Thursday, 30 July 2015

ইহজাগতিক মানব চরিত্রে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা কেন প্রাসঙ্গিক?

ইহজাগতিক মানব চরিত্রে গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা কেন প্রাসঙ্গিক? বুদ্ধের ধর্ম বা দর্শন প্রসঙ্গে কিছু বিষয় জানতে এবং জানাতে ইচ্ছা করছে; আমার জানামতে অলৌকিকতা থেকে মুক্ত শুধু ইহজাগতিক মানুষকে কেন্দ্র করে প্রজ্ঞা ও প্রেমদীপ্ত উচ্চারণ যিনি করেছেন, তাঁর নাম সিদ্ধার্থ গৌতম, তাঁর ধর্ম বা দর্শনের সঙ্গে অন্যান্যদের প্রচারিত ধর্মমতগুলো যায় কি না? কার কি অভিমত, আগ্রহীগণ আসুন আলোচনা করি। ধর্ম সম্পর্কে যেভাবে মার্কস বলেছিলেন, ''হৃদয়হীনের হৃদয়, নিপীড়িতের দীর্ঘশ্বাস” সেটা কি বুদ্ধকর্তৃক প্রচারিত শিক্ষার বেলায়ও যায় ? কিভাবে?

আইএসের নিশানায় এবার ভারত

http://www.kalerkantho.com/online/world/2015/07/29/250006

Dr. APJ Abdul Kalam

অনেক ভাই-বোন তাদের FB-তে পোষ্ট করেছেন, Dr. APJ Abdul Kalam, ভারতের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিদায় নিলেন, সমগ্র ভারতে ৭ দিনের শোক। এক দিন গত। আমার পোষ্ট এর উদ্দেশ্য ভিন্নতর। এই শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তি জন্ম হিসেবে মুসলিম, কিন্তু তিনি ছিলেন ভারতের প্রেসিডেন্ট। একজন মুসলিম হিসেবে নয়, একজন হিন্দু হিসেবে নয়। এক জন মহান চরিত্রের মানুষ হিসেবে। ভারতে হিন্দু রাজনীতির সীল লাগানো বিজেপী, হিন্দু চরমপন্থির সীল লাগানো RSS, এদের সবার চোখে জল। -----আমার বাংলাদেশী ভাই-বোনদের কাছে, বিষেশ কারে তাদের কাছে, যাহারা হিন্দুদের বিধর্মি হিসেবে আখ্যায়িত করেন, যাহারা তকমা দেন, একটি হিন্দু মেয়েকে নষ্ট করতে পারলে তার বেহেস্তের গ্যারিন্ট আছে, এই ভাইয়েরা কি আসলেই ধার্মিক, না ধার্মিক পোষাকের আরালে পশু? সনাতনের শিক্ষা মানুষের মুল্যায়ন, মানবতার শিক্ষা। সনাতনের সৃষ্টির কোন নির্ধারিত ইতিহাস নেই। সভ্যতার উসালগ্ন থেকে এর বিকাশ। কালের পরিবর্তনে, মানুষের অশিক্ষার সুযোগে, শোষন বাদ, মূল সাস্ত্রের বিকৃতি ঘটিয়ে যতটুকুন আনুষ্ঠানিক ক্রিয়ার বিক্রিতি ঘটিয়েছে, সে জন্য সনাতনের আলোর কোন বিকৃতি আনতে পারেন নাই। বাহ্যিক রুপকের যে বিকৃতি টুকু ঘটেছে, সে জন্য সনাতন সমাজ নিজেরাই ক্ষুব্ধ। কিন্তু সনাতনের শিক্ষায় মানবিক আবেদনের কোন ঘাটতি নেই। বর্তমান সনাতন হিন্দু সমাজে আপনাদের প্রতি কেন এত ক্ষোভ? আপনারা কি নিজেদের প্রশ্ন করেন? ইতিহাস ঘেটে খুব আনন্দ হয় বুঝি? নিজেদের শিকড়ে হাত দিতে কেন এত অনিহা? আবার সনাতন/হিন্দু কোন ধর্ম নয়, ইহারা বিধর্মি। আপনারা কি শিক্ষা গ্রহন করেন? ইহাই কি ধর্মিয় শিক্ষা? ভাবুনতো, অন্যায়ের ধর্মিয় বৈধতা, জবর দখল, লূট-পাট, ইহাকি পৃথিবীতে চিরস্থায়ী আসন পেতে পারে? বিবেচনা আপনাদের কাছে। সনাতনের শিক্ষা, মানবতার শিক্ষা।

পীর আর মাঝার ব্যবসা বাংলাদেশের অনেক পুরনো এবং প্রতিষ্ঠিত একটা ব্যবসা

Juliyas Caesar পীর আর মাঝার ব্যবসা বাংলাদেশের অনেক পুরনো এবং প্রতিষ্ঠিত একটা ব্যবসা। বাঙালি মুরিদ হতে পছন্দ করে। খুব সহজেই তারা কারও না কারও মুরিদ হয়ে যায়। নিজের কোন মতামত জোর গলায় বলবে সেই ক্ষমতা তাদের কমই হয়। মুরিদ বা অন্ধ ভক্ত হুওয়ার এই দোষটা বাঙালির রক্তেই মিশে আছে। জেনেটিক্যাল ব্যাপার মনে হয়। তাই নাস্তিক হওয়ার পরেও বাঙালি মুরিদ থাকে কারও না কারও। বাঙালির এই মুরিদ হওয়ার স্বভাবের কারণেই আহমদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ সবাই এখন এক একজন পীর। আর নাস্তিকরাও(সবাইনয়) কেউ আজাদ পীরের মাঝারের খাদেম। কেউ বা আবার ছফা পীরের মুরিদ। ওহ হ্যাঁ, জ্যান্ত পীর তসলিমা নাসরিনও আছেন। তসলিমার মুরিদও আছে। তসলিমা নাসরিন যা বলবেন তাই ঐশী বাণী! যেমন;- তিনি যদি বলেন রুবেল হ্যাপিকে ধর্ষণ করেছেন তাহলে সেটা ধর্ষণই হবে। তসলিমার মুরিদেরাও সেটাকে ধর্ষণ বলে চিল্লানো শুরু করবেন। আদতে ধর্ষণের মতো কিছু হয় নি। একসময় তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল সেই সুবাধে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। পরে সম্পর্ক ভেঙে গেছে তখন হ্যাপি ধর্ষণের অভিযোগ আনল। এটা হলে ডিভোর্সের পর প্রত্যেক মেয়েই এক্স-হাজব্যান্ডকে ধর্ষক বলতে পারেন। তসলিমা কিছুদিন আগে একটা অত্যন্ত অমানবিক লেখাও লিখেছেন;- 'অভিজিতের কথা বলতে গিয়ে বড় মঞ্চে বন্যা হাসে কেন? কান্না কোথায়? বেদনা কোথায়?' -- আশা করি এটাকে সমর্থনেরও মানুষের অভাব হবে না। কিন্তু পীর এবং পীরের মুরিদদের এটা জানা থাকা উচিত যে প্রত্যেক মানুষের আলাদা ব্যক্তিসত্তা থাকে। সবার আলাদা মানসিক দৃঢ়তা থাকে। আর সবার আবেগ এবং কষ্ট প্রকাশের ধরণ একই হয় না। তসলিমার মতন একজন গুণী লেখিকার থেকে গঠনমূলক সমালোচনা আশা করা যায়। আর এইসব অপাঠ্য লেখা নিয়েও উনার মুরিদদের লাফালাফি দেখলে চরম সার্কাস মনে হয়। এখন দল ভাগ করলে আপনি এভাবে বলতে পারেন ছফা দল, আজাদ লীগ, তসলিমা শিবির! এই তিন দলের অনুসারীদের মধ্যে ভালোই লেগেছে। অতীতে আহমদ ছফা হুমায়ুন আজাদের সমালোচনা করেছেন। হুমায়ুন আজাদ আহমদ ছফার সমালোচনা করেছেন। তসলিমা হুমায়ুন আজাদের সমালোচনা করেছেন। হুমায়ুন আজাদ তসলিমার সমালোচনা করেছেন। এমন আরও অনেক আছে লেখক লেখিকাদের মধ্যে মতবিরোধের উদাহরণ। একে অন্যজনকে সহ্য করতে না পারার উদাহরণও অনেক। নিজের 'গাভী বিত্তান্ত' উপন্যাসে আহমদ ছফা ডক্টর আহমদ শরীফকে ইঙ্গিত করেই একটি চরিত্র রেখেছিলেন ডক্টর আহমদ ত্বকি নাম দিয়ে। দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশের যাওয়ারও উদাহরণ আছে। তসলিমা নাসরিন পশ্চিমবঙ্গের সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে লিখেছেন;- "সুনীল বড় লেখক ছিলেন, মানুষ হিসেবে নয়।" এসব তাঁদের মধ্যকার মতবিরোধ। কখনও কখনও বাঙালির একে অন্যকে সহ্য করতে না পারার যে মজ্জাগত স্বভাব সেই পরশ্রীকাতরতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু আমি জানি না এখনকার নাস্তিকেরা(!) কেন ধার্মিকদের মতো আহমদ ছফা কিংবা হুমায়ুন আজাদ অথবা তসলিমার অন্ধ ভক্ত হবেন? কেন কাঁদা ছোড়াছুড়ি করবেন? একমাত্র হুমায়ুন আজাদ যেটা বলেছেন সেটাই সত্য! আহমদ ছফা যেটা বলেছেন সেটাই সত্য! এটা কেমন মানসিকতা? নিজেকে মুক্তমনা, প্রগতিশীল দাবী করা মানুষেরা কিভাবে এমন অন্ধভাবে অনুসরণ করেন একজন লেখককে? মুরিদ হয়ে যাওয়া বাঙালির রক্তে মিশে আছে বলেই হয়তো। তাঁদের প্রত্যেকেরই সৃজনশীলতা আছে। অসাধারণ অনেক সৃষ্টি আছে। আর বড় ব্যাপার হচ্ছে সবাই যেহেতু রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন তাই দোষগুণও ছিল উনাদের। আপনাকে কেন অন্ধের মত অনুসরণ করতে হবে? অন্ধ বিশ্বাস, গোঁড়ামি, অনুকরণের বিরুদ্ধে লিখে গেছেন তাঁরা। সৌভাগ্যের(!) ব্যাপার হচ্ছে আহমদ ছফা এবং হুমায়ুন আজাদ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁদেরকে এই মুরিদবাহিনী দেখে যেতে হয়নি। তবে জ্যান্ত পীর তসলিমা নাসরিন এখনও বেঁচে আছেন। নিজের এত আন্ধা মুরিদবাহিনী দেখে তিনি নিশ্চয় খুশি হবেন না আশা করি। অন্তত তসলিমার লেখা এইসব অন্ধ অনুকরণকে প্রশ্রয় দেয় বলে কখনও মনে হয়নি। ধর্ম নাই, আমি ধর্মে বিশ্বাসী না এই দর্শনকেও জ্ঞানীরা ধর্ম বানিয়ে নিয়েছেন। নিজেরাও ধর্মান্ধদের মতো অন্ধ অনুসারী হয়েছেন। পুনশ্চঃ আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের এইসব সমালোচনায় যদিও কিছুই যায় আসে না তাও মাঝেমাঝে কিছু সার্কাস নিতান্তই হজম হয় না তাই লিখে ফেললাম।

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ না হয়ে ইসলামিক দেশ হল কেন?

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ না হয়ে ইসলামিক দেশ হল কেন? বাংলাদেশ যেরকমটা হওয়ার কথা ছিল সেরকম হতে পারে নি। এর পেছনে ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদ রয়েছে। তা না হলে তো এমনটা হওয়ার কোন সুযোগই ছিল না। ৪৭ এর দেশভাগ হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। কিন্তু ৭১ এর যুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে গড়া পাকিস্তান ভেঙে দুই টুকরো হল। সেই যুদ্ধে ৯৩ হাজার পাকিস্তানী মুসলিম সৈন্য মাত্র ৫ হাজার সৈন্যের মিত্রবাহিনীর ( হিন্দু + মুসলিম) নিকট অাত্বসমর্পণ করল। ভারতীয়দের সহায়তায় পাকিস্তানী মুসলমানদের পরাজিত করেও নিলর্জ্জের মত ইসলামকেই রাষ্ট্রধর্ম করা হল। যার ফল অামরা সাধারণ জনগণ ভালো করেই টের পাচ্ছি। . যাইহোক, ২০১৩ সালে গনজাগরণের উত্থানের সাথে সাথেই দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়েই অারেকটি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই দেশকে সঠিক পথে অানতে হবে।

বজরঙ্গী ভাইজান নেপথ্যে কি?

"বজরঙ্গী ভাইজান" নেপথ্যে কি? সিনেমার প্রতি আগ্রহ আমার নেই বললেই চলে। বাংলা কিংবা হিন্দি বাণিজ্যিক সিনেমাগুলোর একঘেয়েমি কাহিনী দেখতে দেখতে রুচি নষ্ট হয়ে গেছে। তবুও প্রচারের ফাঁদে পড়ে কিছু সিনেমা দেখতে হয় কৌতুহল মেটাতে। যেমন দেখেছিলাম আমীর খান অভিনীত পিকে; সম্প্রতি দেখলাম সালমানের বজরঙ্গী ভাইজান। ফেসবুকে আমার 'হিন্দুত্ববাদী'বন্ধুদের নিকট থেকে জেনেছিলাম, বজরঙ্গী ভাইজানে হিন্দুত্ববাদীদের নাকি পজিটিভ ভাবে দেখানো হয়েছে! আজ পর্যন্ত যতগুলো বলিউড সিনেমা দেখেছি তার একটিতেও দেখিনি হিন্দু ধর্মগুরুদের ভাল চরিত্রে দেখানো হচ্ছে। হিন্দু ধর্মগুরুদের সবসময় খল চরিত্রে দেখানো হয়ে থাকে। তারা ভণ্ড, খুনি, সন্ত্রাসী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, ধর্মনিরপেক্ষতা নষ্টকারী নষ্টবুদ্ধি সম্পন্ন। অন্যদিকে মসজিদ মাদ্রাসার মাওলানা ইমাম সাহেবরা ধার্মিক, পরোপকারী, উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি। তো স্বাভাবিকভাবেই আমার হিন্দুত্ববাদী বন্ধুদের নিকট বজরঙ্গীর কাহিনী জেনে মহাখুশি মনে সিনেমাটি দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করি। কিন্তু সম্পূর্ণ ছবিটি দেখে আমার 'হিন্দুত্ববাদী'বন্ধুদের জন্য করুণা হচ্ছিল। কেন? বলছি... কবির খান পরিচালিত বজরঙ্গী ভাইজান সিনেমার প্রধান চরিত্র পবন কুমার (সালমান) এবং ৬ বছরের এক পাকিস্তানী বোবা মেয়ে শিশু শাহিদা। শাহিদা পাকিস্তান কর্তৃক জবরদখল কৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা। বোবা মেয়ের কথা ফেরাতে শাহিদার মা তার মেয়েকে নিয়ে ভারতে যায় মাজারে মানত করতে। মানত শেষে পাকিস্তান ফেরার পথে অসাবধানতা বশত শাহিদাকে ভারতে ফেলে রেখে চলে যায় তার মা। এরপর শাহিদাকে আশ্রয় দেয় পবন কুমার। পবন হনুমানজীর ভক্ত। তাই সবাই তাকে বজরঙ্গী বলে ডাকে। পবনের বাবা আরএসএস এর কর্মী। বাবার মৃত্যুর পর পবন দিল্লি চলে যায়। সেখানেই তার সাথে দেখা হয় শাহিদার। শাহিদা পাকিস্তানি জেনেও পবন তাকে তার পরিবারের নিকট পৌঁছানোর জন্য প্রতিজ্ঞেয় হয়। অবশেষে নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে পবন তার প্রতিজ্ঞা পূরণ করে। ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছে কারিনা কাপুর 'খান'। সিনেমা দেখার আগে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, বলিউডের প্রথা ভেঙে এমন একটা চরিত্র কে কেন প্রধান চরিত্রের রূপ দেওয়া হল? ছবির শুরুতেই তার উত্তর পেলাম। আমার 'হিন্দুত্ববাদী'বন্ধুরা সালমানের মুখে হনুমান চল্লিশা শুনেই খুশি ছিল। কিন্তু সিনেমার নেপথ্যের উদ্দেশ্য হনুমান চল্লিশা পাঠ শোনানো নয় বরং মুসলিমদের প্রতি এবং পাকিস্তানের প্রতি হিন্দুত্ববাদীদের সহানুভূতি জাগানো। মনে রাখতে হবে, ভারতে মুসলমান সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। যতদিন তারা সংখ্যালঘু থাকবে ততদিন হিন্দুদের সহানুভূতি ছাড়া বেঁচে থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে। তাই পবন চরিত্রে এমন কাউকে দেখানো হল যারা ঘোরতর পাক বিরোধী হিসাবে পরিচিত। পিকে ছবিতে আমরা দেখেছিলাম কৌতুকের ছলে একাধারে লাভ জিহাদ, পাকিপ্রীতি এবং হিন্দুধর্মের অবমাননা। এবারে বজরঙ্গী ভাইজানে দেখা গেল আবেগের সুড়সুড়ি দিয়ে অসাম্প্রদায়িকতার নামে পাকিস্তান প্রীতির উৎসাহ। এছাড়া পিকে সিনেমা সমালোচনার সম্মুখীন হওয়ায় কবির খান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হিন্দুদের বোকা বানিয়েছে। "বাহুবলী" কে টেক্কা দিতে গেলে হিন্দুবিরোধীতা করলে চলবে না তার জানা ছিল। ছবির প্রধান উদ্দেশ্য, হিন্দুত্ববাদীদের মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতিশীল করা এবং তাদের ধর্মের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। শুরুতে পবনকে দেখা যায়, তার মুখে সর্বদা জয় শ্রীরাম ধ্বনি। সে মসজিদ কিংবা মাজারে পা রাখতে সংকোচ বোধ করছে কিন্তু শেষে দেখা গেল হনুমান ভক্ত পবন ইমাম সাহেবের উদারতা দেখে মন থেকে তাকে সালাম জানাচ্ছে। এমনকি পরম ধার্মিক পবন নিজের ধর্ম ভুলে শাহিদার জন্য মাজারে গিয়ে মানত করছে। সকলে নিশ্চয় বলবেন, এটা মানবতাবাদী সিনেমা। হিন্দু-মুসলমান ঐক্য চায়। পাকিস্তান না হয় খারাপ কিন্তু ঐ নিষ্পাপ মিষ্টি মেয়েটির কি দোষ? হ্যাঁ ঠিক। কিন্তু আপনি যখন বোবা শাহিদার মামা মামা বলে চিৎকার শুনে আবেগে চোখের জল ফেলছিলেন তখন পাঞ্জাবে একদল পাকিস্তানী জঙ্গি ঢুকে নিরপরাধ জনগণের হত্যায় মেতেছিল। এভাবেই শাহিদারা পবনদের টুপি পরিয়েছে এবং পরিয়ে চলেছে!

ইয়াকুব মেননের ফাঁসি

প্রসঙ্গঃ ইয়াকুব মেননের ফাঁসি; ধর্মনিরপেক্ষতারধ্বজাধারীদের আসল চেহারার বহিঃপ্রকাশ। আজ ভোরে মুম্বই বোমা হামলায় অভিযুক্ত ইয়াকুব মেননের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৯৩ সালে মুম্বই এর তিনটি আলাদা আলাদা স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। শেয়ার বাজার এলাকা, সিনেমা হল এবং শপিং মলে ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতে মোট ২৫৭ জন মারা যায় এবং আহত হয় কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষ। তিনটি স্থানে পরপর বোমা হামলায় অভিযুক্ত তিনজন সন্ত্রাসী হলঃ ইয়াকুব মেনন, তার ভাই টাইগার মেনন এবং দাউদ ইব্রাহিম। বোমা হামলার পর এই তিনজন পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু ১৯৯৪ সালে ইয়াকুব মেনন ভারতে ফেরত এলে পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর দীর্ঘদিন জেলখানায় আটক থাকার পর ২০০৭ সালে ইয়াকুব কে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। কিন্তু রাজনৈতিক এবং আইনি জটিলতাপূর্ণ কারণে ফাঁসি স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে আজ বিভিন্ন চাপের মুখেও মুম্বই বোমা হামলার প্রধান অভিযুক্ত ইয়াকুব কে ফাঁসি দেওয়া হল। ধর্মনিরপেক্ষতারধ্বজাধারীরা শুরু থেকেই ইয়াকুব কে নির্দোষ দাবি করে আসছিল। ভারতের চল্লিশ জন চিহ্নিত বুদ্ধিজীবী তার মুক্তির দাবি জানায়। মার্কণ্ডেয় কাটজুর মত বুদ্ধিজীবী, সীতারাম ইয়েচুরির মত কম্যুনিস্ট নেতা থেকে শুরু করে সলমন খান সকলেই ইয়াকুব কে নির্দোষ দাবি করে। আসাদউদ্দীন ওয়েইসির মত উগ্রবাদী মুসলিম নেতারা তো দাঙ্গার হুমকি দিয়ে রেখেছে। আবার কারো দাবি, ইয়াকুব বোমা হামলার সাথে জড়িত থাকলেও সে আত্মসমর্পণ করেছিল তাই তাকে ফাঁসি দেওয়া যাবেনা। প্রশ্ন হলঃ সে যদি নির্দোষই হবে তবে কেন পাকিস্তানে পালিয়ে গেল? আত্মসমর্পণ করলে কেন দীর্ঘ একবছর পলাতক ছিল? সবচেয়ে আশ্চর্যজনক অভিযোগ, ইয়াকুব মেনন কে নাকি সাম্প্রদায়িক কারণে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে! এমন প্রতিক্রিয়া আসছে মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবীদের থেকে। অবাক হতে হয় এই কথিত মানবতাবাদীদের মানবতার নমুনা দেখে। ২৫৭ জন নিরপরাধ মানুষের লাশ দেখে এদের মানবতা জাগেনা অথচ একজন খুনি সন্ত্রাসীর ফাঁসি হবে জেনে এদের মানবতা সাঁতার খায়! তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, মুসলমান বলেই ইয়াকুব মেনন কে ফাঁসি দেওয়া হল। কিন্তু মুম্বই হামলার কারণ কি ছিল আমরা কি তা ভুলে যাব? ৯২ এর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিশোধ নিতেই ইয়াকুবরা মুম্বইয়ের নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। হিন্দুদের প্রতি আক্রোশ বা বিদ্বেষ থেকেই হামলা চালানো হয়েছিল। সন্ত্রাসের কারণ সাম্প্রদায়িক হতে পারে কিন্তু আইন কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষতারনামে কথিত মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবীরা একজন মুসলিম মৌলবাদী জঙ্গি সন্ত্রাসীর পক্ষ নিয়ে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছে। যারা দাবি করছে, কেবল মুসলিম বলে ইয়াকুব কে ফাঁসি দেওয়া হল তাদের একটি পরিসংখ্যান জেনে রাখা উচিত। ভারতীয় বিচারবিভাগ আজ পর্যন্ত মোট ১৩৪২ জন কে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে যার মধ্যে মাত্র ৫২ জন মুসলিম। গড়ে মোটামুটি তিরিশ শতাংশ; কিন্তু ভারতের শতকরা ৬০ ভাগ অপরাধ মুসলিমরা ঘটিয়ে থাকে। সূত্রঃ http:// www.newindianexp ress.com/ thesundaystandar d/ 72-Muslims-Hange d-in-India-agai nst-1342- Hindus -and-Others/ 2015/07/26/ article2940289.e ce অপরাধ করে পার পেয়ে গেছে এমন মুসলমানের সংখ্যা আদৌ কম নয়। অস্ত্র রাখার অপরাধে সঞ্জয় দত্ত কে জেলখানায় থাকতে হয় অথচ খুনি সলমন খান দিব্বি সিনেমা করে কোটি টাকা কামাচ্ছে; ইয়াকুব কে নির্দোষ দাবি করে নিজের জাত চেনাচ্ছে। তবে তো হিন্দুদের বলা উচিত ছিল, মুসলমান বলেই সলমনের বিচার হল না। কিন্তু কোনো হিন্দু এমন দাবি করেনি বরং সলমনের মুক্তি চেয়েছিল সবাই। হিন্দুরা যে মুসলমানদের মত চরম হিন্দুবিদ্বেষ তথা সাম্প্রদায়িকতা লালন করে না; এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কি হতে পারে? গান্ধী কে হত্যার অপরাধে নথুরাম গডসে কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তখন তো কেউ বলেনি, নথুরাম হিন্দু তাই তাকে ফাঁসি দেওয়া হল। মেনন কে ফাঁসি দেওয়ায় যারা চিৎকার করে গুজরাত দাঙ্গায় হিন্দুদের বিচার চায়ছেন তারা আগে গোধরায় ট্রেনে শতশত তীর্থযাত্রী পুড়িয়ে মারার বিচার চান। ইয়াকুব মেনন অপরাধ করেছে তাই তার যোগ্য শাস্তি হয়েছে। এখানে দুঃখ পাবার যেমন কিছু নেই তেমনি আনন্দিত হওয়ার মত কিছু দেখছি না। বরং আমাদের এখন বাকি দুই অপরাধীর একই পরিণতি চাওয়া উচিত। কম্যুনিস্ট এবং মানবতাবাদী বুদ্ধিজীবীদের নগ্ন মুসলিম তোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো উচিত। কারা আসলে সাম্প্রদায়িক; হিন্দু নাকি মুসলমান? তা সকলকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া উচিত।