আগামী বছরের বিধানসভা ভোটে এ
রাজ্যে বিজেপি-কে পোক্ত জায়গায়
নিয়ে যেতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক
সঙ্ঘকে (আরএসএস) সামিল করার প্রক্রিয়া
শুরু করে দিলেন দলীয় সভাপতি অমিত শাহ।
তারই অঙ্গ হিসেবে গত মঙ্গলবার প্রায়
মধ্যরাতে সঙ্ঘের সদর দফতর কেশব
ভবনে যান তিনি। বিজেপি সভাপতির সঙ্গে
ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সংগঠন
সম্পাদক রামলাল এবং সহ-সংগঠন সম্পাদক
শিবপ্রকাশ। বিডন স্ট্রিটের সঙ্ঘ কার্যালয়ে
বিজেপি সভাপতির যাওয়া এবং দীর্ঘ বৈঠকের
ব্যাপারটি কাকপক্ষীতেও টের পায়নি!
এমনকী সে দিন বিজেপির আরও কয়েক
জন সর্বভারতীয় নেতা কলকাতায় থাকলেও
তাঁদেরও এই বৈঠকের ব্যাপারে সম্পূর্ণ
অন্ধকারে রাখা হয়েছিল!
সঙ্ঘ সূত্রের খবর, সে দিনের বৈঠকে
সামিল হতে কলকাতায় এসেছিলেন
আরএসএসের সহ-সম্পাদক ভাগাইয়াজি।
ছিলেন সঙ্ঘের পূর্ব ক্ষেত্রের
(পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি) প্রচারক প্রদীপ
জোশীও। এক সময় অরুণাচল
প্রদেশের দায়িত্বে থাকা এই নেতা
বর্তমানে কলকাতা থেকে কয়েকটি
রাজ্যের দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, মাস কয়েক আগেই
পশ্চিমবঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের কাজের
বিস্তৃতির জন্য সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত
সংগঠনে বেশ কিছু পরিবর্তন করেছেন।
অন্ধ্রপ্রদেশের ভাগাইয়াজি এখন
কলকাতাকে কেন্দ্র করেই তাঁর কাজকর্ম
চালাচ্ছেন। এ ছাড়াও দীর্ঘদিন পর এ
রাজ্যের এক প্রচারক অদ্বৈত দত্তকে
সর্বভারতীয় স্তরে তুলে নিয়ে
গিয়েছেন সঙ্ঘপ্রধান। তিনিও মূলত কলকাতায়
থেকেই কাজ করছেন। আর বেশ কিছু
দিন তাঁর নিজের সচিব থাকা বিদ্যুৎ
মুখোপাধ্যায়কে এখন দক্ষিণবঙ্গের
প্রান্ত প্রচারকের দায়িত্ব দিয়েছেন
মোহন ভাগবত। রাজ্যস্তরে সংগঠনের এই
পরিবর্তনের পর কেশব ভবনও এখন
রাজ্যে সঙ্ঘ পরিবারের সক্রিয়তা বাড়ানোর
উপরে বিশেষ জোর দিয়েছে।
রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘এক
সময় সঙ্ঘের প্রবীণ প্রচারকরা এ
রাজ্যে শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি আর কোন
তিথিতে কী খাওয়া উচিত আর কী উচিত নয়,
তা নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতেন! রাজনৈতিক
শক্তি বৃদ্ধির দিকে খেয়ালই ছিল না তাঁদের!’’
কিন্তু এখন মোহন ভাগবতের নেতৃত্বে
সঙ্ঘ পরিবারের সমস্ত সংগঠনের
কাজকর্মের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ
এসেছে জানিয়ে ওই নেতা বলেন, ‘‘শুধু
বিজেপিতেই সঙ্ঘের ৪২ জন রাজ্য
স্তরের প্রচারক সারা দেশে সংগঠন
বাড়ানোর কাজ করছেন। গত মাসের
শেষে তাঁদের নিয়ে মুম্বইয়ে তিন
দিনের শিবিরও করেছে আরএসএস।’’ সঙ্ঘ
সূত্রের খবর, মুম্বইয়ে ওই শিবিরে
উপস্থিত ছিলেন সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক
সুরেশ (ভাইয়াজি) জোশী। সেই শিবিরেই
বলে দেওয়া হয়েছে, সঙ্ঘের মূল
আদর্শের সঙ্গে কোথাও আপস না
করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব আরও বাড়াতে
হবে। পাশাপাশি বাংলার মাটিতে রাজনৈতিক
শক্তিবৃদ্ধিও যে জরুরি, তা-ও উপলব্ধি
করেছে সঙ্ঘ। ওই নেতার কথায়, ‘‘সেই
কারণে অমিত শাহও তাঁর পরিকল্পনার ব্যাপারে
সঙ্ঘের অনুমোদন নিতে গিয়েছিলেন।’’
দলের সভাপতি হওয়ার পর অমিত শাহ চার বার
কলকাতায় এসেছেন। প্রথম বার
এসেছিলেন গত বছর সেপ্টেম্বরে।
তার পর ফের নভেম্বরে। দু’দফাতেই
কলকাতায় সভা করেছিলেন তিনি। আর এ বছর
জানুয়ারিতে এসে বর্ধমানে গিয়েছিলেন
সভা করতে। প্রতি সফরেই কলকাতায়
রাত্রিবাস করলেও এক বারও সঙ্ঘ দফতরে
যাননি তিনি। ব্যতিক্রম হল এ বারে।
বিজেপির এক সূত্রের দাবি, অমিত শাহ
দিল্লিতে কেশব কু়ঞ্জে মাঝে মধ্যেই
যান। আমদাবাদে সঙ্ঘ দফতরেও তাঁর নিয়মিত
যাতায়াত। কিন্তু অন্য রাজ্যে সঙ্ঘ কার্যালয়ে
তিনি সাধারণত যান না। ফলে কলকাতায় এসে
সঙ্ঘ কার্যালয়ে যাওয়ার মধ্যে বাড়তি গুরুত্ব
রয়েছে বলেই জানাচ্ছে ওই সূত্রটি।
কী আলোচনা হয়েছে সে দিনের
বৈঠকে?
সঙ্ঘ সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের বিধানসভা
নির্বাচনের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি
নেওয়া হচ্ছে, কোথায় কোথায় দুর্বলতা,
কী ভাবে তার মোকাবিলা করা হবে, সে
সবের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা হাতে
নিয়েই সঙ্ঘ নেতাদের কাছে যান অমিত।
প্রায় দু’ঘণ্টার ওই বৈঠকের পরে বিজেপি
সভাপতির পরিকল্পনার সঙ্গে সহমত
হয়েছে সঙ্ঘ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে
হঠাতে সঙ্ঘ পরিবার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে
নামবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে
অমিতকে। তবে তার জন্য বেশ কিছু
শর্তও দিয়েছে সঙ্ঘ।
কী সেই শর্ত?
সঙ্ঘের তরফে বিজেপি সভাপতিকে বলা
হয়েছে, রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের
অপশাসন থেকে মুক্তি চায়। এ জন্য
ক্ষয়িষ্ণু বামের তুলনায় বিজেপির উপরেই
ভরসা রাখতে চান একটা বড় সংখ্যক মানুষ। এই
অবস্থায় লড়াইয়ে থাকতে গেলে রাজ্য
বিজেপির এক জন উপযুক্ত নেতা দরকার।
যিনি তৃণমূলের অপশাসন নিয়ে মাঠে
নেমে দলকে ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে
পারবেন।
সঙ্ঘের এক সূত্রের বক্তব্য, ‘‘যোগ্য
নেতৃত্বের হাতে কর্তৃত্ব দেওয়ার অর্থ,
রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বে বদল।
সঙ্ঘেরএই পরামর্শ বিজেপি সভাপতি
মেনে নিয়েছেন। ফলে কিছু দিনের
মধ্যেই রাজ্য বিজেপিতে ব্যাপক রদবদল
হতে পারে। সিদ্ধার্থনাথ সিংহকে সরিয়ে এ
রাজ্যে দলের দায়িত্ব কৈলাস
বিজয়বর্গীয়ের হাতে তুলে দেওয়া
তারই ইঙ্গিত।’’ বিজেপিরই একটি শীর্ষ
সূত্রের দাবি, বুধবার সকালে কলকাতা ছাড়ার
আগে
www.anandabazar .com/state/ amit-shah- meets- rss-leader-of-b engal-1.173337#
No comments:
Post a Comment