ইসলাম শুধু ধর্ম নয়, একটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাই অন্য যে কোন ধর্মের থেকে বেশি সমালোচনার অধিকার রাখে। যাদের মূল উদ্দেশ্য ইসলামিক শাসন কায়েম করা। আমি ইসলামের অনুরাগী নাহয়ে কি করে ইসলামিক শাসন বা ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা মেনে নিতে পারি। আজ যে শত শত ইসলামিক জঙ্গী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, তা কিন্তু ইসলামিক শাসন কায়েম করার উদ্দেশ্যেই। তাদের মধ্যে মত ও পার্থক্য কিন্তু সামান্যই, সেটা একান্তই তাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার, লক্ষ্য কিন্তু এক। জঙ্গী সংগঠন গুলি কি করছে? বিধর্মীদের হত্যা, ধর্ষন, ধর্মান্তরিত করছে, ইসলামিক শাসন অনুযায়ী চলতে বাধ্য করছে, অন্যথায় হত্যা করছে। আর যা কিছু ঐতিহাসিক বা অন্য ধর্মের সংস্কৃতি বহন করে, তা স্মৃতি সৌধ, স্থাপত্য ভাস্কর্য যাইহোক ধ্বংস করছে। ধর্মান্ধরা যথারীতি সমর্থন জানাচ্ছে, সিককুলার এবং মডারেটরা তাকিয়া করে চলেছে জঙ্গীর কোন ধর্ম নেই বলে। অথচ আলজাজিরা টিভির সমক্ষায় উঠে আসছে আশি শতাংশ আরবিয়ান আইসিসকে সমর্থন জানাচ্ছে। বিশ্বের নানা দেশ, আমার-আপনার দেশ থেকে যারা আইসিস বা অন্য কোন জঙ্গী সংগঠনে যোগ দিতে যাচ্ছে তারাও মুসলমান, এমন কি এক একটা পুরো মুসলিম পরিবারও যোগ দিচ্ছে। এরা আর যাবে না বা দেশেই ফিরে আসবে এবং দেশেই ইসলামিক শাসন কায়েমের চেষ্টা করবে বরঞ্চ বাইরের দেশ থেকে আসবে এবং আসছে। প্রয়োজন শুধু একটু উপযুক্ত পরিবেশ তৈরীর। তারপর ওয়েইসি, সিদ্দিকুল্লা, ইমরানরা তো তৈরীই আছে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। সিককুলাররা অত্যাচার নির্যাতনের তত্ব তোলে, ইসলামিক মৌলবাদ-জঙ্গীবাদকে পুষ্ট করতে। কিন্তু তা যে হাস্যকর যুক্তি, তা আমাদের প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্র পাকিস্থান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুঁ মারলেই পরিস্কার হয়ে যায়। তাদের কে সেখানে কে অত্যাচার করে, তারাই তো অত্যাচারীর ভূমিকায়। অথচ যারা অত্যাচারিত সেই অমুসলীমদের এমন কোন সংগঠন আছে বলে আজ পর্যন্ত শুনি নাই। কোন দেশদ্রোহী কাজে তারা যুক্ত নয়, তারপরেও তাদের ওপর কি হয়, তা সকলেরই জানা। আর 100% মুসলিম রাষ্ট্র বানাতে কিই না করছে তারা, বিতাড়ন, ধর্ষন, ধর্মান্তকরন সব চালাচ্ছে। প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও কিছু করার নাই, ধর্মের নামে লাখ লাখ মানুষ পথে নামবে, তান্ডব করবে কিন্তু তাকে কাউণ্টার করার লোক কোথায়? আমাদর পশ্চিমবঙ্গেই দেখুন না, লাদেনে স্বপক্ষে মিছিল হয়েছে, তসলিমাকে বিতাড়ন করেছে, সিদ্দিকুল্লার জঙ্গী সমর্থনে সভা, মিছিল, তান্ডব কি দেখেন নাই, এই সেদিনে মালদহে মহিলা ফুটবল কি বন্ধ করল নাই? নাকি এসবই ছোট ঘটনা, জানিনা। সংখ্যাটা বেশি হলে আরও কি হবে ভাবুন, যদি ভাবেন ধর্মনিরপেক্ষ হবে, নাস্তিক হবে, ভুল করছেন। যে কয়জন হবে, ওরাই কেটে দেবে। কারন লক্ষ্য একটাই, ইসলামিক স্টেট। সংখ্যা কম থাকলে ধর্মনিরপেক্ষ শান্তির দূত, একটু বাড়লে বিশেষ অধিকার লাগবে( এখন যেমন পশ্চিমবঙ্গে) বেশি হলেই সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিমের দেশে মুসলিম ধর্মানুভূতিতে আঘাত! কেটে দিমু। কারন লক্ষ্য একটাই, ইসলামিক স্টেট। ঘুমাবেন না, যে কারনে ভারত ভাগ হয়েছে, বাংলা ভাগ হয়েছে, তার পুনারাবৃত্তি হলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
No comments:
Post a Comment