ফেসবুকে প্রথম একাউন্ট খুলি 2010-11 সালের দিকে। ধর্মপ্রচারের কোনো উদ্দেশ্য কিংবা ইচ্ছা ছিল না তখন। শুধু ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ঘোরাঘুরি করতাম। তখনও আজকের মত হিন্দুবিরোধীতায়পরিপূর্ণ ছিল ফেসবুক। মালু, মালাউন, আকাটা, চাড়াল, কাফির ইত্যাদি বিশ্রী গালিগালাজ ছাড়া কিছু চোখে পড়ত না। এরপর কিছু পেজের সন্ধান পেলাম যেখানে হিন্দুধর্মীয় দেবদেবী নিয়ে রীতিমতো চটি লেখা হচ্ছিল। এরপর একদিন 'দস্তার রাজদরবার' নামক একটি আইডি থেকে কিছু মন্তব্য চোখে পড়তে ওর প্রফাইলে ঢুকলাম। সেখানে একের পর এক চরম হিন্দুবিদ্বেষী উস্কানিমূলক লেখাগুলি পড়ে আর সহ্য করতে পারলাম না। তখন আজকের মত এত হিন্দুত্ববাদী পেজ ছিল না। গুটিকয়েক দিব্যজ্ঞান প্রচারের পেজ ছিল মাত্র। তাই নিজেই লড়বার চিন্তা করলাম। নতুন আইডি বানালাম 'হিন্দু যোদ্ধা' নামে। আবেগের বশবর্তী হয়ে হিন্দুবিদ্বেষী মুসলমানদের মত আক্রমণাত্মক পোষ্ট করতাম। মুসলিমরা যেভাবে মন্দির ভাঙার হুমকি দিত, হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করবার হুমকি দিত সেভাবে আমিও পাল্টা জবাব দিতাম বোকার মত! এভাবে লেখালেখি করে দশজন হিন্দুর সমর্থন পেতাম তো একশো জনের তিরস্কার জুটতো। মুসলিমদের থেকে হত্যার হুমকি পেতাম প্রতিদিন। এভাবে চলতে চলতে একসময় অনুধাবন করলাম, মুসলমানরা তো জন্ম থেকে শিক্ষা পায় হিন্দুবিদ্বেষীতার। একবার পায় পরিবার থেকে তো আরেকবার পায় তাদের ধর্ম থেকে। কিন্তু হিন্দুরা তো পরিবার এবং ধর্ম থেকে ঠিক তার বিপরীত শিক্ষায় পেয়ে থাকে। মুসলমানদের যা তা বলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া সহজ কিন্তু হিন্দুদের মধ্যে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান যোগান দেওয়াও ততটা সহজ নয়। তাই কোনো হিন্দুকে বাস্তববোধ শেখাতে গেলে উগ্রতা পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে। যুক্তিপ্রমাণাদিদিয়েও যেখানে হিন্দুর মনে কাণ্ডজ্ঞানের সঞ্চার ঘটানো যায়না সেখানে উগ্রতা দিয়ে হিন্দুত্ববাদ শেখানো অসম্ভব। এতকিছু বললাম এই জন্য যে, আজ অনেকেই হিন্দুত্ববাদ প্রচারে সময় দিচ্ছেন ফেসবুকে। এদের অধিকাংশের লেখায় উগ্রভাব এবং ধর্মান্ধতার ছাঁপ পাওয়া যায়। আমার পরামর্শ থাকবে, আপনাদের লেখা থেকে উগ্রতা পরিহারের চেষ্টা করুন এবং যুক্তিমূলক লেখার চর্চা করুন। তথ্যপ্রমাণ সহ লেখার চেষ্টা করুন। লেখার মধ্যে ম্যাচুরিটি আনুন। তবে কেবল লাইকের পিছে ছুটলে কিন্তু পরিপক্বতা আসবে না কোনোদিন! Arya Kumar Judah
No comments:
Post a Comment