Monday, 22 June 2015

ইসলামই নাকি দিয়েছে নারীকে মর্যাদা

পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে তার মধ্যে একমাত্র ইসলামই নাকি দিয়েছে নারীকে মর্যাদা। এর আগ পর্যন্ত কোন ধর্ম নারীকে সম্মান দেয়নি। কোরান হাদিসের আলোকেই দেখা যাক ইসলাম নারীকে কি সম্মান দিয়েছে! আল্লাহতালা আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে। আদমের বুকের একটি বাঁকা হাড় থেকে তিনি এরপর হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষের বাঁকা হাড় থেকেই নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে স্বভাবেও নারী বাঁকা। শুরুতেই ইসলাম দেখায় নারীর প্রতি অবজ্ঞা। নারী স্বভাবে বাঁকা! আল্লাহতালা পুরুষ আদমকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দিয়ে। হাওয়াকে তিনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করলেন না। সৃষ্টির শুরুতেই নারীর প্রতি বৈষম্য। অবজ্ঞা করে আল্লাহতালা নারীকে সৃষ্টি করলেন আদমের বাঁকা হাড় দিয়ে। অর্থাৎ নারীর প্রথম ঈশ্বর আল্লাহতালা, দ্বিতীয় ঈশ্বর পুরুষ। পুরুষের বাঁক হাড় থেকেই নারীর সৃষ্টি! সুরা বাকারার বিখ্যাত আয়াত;- "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছে যেতে পার।" (সুরা বাকারা ২/২২৩) -- এই আয়াত নারীকে করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসম্মানটি। নারী কিছুই নয়, তাঁদের কোন ভূমিকা নেই। তারা শস্যক্ষেত্র, সেখানে আপনি একটু শ্রম দিলেই ফসল ফলাতে পারবেন। আপনি যেভাবে ইচ্ছে নারীকে ব্যবহার করতে পারবেন। আল্লাহতালা অনুমতি দিয়ে রেখেছেন;- "তোমরা যেভাবে ইচ্ছে যেতে পার।" ইসলামে বিবাহ কোন সম্পর্কই নয়। ইসলামে বিবাহ এমন একটা চুক্তি যেটা একজন নারীকে একজন পুরুষের দাসীতে পরিণত করে। ‪#‎ হুমায়ুন_আজাদ‬তাঁর "নারী" গ্রন্থে এই চুক্তি নিয়ে আনোয়ার কাদরির একটি উক্তি দিয়েছেন;- "ইসলামী বিবাহ এমন একটা চুক্তি যেটা দ্বারা একজন পুরুষ কর্তৃক একজন নারীকে সম্ভোগের অধিকার দ্বারা দখল করা বুঝায়।" ইসলামী বিবাহ চুক্তির নৃশংসতা ধরা পড়েছে এই ভাষ্যটিতে বিয়েতে একটি পুরুষ 'দখল করে' নারীকে। দখল করে 'সম্ভোগের অধিকার' দ্বারা। সম্ভোগ ও দখল দুটিই নৃশংস পশুর কাজ। এ চুক্তির অনন্ত ফসল ভোগ করে পুরুষ আর নারী তার শিকার। হুমায়ুন আজাদ মন্তব্য করেছেন;- "ক্রীতদাসীও এভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রভুর কাছে নিজেকে সমর্থন করে না, যেভাবে করে মুসলমান স্ত্রী।" দেনমোহর; যেটাকে মুসলিমেরা দাবী করে নারীর অধিকার রুপে সেটা আসলে দাসপ্রথার মতো নারীর শারীরিক মূল্য ছাড়া আর কিছুই নয়। একজন স্বামী ইচ্ছে করলেই তালাক দিতে পারে যখনতখন শুধু কিছু টাকা পয়সা(দেনমোহর) দিয়ে দিলেই হয়। তাছাড়া দেনমোহর কাগজে কলমে লেখা থাকে নারী তা নগদে পায় না। যদি কখনো বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তখনও স্বাভাবিকভাবে এই দেনমোহর কেউ পায় না। মামলা টামলা করে আদায় করে নিতে হয়। স্ত্রী; সত্যিকার অর্থে ইসলামে বিয়ে একজন নারী যে স্রেফ একটা যৌনদাসীতে পরিণত হয় তার প্রমাণ নিচের আয়াতগুলো;- "স্ত্রীদের মধ্যে যারা অবাধ্য হবে তাদের উপদেশ দাও, তারপর তাদের বিছানায় যেওনা এবং তাদেরকে প্রহার করো। যদি তারা তোমার অনুগত হয় তাহলে কোন ব্যবস্থা নিও না।" (সুরা নিসা ৪/৩৪) -- অর্থাৎ স্ত্রীকে পুরুষের অনুগত হতেই হবে। "আমি তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদেরকে বৈধ করেছি যাদের তুমি দেনমোহর দিয়েছ। বৈধ করেছি তোমার ডানহাতের ডানহাতের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকেও।" (সুরা আজহাব, ৩৩/৫০) -- একজন মুসলমান পুরুষ চার চারটি বিয়ে করার পরেও যতখুশি দাসী রাখতে পারবে এবং তাদেরকে ইচ্ছেমত ভোগ করতে পারবে। নারীর কোন অধিকারই যে ইসলামে নেই তা স্পষ্টত উঠে আসে তালাক প্রসঙ্গ আসলে। যেমন;- একজন পুরুষ ইচ্ছে করলেই স্ত্রীকে তালাক দিতে পারবে। শুধু মুখ দিয়ে ৩ বার তালাক উচ্চারণ করলেই হবে। যেকোন কারণেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া যাবে। ধরুন স্বামী স্ত্রীকে বলল বাপের বাড়ি না যেতে। স্ত্রী অবাধ্য হয়ে বাপের বাড়ি গেলেও তালাক দেওয়া যাবে। কিন্তু একজন স্ত্রী চাইলেও স্বামীকে তালাক দিতে পারবে না। স্ত্রী বড়জোর স্বামীর কাছে তালাক চাইতে পারে। যদি প্রভু স্বামী সেটা অনুমোদন করে তবেই সেটা তালাক হবে। তালাক দেওয়ার অধিকার আছে শুধু পুরুষের, নারীর নয়। ইসলামে একজন নারী সম্পূর্নভাবেই একজন পুরুষের দাসী ছাড়া আর কিছুই নয়। নিচের আয়াতগুলো খেয়াল করুন;- "স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে যদি তালাক দাও তাহলে কোন পাপ হবে না। যদি দেনমোহর ধার্য করা থাকে তাহলে তার অর্ধেক দিয়ে দাও।" (সুরা বাকারা, ২/২৩৬-২৩৭) -- ইচ্ছেমত তালাক দেওয়াতে কোন পাপ নেই। আবার দেনমোহরে পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়েছে। অনেকসময় ভূল বশত তালাক দেওয়া হয়। কেউ যদি তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায় তখন যে আইন কুরানে আছে তা নারীর প্রতি পৃথবীর সবচেয়ে নির্মম এবং অমানবিক ও অসম্মানজনক আইন;- " তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে বিয়ে দিতে হবে। তারপর একরাতের সেই স্বামী তালাক দিলেই পূর্বের স্বামী তার স্ত্রীকে গ্রহণ করতে পারবে।" -- অর্থাৎ একরাত ঐ স্ত্রীকে অন্য পুরুষের কাছে ধর্ষিত হতে হবে ইচ্ছের বিরুদ্ধে। নারীর শরীর নিয়ে কানামাছি খেলা। মডরেট মুসলমানেরা দাবী করে এটা শুধু নিয়ম রক্ষার বিয়ে। কিন্তু স্বয়ং নবী মুহম্মদই বলে গেছেন এই বিয়ে বৈধ হবে না যতক্ষণ ঐ একরাতের স্বামীর সাথে মেয়েটির যৌনমিলন না হচ্ছে;- "মুহাল্লিলের সাথে ঐ বিয়ে ততক্ষণ বৈধ হবে না যতক্ষণ দুজনের মধ্যে যৌনমিলন না ঘটে।" -- বোখারী হাদিস ২০৭৮, ২০৭৯। ইসলাম নারীকে স্রেফ পুরুষের যৌনদাসীতে পরিণত করেছে। এছাড়া আর কিছুই নয়। এটা সর্বশ্রেষ্ঠ(!) ধর্মে দেওয়া নারীকে দেওয়া তথাকথিত সম্মানের আংশিক অংশ মাত্র।অন্য কোনদিন হয়তো আরো আলোচনা হবে ইসলামে নারীর সম্মান নিয়ে। তথ্যসূত্র;- নারী- হুমায়ুন আজাদ। ইসলাম ও নারী- কঙ্কর সিংহ।

No comments:

Post a Comment