Monday, 13 July 2015

নরক....................…

সম্পর্কে আমার একটা কৌতুহল আগাগোড়াই রয়েছে কারণ আমি মনেকরি নরকের ভয়াবহতাকে না জানলে স্বর্গের সুখকে জানা যায় না। পরকালে নরকের ভয়ই ইহকালে মানুষকে সঠিক # জীবন যাপন করতে শেখায়। তাই নরক সম্পর্কে সকলেরই জানা উচিত্ - এটা আমি মনে করি। # পাতাল হিন্দু সৃষ্টিতত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব তিনটি লোকে(of three worlds) বিভক্ত: • স্বর্গ (ঐশ্বরিক ছয়টি উপরের অঞ্চল), • মর্ত্য (পৃথ্বী/পৃথিবী) এবং • পাতাল (জগতের সাত নিম্ন অঞ্চল এবং অধোভুবন) — হিন্দু সৃষ্টিতত্ত্বে 'পাতাল'(সংস্কৃত: पाताल, paTala) মহাবিশ্বের সাত নিম্ন অঞ্চলের উল্লেখ করে - যেগুলি পৃথিবীর গভীরে অবস্থিত। সাত অঞ্চলে/ পুরীতে গঠিত পাতালকে প্রায়ই জগতের অধোভুবন হিসাবে অনুবাদ করা হয়। এই সাত অঞ্চলের সপ্তম এবং সর্বনিম্নটিকে পাতাল ছাড়া নাগলোক - নাগেদের অঞ্চলও বলা হয়। দানব (দানু'র দৈত্য পুত্ররা), দৈত্য (দিতি'র পুত্ররা), যক্ষ এবং নাগ(সর্প- মানবেরা)গণ রাজত্ব করে এখানে। * বিষ্ণু পুরাণ স্বর্গীয় বিচরণরত ঋষি নারদ-এর পাতাল দর্শনের বর্ণনা দেয়। নারদের বর্ণনায়, পাতাল স্বর্গের চাইতেও মনোরম। চমত্কার মণি- মাণিক্য, সুশোভন উপবন ও হ্রদ, সুশ্রী # দৈত্য রমণীতে সমৃদ্ধ এই পাতাল। মিষ্টি সুবাস এবং # মিষ্টি সঙ্গীতের সঙ্গে মিশে বায়িত হয় এখানকার বাতাস। মাটি এখানে সাদা, কালো, রক্তবর্ণ, বেলে, হলুদ, পাথুরে এবং সোনালি বর্ণে বর্ণিল। ** ভাগবত পুরাণে সাতটি নিম্ন অঞ্চল "ভূগর্ভস্থ আকাশ" বলে অভিহিত হয় এবং তাদের পৃথিবীর নিচের গ্রহাদি বা গ্রহ জগত্ হিসাবে গণ্য করা হয়। এই অঞ্চলগুলিকে মহাবিশ্বের উপরের অঞ্চলের তুলনায় আরোও সমৃদ্ধিশালী রূপে বর্ণনা করা হয় যার মধ্যে পুণ্যধাম বিরাজমান। এখানকার জীবনে রয়েছে সকলপ্রকার আনন্দ, # সম্পদ এবং বিলাসিতা; কোন মর্মপীড়া এখানে অনুভুত হয়না। দৈত্য স্থপতি মায়া এখানে বহিরাগতদের জন্য প্রাসাদ, মন্দির, ঘর, বাগিচা এবং পান্থনিবাস রত্ন দিয়ে নির্মাণ করে রেখেছেন। এমনটা শোনা যায় যে পাতালের প্রাকৃতিক # সৌন্দর্য্য উপরের স্তরগুলিকে পর্যন্ত অতিক্রম করে যায়। নিম্ন রাজ্যগুলিতে সূর্যালোক নেই কিন্তু, যে ঝলমলে অলঙ্কার পাতালের অধিবাসীরা পরিধান করে তার ঔজ্জ্বল্য সেখানকার অন্ধকারকে দূর করে দেয়। পাতালে কোন বার্ধক্য, কোন ক্ষয়িষ্ণুতা, কোন রোগ-ব্যাধি নেই। • • • "সপ্ত রাজ্য" • • • — বিষ্ণু পুরাণ অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে সত্তর হাজার যোজনা নীচে অবস্থান করে পাতালের সপ্ত রাজ্য। এগুলি স্তরে স্তরে, একটি আরেকটির ওপর স্থিত এবং প্রত্যেকটি দশ হাজার যোজনায় প্রসারিত। বিষ্ণু পুরাণে তাদের নামকরণ সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন অনুযায়ী করা হয় যথা: অতল, বিতল, নিতল, গর্বিশমত, মহাতল, সুতল এবং পাতাল। — ভাগবত্ পুরাণ এবং পদ্ম পুরাণে তাদের বলা হয়েছে অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল এবং পাতাল — শিব পুরাণ মহাতলকে তল দিয়ে প্রতিস্থাপন করে। বায়ু পুরাণ তাদের বলে রসাতল, সুতল, বিতল, গভসতল, মহাতল, শ্রীতল এবং পাতাল। — এই সাত তল সেইসাথে তাদের ওপরে পৃথিবী, # দেবতা বিষ্ণুর তামসিক রূপ শেষা নাগের সহস্রমস্তক দ্বারা ভারবাহিত হয়। কখনও কখনও শেষার অবস্থান এই সপ্ত পুরীর তলার পরিবর্তে তার বাস এদেরই সর্বনিম্ন অঞ্চলটিতে বলে # বর্ণনা করা হয়। পাতালের এই সপ্ত রাজ্যের একেবারে তলায় অবস্থিত নরক, সনাতন বিচারাগার - মৃত্যু(যম)র রাজত্ব যেখানে পাপিরা দণ্ডিত হয়। * পাতালের প্রত্যেকটি রাজ্যে যে একাধিক নগরী(শহর) রয়েছে এটা বায়ু পুরাণে নথিভুক্ত হয়। প্রথম রাজ্যের নগর, দৈত্য নামুচি এবং কালিয়া নাগের অধীন, দ্বিতীয় হায়াগ্রীবা ও তক্ষক নাগের, তৃতীয়, যারা প্রহ্লাদের এবং হেমকের; চতুর্থ যারা কালনেমি এবং বৈনতেয়'র পঞ্চমে যা হিরণ্যক্ষ এবং কিরমিরা'র ও ষষ্ঠ যা পুলোমন এবং বাসুকী'র। সপ্তমে মহারাজ বলির অখন্ড রাজত্ব কায়েম সমগ্র পাতাল জুড়ে। ** ভাগবত্ পুরাণ সপ্ত অধো রাজ্যের একটি বিস্তারিত বিবরণ পেশ করে। পাতালের অনুরূপ বর্ণনা দেবী ভাগবত পুরাণেও পরিলক্ষ্যিত হয়। — উপরোক্ত পুরাণসমূহ প্রদত্ত ঐ সকল রাজ্যের বর্ণনা সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে দেওয়া হল: i. 'অতল' শাসন করে বালা - মায়ার এক পুত্র - যে রহস্যময় ক্ষমতার অধিকারী। বালার একটা হাই থেকে সৃষ্টি হয় তিন চরিত্রের রমণির — স্বৈরিণি(স্বেচ্ছা-চারি), যে তাদের নিজস্ব গোষ্ঠি['গোষ্ঠি' শব্দটি দলবদ্ধ অর্থে ব্যবহৃত, বংশ বা পরিবার বোঝাতে নয়] থেকে পুরুষদের বিয়ে করতে চায়; কামিনি(যৌনসঙ্গকামী), যে যেকোন গোষ্ঠি থেকে পুরুষদের বিয়ে করতে চায়; এবং পুম্সকলি("যে নিজেকে সর্বোত ভাবে উন্মুক্ত করে দেয়"), যে সঙ্গী বদলাতে থাকে। কোন # পুরুষ যখন অতলে প্রবেশ করে, এই রমণিরা তাকে পুলকিত এবং তাকে একটি পানীয় মাদক(ভাঙ/মদ) পরিবেশন করে যা ঐ পুরুষের মধ্যে যৌন শক্তিকে প্রণোদিত করে। এই রমণিরা তখন যৌন লীলা উপভোগ করে ভ্রমণকারীর সাথে যে আসন্ন মৃত্যুকে ভুলে নিজেকে দশ হাজার হাতির শক্তিতে বলিয়ান ভাবতে থাকে।

2 comments:

  1. ii. 'বিতল' শাসন করেন হর-ভব — শিব'এর এক
    রূপ যিনি ভুত, প্রেত, অপদেবতা ভুক্ত
    গণপরিচারকদের নিয়ে এখানকার স্বর্ণ
    খনির অধিপতি রূপে অধিষ্ঠান করেন।
    এখানে তিনি সঙ্গীনী ভবানির
    সাথে যৌন সঙ্গম উপভোগ করেন
    এবং তাদের যৌন রস
    এখানে হটকি নদী রূপে প্রবাহিত হয়। যখন
    অগ্নি - বায়ুর দ্বারা তাড়িত হয় - এই
    নদী থেকে পান করে তখন, সেই
    জলকে সে থুকে ফেলে দেয়
    যা হাটকা নামক একপ্রকার স্বর্ণ
    রূপে নির্গত হয়। এই রাজ্যে, অধিবাসীগণ
    এই অঞ্চলের স্বর্ণে ভূষিত হয়।
    iii. 'সুতল' হয় ধার্মিক দৈত্য
    রাজা মহাবলির রাজত্ব। বামন অবতারে
    # বিষ্ণু ঠকিয়ে ছিলেন বলিকে যিনি -
    তিন লোককে জয় করেছিলেন -
    যিনি তিন পদ-সমান ভুখন্ড(জমি)
    প্রার্থনা করে তিন লোক প্রাপ্ত
    করেছিলেন। বামন,
    বলিকে সুতলে ঠেলে দেন। কিন্তু বলি যখন
    বিষ্ণুর নিকট আত্মসমর্পণ করেন এবং নিজের
    সমস্ত
    বিষয়সম্পত্তি বিষ্ণুকে ফিরিয়ে দেন,
    বিনিময়ে বিষ্ণু বলিকে স্বর্গের দেব-
    রাজ ইন্দ্র অপেক্ষা অধিক
    ঐশ্বর্যশালীতে পরিণত করেন। এই
    রাজ্যে বলি এখনও বিষ্ণুর আরাধনা করেন।
    iv. 'তলাতল' হল দৈত্য স্থপতিরাজ
    মায়া(অসুর)র রাজত্ব যিনি ভ্রম বিদ্যায়
    একজন নিপুণ পন্ডিত। # শিব ত্রিপুরান্তক
    রূপে মায়ার তিনটি শহর ধ্বংস করেন
    কিন্তু পরে তুষ্ট হন ও মায়াকে এই
    রাজ্যটি প্রদান করেন
    এবং তাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
    v. 'মহাতল'এ বহুসংখ্যক শীশ-
    ধারি নাগেদের অধিবাস - কদ্রু'র পুত্র
    সন্তানেরা যারা কুহক, তক্ষক,
    সুশেনা এবং কালিয়া(নাগ)র
    একটি বাহিনী নিয়ে ক্রোধভাষা(একরোখ
    া)র নেতৃত্বে # রাজত্ব করে।
    এখানে তারা শান্তিতে নীজের
    পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে কিন্তু
    সর্বদা ইগল-মানব গরুড়ের ভয়ে তাদের
    সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতে হয়।
    vi. 'রসাতল' হয় স্বগৃহ রাক্ষস, দানব ও
    দৈত্যদের যারা প্রতাপশালী কিন্তু
    নিষ্ঠুর। তারা হল দেবতাদের চির # শত্রু।
    সর্পগণের মত তারাও বাস করে কুহরে।
    vii. 'পাতাল' বা 'নাগলোক' সর্বনিম্ন অঞ্চল,
    নাগেদের রাজত্ব
    যেখানে চলে বাসুকীর # শাসন। কতিপয়
    ফণাধারি সর্পেরা সর্বদা বিচরণ
    করে এখানে। প্রত্যেকের ফণায় সজ্জিত
    থাকে একটি করে মণি যেটি থেকে নির্গত
    জ্যোতি পুরো রাজ্যকে উদ্ভাসিত করে।
    • • • "পাতাল এর সত্যতা" • • •
    — পাতাল সম্পর্কে মোটামুটি # ধারণা
    এতক্ষণে আপনাদের
    মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে আশা করি কিন্তু
    একটা ব্যাপারের
    সঙ্গে আপনারা ভালোমতন অবগত রয়েছেন
    যে আমার # Post গুলোতে আমি শুধুমাত্র
    পৌরাণিক কল্প-কাহিনীর বিবরণ
    দিয়েই ছেড়ে দিইনা,
    বরং সেগুলোতে থাকে যথেষ্ট যুক্তি,
    থাকে # বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণের
    বিচার, থাকে বাস্তবিক ব্যখ্যা —
    থাকে সত্যতা। আর তাই এক্ষেত্রও তার
    ব্যতিক্রমটা ঘটলনা। আসুন, জেনে নিন...
    1. ঐতিহাসিক ব্যখ্যা — ভারতবর্ষের
    পুরাণ সমূহ শুধু সাহিত্যই ছিলনা, ছিল
    # ইতিহাস গ্রন্থও। সেগুলিতে বর্ণনা এর
    বাড়ন্ত অভিব্যাক্তি থাকলেও তার
    আলাদা তাৎপর্য আর রূপক অর্থ ছিল - পুরী,
    রাজ্য, নগর, নাগ, সর্প, ইত্যাদি এসবের
    মাধ্যমে আসলে বিভিন্ন তটরেখা আর তার
    মান-কে(বসবাস কারী জাতি সমুহের
    ক্ষেত্রে) বোঝানো হয়েছে। "...এই
    পৃথিবী আবার ভূ-
    অভ্যন্তরে সাতটি অঞ্চলে বিভক্ত। যা হল:
    i. অতল - ময়পুত্র মহামায়ার রাজত্ব,
    ii. বিতল - হাটকেশ্বর হর,
    iii. নিতল - বৈরোচন বলি
    iv. সুতল - অঙ্গ-বঙ্গ, কলিঙ্গ,
    v. তলাতল - ময় ত্রিপুরাধিপতি,
    vi. রসাতল - দানবজাতি ও
    vii. পাতাল - নাগজাতি।" — পুরাণের
    প্রাজ্ঞ ব্যাখ্যাকারগণ এমনটাই বলেছেন।
    2. বাস্তবিক ব্যখ্যা —
    * প্রাচীন ভারতীয় # বৌদ্ধ ও তন্ত্র মতে,
    মানবদেহে মূলত যে স্নায়ুতন্ত্র রয়েছে,
    তান্ত্রিকরা তাকে নাড়ি নামে অভিহিত
    করেছেন। এই সকল নাড়ি দেহের সকল
    কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে মূখ্য
    সাতটি কেন্দ্রের মাধ্যমে।
    তান্ত্রিকদের মতে এই
    কেন্দ্রগুলোকে বলা হয় 'চক্র'। আমাদের
    দেহে চক্রের সংখ্যা সাতটি।
    সাতটি চক্রের অবস্থান আমাদের-
    মস্তিষ্কে — সহস্রার চক্র
    কপালে — আজ্ঞা চক্র
    কন্ঠে — বিশুদ্ধ চক্র
    হৃদয়ে — অনাহত চক্র
    নাভিতে — মণিপূরক চক্র
    তলপেটে — স্বাধিষ্ঠান চক্র
    ও নিম্নাঙ্গে — মূলাধার চক্র
    ** তবে যোগশাস্ত্রকারী দের মতে এই
    সাত মুখ্য চক্র ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন
    স্থানে রয়েছে আরও একুশটি গৌণ চক্র। এই
    21 গৌণ # চক্র হল মুখ্য সাত চক্র গুলির
    প্রতিভাত সন্ধি-বিন্দু। এই
    21টি পরবর্তীতে আরও দশ শ্রেণীর
    দ্বিপার্শ্বীয় গৌণ
    চক্রে ভাগে হয়ে পা, হাত, হাঁটু, কনুই,
    কুঁচকি, কণ্ঠা, নাভি, কাঁধ এবং কান
    কে মেলায়।
    — তদনুসার শরীরের লিঙ্গদেশে অবস্থিত
    মূলাধার চক্র থেকে দুই পদ
    ধরে নীম্নগামী সাতটি ক্রমিক
    গৌণচক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। হিন্দু
    # বিশ্বাস অনুযায়ি এদের প্রত্যেকটিই হল
    জীবদেহে (পাতালস্থিত) পাশবিক
    প্রবৃত্তির আধার।এই সাতটি চক্র হল —
    i. অতল চক্র:
    • অবস্থান - শরীরের পশ্চাতদেশ।
    — সংস্কৃতে "অতল" এর অর্থ প্রান্ত/
    কিনারা বিহীন। মূলাধার চক্র
    থেকে নীম্নদেশগামী এটি

    ReplyDelete
  2. প্রথম চক্র। এই
    চক্র
    সঞ্চালনা করে ভীতি এবং কামোদ্দীপনাকে।
    ii. বিতল চক্র:
    • অবস্থান - শরীরের উরু অংশে। পাতাল
    অভিমুখে নিম্নগামী দ্বিতীয় চক্র;
    — সংস্কৃতে "বিতল" শব্দটির অর্থ
    অস্বীকৃতির রাজ্য। এই চক্র
    সঞ্চালনা করে ক্রোধ
    এবং বিরক্তিভাবকে।
    iii. সুতল চক্র:
    • অবস্থান - দুই হাঁটুতে।
    — সংস্কৃত "সুতল" শব্দটি নির্দেশ
    করে সুগভীরতাকে। 'সু' অর্থে # উন্নত কিন্তু
    এখানে গভীর এবং তল শব্দের অর্থ প্রান্ত,
    কিনারা। এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে ইর্ষা ও
    প্রতিশোধ প্রবৃত্তিকে।
    iv. তলাতল চক্র:
    • অবস্থান - হাঁটু দ্বয়ের # বিপরীত ভাগ।
    — ভূপৃষ্ঠের তলদেশে চতুর্থ নাক্ষত্রিক
    অধোভুবনকে সংযুক্তকারী # অন্ধকার এই তল।
    এই চক্রে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক
    বিভ্রান্তি এবং অযৌক্তিক
    একগুঁয়েমি উপস্থাপিত হয়।
    v. রসাতল চক্র:
    • অবস্থান - হাঁটু দ্বয়ের
    বিপরীতে সামান্য নীচে মাংসল
    স্থলে।
    — সংস্কৃতে "রসা"
    শব্দটি বলতে বোঝানো হয় আর্দ্র, তারল্য,
    চটচটে ভাবকে। মূলাধার চক্র
    থেকে নীম্নগামী এই পঞ্চম চক্র ভূগর্ভস্থ
    চক্রাবর্তের # কেন্দ্র
    হিসেবে বিবেচিত হয়। এই
    চক্রে স্বার্থপরতা, স্ব
    কেন্দ্রিকতা এবং বিশুদ্ধ # পাশবিক
    প্রবৃত্তি নির্দেশিত হয়।
    vi. মহাতল চক্র:
    • অবস্থান - পায়ের পাতাদ্বয়ে। — সংস্কৃতে 'মহা' অর্থ্যাত্ বিরাট। এই তল
    হল বিবেক-চেতনা বিহীন অঞ্চলের
    মধ্যে স্থিত ষষ্ঠ সর্বনিম্ন নাক্ষত্রিক
    # বিশ্ব । এই চক্র বিবেকজ্ঞান
    হীনতা এবং আত্মিক অন্ধত্বকে নির্দেশ
    করে।
    vii. পাতাল চক্র:
    • অবস্থান - পায়ের পাতার নিচের
    অংশে, পা-এর তলে একারণে একে পা-তল/
    পা-তাল বলা হয়।
    — এটি হল মূলাধার চক্র
    থেকে নীম্নগামী সপ্তম সর্বনীম্ন চক্র। এই
    চক্র সংযুক্ত করে ভূপৃষ্ঠের তলদেশে অবস্থিত
    সপ্তম, সর্বনীম্ন নাক্ষত্রিক # জগত্
    যাকে 'কাকোলা'(কাল বিষ) বলা হয়।
    সংস্কৃতে "পাতাল" শব্দটি নির্দেশ
    করে পতিত বা পাপে পরিপূর্ণ রাজ্যকে।
    আক্রোশ, হত্যা, নির্যাতন ও
    ঘৃণা প্রতিপালিত হয় এই রাজ্যে। # পুরাণ
    সমূহে নরকের গন্ডি বলা হয়েছে এই
    পাতাল রাজ্যকেই।
    * * * * *

    ReplyDelete