Wednesday, 29 July 2015

পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ১8)

এই শতাব্দীর এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথা সাহিত্যিক শ্রী 'হুমায়ূন আজাদ' ও বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের উপর তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ "পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ১8) ---------------------------------------------------------- আমার দু-নম্বর জিহাদি মোঃ হাফিজুদ্দিন, তালেবান হওয়ার জন্য যে একবার আফগানিস্তানে গিয়েছিল, সে বলছিলো, ‘হুজুর গোটা পঞ্চাশেক মালাউন(হিন্দু) ফালাই দিতে হইব।’ আমি বলেছিলাম’ ‘গোটা পঞ্চাশেক ফেলে কি হবে?’ জিহাদি মোঃ মুস্তাকিম জিজ্ঞেস করেছিল, ‘তাইলে হুজুর, কয়ডা ফালামু?’ আমি বলেছিলাম, ‘দুটি বা দশটি নয়, সবগুলোকেই ফেলে দিতে হবে’। ওরা ভয় পেয়ে আর্তনাদ করে উঠেছিল। ‘হুজুর, সবগুলিরে ফালামু?’ ওরা আর্তনাদ করতে পারে, এটা মাকে বিস্মিত করেছিল; ওদের মুখ দেখে আমার কখনো মনে হয়নি ওরা এমন শব্দ করতে পারে। ওদের অশ্রুনালিতে কোনো অশ্রু আছে বলে আমার মনে হয়নি। আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ, সবগুলোকেই’। ওরা বলেছিলো, ‘এক রাইতে সব গুলোরে ফালাইতে পারুম?’ আমি বলেছিলাম, ‘এক রাত কেন, আমাদের সহস্র রাত রয়েছে’। ওরা এবার শান্ত হয় বলে, ‘তাইলে ফালাইতে কষ্ট হইব না’। আমি বলেছিলাম, ‘কিভাবে ফেলবে?’ ওরা বলেছিলো, ‘হুজুর, খালি চাক্কু মারুম শিনার বাও দিকে, আর হলকুম দুই ভাগ কইর্যা ফালামু’। আমি বলেছিলাম, ‘চাক্কু মেরে ফেলতে হবে না, তাতে ঘর বড়ি নোংরা হবে, লাশের গন্ধ বেরোবে, একবারে খুনের থেকে ওদের চিরকালের জন্য খুন করতে হবে, যাতে ওরা দেশে না থাকে, আর থাকলেও যেনো না থকে’। ওরা ব্যগ্র হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো, ‘সেইডা কেমনে করুম হুজুর?’ আমি বলেছিলাম, ‘হাত দিয়ে দ্যাখো তোমাদের দুই রানের মধ্যে কি আছে, কি ঝুলছে?’ তারা হাত দিয়ে দৃঢ় দন্ড অনুভব করে শরম পায়; সেটি ঝুলছিল না, দাঁড়িয়ে ছিল কুতুবমিনারের মত’। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘কি আছে ওখানে?’ ওরা বলে, ‘হুজুর, আমাগো লিঙ্গ’। আমি বলি, ‘ওটি লিঙ্গ নয়, পিস্তল, এম-১৬। ওইটা খোদার দেওয়া পিস্তল, এম১৬। ওইটা চালাতে হবে- মালাউন মেয়েগুলোর পেটে মুমিন মুছলমান ঢুকিয়ে দিতে হবে, জিহাদের এইটাই নিয়ম। আর মালাউনদের ঘরভরা সোনাদানা, কলসিভরা টাকা, ওইগুলো নিয়ে আসতে হবে’। ওরা আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিল, ‘আল্লাহু আকবর, নারায়ে তকবির’। ক্রমশ...

পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ১৩)

এই শতাব্দীর এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথা সাহিত্যিক শ্রী 'হুমায়ূন আজাদ' ও বাংলাদেশের হিন্দু নিপীড়নের উপর তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ "পাক সার জমিন সাদ বাদ" -- (পর্ব - ১৩) ---------------------------------------------------------- একরাত, একদিন; ওটা আমাদের জন্য সামান্য সময় ছিল না, ছিল হাজার বছরের সমান, এতো দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিতে থাকা আর শান্তিতে রাখা কতোটা কঠিন, ওই সময় আমরা ছাড়া আর কেউ বোঝেনি। শান্তি বড়ই ভারি ব্যাপার, যখন আমাদের ভিতরে বিজয়ের পবিত্র অগ্নিশিখা দাউ দাউ করে জ্বলছিল, তখন শান্তি দোজগের শাস্তির মতন লাগছিল। পত্রিকাগুলো পর দিন আমাদের প্রশংসায় মেতে উঠেছিল। মেইন পার্টির সঙ্গে আমরা ল্যান্ডস্লাইড করলেও নিজেদের শান্ত রেখেছি, অর্থাৎ মেইন পার্টির খিলজিরা ঠান্ডা রয়েছে; এমনকি বিজয়উতসবও করি নি, গনতন্ত্র একেই বলে। আমাদের মত মহৎ আর কে? আমরা একরাত একদিন মহত্ত্ব অর্জন করি, কৃতিত্বের বরো ভাগটাই মেইন পার্টির খিলজিরা নেয়, আমাদের হিশাবের মধ্যে আনে না; কিন্তু আমরা যে মেইন পার্টির আসল ফোর্স তা তারা বোঝেনি। তনে খিলজিরা ও আমরা বুঝতে পারি কত দীর্ঘ হতে পারে একটি রাত ও একটি দিন, তা একশো বছরের সমান; তবে আমাদের সামনে তখন সহস্র ও একরাত, তার থেকেও বেশি। প্রশংসাধন্য হওয়ার পর কেউ আমাদের আর নিন্দা করতে পারে নি; নিন্দা করার সাহস পায়নি। মরা তখন শান্তিশৃঙ্খলার ফেরেশতা, আমাদের আগুনের ডানা থেকে ঝলকে ঝলকে শান্তি ঝরে পড়ছিলো। কিন্তু বিজয়ের পর একরাত ও একদিন নিষ্ক্রিয় থাকা, শান্তিতে থাকা, শান্তিতে রাখা, আমাদের জন্য হৃদয়বিদারক ছিলো। শাদি হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা ছহবত করতে পারছিলাম না, যদিও সব কিছু ছিল টানটান। টানটান জিনিশ নিয়ে একরাত একদিন কাটানোর কষ্ট আমরা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। তারপর দিন থেকে মেইন পার্টির নিষ্ঠাপরায়ন, প্রচন্ড, তীব্র,ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, দয়ালু, জনসেবক, রাজপথের যোদ্ধা নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমরা জিহাদিরা দেশজুড়ে শান্তির ঝড় বইয়ে দিয়েছিলাম। ওটার নাম দিয়েছিলাম আমরা ‘শান্তির ঠান্ডা আগুন’, সোভানাল্লা। দেশ এমন শান্তির ঠান্ডা অগ্নি আগে কখনও দেখেনি, সোভানাল্লা। আমরা, জিহাদিরা ও মেইন পার্টির ইখতিয়ারউদ্দিন বিন বখতিয়ার খিলজিরা, মিলেমিশে কাজ করেছি; তখন দেশ আমাদের পায়ের নীচে, আমাদের আগুনের নীচে, আমাদের পিস্তলের নীচে এবং সবচেয়ে যেটি শক্তিমান ও উদ্ধত পিস্তল- দেশ তখন আমাদের দীর্ঘ উদ্যত শিশ্নের ছায়ার নীচে, সোনার বাংলাকে আমরা তখন আসল সোনার বাংলা করে তোলার জন্য উত্তেজিত। আমাদের শিশ্ন বারবার দৃঢ় হচ্ছিলো, হুর ও উর্বশীদের জন্য ব্যাকুল হচ্ছিলো; কিন্তু আমরা গনতন্ত্র মেনে নিয়েছিলাম- একরাত ও একদিন। জিহাদি ও খিলজি, এবং জিহাদি ও খিলজিতে ভাগ হয়ে আমরা ছড়িয়ে পরি, সন্ধ্যার একটু পরেই। আমি মালাউন পছন্দ করি, মহান আল্লতালাই আমাদের এই অপূর্ব রুচিটি দিয়েছেন, আলহামিদুদিল্লা;ওদের ঘাম আমার পছন্দ, ওদের ঠোঁট আমার পছন্দ; আমি বেছে নিই মালাউন পাড়াগুলো এবং আমাকে দেওয়া হয় মালাউন পাড়াগুলো, তবে সবগুলো নয়। আমার প্রিয় দোস্ত, বিখ্যাত খিলজি মেইন পার্টির ছৈয়দ ছব্দর আলি বল্টু,- তার পছন্দ দুটিই, এক মালাউন আর আগের মেইন পার্টির দালালদের পাড়াগুলো; সে মনে করে সব কিছু তার তলোয়ার আর শিশ্নের নিচে। এটাকে সে বাস্তবায়িত করেছে, করে চলেছে, তবে তার কপালে কি আছে তা রাহমানির রহিমই জানেন। আমরা ‘শান্তির ঠান্ডা আগুন’ দিয়ে মালাউন ও মালাউনদের দালালদের শান্ত শীতল নীরব নিথর করতে বেরিয়ে পড়ি। আমাদের জিহাদিদের আগুন লাগাতে হয় না, আমরা ঘরে ঘরে ঢুকি ওরা কাঁপতে থাকে; আমরা বেশি কিছু চাই না- একবারের জন্য খুনটুন করার দরকার ছিল না, দরকার ছিল চিরকালের জন্য খুন করা। ক্রমশ...

বাংলাদেশ মুমিন

বাংলাদেশে মুমিন বান্দারা গরুর গোস্তে আল্লাহর নাম লেখা দেখতে পেয়েছে। অনেক আল্লাহর খাশ বান্দা সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছে। আচ্ছা, শুকর ও কচ্ছপের গায়ে আল্লাহর নাম লেখা থাকে না কেন? শুকর ও কচ্ছপ কি আল্লাহর সৃষ্টি নয়? নাকি শুকর ও কচ্ছপ নাস্তিক?

Tuesday, 28 July 2015

হিন্দু বোনদের উদ্দেশ্যে

হিন্দু বোনদের উদ্দেশ্যে বলছি তোমরা কখনোই মুসলিম ছেলেদের সাথে বন্ধুক্ত করবে না, ইতিহাস সাক্ষি এরা হল বেইমানের জাত, পুলিশ ফাইলস্ দেখ, এরা প্রেমের ছলে ভালবাসার নাটক করে ভাগিয়ে নিয়ে প্রথমে ইজ্জত লুটবে, তারপর যৌনপল্লিতে বিক্রি করবে, এদের কোরান পরে দেখ, কোরানে মেয়েদের যৌনদাসি বলা হয়েছে, যেখানে হিন্দুরা মেয়েদের মায়ের সম্মান দিয়েছে, এদের কোরান নিজের মা, মেয়েকে, বিয়ে করার অনুমতি দেয়, এরা এতটাই জঘন্য জাতি যে ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্ক নিয়েও যৌন ভাবনা, তাই হিন্দু বোনেদের কাছে অনুরোধ মুখশধারী মুসলিম থেকে দূরে থাক ও হিন্দুভাইদের কাছে অনুরোধ বোনদের বাঁচাতে এই পোষ্টটি যত পার শেয়ার কর

ইসলামকে কটাক্ষ

ইসলামকে কটাক্ষ করে বলছি,এধরণের মন্তব্য দয়া করে কেউ করবেন না।কারণ ইসলামকে কটাক্ষ করা বাক্যটা শুনলেই আমার বিশ্রী লাগে।আগে আপনাকে জানতে হবে কটাক্ষ মানে কি।কারো প্রতি অন্যায়ভাবে আক্রমনাত্মক হয়ে অপমান বা অপবাদকে সাধারনত কটাক্ষ বলে।সুতরাং কোন মিথ্যা তথ্য বা যুক্তি দিলে কেবল তখনই আপনার কটাক্ষ শব্দটি আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। গতকালের পোস্ট পড়ে যাদের মনে হয়েছে আমি ইসলামকে কটাক্ষ করি তাদের জন্য,বেশ কয়েকবছর আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম আমেরিকায় ১টি কুকুরের খামারে ৪ বছরের ১টি শিশুকন্যা হারিয়ে গেছিল।কয়েকবছর পরে ঐ খামারের মালিক কুকুরগুলোর মধ্যে ১জন মেয়েকে দেখতে পায়। তাকে উদ্ধার করার পরে দেখা যায় সে পুরোপুরি কুকুরের মত আচরণ করছে! আপনার শিশুকে আপনি যেরকম পরিবেশে বড় করবেন তার আচরণে সেই প্রভাবই বর্তমান থাকবে।ঠিক তেমনি যদি ১টি শিশু ১টি নীরিহ পশুকে জবাই করতে দেখে,তা আনন্দের সাথে খেতে খেতে বড় হয় সে বড় হয়ে বিবেকহীন এবং নীরিহদের প্রতি বর্বর হবেই।কথায় আছে কচু গাছ কাটতে কাটতেই ১দিন ডাকাত হয়।ইসলাম মানবিকতার বিপর্যয় ঘটায় তা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে। পৃথিবীর সব থেকে বর্বর জাতি ইসলাম উপহার দিয়েছে।কি করে তা আপনারা প্রকাশ্যে অস্বীকার করে বেড়ান??

NASA

NASA's Kepler telescope has discovered over 1,000 confirmed exoplanets, with more to come. this artist’s conception of a planetary lineup shows habitable-zone planets with similarities to Earth. And, with over 100 billion planet's in our Milky Way galaxy, there's likely millions more! http://1.usa.gov/1gQOjbH

এপিজে আব্দুল কালাম

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালাম মারা গেছেন। ভারতবাসীর জন্য দুঃসংবাদ কারণ তিনি আদর্শ রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে একজন সফল বিজ্ঞানী ছিলেন। দেশের ৯৯ শতাংশ মুসলমানের মত দেশদ্রোহিতা বা পাক পন্থানুসারী ছিলেন না তিনি। আবার কম্যুনিস্টদের মত নাস্তিকও ছিলেন না তিনি বরং যথেষ্ট ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন, তথাকথিত মানবতাবাদী হতে গেলে নাস্তিক হতে হয় না। নিজ ধর্মের পাশাপাশি তিনি হিন্দুধর্মের চর্চাও করতেন। শেষ বয়সে তিনি প্রবলভাবে সনাতন ধর্মের অনুরাগী হন। তিনি নিয়োমিত গীতা পাঠ করতেন এবং নিরামিষভোজী ছিলেন বলে জানা যায়। তিনি তাঁর আত্মজীবনী তে লিখে গেছেন, তাঁর বাড়ির নিকটে অবস্থিত একটি শিব মন্দিরের পুরোহিতের থেকে পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা লাভ করেছিলেন। আব্দুল কালাম রাষ্ট্রবাদী ছিলেন বটে কিন্তু তবুও তাঁর সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি অগোচর হয়নি। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে গুজরাত দাঙ্গা লাগে। কালাম কেবল মুসলিম দাঙ্গা পীড়িতদের দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন গুজরাতে কিন্তু কখনো কাশ্মীরের হিন্দু হত্যার ব্যাপারে সোচ্চার হননি। লোকে তাঁকে যতই মহান দাবি করুক না কেন, তাঁর মধ্যেও স্বজনপ্রীতির ছাঁপ ছিল। আসলে কোনো রক্ত মাংসের মানুষই নিরপেক্ষ হতে পারেনা, পক্ষপাতিত্ব কিছু থেকেই যায়। যায় হোক, আমি মনে করি আব্দুল কালাম ভারতীয় মুসলমানদের জন্য আদর্শ। তিনি সব ধর্ম এবং সকল ধর্মের মানুষকে সন্মান দিতে জানতেন। যে শিক্ষার বড় অভাব লক্ষ্য করি আজ মুসলমানদের মধ্যে। সাবেক রাষ্ট্রপতি কালামের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করছি।