Thursday, 23 July 2015

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ন আজাদ] পর্ব ৮

এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ন আজাদ] পর্ব ৮ ‘ সোভানাল্লা , এক কালের কমিউনিস্টরাও আমাগো লগে জয়েন করছে, হেরা অহন পাক স্তান আর ইছলাম ছাড়া আর কিছুই বোঝে না, আলহামিদুদিল্লা,গত কয় মাসে আমি দশগন্ডা কমিউনিস্টরে তোবা পড়াইছি। কমিউনিস্টরাও জেহাদে বিশ্বাস করতো, শ্রেনীসংগ্রামেরজেহাদ, ক্যালাশস্ট্রাগলের জিহাদ, এইখনে তারা নিজগো ভুল বুজতে পারছে, খাডি জিহাদে ফিইর্যা আইছে। দ্যাখ নাই, ১৯৭১এ একদল কমিউনিস্ট আমাগো লগে কাম করেছে, সোভানাল্লা। ’ আমি একসময় মার্ক্সবাদ করেছি, সাম্যবাদী ইশতেহার পড়েছি, বস্তুবাদ ছাড়া আর কিছুই বুঝিনি, সব কিছুর ব্যাখ্যা করেছি মার্ক্স-এঙ্গেলসের বস্তুবাদী ভাষায়, হেগেলকেও টেনে এনেছি; বলেছি, কমিউনিস্ট ইশতেহার হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বই, শ্রেষ্ঠ ঘোষনা, নেতাদের সাথে স্লোগান দিয়েছি পথে পথে, কিছু পাই নি; আমাদের নেতারা রাশিয়ার ভোদকা আর চীনের বিড়ি পেত, আমি তাও পাইনি; আলহজ এরশাদের সময় মার নেতারা যখন তার পা চাঁটতে শুরু করে, মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু করে, আমার ঘেন্না লাগে; তখন আমি সর্বহারা দলে যোগ দিই, এখানে সেখানে দু একটি খুন করি, ডাকাতি করি- করতে ভালোই লাগে, দু-একটি মেয়েকে ধর্ষন করি, আমি ঠিক ধর্ষনের মত করিনি, তাদের আমি রাজি করাই,প্রথমে ছেড়ে দেই, তারপর তাদের সাথে আমার কয়েকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়, আমি ঠিক মত পেরে উঠিনি , তারা সবাই বলে , ‘তুমি পার না’ , আমি তখন পারতাম না, এখন পারি, ধীরেসুস্থে পারতে শিখেছি; তারপর আমি যোগ দিই ‘জামাঈ জিহাদে ইছলাম পার্টিতে’। আমি মুক্তির পথ খুজে পাই, জীবন পাই। জামাঈ জিহাদে ইছলাম পার্টি আমাকে উদ্দীপ্ত করে, আমি প্রচন্ড উত্তেজনা বোধ করি, এই উত্তেজনা দেহের বিশেষাঙ্গের উত্তেজিনার থেকে অনেক বেশি তীব্র; আমি দেখতে পাই আমি বেঁচে উঠছি, আমি বেহেশতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ঊঠি। মাওলানা মওদুদু, ইমাম গজ্জালি, আয়াতুল্লা খোমেনির বই আর কোরান-হাদিছ পড়ে আমি বুঝতে পারি এতকাল আমি ভুল পথে ছিলাম, দোজগের রাস্তায় ছিলাম, এখন আমি ঠিক পথে এসেছি; এখানে সব সময়ই সোয়াব, সবসময়ই উত্তেজনা; পৃথিবীতে মুছলমান আর ইছলাম ছাড়া আর কিছু থাকবে না, এ-বিশ্বাস আমাকে মাতাল করে তোলে—নাউজুবিল্লা, ‘মাতাল’ শব্দটি ঠিক হয়নি, আল্লা আমাকে ,আফ করবেন; এ-সময়ই আমি চমৎকার জীবন পাই। যখন মার্ক্সবাদী ছিলাম, যখন সর্বহারা ছিলাম, তখন আমার কোনো জীবন ছিল না; জামাঈ জিহাদে পার্টিতে যোগ দেওয়ার পর আমি প্রায় সব পাই, বেহেশত তো পাবই। যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আমি জামাঈ জিহাদে ইছলামের ‘মদিনাতুন্নবি’ অঞ্চলের নেতা হয়ে উঠি, আমায় খুব চেষ্টা করতে হয় না; আমার প্রধান নেতারা বুঝতে পারেন যে-তিরিশটি মাদ্রাছার তালেব এলেম নিয়ে এই অঞ্চলের সংঘটি সংগঠিত, ওই সব হাফেজিয়া ফোরকানিয়া কওমি কামিল দাখিল সাধারন মাদ্রাছার তালেবানদের মাথায় ঘিলু এই, যেমন তাদের মাথাও নাই, তাদের মগজ অন্য জায়গায়; তাই যোগ দেওয়ার কয়েক মাসে মধ্যেই আমি নেতা হয়ে উঠি। নেতা হওয়ার মত সুখ ও স্বাদ ও কাম আর নেই। শুধু ক্ষমতা নয়, ক্ষমতার মধ্যে যা শ্রেষ্ঠ-টাকা, তা আমার হাতে আসতে শুরু করে অঢেল, টাকা যে পানির স্রোতের মত নানা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়, তা আমি আগে জানতাম না, এখানে এসে দেখি নানা খাল দিয়ে ঢৈউ তুলে টাকা আসছে আমার দিকে। ক্ষমতা ও টাকা মানুষকে মহাপুরুষে পরিনত করে, অমরতা দেয়। মার্ক্সবাদে আমার পকেটে একটা আধুলিও আসত না, সর্বহারা ডাকাতির সময় আসত দু-তিন হাজার টাকা, কিন্তু তখন সবসময় বিপদের ভয় থাকত, এখন কোনো ভয় নেই; এখানে নেতা হওয়ার পর আমার হাতে আসতে থাকে লাখ লাখ টাকা। টাকা যে কত সুন্দর, রূপসী, শাশ্বতী টা আমি বুঝতে পারি নেতা হওয়ার পর থেকে; অস্ত্র কেনার পর,ইছলামের সিপাহীদের টাকা দেওয়ার পর, আমার বাক্সে পরে থাকতে শুরু করে লাখ টাকা। আল্লা আর পাক স্তান ছাড়া এত টাকা আর আমাকে কে দিতে পারত? —

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ন আজাদ] পর্ব ৭

এক অকুতোভয় অনন্যসাধারন বামপন্থী কথাশিল্পী 'হুমায়ূন আজাদ' ও তার অমর কালজয়ী সৃষ্টিঃ পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ন আজাদ] পর্ব ৭ ‘ মনে রাইখ্য ইছলাম হইতেছে একমাত্র সলিউশান, ইছলাম ছাড়া আর সলিউশান নাই; আমরা কমিউনিস্টগো কবর দিছি, ডমোক্রেছিরেও কবর দিমু, কবর খোড়তে হইব তোমাগই। তোমরা হইতেছ তার সিপাহি, তার জেনারেল, তার মুহাম্মদ বিন কাশিম, বকতিয়ার খলজি, মুসা, তারিক। ’ ‘এই আন্দোলনটা দিয়া দ্যাশ কাপাই দিতে হইব তোমাগো, ইছলামের দিকে আমরা দশ কদম আগাই যাইব, পাক স্তানের দিকে বিশ কদম আগাইব, আমরা আবার পাক সার জমিন সাদ বাদ গাইতে পারুম। অনেক বচ্চর না গাইতে গাইতে এই মহান গানডার দুই নম্বর লাইনডা আমিও ভুলিয়া গেছি। ’ আমি বলি, ‘তিনিশানে আজমে আলিশান...’ তিনি বলেন , ‘হ..হ, মাশাল্লা, সোভানাল্লা, তুমি হইলা আসল জিহাদি, এই লিগাই ত শ্রেইষ্ঠ স্তানের ভার তোমারে দিয়াছি।’ মাওলানা নিয়ামত আলি বললেন, ‘ দ্যাখ, দ্যাশে আরও অনেক জিহাদি ইছলাম পার্টি আছে, ধরো জঙ্গি আলি খিদমতরা, জঙ্গি মাতুল পার্টি, হিযবুত পার্টি, তেলায়াতে আল কুরান পার্টি, এমুন আরও নানা পার্টি আছে, অইগুলোর মইদ্যে দুই চারটা ভন্ড আছে, তয় অইগুলির অনেকগুলিই আমাগো, নানা নামে আমরা দ্যাশে ছড়াই দিছি, তারা আমাগো কামই করতেছে। সময় আসলে দুই-তিনড্যারে শ্যাষ কইর্যা দিতে হইব, আসল কয়ডারে আমাগো মইদ্যে মার্জ কইর্যা লইতে হইব, যারা আসল জিহাদি।’ করিম আলি ইছলামপুরি বললেন, ‘ পাওয়ার আমাগো দখল করতেই হইব। এইখন আমরা পাওয়ারের লগে আছি, মেইন পার্টির সহিত আছি, এক সময় পাওয়ার আমাগো হইব, আমরাই হইব মেইন পার্টি, সবখানে আমরা ঢোকতেছি, ইছলাম হইব, পাকিস্তান হইব ; দ্যাশে মুরতাদ থাকব না, মালাউন থাকব না, মু্ছলমানের চেহারা লইয়া মালাউন ইহুদি থাকব না; ইনভার্ছিটি থাকব না, ইনভার্ছিটি হইতেছে জিনাখানা, অইখানে পোলা-মাইয়ারা একলগে বসে, হাডে, শয়তান তাগো মাঝে থাকে, আস্তাগফেরুল্লা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ তয় ইনভার্ছিটি, ইনজিয়ারিং ইনভার্ছিটি,মেডিকেল ইনভার্ছিটি এইসব এইখন আমাদের দখলে, সব জায়গায় আমাগো লোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে মাইয়াগুলি আগে দুদ ফুলাইয়া পাছা দুলাইয়া কোমর নাচাইয়া মার্কেটিংইয়ে যাইত, তারা এইখন বোরখা হিজাব ছাড়া বাহির হয় না। মুমিনরা বলো, মাইয়ালোক দুদ ফুলাইয়া,পাছা দুলাইয়া রাস্তায় বাহির হইলে কোন মুমিন না পাগল অয় ? মুমিনের পক্ষে তখন জেনা না কইর্যা ছাড়া উপায় থাকে না। অহন আর সেই অবস্তা নাই।’ ‘আরও মাশাল্লা, আর কয়দিন পর তারা কাবিনও চাইব না, একটা লোয়ার আংটী হইলেই হইব; স্বামীগো চাইরটা বিবি রাখতে দিব। স্বামীরা আবার তালাক দেওয়নের ক্ষমতা ফিইর্যা পাইব, যার তালাক দেওয়নের ক্ষমতা নেই, সে পুরুষ না, যার দুই তিনডা বিবি নাই সে খাটি মুছলমান না, আলহামিদুদিল্লা।’ তিনি আরও বলেন, ‘ আমরা হিশাব নিয়া দেকেছি বিশ বচ্চর আগে ইনভার্ছিটি কলেজের বিশজনও মছজিদে যেত না , এইখন শতকরা নব্বইজন মাস্টার আর ছাত্র মছজিদে যায়, শুক্কুরবার দৌড়াদৌড়ি পইর্যা যায়, আমরা খবর নিছি আগে শতকরা ৯৯জন ছাত্র মাস্টার খাড়াইয়া মুততো, এখন ৯৯জন বইস্যা মোতে, ঢিলা কুলুপ লইয়া চল্লিশ কদম হাডে; ইনভার্ছিটিগুলিরমুতাগারে এইখনে আমরা ঢিলা কুলুপ সাপ্লাই করি, বচ্চরে ষাট টন ঢিলা কুলুপ সাপ্লাই করি। আমরা সাকসেসফুল হইতেছি, পুরা সাকসেসফুল হইতে বাকি নাই, ইনশাল্লা।’

সেকুলার শব্দের আসল অর্থ

সেকুলার শব্দের আসল অর্থ -- যে কোনো ধর্ম মেনে চলে না। সেকুলার শব্দের ভারতীয় অর্থ -- ধার্মিক মুসলমান হওয়ার আগের অবস্থায় যিনি।

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ৬

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ৬ এক নজোয়ান জিহাদি জিজ্ঞেস করল, ‘ হুজুর, আমাগো বুজাই দ্যান এই দ্যাশে ইহুদি কারা , তারা দ্যাকতে কেমুন?’ আলহজ মাওলানা করিম আলি ইছলামপুরি বলেন, ‘ বাজানরা, বুজলা না? আমাগো দ্যাশে ইহুদি হইছে মুরতাদরা, কয়েকটা কবি, ল্যাখক আর বুদ্ধিজীবীরা, অই ইবলিশগুলি, আর মালাউনরা আর মালাউনের দালাল পার্টির ইবলিশরা; আগো আগে শ্যাষ করতে হইব, তাহলেই আমরা আবার পাক সার জমিন সাদ বাদ আর ইছলাম ফিইর্যা পাইব, তার আগে আমরা থামুম না।’ ‘ মনে রাইখ্য তগো দয়া করন যিবা না, পেয়ারা রছুলুল্লা(দঃ) নিজের চাচা আবু লাহাব আবদুর উজ্জারেও মাগ করেন নাই; এইখনও আমরা সালাতে বলি, ‘আবু লাহাবের দুই হস্ত ধ্বংস হোক, এবমগ ধ্বংস হোক সে নিজেও—তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবি ওয়া তাব্বা’ ।” তারা এক এক করে দীক্ষা দিতে লাগলেন। দীক্ষার ব্যাপারটি আমি বেশ জানি, বারবার আমি দীক্ষিত হয়েছি, দীক্ষা মাদকের থেকেও শক্তিশালী; দীক্ষা দিতে হলে একই কথা বার বার শোনাতে হয়, মাথা ধুয়ে মুছে সেখানে দীক্ষা ঢুকিয়ে দিতে হয়, যাতে অন্যকিছু আর সেখানে ঢুকতে না পারে। ‘বোজলা, ইছলামের নামে খুন করলে পাপ নাই, আর ইহা খুন না, ইহা হইল কাফের সরাইয়া আল্লার রাইজ্য স্থাপন; তাহলে জান্নাতুল ফেরদাউছ পাইয়া যাইব, যেইখানে হুরদের লগে দিনরাত ছহবত করতে পারবা। ইছলামের জইন্য এক একটা কাফের মারবা এক একটা হুর পাইবা, সোভানাল্লা।’ ‘মুরতাদগো খুন করলে জান্নাতুল ফেরদাউছ পাইবা, সেখানে হুরদের সঙ্গে শ্রাবন থুরা খাইয়া রাইত দিন কাটাইবা, সেইখানে ছহবত আর ছহবত করবা, দুনিয়ার ছহবতের তিকা অই ছহবত ৭০ গুন মিঠা, সোভানাল্লা।’ ‘সেইখানে তোমাগো জইন্য আছে গেলমান, কচি পোলা, তাগোও তোমরা পাইবা, কচি পোলাদের স্বাদের কোনো তুলনা নাই, সোভানাল্লা।’ ‘ এই দুনিয়ায় মালাউন মাইয়াগো জেনা করলে দোষ নাই, গুনাহ নাই, তারা হইল গনিমতের মাল , এই বয়সে তোমাগো ছহবত করনের দরকার, মালাউনগো মাইয়াগো লগে করবা, তাইতে গুনাহ নাই, সোভানাল্লা।’ ‘মালাউনগো দ্যাশ থিকা খ্যাদাই দিতা হইব, মুরতাদগো জান কব্জ করতে হইব, তা হইলেই ইছলাম আসবা—তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিও ওয়া তাব্বা।’ ‘ মাইয়ালোকগো ঘর থিকা বাইর হইতে দেওয়ন যাইব না।’ ‘ মাইয়ালোক হইল শয়তান, ফিতনা, গোলমাল, মাইয়ালোক আদমরে গন্দম খাওয়াইছিল, নাহলে আমরা এখন বেহেশতে থাকতাম, মাইয়ালোকের জন্যই আমাগো পতন ঘটেছে ; এইখন হেরা পরপুরুষ দেখলেই ছহবত করতে চায়, ছহবত ছাড়া তাগো দেহ আর কিছু চায় না, তাগো বিশ্বাস করবা না, বোরকা পইর্যা স্বামীর পাশে বুইস্যা ফাক পাইলেই তারা অন্য পুরুষগো দিকে চায়, দিলের জিনা করে, আস্তাগফেরুল্লা।’ ‘ আপগানিস্তানে মাইয়ালোকগো যা করেছিল মহান তালেবানরা, তা-ই হইল আসল ইছলামি নিয়ম, আমরা সেই নিয়ম করুম; অখনও আমাগো মুরুব্বি পাক সৈদি আরবে মাইয়ালোকগো বোরকা চগাড়া বাইর অইতে দেয় না, গাড়ি চালাইতে দেয় না, ইহাই সাচ্চা ইসলাম, আমরা অই সাচ্চা খাডি ইছলাম কায়েম করুম। ইছলামে মাইয়ালোক স্বাদীন থাকব পুরুষের অধীনে থাইক্কা, আলহামিদুদিল্লা,আল্লা রাহমানির রাহিম। ’ ‘ এইখন দ্যাশ মাইয়ালোকগো চালায় , এক মাইয়ালোক যায়, আবার এক মাইয়ালোক আসে, নাউজুবিল্লা, মাইয়ালোকের অধীনে থাকা হাভিয়া দোজগে থাকার থিকাও কস্টের, এইটা হারাম; মাইয়ালোক নিচে থাকব, ওপরে থাকতে পারব না; তয় মাইয়ালোকের রুল আমরা মাইন্যা নিয়াছি ট্যাক্ট কইর্যা, ট্যাক্ট ছাড়া কাম হয় না, ইছলামের শুরুর সময়ও ট্যাক্ট করতে হইছিল ইহুদিগো লগে, পরে আমরা ইহুদিগো কচুকাডা করেছিলাম, অগো গদে হালাইয়া মাডি চাপা দিছিলাম, অগো মাইয়া ও মাইয়ালোকগুলিরে বন্দি বানাইছিলাম, অগো ঘর বাড়ি জমি জায়গা দখল করেছিলাম, এইখন আমরা সেইরকম ট্যাক্ট করছি; সময় আসিলে আমরাই দ্যাশ দখল করুম্‌ দিন দিন দখল করতে আছি, ট্যাক্ট ছাড়া হইব না; একদিন ঘরে ঢোকাই দিমু, তোবা করামু। ’

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ৫

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ুন আজাদ] পর্ব ৫ পাক সার জমিন গানটা আমি ইস্কুলে গেয়েছি, এই লাইনটাই আমার মনে আছে, এর পরে কী আছে বা নেই, তা আমার মনে নেই; আমার সঙ্গে যারা নওজোয়ান জিহাদি তারা এই গানটা শোনেই নি। তারা এদিক ওদিক তাকায় ব্যাপারটা বুঝতে পারে না। এক নওজোয়ান জিহাদি জানতে চায়, ‘হুজুর, ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ কী, এইডা কি আল্লাপাকের বানী? রহিমুদ্দিন রছুলপুরি একটু অবাক হন, জিহাদিরা আসল কথাটাই জানে না! তিনি বলেন, ‘এইডা হইল দুনিয়ার সেরা সঙ্গীত, কোরান হাদিছের পরই এইডা, এইডা আমাগো পাকিস্তানের কওমিসঙ্গীত, এইডা আমরা ১৯৭১-এ হারাই ফেলেছি, এইডা আমাগো ফিরাই আইনতে হইব, আবার দ্যাশটারে পাকিস্তান বানাইতে হইব, হুকুমতে ইছলাম করতে হইব। তোমাগো লিগা আমি ১,০০০ পাক সার জমিনের ক্যাছেট লইয়া আইছি, আমাগো পাকিস্তানের মুরুব্বিরা দিছে, আরো দিব, তোমার সবাই ফজরে এশার পর অই ক্যাছেট বাজাইয়া শোনবা, দ্যাকবা তোমাগো মইদ্যে জোশ জাইগ্যা ওঠতেছে। ওই ক্যাছেট শোনলে ছওয়াব হইব।’ মাওলানা নিয়ামত আলি বললেন, ‘ এইর লিগা খুন করতে অইব, আমাগো পেয়ারা রছুলল্লাও (দঃ) খুন করতে কইছেন, উতরিবের ইহুদিদিগকে তিনি খুন না করলে ইছলাম টিকত না, উতরিবের মদিনাতুন্নবি হইত না, ইছলামের জইন্য এইখন আমাগো দ্যাশের ইহুদিদিগকে খুন করতে হইব।’ জিগাদি মোঃ পিয়ার আলি জিজ্ঞেস করল, ‘হুজুর, আমাগো দ্যাশে ত ইহুদি নাই, ইহুদি পাই , ইহুদি কই পামু, ইহুদি দেখতে কেমুন?’ রহিমুদ্দিন রছুলপুরি দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, ‘ নাউজুবিল্লা, আস্তাগফেরুল্লা,পোলাপানরা অখনও খাডি মুছলমান অয় নাই, এলেম শিখে নাই, দ্বীন শিখে নাই, ইহুদি চিনে নাই; ইছলামের এক নম্বর শ্ত্রু হইল অই ইহুদিরা, শুরু থিকাই তারা আমাগো শ্ত্রু।’ মাওলানা নিয়ামত আলি একটা পান মুখে দিতে দিতে, চিলমচিতে থো থো করে পিক ফেলতে ফেলতে বললেন, ‘ হজরত রছুলপুরি ছাহেব, আপনে অল্পেতেই বেচইন হইয়া যান, আপনের মতন হইলে আমাদের পেয়ারা রছুলুল্লাও (দঃ) ইছলাম কায়েম করতে পারতেন না; এইরা পোলাপান, এইগো বুঝাইত হইহব দ্যাশে ইহুদি কারা।’ আমরা একদল পোলাপান ইছলাম আর পাকিস্তান আর আপগানিস্তানের জন্য জান দিতে প্রস্তুত, আমি অবশয় পোলাপান পর্যায়ে পরি না। আমার অঞ্চলের হাফেজিয়া ফোরকানিয়া ও নান রকম মাদ্রছার- দারছই নিজামি কওমি মাদ্রাছা, সাধারন মাদ্রাছার তালেবানে আমার ‘জামাঈ জিহাদে ইছলাম পার্টি ’ পরিপূর্ন। তারা আমার সৈনিক, তারা জিহাদের জন্য প্রস্তুত।

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ন আজাদ] পর্ব ৪

পাক সার জমিন সাদ বাদ [হুমায়ন আজাদ] পর্ব ৪ আমরা পাক পবিত্র ইছলামি খুনে, আল্লার নামে খুনে, যার ফলে দেশ দখল করব আমরা , তাতে বিশ্বাস করি; আমরা জানি খুন ছাড়া মহাসত্য কখনই প্রতিষ্ঠিত হয় না। আমরা বিছমিল্লা বলে খুন করি,” হে আল্লা, রহমানের রাহিম, আপনার নামে খুন করিতেছি, আমাদিগকে বেহেশতে নাছিব করিবেন, আর যদি ভুল করি আমাদিগকে মাগ করিয়া দিবেন।” খুনে , ধর্মে ও একটি মহৎ কর্মে – যাকে নাছারা ‘দুর্নীতি’ বলে, তাতে আমরা দুনিয়ায় এখন এক নম্বর আসন অধিকার করে আছি। তবে আসল কথা হচ্ছে স্তানকে ফিরিয়ে আওনতে হবে শরিয়া প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশ মুরতাদ ও ইহুদিতে ভরে গেছে, দেশ নাপাক হয়ে গেছে , দেশকে আবার পাক করে তুলতে হবে; পাক পবিত্র ‘স্তান’ কে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্তান নেই বলে আমাদের শান্তি নেই; আমরা সবসময় স্তানের স্বপ্ন দেখি; স্তান থেকে খেজুর, বাশমতি চাল এনে খাই,তাদের সাথে ক্রিকেট খেলি, আমাদের লকলকে যুবতীগুলো তাদের দাড়িছাড়া ,দাড়ীওলা খেলোয়াড়দের চুমো খাওয়ার, দেহ দেওয়ার জন্য পাগল হয়, তাদের সাথে হোটেলে গিয়ে চিৎ হয় , তাদের দুই-চারটী মেজর-লেফটনেন্ট জেনারেল মাসে মাসে ছফরে না এলে আমরা দিলে সুখ পাই না। এভাবে আমরা একটু পাকের পরশ পাই। নাপাক ওয়াতানে বাস করা শুয়োরের গোস্ত খাওয়ার থেকেও হারাম। নাউজুবিল্লা। আমরা একা নই; আমাদের ভাইয়েরা আছে দুনিয়া জুড়ে, তারা তাদের কাজ করে চলেছে; কোথাও যদি কোন দালানের উপর এরোপ্লেন ঝাঁপিয়ে পড়ে, যদি কোনো গাড়ি হাসপাতালে হোটেলে ঢুকে সব চুরমার করে দেয়, যদি কোনো প্রমোদকেন্দ্রে ৩০০জন মরে, তখন বুঝি সেটা আমাদের ভাইয়ের কাজ। এটা জিহাদ। আমরা আমাদের কাজ করে চলেছি; দেশ একরকম দখলই করে ফেলেছি, পুরোপুরি করতে বাকি নেই। আমরা মেইন পার্টির সঙ্গেই আছি, মেইন পার্টিতে আমাদেরলোক ছে, মেইন পার্টিতে এখন আমাদেরই লোক বেশি; তারা কাজ করে যাচ্ছে; বেশি দিন নেই আমরা দেশটিকে আমাদের নিশানার নিচে, আমাদের পায়ের নিচে নিয়ে আসব। আমাদের জিহাদ চলছে। (ক্রমশ.....) -----------------------------------------------------------

হিন্দুদের উপর আক্রমন

প্রথমে মুসলমানরা কাশ্মীরের হিন্দুদের উপর আক্রমন করল ; তাদের কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত করল ; আমি চুপ ছিলাম্, কারন আমি কাশ্মীরের হিন্দু নই..... তারপর তারা বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর আক্রমন করল, তাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দিল, নারীদের ধর্ষন করল, প্রতিমা ভাংচুর করল ; আমি চুপ ছিলাম্, কারন আমি বাংলাদেশের হিন্দু নই.... তারপর তারা কেরলের হিন্দুদের উপর আক্রমন করল ; আমি চুপ ছিলাম্, কারন আমি কেরেলার হিন্দু নই.... তার পর তারা আসামের হিন্দুদের উপর আক্রমন করল , আমি চুপ ছিলাম্, কারন আমি অসমীযা হিন্দু নই.... তারপর তারা পশ্চিমবঙ্গের ক্যানিং,উস্তি,মল্লিকপুর,সমুদ্রগড়, মগড়াহাট, পাচলার হিন্দু গ্রামে আক্রমন করল, বাড়ি পুড়িয়ে দিল, মেয়েদের অপহরন করল ; আমি চুপ ছিলাম, কারন আমি এই জায়গাগুলির হিন্দু নয়... তারপর তারা আমার কাছে এল্, আজ সবাই চুপ্, আমার হযে প্রতিবাদ করার কেউ নেই।।