পাক সার জমিন সাদ বাদ
[হুমায়ুন আজাদ]
পর্ব ৬
এক নজোয়ান জিহাদি জিজ্ঞেস করল, ‘ হুজুর, আমাগো বুজাই দ্যান এই দ্যাশে ইহুদি কারা , তারা দ্যাকতে কেমুন?’
আলহজ মাওলানা করিম আলি ইছলামপুরি বলেন, ‘ বাজানরা, বুজলা না? আমাগো দ্যাশে ইহুদি হইছে মুরতাদরা, কয়েকটা কবি, ল্যাখক আর বুদ্ধিজীবীরা, অই ইবলিশগুলি, আর মালাউনরা আর মালাউনের দালাল পার্টির ইবলিশরা; আগো আগে শ্যাষ করতে হইব, তাহলেই আমরা আবার পাক সার জমিন সাদ বাদ আর ইছলাম ফিইর্যা পাইব, তার আগে আমরা থামুম না।’
‘ মনে রাইখ্য তগো দয়া করন যিবা না, পেয়ারা রছুলুল্লা(দঃ) নিজের চাচা আবু লাহাব আবদুর উজ্জারেও মাগ করেন নাই; এইখনও আমরা সালাতে বলি, ‘আবু লাহাবের দুই হস্ত ধ্বংস হোক, এবমগ ধ্বংস হোক সে নিজেও—তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবি ওয়া তাব্বা’ ।”
তারা এক এক করে দীক্ষা দিতে লাগলেন।
দীক্ষার ব্যাপারটি আমি বেশ জানি, বারবার আমি দীক্ষিত হয়েছি, দীক্ষা মাদকের থেকেও শক্তিশালী; দীক্ষা দিতে হলে একই কথা বার বার শোনাতে হয়, মাথা ধুয়ে মুছে সেখানে দীক্ষা ঢুকিয়ে দিতে হয়, যাতে অন্যকিছু আর সেখানে ঢুকতে না পারে।
‘বোজলা, ইছলামের নামে খুন করলে পাপ নাই, আর ইহা খুন না, ইহা হইল কাফের সরাইয়া আল্লার রাইজ্য স্থাপন; তাহলে জান্নাতুল ফেরদাউছ পাইয়া যাইব, যেইখানে হুরদের লগে দিনরাত ছহবত করতে পারবা। ইছলামের জইন্য এক একটা কাফের মারবা এক একটা হুর পাইবা, সোভানাল্লা।’
‘মুরতাদগো খুন করলে জান্নাতুল ফেরদাউছ পাইবা, সেখানে হুরদের সঙ্গে শ্রাবন থুরা খাইয়া রাইত দিন কাটাইবা, সেইখানে ছহবত আর ছহবত করবা, দুনিয়ার ছহবতের তিকা অই ছহবত ৭০ গুন মিঠা, সোভানাল্লা।’
‘সেইখানে তোমাগো জইন্য আছে গেলমান, কচি পোলা, তাগোও তোমরা পাইবা, কচি পোলাদের স্বাদের কোনো তুলনা নাই, সোভানাল্লা।’
‘ এই দুনিয়ায় মালাউন মাইয়াগো জেনা করলে দোষ নাই, গুনাহ নাই, তারা হইল গনিমতের মাল , এই বয়সে তোমাগো ছহবত করনের দরকার, মালাউনগো মাইয়াগো লগে করবা, তাইতে গুনাহ নাই, সোভানাল্লা।’
‘মালাউনগো দ্যাশ থিকা খ্যাদাই দিতা হইব, মুরতাদগো জান কব্জ করতে হইব, তা হইলেই ইছলাম আসবা—তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাবিও ওয়া তাব্বা।’
‘ মাইয়ালোকগো ঘর থিকা বাইর হইতে দেওয়ন যাইব না।’
‘ মাইয়ালোক হইল শয়তান, ফিতনা, গোলমাল, মাইয়ালোক আদমরে গন্দম খাওয়াইছিল, নাহলে আমরা এখন বেহেশতে থাকতাম, মাইয়ালোকের জন্যই আমাগো পতন ঘটেছে ; এইখন হেরা পরপুরুষ দেখলেই ছহবত করতে চায়, ছহবত ছাড়া তাগো দেহ আর কিছু চায় না, তাগো বিশ্বাস করবা না, বোরকা পইর্যা স্বামীর পাশে বুইস্যা ফাক পাইলেই তারা অন্য পুরুষগো দিকে চায়, দিলের জিনা করে, আস্তাগফেরুল্লা।’
‘ আপগানিস্তানে মাইয়ালোকগো যা করেছিল মহান তালেবানরা, তা-ই হইল আসল ইছলামি নিয়ম, আমরা সেই নিয়ম করুম; অখনও আমাগো মুরুব্বি পাক সৈদি আরবে মাইয়ালোকগো বোরকা চগাড়া বাইর অইতে দেয় না, গাড়ি চালাইতে দেয় না, ইহাই সাচ্চা ইসলাম, আমরা অই সাচ্চা খাডি ইছলাম কায়েম করুম। ইছলামে মাইয়ালোক স্বাদীন থাকব পুরুষের অধীনে থাইক্কা, আলহামিদুদিল্লা,আল্লা রাহমানির রাহিম। ’
‘ এইখন দ্যাশ মাইয়ালোকগো চালায় , এক মাইয়ালোক যায়, আবার এক মাইয়ালোক আসে, নাউজুবিল্লা, মাইয়ালোকের অধীনে থাকা হাভিয়া দোজগে থাকার থিকাও কস্টের, এইটা হারাম; মাইয়ালোক নিচে থাকব, ওপরে থাকতে পারব না; তয় মাইয়ালোকের রুল আমরা মাইন্যা নিয়াছি ট্যাক্ট কইর্যা, ট্যাক্ট ছাড়া কাম হয় না, ইছলামের শুরুর সময়ও ট্যাক্ট করতে হইছিল ইহুদিগো লগে, পরে আমরা ইহুদিগো কচুকাডা করেছিলাম, অগো গদে হালাইয়া মাডি চাপা দিছিলাম, অগো মাইয়া ও মাইয়ালোকগুলিরে বন্দি বানাইছিলাম, অগো ঘর বাড়ি জমি জায়গা দখল করেছিলাম, এইখন আমরা সেইরকম ট্যাক্ট করছি; সময় আসিলে আমরাই দ্যাশ দখল করুম্ দিন দিন দখল করতে আছি, ট্যাক্ট ছাড়া হইব না; একদিন ঘরে ঢোকাই দিমু, তোবা করামু। ’
No comments:
Post a Comment