে না, সে এখন একটা ঋনখেলাপির সাথে ঘুমোতে বাঙ্কক যায়, উত্ত্রায় ঘুমিয়ে সে সুক্ষ পায় না। কাজ হয়েছিল; একদিনের জন্য আমরা মেইন পার্টির মহীয়সী লিডাররেসের কথায় শান্তির কবুতর, পায়রা, ঘুঘু, চিল, শকুন,বাজ, কাক- যাই বলি না কেন হয়েছিলাম। আমরা দলে দলে শান্তির কবুতর, পায়রা, ঘুঘু,চিল, শকুনরা অস্থিরভাবে আকাশে উড়ছিলাম।

হর হর মহাদেব

একটু আগে কাকভেজা হয়ে বাড়ী ফিরলাম । এই দুর্যোগের মাঝেই দেখছি শুশুনিয়ার ঝরনার জল কাঁধে নিয়ে অনেক ভক্ত গেরুয়া পোশাক পরে 'হর হর মহাদেব' ধ্বনি দিয়ে মসজিদ কাঁপিয়ে যাচ্ছে,বাদ যায়নি মেয়ে রাও । এই দুর্যোগে ভিজে যারা পায়ে হেঁটে শিবের মাথায় জল ঢালতে যাচ্ছে তাদের ভেতর অর্ধেক হিন্দুত্ববাদী আর অর্ধেক সুপ্ত হিন্দুত্ববাদী । আজকে তারা হিন্দুত্ববাদীদের সংস্পর্শে এসে সাম্প্রদায়িক ভেবেছে নিজেদের । এই মুহুর্তে যদি হিন্দু সংগঠন গুলো শিব মন্দির গুলিতে ক্যাম্প করে হিন্দুত্ববাদ প্রচার করে তাহলে মনে হয় ধর্মনিরপেক্ষদেরবিনাশ হবে এবং হিন্দুত্ববাদ জাগ্রত হবে । এই ব্যাপারটা একবার মাঠে চেষ্টা করে দেখি ফলাফল কি হয় । এখনও তিনটে রবিবার বাকি আছে বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর শিব মন্দিরের কাছে যদি কোন অনুষ্ঠান করতে পারি । লিফলেট তৈরী করে গো হত্যা বন্ধ,লাভ জিহাদ,জনসংখ্যা বৃদ্ধি এগুলো নিয়ে প্রচার করব ভাবছি । রথ দেখা কলাবেচা দুটোই হবে ।

Saturday, 25 July 2015

Rain in Bengal

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী বর্ষণের খবর এসেছে বীরভূম থেকে। কমবেশি সব ব্লকেই জল জমে রয়েছে। ফুঁসছে ময়ূরাক্ষী। খয়রাশোলে ভেসে গিয়েছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। তিলপাড়া ব্যারেজের জল ছাড়া হয়েছে Till now the news of maximum rainfall has come from Birbhum district where there is water logging in almost all blocks. River Mayurakshi is flowing above danger limit. At Khoyerashol National Highway 60 is under water. Water has been released from Tilpara barrage

বাকাই হরি গোবিন্দ সংস্কৃত কলেজ

বরিশাল বিভাগের একমাত্র কলেজ গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই গ্রামের প্রতিষ্ঠিত “বাকাই হরি গোবিন্দ সংস্কৃত কলেজ”। কলেজ অধ্যক্ষর মাসিক আয় ১৪৯ টাকা ৫০ পয়সা। তার বছরে একত্রে একবারে তুলতে হয়। সংস্কৃত কলেজর শিক্ষকদের অমানবিক জীবন ধারণের বিষয়টি অধিকাংশ লোকের অজানা। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্কৃত শিক্ষা বোর্ডর অধিনে পরিচালিত সংস্কৃত কলেজ কর্মরত শিক্ষকদের মানবতার জীবন জাপন। এই কলেজে কর্মরতদের নেই কোন বেতন-ভাতা। তারা শুধু পেয়ে থাকে মহার্ঘ ভাতা! অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মরত শিক্ষকতা পেশায় কর্মজীবিরা া সম্মানসূচক ডিগ্রী গ্রহণ করে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি বৃটিশ থেকে স্বাধীন বাংলায় ১২২ বছরেও। “বাতির নীচে অন্ধকার” প্রবাদের এই বচনটি সংস্কৃত কলেজে পুরোপুরি সত্য। বাকাই হরি গোবিন্দ সংস্কৃত কলেজ’র অধ্যক্ষ নিখিল রায় চৌধুরী তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বিখ্যাত পন্ডিত হরি গোবিন্দ রায় চৌধুরী ১২২ বছর পূর্বে বাংলা ১৩০০ খ্রীঃ মোতাবেক ইংরেজী ১৮৯৩ সালে নিজের ১ একর ১০ শতক জমির উপরে নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেন “বাকাই হরি গোবিন্দ সংস্কৃত কলেজ।” ওই যুগে বাবা-মায়েরা তাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার জন্য পন্ডিত মহাশয়ের “টোল” বা পাঠশালায় দিতেন। কালক্রমে পাঠশালাটি কলেজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই কলেজে বর্তমানে পড়ানো হয় কাব্য, ব্যকরণ, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র, পুরাণ, পুরোহিত্য ও স্মৃতি শাস্ত্রসহ ছয়টি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের তিন বছর মেয়াদী কোর্স করতে হয়। শিক্ষকতাসহ বিভিন্ন পেশার পাশাপাশি এই কলেজে অধ্যায়ন করে সামাজিক, সাস্কৃতিক ও ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করে সম্মান সূচক ডিগ্রী গ্রহণ করে অনেকে। সেই শাস্ত্রবিদ তৈরির শিক্ষকরা ধর্মীয় জনগোষ্ঠিকে ধর্মীয় ও শাস্ত্রীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করলেও তারা পয়না দেশের সরকারি সুজক। বর্তমান সমাজে চরমভাবে অবহেলিত ও উপেক্ষিত এই সকল কলেজের শিক্ষকরা। ফলে অর্থনৈতিক দৈন্য দশার কারণে বর্তমান সভ্যতায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। চরম ক্ষোভ নিয়ে অধ্যক্ষ নিখিল রায় চৌধুরী আরও বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে অধ্যক্ষর দ্বায়িত্ব পালন করে আসছি। এই সময়টুকুর মধ্যেই অনেক ছাত্র এখান থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে রাষ্ট্রের বড় পদে আসীন হয়েছেন। এমনকি উপমহাদেশের বিখ্যাত পন্ডিত, শাস্ত্রজ্ঞরা, মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক। কলেজ অধ্যক্ষ নিখিল রায় চৌধুরী আরও বলেন, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংস্কৃত ও পালি শিক্ষাবোর্ডর আওতায় কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। পালি বোর্ড ঢাকার কমলাপুরের বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে অবস্থিত। কলেজে অধ্যক্ষসহ তিন জন শিক্ষক ও এক জন অফিস সহকারী কর্মরত রয়েছেন। বর্তমান শিক্ষা বর্ষে কলেজে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। পরিক্ষায় কৃতকার্যদের সনদপত্র দেয়া হয় মন্ত্রণালয় থেকে। দেশে হাতে গোনা কয়েকটা কলেজ থাকলেও সরকারের উদাসীনতার কারণে এর পাঠ্য বই পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়না। পাঠ্য বই সংগ্রহ করতে হয় ভারত থেকে। এমন অর্থনৈতিক দৈন্য দশার মধ্যে কেন এই কলেজে চাকুরী করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পূর্ব পুরুষেরা প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছে সমাজের হিত করার জন্য। তাই তাদের সেই মহৎ চিন্তা চেতনার দিকে তাকিয়ে তাদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য বিনা বেতনে কাজ করছি। ২০০১ সালে ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ থেকে তিন তলার একটি ভবন নির্মান করা হয়। ওই ভবনেই চলছে শিক্ষাসহ আবাসনের কাজ। ক্যাম্পাসে নেই আলাদা ছাত্রাবাস। ছাত্রবাস না থাকায় শিক্ষার্থীদের র্দূভোপোহাতে হয়। অধ্যক্ষ নিখিল রায় চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রীসহ সংশি¬ষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের কাছে সংস্কৃত কলেজের শিক্ষকদের দিকে আশু দৃষ্টি কামনা করছেন। কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ছেলে বিমল রায় চৌধুরী বলেন, কেন যে বাবা এই প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছিলেন জানিনা! যে প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানী-গুনী ব্যক্তিরা শিক্ষার্থী হিসেবে সনদপত্র গ্রহণ করে আর প্রতিষ্ঠানের কথা মনেই রাখেন না। বাকাই হরি গোবিন্দ সংস্কৃত কলেজ’র গভর্নি বডির সভাপতি ও অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, তাদের সম্মানী নিম্ন থেকে অত্যান্ত নিম্ন পর্যায়ে। আর্থিক কারণে তাদের জীবন যাত্রা সত্যি অমানবিক। সরকার সকল শিক্ষাকে যুগোপযোগী, আধুনিকায়ন ও বিজ্ঞান সন্মত করেছে। সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিকায়ন করে আলাদা বোর্ডের মাধ্যমে বেতন কাঠামো নির্ধারন করেছে। দেশে সংস্কৃত কলেজগুলোর সংখ্যা খুব বেশী নয়। তাই তাদের জন্য সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে তাদের অমানবিক জীবন থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি দেয়া উচিৎ। এজন্য সরকারের সংশি¬ষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের নজর দেয়া একান্ত প্রয়োজন।

এক ভয়ার্ত সাঁওতালপল্লি থেকে বলছি...

অনিশ্চয়তার মুখে এ রকমই থতমত সমতলের আদিবাসীরামেয়েটির নাম অনীতা—অনীতা হেমব্রম। বাড়ির দাওয়ার মাটির থামের আড়াল থেকে লজ্জায় মুখ বের করতেই পারছিল না। তাদের উঠানের গাছের ডালিম সবুজাভ হলুদ, দেয়ালে আলপনা আঁকা; কেমন এক শান্তি শান্তি পরিবেশ। অনীতার প্রিয় তৃষ্ণার্ত কাকের গল্প, প্রিয় কবিতার নাম ‘শোভা’, প্রিয় গান ‘আমার সোনার বাংলা’। অথচ সোনার বাংলার বাঙালিরাই তাদের বিপদের সর্বনাম। সবার চোখের জলই সমান নোনা, সবার রক্তই সমান লাল। কিন্তু তা হয়তো নয়। উত্তরবঙ্গের পার্বতীপুরের গহিন মেঠোপথের মাথায় যে গ্রামটির নাম চিড়াকুটা, সেখানকার মানুষের সবই কম। তাদের জমি কম, রক্ত কম লাল, চোখের পানি কম নোনা, অত্যাচার-নির্যাতনও যেন তাদের গা-সওয়া। কমই যদি না হবে, তাহলে এত সহ্য করে কীভাবে? বাঙালির পক্ষে বাঙালি, মুসলমানের ডাক আরেক মুসলমানে শোনে, হিন্দু ও খ্রিষ্টানদেরও সহায়-শক্তি আছে এ দেশে—কিন্তু আদিবাসী সাঁওতালদের কিছুই নেই। চিড়াকুটার সাঁওতাল উচ্ছেদ হলে শিমুলজুড়ির সাঁওতালেরা তাদের আশ্রয় দিতে ভয় পায়। এত ‘নেই’-এর মধ্যেও খুব করে ‘আছে’ তাদের গায়ের রং, চেহারার ধাঁচ আর সাঁওতালি ভাষার বুলি। এই থাকাতেই মস্ত বিপদ। হোটেল-রেস্তোরাঁয় তাদের পাতে কেউ খায় না। তাদের কোনো যুবকের স্বজাতির বাইরের কাউকে ভালোবাসা মানে মৃত্যু ডেকে আনা। তাদের মর্যাদা ও সম্পত্তি দুটোই যেন লুটপাটের বিষয়। এ বছরের ২৪ জানুয়ারির ঘটনা। সকালবেলা চিড়াকুটার কৃষকেরা তাঁদের জমিতে গিয়ে দেখেন, পাশের গ্রামের জনৈক জিয়ারুল-জহুরুল ভ্রাতৃদ্বয় লোকজন নিয়ে হাল চষা শুরু করেছেন। বাধা দিলে তাঁদের একজন পিস্তল বের করেন। সাঁওতালি রক্তে সুপ্ত হুলের স্মৃতি জেগে ওঠে। সাঁওতালি তিরে এক বাঙালির প্রাণ যায়। যথারীতি পুলিশ এসে ২৩ সাঁওতালকে আটক করে। পুলিশ যাওয়ামাত্রই চারপাশের হাজার হাজার বাঙালি মুসলমান নামধারী হামলাকারী ‘পিঁপড়ার মতো আসি’ ঘরদোর লুট করে, বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, ছিনিয়ে নেয় গবাদিপশুসহ অস্থাবর সব সম্পদ। তারপরও অটুট তাদের অপার্থিব সরলতা, সাঁওতালি ঐক্য আর আধুনিক হাহাকার। এর প্রায় পাঁচ মাস পর ১ জুলাই চিড়াকুটায় গিয়ে পেলাম মধ্যবয়সী চ্যালচিউস হেমব্রমকে। কথা বলতে বলতে উত্তেজনায় তড়পাচ্ছিলেন। বলছিলেন ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহের বীর নেতা সিধো-কানো-চাঁদ-ভৈরব ভাই ও তাঁদের ফুলমণি বোনের কথা। কিন্তু যেই বললাম, ‘আপনারা তো সংখ্যায় কম, পারবেন কী করে?’ বাতাস–হারা পতাকা যেমন মিইয়ে পড়ে, লোকটার গলার স্বরও তেমনি নেমে যায়: ‘ওদিকে ভারত এদিকে বাংলাদেশ, কী করব, কোথায় যাব? সংখ্যায় তো আমরা কম! আমারও মারবা ইচ্ছা করে, কিন্তু পারি না!’ পার্বতীপুর থেকে রওনা দিলে মোটরসাইকেলে দুই ঘণ্টার পথ চিড়াকুটা। পথের মধ্যে অবিরত সবুজের সমারোহ, বৃষ্টিভেজা খেতগুলো ধান রোপার জন্য প্রস্তুত। মাটির বা পাকা রাস্তার ওপর ধানের খড় আর ভুট্টা শুকাতে দেওয়া। বৃষ্টিজমা খেতে বা খালে বাচ্চা-বুড়ো মাছ ধরছে। কোথাও কোনো বিপর্যয়ের চিহ্ন নেই। শুধু চিড়াকুটা গ্রামের জমিগুলো ফাঁকা, চাষবাস বন্ধ। পুরো গ্রামে সরকারি স্কুলঘরে পুলিশ ক্যাম্প। আরও এগোলে সাঁওতালপল্লির মাটির ঘরবাড়ি। পাঁচ মাস আগের আগুনের দাগ এখনো এদিকে-ওদিকে। কয়েকটি অঙ্গার হওয়া গাছ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাঙাচোরা টিনের বেড়া, চালহীন কিছু ঘর সাক্ষ্য দিচ্ছে, পাঁচ মাসেও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। সেদিনের পর এলিজাবেথ টুডুর রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না। দুঃস্বপ্নের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে সেদিনের হামলার স্মৃতি। মধ্যবয়সী বিমলা মুর্মুর চোখে এখনো ভাসে সেই সব দৃশ্য: ‘হিসাব ছাড়া লোক আসছে সেদিন আমার ঘরে। আমার দুই ড্রাম চাল, টিভি, সাইকেল, সেলাই মেশিন, হাঁড়িকুড়ি, জামা-কাপড়—সব নিয়ে গেছে।’ গ্রামের মধ্যে এটিই সবচেয়ে অবস্থাপন্ন বাড়ি। গ্রামের একমাত্র টেলিভিশনটাও তাদেরই ছিল। বিমলার দুঃখ, ‘সেলাই মেশিন আমার জান, সেটাও নিয়ে গেল! তারা আমার পায়ে বাড়ি দিল, গলায় টিপে ধরে কোমরে হাত দিয়ে মোবাইল নিতে গেল। আমি দৌড় দিলাম—এত পুরুষ আমার পেছনে। কেউ বলতেছে ম্যারা ফেল। তখন লালমাটি গ্রামের মোস্তফা চৌকিদার আমারে বাঁচাইল! কিন্তু মোবাইল আর পাইলাম না।’ ৬৫ বছরের বৃদ্ধ লক্ষণ টুডুর হাহাকার লুট হওয়া পোয়াতি গরুটার জন্য। ‘এত দিনে গরুটা মনে হয় বিয়াইছে’ বলে হাতের লাঠি দিয়ে মাটিতে আঁকিবুঁকি করতে থাকেন। মেসেস টুডুর বিমারি স্বামী জেলখানায়, বাড়িটা মাটির সঙ্গে মেশানো, ওর মধ্যেই ছিল তাঁর খাসি বিক্রির ১০ হাজার টাকা—তা–ও পুড়েছে। ওদের ধারণা, এখন যারা গ্রাম পাহারা দিচ্ছে তারা তাদের পুলিশ, আর যারা গ্রামবাসীদের ধরে নিয়ে গেছে তারা ‘ওদের পুলিশ’। ওদের ধারণা, ‘বঙ্গবন্ধু দেশের ব্যাপার আর সিধো-কানো সংস্কৃতির ব্যাপার।’ ওদের ধারণা, ‘যা বলব সত্যই বলব, মিথ্যা বলব কেন?’ ওদের ধারণা, বউ পেটানো ছাড়া আর কোনো অপরাধ তারা করে না। ওরা মনে করে, সাঁওতালদের মধ্যে কানা-খোঁড়া, চোর-ডাকাত-ভিখারি কিছু নাই। ওদের ধারণা, মারামারি-লুটপাটকরলে ‘নিজের জাতের ওপরই ঘিন্না লাগবে!’ ওদের বিশ্বাস, ‘আমরা জয় পাব, কারণ সরেজমিনে লড়াই করছি, আর ওরা তো ভূমিদস্যু।’ অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় সাঁওতালেরা পাকিস্তানি মিলিটারি হটিয়ে রংপুরকে অল্প সময়ের জন্য স্বাধীন করেছিল। কিছুদিন আগেও গ্রামে ফুটবল খেলা হলে সাঁওতাল-বাঙালি মিলেমিশে ‘লাফাত’। জাত নিয়ে ছি ছি করত না! কিন্তু মাঝখানে চলে এসেছে ভূমি। সেই ইংরেজ আমল থেকে জমির অধিকার, অরণ্যের অধিকার, মর্যাদার অধিকার বাঁচাতে সাঁওতালেরা লড়ে যাচ্ছে। দুই. আগের দিন ছিল ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৬০তম বছরপূর্তি। এ উপলক্ষে দিনাজপুর শহরে জমায়েত হয়েছিল কয়েক হাজার সাঁওতাল নারী-পুরুষ-শিশু। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে বাসে করে, ভটভটিতে চড়ে তারা এসেছে রোদে পুড়তে পুড়তে। এর আয়োজন করে আদিবাসী পরিষদ ও দিনাজপুরের নাগরিক সমাজ। তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। সবার দাবি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন হোক।