Wednesday, 13 January 2016

কালিয়াচক-কাণ্ডে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র তদন্ত চাইছে বিজেপির বঙ্গব্রিগেড৷

কালিয়াচক-কাণ্ডে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)-র তদন্ত চাইছে বিজেপির বঙ্গব্রিগেড৷ তবে, কোনও কারণে এনআইএ-কে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব না হলে, তার সমতুল কোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের দাবি করছে পশ্চিমবঙ্গের গেরুয়া শিবির৷ একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মালদহের কালিয়াচক কি কাশ্মীর হয়ে গিয়েছে? কালিয়াচক কি এমন কোনও স্থান, যেখানে পৌঁছতে হলে এ দেশের-ই সংসদ সদস্যদেরও পাসপোর্ট-ভিসার প্রয়োজন? কালিয়াচকের গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাইছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ যে কারণে, তাঁর নির্দেশে দলের-ই তিন সংসদ সদস্য সোমবার ভোরে পৌঁছে যান মালদহে৷ তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা রাজস্থানের সংসদ সদস্য ভূপেন্দ্র যাদব৷ ওই প্রতিনিধি দলের অন্য দু’জন হলেন পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের বিজেপির সংসদ সদস্য সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া এবং বিষ্ণুদয়াল রাম৷ বিজেপির বঙ্গব্রিগেডের আবেদনের ভিত্তিতেই অমিত শাহর নির্দেশে সোমবার ওই তিন সদস্যের কালিয়াচকে যাওয়ার কথা ছিল৷ তাঁদের সঙ্গে বঙ্গ-বিজেপির তরফে ছিলেন এ রাজ্যের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক কৃশানু মিত্র সহ আরও একজন৷ গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, এই পাঁচজনের সঙ্গে সোমবার কালিয়াচকে পৌঁছনোর কথা ছিল বিজেপির মালদহ জেলা সভাপতির৷ কিন্তু, শেষ পর্যন্ত তাঁরা কালিয়াচকে পৌঁছতেই পারেননি৷ কেন? সোমবার সকাল ছ’টা ১০ মিনিট নাগাদ মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছয় গৌড় এক্সপ্রেস৷ কৃশানু মিত্র বলেন, ‘‘ট্রেন থেকে নামার পর আমাদের মালদহ টাউন স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করতে বলা হয় রাজ্য প্রশাসনের তরফে৷ সেখানে আমাদের সঙ্গে এসডিপিও কথা বলবেন বলেও জানানো হয়৷ আমাদের বলা হয়, কালিয়াচকে আমরা গেলে সেখানকার শান্তি বিঘ্নিত হবে৷ সেখানে ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে বলেও জানানো হয়৷ এর পর জানানো হয়, আমাদের সঙ্গে জেলার এসপি এবং ডিএম কথা বলবেন৷ আমরা বলি, মালদহের সার্কিট হাউসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আমরা কালিয়াচক যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব৷ কিন্তু, মালদহ টাউন স্টেশনের বাইরে যেতে নিষেধ করেন এসপি এবং ডিএম৷’’ এবং, এমন ঘটনার জেরেই একই সঙ্গে নতুন করে সন্দেহ এবং প্রশ্ন-ও দেখা দিয়েছে গেরুয়া শিবিরে৷ কেন? তার পিছনে অন্যতম কারণ, পুলিশ-প্রশাসনেরপরস্পর বিরোধী মন্তব্য৷ কৃশানু মিত্র বলেন, ‘‘পুলিশ-প্রশাসনআমাদের যেমন বলে, কালিয়াচক এখন শান্ত৷ সেখানে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গিয়েছে৷ তেমনই আবার, কালিয়াচক থেকে ৩৫ কিমি দূরে হওয়া সত্ত্বেও মালদা টাউন স্টেশন থেকে আমাদের বের হতে-ই দেওয়া হয়নি৷ এর পর সকাল সওয়া ন’টা নাগাদ মালদহ টাউন স্টেশন থেকে জোর করে আমাদের শতাব্দী এক্সপ্রেসে উঠিয়ে দেওয়া হয় হাওড়ায় ফেরার জন্য৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এ ভাবে সংসদীয় দলের প্রতিনিধিদের আটকে দেওয়ার বিষয়টি অভূতপূর্ব ঘটনা৷ কোন অধিকারে এমন করা হল? কোনও স্থানকে উপদ্রুত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারে সরকার৷ কিন্তু, কালিয়াচক কি কাশ্মীর হয়ে গিয়েছে? কালিয়াচক কি এমন কোনও স্থান, যেখানে যেতে হলে পাসপোর্ট-ভিসার প্রয়োজন? এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট, কালিয়াচকের বিষয়ে কিছু না কিছু গোপন করতে চাইছে পুলিশ-প্রশাসন৷’’ গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, এই বিষয়ে অমিত শাহকে গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে বিজেপির তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল৷ অন্যদিকে, বঙ্গ-বিজেপির তরফে সোমবারই গোটা বিষয়ের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্তকেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে রাজ্য সভাপতিকেও৷ যদিও, কালিয়াচক-কাণ্ডে বিজেপির বঙ্গব্রিগেড যে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও রিপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেনি, তাও নয়৷ ঘটনার পরে ১০ সদস্যের বিজেপির জেলা প্রতিনিধি দল সংস্লিষ্ট স্থান থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করেছে৷ সংশ্লিষ্ট স্থানের পঞ্চায়েতে বিজেপির জনপ্রতিনিধি রয়েছেন৷ বঙ্গ-বিজেপির তরফে শমীক ভট্টাচার্যর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলকেও কালিয়াচকে যেতে দেওয়া হয়নি৷ এ সবের প্রতিবাদে বঙ্গ-বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে৷ এবং, কালিয়াচকের বিষয়ে বিজেপির রাজ্য এবং জেলা স্তরের তরফে প্রাপ্ত রিপোর্টও দেওয়া হয়েছে রাজ্যপালকে৷ গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, কালিয়াচক-কাণ্ডের বিষয়টি জানার পরে রাজ্যপালও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন৷ রাজ্যপালের মাধ্যমে ওই রিপোর্ট যাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পৌঁছয়, তার জন্য বঙ্গ-বিজেপির তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ কৃশানু মিত্র বলেন, ‘‘কালিয়াচকের ঘটনায় আমরা এনআইএ-র তদন্ত চাইছি৷ কোনও কারণে এনআইএ-কে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব না হলে, এনআইএ-র সমতুল কোনও সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর জন্য আমরা দাবি করছি৷’’ গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, রাজ্যপালের মাধ্যমে যাতে কালিয়াচক-কাণ্ডের তদন্তে এনআইএ-র বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পৌঁছয়, সেই জন্য বঙ্গ-বিজেপির তরফে তাঁকে অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ তবে, সোমবার বিজেপির তিন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে পুলিশ-প্রশাসন কালিয়াচকে পৌঁছতে না দিলেও, এসডিপিও, এসপি, ডিএম-দের কথাবার্তায় বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি প্রকাশ পেয়েছে বলেও জানা গিয়েছে৷

1 comment:

  1. একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন-ও৷ গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, কালিয়াচকের ওই ঘটনায় কত জন পুলিশ কর্মী এবং সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, সেই বিষয়ে সোমবার বিজেপির তিন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ-প্রশাসন৷ বলা হচ্ছে, ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ কিন্তু, ওই ১১ জনের মধ্যে আক্রান্তরা রয়েছেন৷ গেরুয়া শিবিরের এমন বিভিন্ন ধরনের অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনেরতরফে বক্তব্য মেলেনি৷
    তবে, কৃশানু মিত্র বলেন, ‘‘কালিয়াচকে ওই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশ কেন অনুমতি দিয়েছিল? কেন যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ এবং অস্ত্র, লাঠি ছিল না? ঘটনাস্থলে কেন একটি ঘরে আলমারি দিয়ে দরজা আটকে সম্মান রক্ষা করতে হয়েছিল মহিলা পুলিশকর্মীদের? ওই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে দুই দুষ্কৃতীর নাম জানা যাচ্ছে৷ যাদের একজন তৃণমূল কংগ্রেসের আর অন্যজন সিপিএমের৷ ওই দু’ জনকে কেন এখনও গ্রেফতার করা হল না?’’ সিপিএম এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে৷ তবে, এখানেও শেষ নয়৷ বঙ্গ-বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, মালদহের কালিয়াচক, সুজাপুর কার্যত মুক্তাঞ্চল৷ সেখানে জাল নোট, মাদক এবং মানব পাচার চক্র সহ বিভিন্ন সময় বেআইনি অস্ত্রের আস্ফালনও চলতে থাকে৷ এক সময় পরাধীন ভারতে যেভাবে নীল চাষে বাধ্য হতেন চাষিরা, তেমনই, কালিয়াচক, সুজাপুরের বহু চাষি এখন আফিম চাষে বাধ্য হন৷ একই সঙ্গে বঙ্গ-বিজেপির তরফে অভিযোগ, মাফিয়াদের পাশাপাশি জামাত সহ মৌলবাদী শক্তির কাছে হেরে গিয়ে ওই সব অঞ্চলের গরিব চাষিরা আফিম চাষ করতে বাধ্য হন৷ ফেব্রুয়ারি মাসে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে কালিয়াচক-কাণ্ডনিয়ে বিজেপির ওই সংসদ সদস্যরা সভা উত্তাল করতে পারেন বলেও মনে করছে খোদ গেরুয়া শিবিরের-ই একাংশ৷

    ReplyDelete