শিল্পাচার্য স্যার জয়নুল আবেদীনের মা নিজের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করেছিলেন ছেলের কলকাতা আর্ট কলেজে পড়ার খরচ জোগাতে! আদরের সন্তানের একটা "অলাভজনক" ইচ্ছের জন্য নিজের এতো বছর ধরে তিলে তিলে সঞ্চিত অলংকারগুলো জলে ফেলে দিতে তাঁর বিন্দুমাত্র বাঁধেনি!
.
আমার ছোটোবেলার নায়ক সত্যজিৎ রায়ের মা তো ছিলেন আরো এককাঠি সরেস! বাপমরা ছেলে সিনেমা বানাবে, তার জন্য নিজের গচ্ছিত সমস্ত টাকা তো দিলেনই, পাশাপাশি এর ওর কাছে নিয়মিত হাত পেতেছিলেন ছেলের সিনেমার টাকা সংগ্রহের জন্য!
.
আদরের ছেলেটার স্বপ্ন বলে কথা!
.
তাঁদের মমতা বৃথা যায়নি। স্যার জয়নুল আবেদীনের জগদ্বিখ্যাত দুর্ভিক্ষের ছবিখানা কিংবা সত্যজিতের পথের পাঁচালীর মত অমর সৃষ্টিগুলো এসেছিলো মায়েদের স্নেহমাখা হাতদুটো বেয়েই.....
.
মা ই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র আপনজন, যিনি কোনোরকম লাভক্ষতির হিসেব ছাড়াই সন্তানকে সাহায্য করেন, তার ইচ্ছের মূল্য দেন, তাকে ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে ভাবেননা, সন্তান থেকে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা আদায়ের চিন্তাও করেননা!
.
আজ মা দিবস না, কোনো বিশেষ দিনও না। তাতে কী? বিশেষ দিন হলেই যে লিখতে হবে, মায়ের গুণগান করতে হবে এমন কোনো কথা আছে?
.
অসাধারণ মানুষগুলির জন্য বছরের ৩৬৫ দিনই বিশেষরকম!
No comments:
Post a Comment