এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ
পাক সার জমিন সাদ বাদ
[হুমায়ুন আজাদ]
পর্ব ১২
মালাউ্নদের(হিন্দু) পাড়ায় আগে আমি বেশি যাই নি। ইস্কুলে পড়ার সময় স্যারের বাড়িতে যেতাম প্রাইভেট পড়তে, স্যারকে দেখার আগে তার মেয়ে ছবিকে দেখতাম, স্যারের আগে ছবিই আসত ছবির মতো হয়ে, একটা সুগন্ধ পেতাম, গাঁদা আর বকুলের মেশানো গন্ধ, যা কোনো মুছলমান মেয়েকে দেখলে পেতাম না; নানাবাড়ি যাওয়ার সময় দেখতাম পুকুর পাড়ে স্নান করার আগে গোয়ালবাড়ির শাদা শাদা মেয়েগুলো শাড়ি হাঁটু পর্যন্ত তুলে চড়চড় করে প্রস্রাব করছে; আমি অদ্ভুত একটা গন্ধ পেতাম। কিন্তু মালাউনদের বাড়িতে বেশি যাই নি, এবারই আমার নিবিড় সৌভাগ্য হল মালাউনগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষনের।
আমরা পাড়ায় পাড়ায় যাই, যেতে ভালোলাগে।
আসার আগে বলি, ‘দেখেন ভোটের দিন গোলমাল হতে পারে,খুনটুনও হয়ে যেতে পারে; আপনারা ভোট দিতে যাবেন কি যাবেন না, ওইদিন বাড়ি থেকে বের হবেন কি হবেন না, তা একটু ভেবে দেখবেন; জানেনই তো এবার আমরা পাশ করবো, আপনাগো দালালরা পারবে না।’
তারা বলে, ‘সেই কতা আমরা জানি, তাগো আর ভোট দিমু না, ভোট দিতেই যামু না, ভোট দিলে আপনাগোই দিমু, আমরা তাগো ভোট দিমু ক্যান, আমরা কি তাগো বান্দা গোলাম?’
তবে মালাউনদের(হিন্দু) বিশ্বাস করা যায় না, ওরা চিরকাল বেইমান; আমরা শুধু ওদের কথার ওপর চলতে পারি না।
ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি, তারাও বুঝতে পেরেছে।
শুধু এভাবে বোঝালে বা বুঝলেই চলবে না; বোঝানোর জন্য দু-একটি উদাহরনও ওদের চোখের সামনে থাকা ভালো; মানুষ কখনও কথায় বোঝে না, উদাহরনে সহজে বোঝে, এমনভাবে বোঝে যে আর ভোলে না। আমরা আগেই ঠিক করে রেখেছি গোপালচন্দ্রের বাড়িটা, হারামজাদাটা প্পয়সা করেছে, সালাম দেয় না আগের মত, মালপানিও দেয় না, আবার দালালদের পার্টি করে।
ওর বাড়িটা ঠিক করে রেখেছি, বেশি কিছু নয়, সন্ধ্যার পর আমাদের কয়েক জিহাদি ও মেইন পার্টির কয়েক খিলজি যাবে, এদিকে ওদিকে কয়েক গ্যালন পেট্রল ছড়াবে, আর কয়েকটি ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে ছুড়ে দিয়ে আসবে। তাতে কাজ হবে, কাজও হয়; ওই সন্ধ্যায় গোপালচন্দ্রের বাড়িটা একটু দাউদাউ করে ওঠে, তখন আমরা কয়েকজন অসি সাহেবের সঙ্গে একটু ব্ল্যাক লেবেল একটু সিভাস রিগ্যাল টেষ্ট করছিলাম।
অসি বাঞ্চতটা পঞ্চাশ হাজার চেয়েছিলো, আমি দশ হাজার দিয়েছিলাম; এখন ওই বহিনফাকার বাঞ্চতটা আমার পেছনে ঘোরে, ওর চাকুরিটা আর নেই; আমি পঞ্চাশ লাখ চেয়েছি ও বিশ লাখ দিতে চায়। হারামজাদার চাকুরিটা ফিরিয়ে দেব, যদি পঞ্চাশ লাখ দেয়; মাদারচোতটা দেবে, বাঞ্চতটা কয়েক বছরে কয়েক কোটি জমিয়েছে; উত্ত্রায় বাড়ি করেছে দু-নম্বর বউ এর নামে।
ওর দু-নম্বর বউটা নাকি টিকবে না, সে এখন একটা ঋনখেলাপির সাথে ঘুমোতে বাঙ্কক যায়, উত্ত্রায় ঘুমিয়ে সে সুক্ষ পায় না।
কাজ হয়েছিল; একদিনের জন্য আমরা মেইন পার্টির মহীয়সী লিডাররেসের কথায় শান্তির কবুতর, পায়রা, ঘুঘু, চিল, শকুন,বাজ, কাক- যাই বলি না কেন হয়েছিলাম। আমরা দলে দলে শান্তির কবুতর, পায়রা, ঘুঘু,চিল, শকুনরা অস্থিরভাবে আকাশে উড়ছিলাম।
No comments:
Post a Comment